রনজিতে সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে জিতে নকআউটে পর্বে গিয়েছে বাংলা। আর সেই ম্যাচে মোট ৭টি উইকেট নিয়েছেন মহম্মদ সামি। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করেও কি জাতীয় দলের দরজা খুলবে না সামির জন্য? জাতীয় দলে ‘ব্রাত্য’। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করেও কি দরজা খুলবে না মহম্মদ শামির জন্য? রনজিতে সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে জিতে নকআউটে পর্বে গিয়েছে বাংলা। আর সেই ম্যাচে মোট ৭টি উইকেট নিয়েছেন মহম্মদ সামি। যার মধ্যে দ্বিতীয় ইনিংসেই ৫টা। ম্যাচের পর সামি মুখ খুললেন ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযান নিয়ে। পাশাপাশি তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও জানালেন। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযান। যে টুর্নামেন্টে টিম ইন্ডিয়া গতবারের চ্যাম্পিয়ন। সামি দলে নেই। বিশ্বজয়ের স্বপ্নে বুঁদ তারকা পেসার। কল্যাণীতে ম্যাচের পর তিনি বলেন, “বিশ্বকাপের এখনও কিছুটা সময় আছে। আশা করব, ভারত যে ফর্মে আছে, সেই ধারা বজায় রাখতে পারবে। শুধু আমি নই, সমগ্র ভারতবর্ষ প্রার্থনা করছে যেন ট্রফি দেশেই থাকে। আমিও চাই, ভারত আবার চ্যাম্পিয়ন হোক।”

রনজির কোয়ার্টার ফাইনালে নয়া চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করে থাকবে সামির জন্য। ফের মেন ইন ব্লুর জার্সি গায়ে চাপাতে অস্ত্র নিয়মিত পারফরম্যান্স করে যাওয়া। সামি বলেন, “আমার কাজ একশো শতাংশ দেওয়ার। আমি শুধু পরিশ্রম করে যেতে চাই। দল বা ম্যাচ যা চাইবে, আমি সেটা করে যাব। দলকে জেতানোই আমার মূল লক্ষ্য। বাংলার হয়ে খেলার জন্য আলাদা মোটিভেশন লাগে না। রনজি ট্রফি বিরাট মঞ্চ। নকআউট পর্বের জন্য আমাদের আরও ভালো প্রস্তুতি নিতে হবে।” ম্যাচের পর দেখা যায় সার্ভিসেসের বোলাররা সামির থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন। সত্যিই তো, সামির মতো বিশ্বমানের বোলারের থেকে পরামর্শের সুযোগ কী ছাড়া যায়? তিনি বলেন, “যদি কোনও তরুণ ক্রিকেটার কিছু জানতে চায় বা কোনও পরামর্শ চায়, তাহলে আমি সব সময় আছি। সেই পরামর্শ কাজে লাগলে সেটাই আমার প্রাপ্তি। বড়-ছোট, আমি ওরকম পার্থক্যে বিশ্বাস করি না। উঠতি প্লেয়াররা আজকাল প্রচুর ক্রিকেট খেলে। তাদের উচিত স্কিল ও শক্তির উপর ভরসা করা।” মহম্মদ সামি যার আদর্শ উদাহরণ।

সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে পুরো সাত পয়েন্ট পেল বাংলা। বোনাস পয়েন্ট নিয়ে জেতায় রঞ্জি ট্রফির নক আউটে রবিবার ছিল চতুর্থ দিন। আর চতুর্থ দিনেই সার্ভিসেসকে ইনিংস ও ৪৬ রানে হারিয়ে নক আউটের টিকিট জোগাড় করে ফেললেন মহম্মদ সামিরা। সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে বাংলা প্রথম ইনিংসে করে ৫১৯ রান। সুদীপ চ্যাটার্জি ২০১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন। অভিমন্যু ঈশ্বরণ ৮১ ও সাকিব গান্ধির অপরাজিত ৯১ রানের সৌজন্যে বাংলা প্রথম ইনিংসে পাহাড়প্রমাণ রান করে। সার্ভিসেসের প্রথম ইনিংস থেমে যায় ১৮৬ রানে। মহম্মদ সামির ২ উইকেটের পাশাপাশি আকাশ দীপ ৩টি ও সূরয জয়সওয়াল ৪টি উইকেট পান। ফলো অন হয় সার্ভিসেসের। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় দিনের শেষে সার্ভিসেসের রান ছিল ৮ উইকেটে ২৩১ রান। চতুর্থ দিনের সকালে সার্ভিসেসকে নিকেশ করে নক আউটের ছাড়পত্র জোগাড় করে নেয় লক্ষ্ণীরতন শুক্লার বাংলা। মহম্মদ সামি ৫১ রানের বিনিময়ে পাঁচ-পাঁচটি উইকেট নেন। মুকেশ কুমার ৫৬ রানে ২টি উইকেট নেন।





