Friday, April 24, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

আইপ্যাক-কাণ্ডে সিবিআই তদন্ত চাইছে ইডি!‌ ইডির বিরুদ্ধে তদন্তে স্থগিতাদেশ, ফুটেজ ও নথি সংরক্ষণের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

ইডির বিরুদ্ধে তদন্তে স্থগিতাদেশ, ফুটেজ ও নথি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট। আইপ্যাক-কান্ডে সুপ্রিম কোর্টে প্রথমদিনের পর্যবেক্ষণ এবং নির্দেশ কার পক্ষে গেল? পশ্চিমবঙ্গ সরকার? পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল? নাকি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)? বৃহস্পতিবার দিনের শেষে এই হল প্রশ্ন। যে প্রশ্নের জবাব নিজেদের মতো করে দিয়েছে যুযুধান দুই রাজনৈতিক পক্ষ।আইপ্যাক-কান্ডে সুপ্রিম কোর্টে প্রথমদিনের পর্যবেক্ষণ এবং নির্দেশ কার পক্ষে গেল? পশ্চিমবঙ্গ সরকার? পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল? নাকি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)? বৃহস্পতিবার দিনের শেষে এই হল প্রশ্ন। যে প্রশ্নের জবাব নিজেদের মতো করে দিয়েছে যুযুধান দুই রাজনৈতিক পক্ষ।আইপ্যাক-কান্ডে সিবিআই তদন্ত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিল ইডি। রাজ্য সরকার সেই খবর পেয়েই শীর্ষ আদালতে ক্যাভিয়েট দাখিল করেছিল। ফলে বৃহস্পতিবার উভয়পক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতেই শুনানি হয়।

প্রথমদিন শুনানির পর ইডির বিরুদ্ধে পুলিশের এফআইআরের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আপাতত স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে পুলিশি তদন্তও। আবার একই সঙ্গে আদালত এ-ও মনে করেছে যে, কোনও রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী কাজে হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থারই। প্রথমদিনের শুনানির ভিত্তিতে (পরবর্তী শুনানি ৩ ফেব্রুয়ারি) ইডির তল্লাশি অভিযান ঘিরে আইনি যুদ্ধে দু’পক্ষই নিজেদের এগিয়ে রাখছে। এক পক্ষ দেখছে আদালতের নির্দেশ। অন্য পক্ষ দেখছে আদালতের পর্যবেক্ষণ।

শুনানির শেষে বেশ কিছু প্রশ্ন তুলে ধরেছে সুপ্রিম কোর্ট। ইডি বা অন্য কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে রাজ্য সরকারগুলি হস্তক্ষেপ করতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছে আদালত। পাশাপাশিই সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থারই কোনও রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী কাজে হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই। কিন্তু যদি কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘সৎ’ উদ্দেশ্যে কোনও গুরুতর অপরাধের তদন্ত করে, তা হলেও কি শুধুমাত্র ‘দলের কাজ’ বলে তা আটকানো যেতে পারে? সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেছে আদালত।

আইপ্যাক-কাণ্ড ঘিরে এই আইনি যুদ্ধে কেন্দ্র এবং রাজ্যের দুই তদন্তকারী সংস্থা জড়িয়ে রয়েছে। ইডির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছে কলকাতা ও বিধাননগর পুলিশ। আবার পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েছে ইডি। তবে সুপ্রিম কোর্ট মনে করছে, কেন্দ্র এবং রাজ্য উভয়ের সংস্থাই যাতে ‘স্বাধীন’ ভাবে নিজেদের কাজ করতে পারে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সেই কারণেই মামলাটি খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট এ-ও জানিয়েছে, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা (পুলিশ)-র সংস্থার আড়ালে লুকিয়ে যেন কেউ পার না পেয়ে যান, তা-ও দেখা দরকার। এই প্রশ্নগুলির মীমাংসা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। অন্য রাজ্যগুলিতেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ শুনানির জন্য ওঠে মামলাটি। মাঝে এক ঘণ্টার মধ্যাহ্নবিরতি ছিল। শুনানি চলে প্রায় বেলা তিনটে পর্যন্ত। দীর্ঘ শুনানিতে দু’পক্ষকেই বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেয় আদালত। শুনানি পর্বে মুখ্যমন্ত্রী মমতা এবং রাজ্যের পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে ইডি। ইডির অন্যতম দাবি ছিল, এই ঘটনার সিবিআই তদন্ত হোক। এবং সেই তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হোক পশ্চিমবঙ্গের বাইরে থেকে। ওই দাবির পক্ষে সওয়ালের সময়ে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসি রাজু বলেন, “এই মামলা একেবারেই ব্যতিক্রমী। কারণ, এখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজেই অভিযুক্ত। চুরির কাজটি মুখ্যমন্ত্রীই করেছেন। আর এই ঘটনা ঘটেছে পুলিশ কমিশনার ও রাজ্য পুলিশের ডিজিপি-র উপস্থিতিতে।” বস্তুত, পুলিশ আধিকারিকদের শাস্তির দাবিও তোলা হয় ইডির তরফে।ইডির অভিযোগের বিরোধিতায় নিজেদের বক্তব্য জানানোর সুযোগ পায় রাজ্য সরকার এবং পুলিশও। রাজ্য সরকারের আইনজীবী কপিল সিব্বল সওয়াল করেন, মমতা ‘মুখ্যমন্ত্রী’ হিসাবে নন, ‘তৃণমূলের চেয়ারপার্সন’ হিসাবেই সেখানে গিয়েছিলেন। যা ঘটনার পরদিন সর্বসমক্ষে বলেছিলেন মমতাও। তৃণমূলনেত্রীর যে তা করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে, তা-ও দুই বিচারপতির বেঞ্চকে বোঝানোর চেষ্টা করেন তিনি। সিব্বলের সওয়াল, মমতা সব ‘ডিজিটাল ডিভাইস’ (মোবাইল, ল্যাপটপ ইত্যাদি) নিয়ে গিয়েছেন বলে ইডি যে অভিযোগ করছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য। তিনি শুধু একটি ল্যাপটপ এবং একটি আইফোন নিয়েছিলেন (যেগুলি আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের ব্যক্তিগত সামগ্রী বলেই বলা হচ্ছে তৃণমূলের তরফে)। এর বাইরে আর কিছুই নেওয়া হয়নি। তল্লাশিতে কোনও বাধাও দেওয়া হয়নি। ভিডিয়ো ফুটেজ দেখলেই তা স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে জানান সিব্বল।

পাশাপাশি, ইডি কেন আইপ্যাক দফতরে হানা দিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিব্বল। আইপ্যাক বর্তমানে রাজ্য সরকার এবং তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা। আদালতে সিব্বলের সওয়াল, “আইপ্যাকের কাছে রাজনৈতিক দলের বিপুল পরিমাণ তথ্য থাকে। যখন ইডি সেখানে গিয়েছিল, তখন তারা জানত, যে দলের বহু গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল তথ্য সেখানে থাকবে। নির্বাচনের ঠিক মাঝখানে সেখানে যাওয়ার প্রয়োজন কী ছিল?” সিব্বল উল্লেখ করেন, ইডি যে কয়লাকাণ্ডের তল্লাশি চালাচ্ছে, সেই মামলায় শেষ বয়ান সংগ্রহ হয়েছিল ২০২৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। প্রশ্ন করেন, “এত দিন ইডি কী করছিল? হঠাৎ করে নির্বাচনের সময় এত তৎপরতা কেন? ইডি ওই সব তথ্য নিলে আমরা (তৃণমূল) নির্বাচনে লড়ব কী ভাবে?” তল্লাশি অভিযানের সময়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারও গিয়েছিলেন আইপ্যাকের দফতরে। তাঁর বিরুদ্ধেও সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ তুলেছে ইডি। কেন ডিজি গিয়েছিলেন সেখানে, সেই ব্যাখ্যাও আদালতে দিয়েছেন তাঁর আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। তাঁর সওয়াল, “কিছু অচেনা লোক ওই জায়গায় ঢুকেছেন। সেই খবর শুনে সেখানে গিয়েছিলেন ডিজিপি।” বস্তুত, মুখ্যমন্ত্রী ‘জ়েড প্লাস’ নিরাপত্তা পান এবং তিনিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথা উল্লেখ করে সিঙ্ঘভি বলেন, “এই ধরনের তথ্য পেলে ডিজিপির সেখানে যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।”

ইডির তরফে রাজ্যকে তল্লাশি অভিযানের বিষয়ে জানানো হয়েছিল কি না, তা নিয়েও বৃহস্পতিবার বিস্তারিত সওয়াল-জবাব চলে এজলাসে। রাজ্যের তরফে প্রথমে জানানো হয়, কিছু না জানিয়েই অভিযান চালায় ইডি। তাতে আপত্তি জানান সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তাঁর দাবি, ইডি জানিয়েছিল রাজ্যের আধিকারিকদের। তখন সিঙ্ঘভি বলেন, “ভোর ৬টা ৪৫ মিনিটে তল্লাশি শুরু হয়েছিল। আর ইডির তরফে অভিযানের কথা জানিয়ে ইমেল পাঠানো হয়েছিল তার অনেক পরে সকাল সাড়ে ১১টায়। আসলে নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টায় পরে ওই ইমেলটি করা হয়েছিল। ইডি অফিসারেরা অনেক দেরিতে নিজেদের পরিচয় দেন।” তিনি আরও জানান, খুবই সাধারণ ইমেল করে জানানো হয়েছিল। তবে ইডির দাবি, ইমেল কখনও ‘ক্যাজ্যুয়াল’ বা ‘গুরুত্বহীন’ হতে পারে না। ইমেল করা হয়েছে মানেই তা আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়েছে।
দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পরে আদালত জানায়, ইডির আধিকারিকেরা আইন মেনে প্রয়োজনীয় অনুমোদনপত্র নিয়ে তল্লাশি চালালে তাঁরা সৎ উদ্দেশ্যে কাজ করছিলেন বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি। তার আগে দু’সপ্তাহের মধ্যে ইডির বিরুদ্ধে মামলাকারী সব পক্ষকে হলফনামা দিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাতে বলেছে আদালত। তল্লাশি অভিযানের সঙ্গে সম্পর্কিত সব ডিজিটাল তথ্য এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘পুলিশকেই বলেছে সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করতে। অর্থাৎ, তাদের অপকর্মের সাক্ষ্য তাদেরই সংরক্ষণ করতে হবে। তারা অবশ্য তা মুছে দিতে পারে। কিন্তু সেটা করলেও তা বোঝা যাবে। আমি এই পর্যবেক্ষণকে স্বাগত জানাচ্ছি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরাজয় হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। সরকারের আইনজীবীরা চেষ্টা করেছিলেন মামলা কলকাতা হাই কোর্টে ফিরিয়ে আনার। সুপ্রিম কোর্ট তাতে কান দেয়নি!’’

‘রাজীব কুমারকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হোক’
তদন্ত চলাকালীন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একাধিক শীর্ষ আধিকারিকের গুরুতর অসদাচরণ

