Saturday, April 25, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বীণাহীন বীণাপানি! মধুর ঝংকার অতীত!‌ এখন তানপুরা হাতে সরস্বতীতেই মজে মৃৎশিল্পীরা

সেই মধুর ঝংকার আর কানে বাজে না। ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে সরস্বতীর হাতে থাকা বীণা। তাই বীণাহীন বীণাপানি! এই বাদ্যযন্ত্র আশপাশে সচরাচর চোখে দেখতে পাচ্ছেন না মৃৎশিল্পীরা। আর তাই বিদ্যাদেবীর হাতে বীণার বদলে তাঁরা তুলে দিচ্ছেন তানপুরা। তাতেই পুজো হয়ে যাচ্ছে। বীণার বদলে সরস্বতীর হাতে তানপুরাই এখন ট্রেন্ডিং। দর্শনগত ত্রুটি! প্রভাকর ও সিদ্ধ উপাধি পাওয়া পুরুলিয়া শহরের পুরোহিত বলেন, “দেবীকে আমরা যেভাবে দেখে এসেছি সেই মাতৃপ্রতিমায় যদি দর্শনগত ত্রুটি থাকে তাহলে কি পুজোতে মন বসবে? পুজো করতে গিয়ে এতো দোষ লাগার উপক্রম। পরিপূর্ণতাই পাচ্ছি না। বিভিন্ন ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সরস্বতী প্রতিমায় দেবীর হাতে দেখছি বীণার বদলে তানপুরা।” দেশজ সঙ্গীত চর্চার ইতিহাসে প্রাচীন এই বাদ্যযন্ত্র শিল্পকলার প্রতীক। ঋগ্বেদের মতো প্রাচীন গ্রন্থে বীণার উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু সেই বীণা কার্যত আজ অতীত। একটি বাদ্যযন্ত্র দোকানের মালিক বলেন, “আমাদের ১৮০ বছরের পুরনো দোকান। আমরা ষষ্ঠ প্রজন্ম এই বাদ্যযন্ত্রের ব্যবসা করছি। গত ৩২ বছরে মাত্র একটি রুদ্রবীণা বিক্রি করেছি। গত সাত মাস আগে বরাত পেয়ে তা খদ্দেরের হাতে তুলে দিয়েছি।” এই শহরের মধ্যবাজারের একটি বাদ্যযন্ত্র দোকানের ম্যানেজারের কথায়, “আমি গত ৩০ বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছি। একটা বীণাও বিক্রি হতে দেখিনি। তবে বেশ কয়েকজন সারাতে নিয়ে আসতেন। তখন আমরা মেরামত করে দিয়েছি। আসলে সিন্থেসাইজারেই বীণা-সহ নানা বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ মিলছে। তাই ওই বাদ্যযন্ত্র আর চোখে পড়ে না।” এখন বীণাপানির হাতে থাকা বীণাই বা বাজান ক’জন? এই বাদ্যযন্ত্র বাজাতেও তো পটু হতে হবে। বেহালা বাদক জানান, “বীণা তো আজকাল চোখেই দেখতে পাই না। বাজানো তো দূর অস্ত।” তবে শহর পুরুলিয়ার এই বাদ্যযন্ত্রের দোকানগুলি যদি বছরে একটি বরাত পান, তা কলকাতা থেকে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেন। আসলে বৈদ্যুতিক তানপুরা বাজারে আসার পর বীণার কদর একেবারেই কমে গিয়েছে। তাছাড়া ওই বাদ্যযন্ত্র দোকানে রেখে বিক্রি করাও বেশ সমস্যার, এমনই বলছেন ব্যবসায়ীরা। কারণ বাদ্যযন্ত্রের নিচের অংশে থাকে লাউ। দোকানে রাখায় তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। ক্ষতির মুখে পড়তে হয় ব্যবসায়ীদের।

মাঘের শুরু থেকেই শীতের উলটপুরাণ। কনকনে ঠান্ডা কার্যত উধাও হয়ে গরম অনুভব হতে শুরু করেছে। বেলার দিকে শহর কলকাতা ও আশেপাশের এলাকায় শীতের পোশাক কার্যত গায়ে রাখাও যাচ্ছে না। তাহলে কি এবার মাঘেই মিলবে উষ্ণতার ছোয়া? সেই প্রশ্ন উঠছে। সামনেই সরস্বতী পুজো? বাগদেবীর আরাধনার দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া? আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর যে বার্তা দিয়েছে, তা রীতিমতো দুশ্চিন্তার। কারণ, এবারের সরস্বতী পুজোয় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পারদ বাড়তে পারে। কলকাতা শহরের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের থেকে প্রায় দেড় ডিগ্রি বেড়েছে। এদিন মহানগরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের থেকে বেড়ে হয়েছে ২৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী দু’দিনে সেই তাপমাত্রা আরও কিছুটা বাড়তে পারে। এমনই আশঙ্কা করছে হাওয়া অফিস। ফলে, সরস্বতী পুজোয় এবার কপালে ঘাম জমবে! এমন আশঙ্কাও করছেন আবহবিদদের একাংশ। ভোরবেলা ও রাতের দিকে শীতের আমেজ ভালোই অনুভব হবে। তবে বেলা বাড়লে সেই আমেজ উধাও হচ্ছে। রোদের তেজ বাড়াচ্ছে অস্বস্তি। আঁটসাঁট শীত পোশাকে মৃদু ঘামও অনুভব হচ্ছে। মাঘের কনকনে শীত কেন উধাও হল? হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝা উত্তুরে হাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে। গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে পাঞ্জাব ও উত্তর-পশ্চিম ভারতে একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা সক্রিয় হয়ে রয়েছে বলে খবর। আরও একটি ঝঞ্ঝা ঢুকতে পারে। সেই আশঙ্কাও করা হয়েছে। তার জেরেই ক্রমে খুঁড়িয়ে চলছে মাঘের শীত। উত্তরবঙ্গ ও পশ্চিমের জেলাগুলিতে কিছুটা শীতের আমেজ আছে। তবে পশ্চিমের জেলাগুলিতেও সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে বলে খবর। দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি এলাকায় তাপমাত্রা ৩ থেকে ৫ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করবে। উত্তরবঙ্গে ভোরবেলা আপাতত ঘন কুয়াশার দাপট দেখা যাবে না বলেই খবর।

বাঙালির কাছে সরস্বতী পুজো মানেই প্রেমদিবস। যাকে স্কুল-টিউশনে যাওয়া-আসার পর একনজর দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হয়, এইদিনটায় বেশ কয়েকঘণ্টা মন ভরে তাঁকে দেখার সুযোগ মেলে। তাও আবার অন্য বেশে। ছেলেবেলায় এই একটা দিনই তো পছন্দের নারীকে শাড়িতে দেখার সুযোগ মেলে! এদিনেও কেউ কেউ শুধু চোখের দেখায় তৃপ্ত হয়। কেউ আবার সাহস সঞ্চয় করে সটান বলে বসে মনের কথা। কত ভালোলাগা প্রেমে বদলে যায় এই সরস্বতী পুজোর দিনেই। আবার বিপরীত ঘটনার সংখ্যাও নেহাত কম নয়। কিন্তু জানেন কি নিজেকে সঠিকভাবে সাজিয়ে তুললে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার চান্সই থাকে না, পছন্দের নারী প্রেমে পড়তে বাধ্য হয়! নিশ্চয়ই ভাবছেন কীভাবে? সরস্বতী পুজোর আগেই রইল পছন্দের রমণীর মন জিতে নেওয়ার টিপস।

১. সরস্বতী পুজো অর্থাৎ বাঙালির প্রেমদিবস আবার পাঞ্জাবি ছাড়া হয় না কি। ভুলেও শার্ট-প্য়ান্টে সাজবেন না। সকালে বাসন্তী বা হলুদ রঙের পাঞ্জাবিতে পরবেন। চেষ্টা করবেন অন্য রং এড়িয়ে যাওয়ার। পাঞ্জাবির সঙ্গে পায়জামা মাস্ট। ভুলেও জিন্স পরতে যাবেন না। স্টাইলের জন্য নিতে পারেন শাল। সানগ্লাস পরতে পারেন। তবে অবশ্যই তা পাঞ্জাবির সঙ্গে মানানসই হতে হবে। জুতোর দিকেও নজর দিতে হবে। অবশ্যই চপ্পল স্টাইলের জুতো পরবেন। ভুলেও পা ঢাকা কিছু পরবেন না। শীত বলে আবার মোজা পরে বসবেন না যেন! ২. সুগন্ধীর ছাতছানি এড়ানো বড্ড কঠিন। মনে রাখবেন প্রেমে পারফিউমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বিচ্ছেদের বহু বছর পরও স্রেফ চেনা পারফিউমের গন্ধ মুহূর্তে টাটকা করে তোলে প্রাক্তনের স্মৃতি। তাই সরস্বতী পুজোর দিন সুগন্ধি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সর্তক হোন। খুব উগ্রের গন্ধের কোনও পারফিউম ব্যবহার করবেন না ভুলেও। মনে রাখবেন, আপনি সরস্বতী পুজোর জন্য সাজছেন, বিয়ে বাড়ির জন্য নয়। ৩. কনফিডেন্ট হওয়া ভালো, তবে তা যেন সামী না পেরোয়। ক্রাশকে ইমপ্রেস করতে এমন আচরণ করবেন না যাতে সে আঘাত পায়। মনে রাখবেন, সঙ্গী হিসেবে শান্ত, ম্যাচুউর কাউকেই পছন্দ করে মেয়েরা। চোখের ভাষায় মনের কথা বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করুন। ৪. এই দিনে ভুলেও কোনও নেশা নয়। যাদের সিগারেট খাওয়ার প্রবণতা আছে, তারা চেষ্টা করুন এড়িয়ে যাওয়ার। পছন্দের মানুষটার যদি তামাকজাত দ্রব্যের গন্ধে অস্বস্তি বোধ হয়ে তাহলে কিন্তু প্রস্তাব দেওয়ার আগেই বিচ্ছেদ অনিবার্য। তাউ কেউ যদি সিগারেট খেয়েও ফেলেন অবশ্যই মাউথ ফ্রেশনার ব্যবহার করুন। আর কিছু না ভেবেই খোলা খাতার মতো মনের কথা তুলে ধরুন তাঁর সামনে, দেখবেন সে আপনাকে ফেরাতেই পারবে না।

বসন্ত পঞ্চমীর দিন অনেকের বাড়িতেই জোড়া ইলিশ রাঁধার নিয়ম রয়েছে। প্রথমে জোড়া মাছকে নিয়ম মেনে পুজো করা হয়। তারপর একেবারে মশলাবিহীন রান্না। অনেকেই বিভিন্নরকম সবজি দিয়ে এই ইলিশ রান্না করেন। এই সরস্বতী পুজোয় ট্রাই করতে দুটো ঐতিহ্যবাহী রেসিপি। বেশি সবজি কাটাকুটির ঝামেলা নেই। বাকি উপকরণ সবার বাড়িতে হাতের নাগালেই থাকে। সময় লাগে মাত্র ২০ মিনিট। উপকরণ
ইলিশ মাছ ৬ পিস (টাটকা হতে হবে), সরষের তেল, কালো জিরে, শুকনো লঙ্কা, নুন, হলুদ, চিনি, লঙ্কার গুঁড়ো, কাঁচা লঙ্কা।

প্রণালী
খুব সহজ। প্রথমেই ইলিশ মাছ ধুয়ে রাখুন। বেশি কচলে ধোবেন না। ইলিশের গন্ধ নষ্ট হয়ে যায় এতে। এবার কড়াতে তেল গরম করে কালো জিরে, শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিন। এবার আচ বন্ধ করে ফোড়নসুদ্ধ তেলটা একটা বাটিতে রাখুন। এবার সেই পাত্রেই কাচা ইলিশ সাজিয়ে তাতে ২ কাপ জল, নুন, চিনি, হলুদ, লঙ্কার গুঁড়ো, কাঁচা লঙ্কা চেরা সমস্ত উপকরণ দিন। শেষে তার উপর শুকনো লঙ্কা, কালো জিরে সহ ফোড়নের তেল আর অল্প কাচা সরষের তেল ছড়িয়ে ঢাকনা বন্ধ করে মাঝারি আচে বসিয়ে দিন। ঘড়ি ধরে ঠিক ৭ মিনিট। ঝোল টেনে ইলিশ সেদ্ধ হলে নামিয়ে নিন। গরমভাতে ইলিশের এই পদ যেন অমৃত!

ইলিশ বেগুন ঝোল
ইলিশ মাছ ৬ পিস (টাটকা হতে হবে), সরষের তেল, বেগুন (লম্বা করে কাটা) নুন-হলুদ, গোলমরিচ গুঁড়ো, কাঁচা লঙ্কা।

প্রণালী
প্রথমেই ইলিশ ভালো করে ধুয়ে নুন, হলুদ মাখিয়ে বেশ খানিকক্ষণ রাখুন। বেগুন লম্বা করে কেটে ধুয়ে নুন, হলুদ মাখিয়ে রাখুন। এবার কড়াইতে জল গরম করে বেগুন দিয়ে খানিকক্ষণ সেদ্ধ হলে একে একে ইলিশ মাছ, নুন, হলুদ আর বেশ খানিকটা গোলমরিচ গুঁড়ো এবং কাঁচা লঙ্কা দিয়ে ঢেকে রান্না করুন ঢিমে আঁচে। বেশি নাড়বেন না, এতে মাছ ভেঙে যায়। ঢাকনা খুলে উপর থেকে সামান্য সরষের তেল ছড়িয়ে গরম ভাতে পরিবেশন করুন ইলিশ বেগুনের ঝোল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles