তিন বাদাম কোলেস্টেরল কমানোর পাশাপাশি প্রদাহ কমাতেও সাহায্য করে। এ ছাড়া ধমনীর স্বাস্থ্য ভাল রাখে, ফলে হার্টের রোগও দূরে রাখতে সাহায্য করে। বাদাম কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। বাদাম হার্টের জন্য জরুরি, ভাল কোলেস্টের বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে বলে শুনেছেন। কিন্তু যে কোনও বাদামেরই কি সেই ক্ষমতা রয়েছে? হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য এবং রক্তে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর জন্য বাদাম খেতেই হয়, তবে কোন বাদাম খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার হবে, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন দিল্লি নিবাসী হার্টের চিকিৎসক অনুরাগ শর্মা। অনুরাগ বলছেন, ‘‘অধিকাংশ বাদামেরই বিভিন্ন ধরনের উপকারিতা রয়েছে। তবে যদি কোলেস্টেরল কমানো লক্ষ্য হয়ে থাকে, তবে তিনটি বাদাম কাজ করবে দ্রুত। কাঠবাদাম, পেস্তাবাদাম এবং আখরোট।’’ চিকিৎসক জানিয়েছেন, ওই তিন বাদাম কোলেস্টেরল কমানোর পাশাপাশি প্রদাহ কমাতেও সাহায্য করে। এ ছাড়া ধমনীর স্বাস্থ্য ভাল রেখে হার্টের রোগও দূরে রাখতে সাহায্য করে। হার্ট ভাল রাখে তিন বাদাম? কাঠবাদামে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই এবং মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। এই ভিটামিন ই একটি অত্যন্ত শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। যা কোলেস্টেরলকে অক্সিডাইজ়ড হতে দেয় না। কোলেস্টেরল অক্সিডাইজ়ড হলেই তা ধমনিতে আটকে যেতে শুরু করে। তাই কাঠবাদাম খেলে রক্তের এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল কমে। এ ছাড়া কাঠবাদামের খোসায় থাকা ফাইবার অন্ত্রে কোলেস্টেরল শোষণেও বাধা দেয়। পেস্তায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইটোটেরল। যার গঠন অনেকটা কোলেস্টেরলের মতো। তাই পেস্তা খেলে শরীর আসল কোলেস্টেরলের বদলে ফাইটোটেরল শোষণ করে, ফলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়। এই প্রক্রিয়ায় শরীরে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল বা এলডিএল-এর মাত্রা কমতে থাকে। অন্য দিকে, ‘ভাল’ কোলেস্টেরল বা এইচডিএল বাড়ে। তা ছাড়া, পেস্তা বাদামের ক্যালোরি অন্যান্য বাদামের তুলনায় কম হওয়ায় এটি কোলেস্টেরল কমানোর পাশাপাশি ওজন কমাতেও কার্যকরী। আখরোটকে বলা হয় হার্টের ‘সুপারফুড’। আর তার যথেষ্ট কারণও রয়েছে। এটি একমাত্র বাদাম, যাতে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। এটি রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সাহায্য করে। ধমনীর ভেতরে চর্বির স্তর জমতে দেয় না। এটি রক্তনালির নমনীয়তা বজায় রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। বাজারে এই বাদামগুলি্কে মুখরোচক করে তুলতে তেলে ভেজে নুন এবং মশলা মাখিয়ে বিক্রি করা হয়। কিন্তু সেই বাদামে লাভের থেকে ক্ষতিই বেশি। কারণ, বাদাম তেলে ভেজে নুন মাথিয়ে খেলে এর অর্ধেক উপকারিতাই নষ্ট হয়ে যায়। তাই উপকারিতা পেতে চাইলে বাদাম খান জলে ভিজিয়ে রেখে এবং সকালে খালি পেটে।
ডায়াবিটিসের সমস্যা এক বিষম সমস্যা। কারণ, এ রোগ এক বার ধরলে তাকে তাড়ানো মুশকিল। উপরন্তু প্রতি মুহূর্তে শরীরের উপর কড়া নজর রাখতে হয়। খাবারে সামান্য অনিয়ম করলেই রক্তে শর্করার মাত্রা বিপদসীমার উপর পৌঁছে হুলস্থূল কাণ্ড ঘটতে পারে যে কোনও মুহূর্তে। তাই ডায়াবিটিস ধরলে তো বটেই, ধরার আগেও সতর্ক হওয়া উচিত। খাবারে রাশ টানার পাশাপাশি কয়েকটি আসন নিয়মিত ভাবে করতে পারলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলি কাজ করবে যথাযথ ভাবে। ফলে ডায়াবিটিসের মতো রোগকে রাখা যাবে তফাতে। তিনটি আসনে এই রোগ জব্দ হতে পারে। শর্করাও থাকবে নিয়ন্ত্রণে।
ডায়াবিটিস রোগীদের জন্য এটি সবচেয়ে কার্যকরী আসন বলে মনে করা হয়। এই আসনে পেটে চাপ সৃষ্টি হয়, যা অগ্ন্যাশয়কে উদ্দীপিত করে ইনসুলিন নিঃসরণে সাহায্য করে। যা ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি। প্রথমে বজ্রাসনে বসুন (হাঁটু মুড়ে গোড়ালির ওপর বসা)। দুই হাতের বুড়ো আঙুল ভিতরে রেখে মুঠো বন্ধ করুন। নাভির ঠিক দুই পাশে দু’ হাতের মুঠো শক্ত করে চেপে ধরুন। গভীর শ্বাস নিন, তারপর শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে ধীরে ধীরে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ুন। চোখ সামনের দিকে রাখুন এবং বুক ঊরুর সঙ্গে লাগিয়ে রাখার চেষ্টা করুন। এই অবস্থায় ২০-৩০ সেকেন্ড থাকুন, তার পর শ্বাস নিতে নিতে সোজা হয়ে বসুন। হাঁটুতে প্রচণ্ড ব্যথা বা পেটে অস্ত্রোপচার হয়েছে, তাঁরা এটি করবেন না। অর্ধ মৎস্যেন্দ্রনাথাসন মেরুদণ্ড ঘোরানোর একটি ভঙ্গি, যা পেটের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ম্যাসাজের মতো কাজ করে। এটি যকৃৎ এবং অগ্ন্যাশয়ের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। পা সামনের দিকে ছড়িয়ে সোজা হয়ে বসুন। বাঁ পা ভাঁজ করে ডান নিতম্বের কাছে আনুন। ডান পা হাঁটু থেকে ভাঁজ করে বাঁ হাঁটুর বাইরে পাশে মেঝেতে রাখুন। এ বার বাঁ হাত দিয়ে ডান পায়ের বুড়ো আঙুল ধরুন। না পারলে হাঁটু জড়িয়ে ধরুন এবং ডান হাতটি শরীরের পেছন দিকে নিয়ে গিয়ে মেঝেতে রাখুন। এ বার ঘাড় ও শরীর যতটা সম্ভব ডান দিকে ঘুরিয়ে পিছন দিকে তাকান। এই অবস্থায় স্বাভাবিক শ্বাস নিন এবং কিছু ক্ষণ পর একই ভাবে উল্টো দিকেও করুন। গর্ভাবস্থায় বা পিঠের নিচের দিকে তীব্র ব্যথা থাকলে এটি এড়িয়ে চলুন। মেঝেতে বা কোনও সমতল জায়গায় বসে সামনের দিকে ঝুঁকে পা ছুঁতে হয় এই ব্যায়ামে। এটি পেটের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলিকে সচল রেখে হজম শক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। তা ছাড়া, এটি মানসিক শান্তি দেয়, যা ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে খুব জরুরি। পা সামনের দিকে টানটান করে সোজা হয়ে বসুন। শ্বাস নিতে নিতে দুই হাত মাথার উপরে সোজা করে তুলুন। এবার শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে কোমর থেকে সামনের দিকে ঝুঁকে যান। দুই হাত দিয়ে পায়ের আঙুল বা গোড়ালি ধরার চেষ্টা করুন এবং কপাল হাঁটুতে ঠেকানোর চেষ্টা করুন। খুব বেশি জোর দেবেন না, যতটা সম্ভব হচ্ছে ততটাই ঝুঁকুন। তার পরে ওই অবস্থায় কিছু ক্ষণ স্থির থেকে শ্বাস নিতে নিতে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসুন। যেকোনও যোগব্যায়াম শুরু করার আগেই শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী একজন বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভাল। বিশেষ করে যদি পিঠে ব্যথা বা হার্নিয়ার সমস্যা থাকে তবে এই আসনটি করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সব ক’টি আসন সব সময়েই খালি পেটে করার চেষ্টা করবেন। রাতে না করে সকালে অথবা বিকেলের দিকে করুন। যোগ ব্যায়ামের শেষে অন্তত ৫ মিনিট শবাসন করা খুব দরকারি।