ডিজি রাজীব কুমারের সাসপেনশন চেয়ে আর্জি ইডির। আইপ্যাক তল্লাশি মামলার শুনানি রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। তার আগেই কেন্দ্রীয় এজেন্সির তরফে সুপ্রিম কোর্টে নতুন করে আরও একটি আবেদন করা হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে ডিজিপি রাজীব কুমারকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হোক। শুধু ডিজিপি একা নন, আরও যে যে আধিকারিকরা আইপ্যাক তল্লাশির সময় উপস্থিত ছিলেন তাঁদের সাসপেন্ড করা হোক। ইডির অভিযোগ, তদন্ত চলাকালীন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক গুরুতর অসদাচরণ করেছেন। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেননি। এই আচরণ তদন্তের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে দাবি করেছে ইডি। এখানেই শেষ নয়, ইডির অভিযোগ রাজীব কুমার শুধু তদন্তে বাধা দিয়েছেন এমনটা নয়, তাঁর বিরুদ্ধে এই ঘটনার নজির আগেও রয়েছে। এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ধরনায় বসেছিলেন সেই সময় কলকাতার পুলিশ কমিশনার ছিলেন রাজীব। তখনও তিনি একই ভাবে ধরনায় বসেছিলেন। যা একজন আইপিএস অফিসারের কাজের বিরোধী। সংশ্লিষ্ট আবেদনে ইডি আরও জানিয়েছে, শুধু ডিজিপি নন, রাজ্য পুলিশের কয়েকজন সিনিয়র অফিসারের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এই কারণে সুপ্রিম কোর্টকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে কেন্দ্রীয় সরকারের পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং বিভাগ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। বিজেপি নেতা জগন্নাথ সরকার বলেন, “সরকার চালাতে গেলে রাজনীতি এবং প্রশাসন দুটোকে আলাদা করে রাখতে হয়। তৃণমূল শাসনে এই সীমারেখা থাকে না। খেসারত এবার দিতে হবে।” আইপ্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে জোড়া পিটিশন দায়ের করেছে ইডি। প্রথম পিটিশনটি দায়ের করা হল ইডির তরফে। দ্বিতীয় পিটিশনটি দায়ের করলেন ইডির তিন আধিকারিক নিশান্ত কুমার, বিক্রম অহলওয়াত এবং প্রশান্ত চান্ডিলা। দুই মামলাতে রাজ্যের পাশাপাশি যুক্ত করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, নগরপাল মনোজ ভর্মা, কলকাতা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) প্রিয়ব্রত রায় এবং সিবিআইকে। সেই মামলারই শুনানি রয়েছে আজ। তবে তার আগেই ফের রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার আর্জি ইডির।

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে পুলিশ আধিকারিকদের বদলির সিদ্ধান্ত নবান্নের। তিন বছর বা তার অধিক সময় ধরে পদে রয়েছেন। সেই সমস্ত পুলিশ আধিকারিকদের সরাতে বিজ্ঞপ্তি জারি করল রাজ্য।
এই নির্দেশিকা তাঁদের জন্য, যাঁরা হোম ডিস্ট্রিক্ট বা একই পদে রয়েছেন, তাঁদের জন্য প্রযোজ্য হবে। এই নির্দেশিকা সমস্ত উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের দিয়ে দেওয়া হল। নির্বাচন কমিশনের ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর এবং ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বরের নির্দেশিকা অনুসারে, নির্দিষ্ট মানদণ্ডে পড়া সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার পুলিশ আধিকারিকদের বদলি করতে হবে। বাংলায় আবারও কেন্দ্রীয় এজেন্সির তৎপরতা। ইডির পর এবার শহরে সিবিআই তল্লাশি। গত বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কুশলী সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার ও তার অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। এক সপ্তাহ পর এবার তল্লাশিতে নামল সিবিআই। ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলায় কলকাতায় তল্লাশি কেন্দ্রীয় এজেন্সির। এ দিন কলকাতা-নিউটাউন সহ পাঁচটি জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি আধিকারিকরা। আলিপুর নিউ রোডে অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে তল্লাশি শুরু করেন তাঁরা।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, আলিপুর নিউ রোডে নিশা কেজরিওয়াল এর বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা। ডিজি রাজীব কুমারের সাসপেনশন চেয়ে আর্জি ইডির। বৃহস্পতিবার আইপ্যাক তল্লাশি মামলার শুনানি রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। কেন্দ্রীয় এজেন্সির তরফে সুপ্রিম কোর্টে নতুন করে আরও একটি আবেদন করা হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে ডিজিপি রাজীব কুমারকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হোক। ডিজিপি একা নন, আরও যে যে আধিকারিকরা আইপ্যাক তল্লাশির সময় উপস্থিত ছিলেন তাঁদের সাসপেন্ড করা হোক।‌

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles