Thursday, April 23, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

আবার আক্রান্ত সংবাদমাধ্যম! ১২ জন সংবাদকর্মী আহত, নিন্দায় রাজ্যপাল ও মুখ‍্যমন্ত্রী

সংবাদমাধ্যমের অন্তত ১২ জন কর্মী আহত!‌ সোমা মাইতি ও তাঁর সঙ্গে থাকা চিত্র সাংবাদিক। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সোমার মস্তিষ্কের স্ক্যান ও হাতের এক্সরে করা হয়েছে। কিছুটা স্থিতিশীল হলেও তাঁর একাধিক শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট আসা বাকি। পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। সেই খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হলেন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা। উন্মত্ত জনতার হাতে লাঞ্ছিত হন একটি টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক সোমা মাইতি এবং চিত্র সাংবাদিক। অভিযোগ, সোমাকে রাস্তায় ফেলে এলোপাথাড়ি কিল, চড়, লাথি ও ঘুষি মারা হয়। ভিড়ের মধ্যে তাঁর শ্লীলতাহানিও করা হয়েছে বলে অভিযোগ। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়োলেও রেহাই মেলেনি। তাঁকে ধাওয়া করে বেধড়ক মারধরের অভিযোগও উঠেছে।

শুধু সোমা বা তাঁর সঙ্গে থাকা চিত্র সাংবাদিকই নন, এই ঘটনায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের অন্তত ১২ জন কর্মী আহত হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সোমার মস্তিষ্কের স্ক্যান ও হাতের এক্সরে করা হয়েছে। কিছুটা স্থিতিশীল হলেও তাঁর একাধিক শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট আসা বাকি আছে এখনও। হাসপাতালে বসে সোমা বলেন, “আমরা শুধু কাজ করতে গিয়েছিলাম, কিন্তু যে ভাবে মারা হয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এত বছর সাংবাদিকতা করছি, কখনও এ রকম ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখে পড়িনি। দু’জন আমাকে পাঁজাকোলা করে তুলে নেন। এক জন চুল ধরে টানছিলেন, কেউ পা ধরে, কেউ জামা ধরে টানছিলেন।” রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার নিন্দা করেছেন। রাজ‍্যপাল এই ঘটনাকে ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতার উপর আঘাত’ বলে অভিহিত করেছেন। মমতাও ঘটনার নিন্দা করেন। পাশাপাশি, অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি, সাংবাদিকের উপর এই আক্রমণের তীব্র নিন্দা করেছে কলকাতা প্রেস ক্লাব। ক্লাবের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলা হয়, সাংবাদিকের উপর এই ধরনের হামলা গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ এবং এটা অপরাধ। মুর্শিদাবাদের পুলিশ প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করার দাবি জানানো হয়েছে।

ঘটনার কথা জানতে পেরেই সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিকের অবস্থা সম্পর্কে সরাসরি ফোন করে খোঁজখবর নেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বকে নির্দেশ দেন হাসপাতালে গিয়ে সোমা এবং চিত্র সাংবাদিকের শারীরিক পরিস্থিতির খবর নিতে। একই সঙ্গে তৃণমূল সাংসদ পুলিশকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। দলনেতার নির্দেশ মতো বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় আক্রান্ত সাংবাদিকের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেন। অভিষেকের বার্তা পৌঁছে দেন তৃণমূল নেতা। মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। তিনিও জানান, ঝাড়খণ্ড সরকারের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। দোষীদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনত শাস্তি দেওয়ার দাবি জানাবেন।

পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু ঘিরে শোরগোল চলছে। অভিযোগ, ঝাড়খণ্ডে কাজে গিয়ে খুন হয়েছেন তিনি। ওই নিয়ে অশান্ত মৃতের জন্মভূমি বেলডাঙা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঝাড়খণ্ডে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকের হত্যায় যাঁরা জড়িত, তাঁদের দ্রুত চিহ্নিত করার আবেদন জানালেন তিনি। তৃণমূলের একটি সূত্রে খবর, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে তাঁর রাজ্যের পুলিশ।

শুক্রবার সকালে বেলডাঙার বাসিন্দা জনৈক আলাউদ্দিন শেখের দেহ ঝাড়খণ্ডে উদ্ধার হওয়ার খবর মেলে। সেখানে কাজে গিয়েছিলেন ওই পরিযায়ী শ্রমিক। পরিবারের দাবি, ‘নৃশংস ভাবে’ আলাউদ্দিনকে খুন করা হয়েছে। জানা যায়, ঝাড়খণ্ডে ফেরিওয়ালার কাজ করতেন আলাউদ্দিন। ভাড়াঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তবে আলাউদ্দিনের প্রতিবেশী তথা গ্রামবাসীদের অভিযোগ, যুবককে পিটিয়ে খুন করার পর তাঁর দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, মুর্শিদাবাদের শ্রমিক হওয়ার কারণেই যুবকের এই পরিণতি।

এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই অশান্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা বিক্ষোভ হয়েছে মুর্শিদাবাদের ওই জনপদে। আটকে ছিল ট্রেন, বাস, লরি। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সকলকে শান্ত হওয়ার জন্য আবেদন করেন। তিনি জানান, মৃতের পরিবারের পাশে রয়েছেন তাঁরা। যা ঘটেছে তা অনভিপ্রেত। এই ঘটনার বিচার হবে।

তার পরেই ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করেছিলেন রাজ্যের শাসকদলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতা অভিষেক। বেলডাঙার পরিযায়ী শ্রমিক হত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হেমন্তকে অনুরোধ করেছেন তিনি। জানা যাচ্ছে, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী অভিষেককে আশ্বাস দিয়েছেন, এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে তাঁর পুলিশ। ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। দ্রুত অভিযুক্তদের ধরা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles