ঘুম থেকে ওঠা, ছকে বাঁধা রুটিনে ক্লান্ত? প্রকৃতির সান্নিধ্য ভুলিয়ে দিতে পারে কষ্ট। তল্পি-তল্পা গুটিয়ে বেরিয়ে পড়ুন এই বেলা। কাছেপিঠে রয়েছে শীতে ভ্রমণের ঠিকানা। শহুরে জীবন, একঘেয়ে অফিস! মুক্তির সন্ধান দিতে পারে শুধুই প্রকৃতি। পরিকল্পনা ছাড়া ঘুরে আসা যায় এমন জায়গার খোঁজ করছেন? তা হলে দেরি কেন, ব্যাগ গুছিয়ে বেড়িয়ে পড়ুন। দিন দুয়েকেই ঘুরে আসার তিন ঠিকানা জেনে নিন। গুড়গুড়িপাল: শাল-সেগুনে ঘেরা অরণ্যের অপূর্ব শোভার শরিক হতে চলুন পশ্চিম মেদিনীপুরের গুড়গুড়িপালে। মূলত শালের এই বনে মাঝেমধ্যে দেখা মেলে সেগুন, আকাশমণিরও। খানিক দূর দিয়ে বয়ে গিয়েছে কাঁসাই নদী। এখানেই রয়েছে একটি ইকো পার্কও। মেদিনীপুর শহর থেকে যার দূরত্ব প্রায় ১৩ কিলোমিটার। শুধু ইকো পার্ক দর্শন নয়। এই জায়গায় যাওয়া যায় প্রকৃতির সঙ্গে একলা হতে, যাওয়া যায় নিঝুম দুপুরে গাছেদের সঙ্গ পেতে, প্রিয়জনের সঙ্গে কাঁসাইপারে বসে কিছু ভাললাগা ভাগ করে নিতে, নদীর পারে সূর্যাস্ত দেখতে। এখানে আনাগোনা হরেক পাখির। পক্ষীপ্রেমী হলে, ক্যামেরা কাঁধেই কাটিয়ে দিতে পারবেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলিতেও ঢুঁ মারতে পারেন। হাওড়া থেকে মেদিনীপুর চলুন ট্রেনে। সেখান থেকে গাড়ি বুক করে ঘুরে নিন গুড়গুড়ি পালের অরণ্য। গাড়িতে কলকাতা থেকেও যেতে পারেন। ঘণ্টা চারেকের পথ। গুড়গুড়িপালে বেসরকারি উদ্যোগে তৈরি একটি নেচার ক্যাম্প রয়েছে। সেখানে জঙ্গলের মধ্যে তাঁবুতে থাকার ব্যবস্থা। এ ছাড়া আর কোনও থাকার জায়গা নেই। তবে মেদিনীপুর শহরে ছোট-বড় থাকার জায়গা পেয়ে যাবেন।
কানাইচট্টা: দিঘার অদূরে কানাইচট্টা সৈকত প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানোর আর এক ঠিকানা।কাঁথি বাস স্ট্যান্ড থেকে খানিক দূরে দরিয়াপুর গ্রামেই রয়েছে তার ঠিকানা। সৈকটির নাম কানাইচট্টা। এখনও সে ভাবে পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে জনপ্রিয় হয়নি জায়গাটি। বরং ভ্রমণপিপাসু কিছু মানুষ নিরালা প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে যেতে শুরু করেছেন সেখানে। থাকার জায়গা বলতে একটি মাত্র ‘বিচ ক্যাম্প’। গাছপালা ঘেরা উন্মু্ক্ত পরিবেশে তাবুঁতে থাকার ব্যবস্থা। তবে গুঁড়ি মেরে ঢুকতে হবে না তাতে। দিব্যি দাঁড়ানো যায়। খাট-বিছানা সবই আছে। আতিশয্য না থাকলেও প্রয়োজনের সবটুকুই মিলবে এখানে। বাড়তি পাওনা, গাছের ছায়া, উন্মুক্ত পরিবেশ জমিয়ে মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি খাওয়া।এখানে এলে দেখা যায় ট্রলারের আনাগোনা। পড়ন্ত বিকেল প্রিয় মানুষটির সঙ্গে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেওয়া যায় সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে। চাইলে একটা অটো ভাড়া করে চলে যেতে পারেন দরিয়াপুর বাতিঘরে। টিকিট কেটে ঢুকতে হয় ভিতরে। এখান থেকে চলে যেতে পারেন পেটুয়াঘাট। সেখান থেকে ভেসেলে রসুলপুর নদী পেরিয়ে পৌঁছনো যায় হিজলি শরিফে। ট্রেনে এলে কাঁথি স্টেশনে নেমে অটো ভাড়া করে পৌঁছতে হবে কানাইচট্টা সৈকতে। সড়কপথে এলে কলকাতা থেকে দিঘাগামী বাস ধরে নামতে হবে কাঁথির রূপশ্রী বাইপাস। সেখান থেকে অটো ভাড়া করে কাঁথি সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ড আসতে হবে।এ ছাড়া রপশ্রী বাইপাস থেকে পেটুয়াঘাটের ট্রেকার পাওয়া যায়।তাতে চেপেই আসতে হবে দরিয়াপুর। সেখান থেকে টোটো করে কানাইচট্টা সমুদ্র সৈকত। গাড়িতেও কলকাতা থেকে সরাসরি এই পথ ধরে আসতে পারেন সৈকতে। সৈকতের আশপাশে থাকার জন্য একটি বেসরকারি ক্যাম্প রয়েছে থাকার জন্য। বড় তাঁবুতে থাকার ব্যবস্থা। আতিশয্য না থাকলেও প্রয়োজনের সব কিছু মিলবে সেখানে।লাইট হাউসের পাশেও রয়েছে বেসরকারি রিসর্ট।

বড়দি পাহাড়: পাহাড় না বলে টিলা বলাই ভাল। চারপাশে শাল-মহুয়ার বন। খানিক দূর দিয়ে বয়ে গিয়েছে কংসাবতী নদী। অরণ্য পথে হাঁটলে পা জড়িয়ে ধরে বুনো লতাপাতা। পাখিদের ডাকে সেই পরিবেশ আরও সুন্দর হয়ে ওঠে। বাঁকুড়ায় গরম বড় মারাত্মক। তার চেয়ে শীতের মরসুমে রোদে ঘোরা আরামদায়ক। স্থানীয় বড়দি গ্রামের নামেই এর নাম। আছে ভিন্ন মতও। বড়দি পাহাড় থেকে কংসাবতীর রূপ বড় সুন্দর। পাহাড়ে ওঠার সময় চোখে পড়ে নদী। উঁচু থেকে তা আরও সুন্দর দেখায়। এক বার পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে পারলে, চোখের সামনে বদলে যায় দৃশ্যপট।এখানে থেকে ঘুরে নিতে পারেন মুকুটমণিপুর। আবার এখানে ঘুরে মুকুটমণিপুরে গিয়েও রাত্রিবাস করতে পারেন। কলকাতা থেকে বড়দি পাহাড়ের দূরত্ব ২১০ কিলোমিটারের মতো। ট্রেনে হাওড়া থেকে বাঁকুড়া এসে বাকি পথটা গাড়ি ভাড়া করে চলে আসতে পারেন।
বাংলা নয়, ঝাড়খণ্ড। ভোরের ট্রেনে চাপলে, চড়া রোদ ওঠার আগেই পৌঁছে যাবেন সেখানে। ঝাঁ চকচকে শহর। তবে তার আনাচ-কানাচেই রয়েছে ঘুরে নেওয়ার নানা জায়গা। আছে ডিমনা লেক, জুবিলি পার্ক, দলমা পাহাড় এবং অভয়ারণ্য। যদি টাটানগর না ঘোরা হয়ে থাকে, সপ্তাহশেষে বেরিয়ে পড়ুন সেখানেই। শহরের ব্যস্ততা, অরণ্যের নির্জনতা এই সফরে মিলবে এমনই বৈপরীত্য। ডিমনার বুকে স্পিড বোটে চেপে সাক্ষী থাকতে পারবেন এক মনোরম সূর্যাস্তের। টাটানগরের আর এক নাম জামশেদপুর। জামশেদজি টাটার সঙ্গে জড়িয়ে এই স্থানের নাম। রেলস্টশন অবশ্য টাটানগর জংশন। শিল্পাঞ্চল এলাকা। রাস্তাঘাট সবই ঝকঝকে। বেশ বড় শহর। স্টেশনের বাইরেই মিলবে ই-স্কুটার। চাইলে দিনভর স্কুটার ভাড়া করে ঘুরে নিতে পারেন শহরটা। ডিমনা, ভুবনেশ্বরী মন্দির, চান্ডিল ড্যাম, মিউজ়িয়াম, জুবিলি পার্ক-সহ এই শহরে একাধিক ঘোরার জায়গা রয়েছে। সাকচি এই শহরের খুব জনবহুল স্থান। সেখানে হোটেলও আছে। বিষ্টুপুর বা সাকচিতে থাকলে শহর ঘোরা সহজ হবে, কারণ এখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল। গাড়ি ভাড়া করে বেরিয়ে পড়ুন শহরের আনাচ-কানাচ দেখতে। সারা দিনই লেগে যাবে। কী কী ঘুরবেন?

ভুবনেশ্বরী মন্দির
টাটা কলোনিতে ভুবনেশ্বরী পাহাড়ের মাথায় দক্ষিণী নির্মাণশৈলীতে তৈরি হয়েছে ভুবনেশ্বরী মন্দির। মন্দির পর্যন্ত যেতে অনেকগুলি সিঁড়ি চড়তে হয়। মন্দিরে পূজিত হন ভুবনেশ্বরী দেবী। শান্ত পরিবেশ মন ভাল করে দেয়। পাহাড়ের মাথার এই মন্দির থেকে শহরের অনেকটা দৃশ্যমান হয়।
হাডকো লেক
মন্দির থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরেই রয়েছে উদ্যান ঘেরা জলাশয়। জায়গাটি সাজানো-গোছানো। শীতের দিনে এখানে পিকনিক হয়। ঘুরে নিতে পারেন এই জায়গাটিও। সাকচি থেকে ডিমনা লেকের দূরত্ব ৯ কিলোমিটার। টাটানগর স্টেশন থেকে দূরত্ব ১৭ কিলোমিটার। শহর থেকে একটু দূরে, দলমা পাহাড়ের নীচে রয়েছে ডিমনা লেক। শীতের দিনে অবশ্য লেকের ধারে স্থানীয়েরা পিকনিক করতে আসেন। ডিমনা লেকের পাশ দিয়ে বাঁধানো রাস্তা চলে গিয়েছে। সেখান দিয়ে হেঁটে হ্রদের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। তবে সবচেয়ে উপভোগ্য হবে বিকেলের দিকে স্পিডবোটে চেপে বসা। পুরো হ্রদটি এক পাক ঘুরিয়ে আনে স্পিডবোট।
রুশি মোদি সেন্টার অফ এক্সেলেন্স
শহরের প্রাণকেন্দ্রে রয়েছে এই মিউজিয়াম। কী ভাবে জামশেদজি টাটা অরণ্যের মাঝে এই ইস্পাতনগরী গড়ে তুলেছিলেন, তার নথিপত্র এবং ছবি রয়েছে এখানে। টাটা গোষ্ঠীর ভূতপূর্ব চেয়ারম্যান রুশি মোদীর নামাঙ্কিত ভবনটি দেখার মতো। সাজানো-গোছানো উদ্যান, আধুনিক শৈলীতে তৈরি ভবন দ্রষ্টব্যের তালিকায় রাখতে পারেন।
জুবিলি পার্ক
জামশেদপুর বা টাটানগর শহরের অন্যতম আকর্ষণই হল জুবিলি পার্ক। ঢেউ খেলানো এলাকায় বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে কেয়ারি করা বাগান। রঙিন আলো, ফোয়ারা। সন্ধ্যায় আলো জ্বলে উঠলে সৌন্দর্য বেড়ে যায় বহু গুণ। পাশেই রয়েছে জুলজিক্যাল পার্ক। জুবিলি পার্ক এবং রুশি মোদি সেন্টারটি কাছাকাছি। এই দুই জায়গা একসঙ্গে ঘুরতে পারেন। রাতটা টাটানগরে কাটিয়ে পরের দিন চলে যেতে পারেন প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে চান্ডিল ড্যাম। নামে ড্যাম হলেও এর বিশাল ব্যপ্তি দেখলে ছোট সমুদ্র মনে হতে পারে। অরণ্য-পাহাড়ে ঘেরা চান্ডিল জলাধারেও স্পিডবোটে ঘোরার ব্যবস্থা রয়েছে।
দলমা পাহাড় এবং অভয়ারণ্য
চান্ডিল থেকে চলে যেতে পারেন দলমা পাহাড় এবং অভয়ারণ্যে। জলাধার থেকে ৪০ কিলোমিটর পূর্বে এর অবস্থান। ঘণ্টা দেড়েকের মতো সময় লাগবে গাড়িতে। দ্বিতীয় দিনটি দলমাতেই থাকার ব্যবস্থা করতে পারেন। পাহাড়ের গায়ে ঘন বনানীর মধ্যে থাকার জন্য রিসর্ট রয়েছে। পাহাড়ের গায়ে ঘন বন। মূলত হাতির আনাগোনা রয়েছে এখানে। এ ছাড়াও দেখা মিলতে পারে বুনো শুয়োর, চিতল হরিণ, জায়ান্ট স্কুইরেল, মাউস ডিয়ার, শিয়াল-সহ অসংখ্য বন্যপ্রাণীর। পাহাড়ের মাথায় রয়েছে শিব, হনুমানের মন্দির। ধাপ বেয়ে হেঁটে উঠতে হয় এক একটি মন্দির। অরণ্যের সৌন্দর্য এবং নির্জনতাই এখানে উপভোগ্য। পাহাড়ে মাথা থেকে সেই শোভা আরও সুন্দর দেখায়। হাওড়া থেকে টাটানগর জংশন যাওয়ার একাধিক ট্রেন রয়েছে, সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যেই সেখানে পৌঁছনো যায়। প্রতি দিন সকাল ৬:২০ মিনিটে বারবিল জনশতাব্দী এক্সপ্রেস হাওড়া থেকে ছেড়ে সকাল ৯:৫০ মিনিটে টাটানগর জংশন পৌঁছয়। হাওড়া থেকে ইস্পাত এক্সপ্রেস ছাড়ার সময় সকাল সাড়ে ছ’টা। টাটানগর পৌঁছনোর সময় সকাল ১০:১৩ মিনিট। এ ছাড়াও গীতাঞ্জলি এক্সপ্রেস, মুম্বই মেল, সমলেশ্বরী এক্সপ্রেস ধরেও টাটানগর যাওয়া যায়। কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গের যে কোনও শহর থেকে সড়কপথেও টাটানগর যেতে পারেন। টাটানগর খুব বড় শহর। সাকচি, জুবিলি পার্ক-সহ বিভিন্ন জায়গায় এখানে বিভিন্ন মানের হোটেল, রিসর্ট আছে। দলমাতেও একাধিক থাকার জায়গা আছে।

কালীঘাটের মন্দিরের কথা সকলেই জানেন। কিন্তু সেই মন্দিরের অদূরে নিঃশব্দে দক্ষিণ ভারতীয় রাজার স্মৃতি বয়ে নিয়ে চলেছে যে উদ্যান, তার খবর ক’জনই বা রাখেন! কলকাতার দ্রষ্টব্য বললে, ভিক্টোরিয়া, চিড়িয়াখানা, জাদুঘরের নামই আসে আগে। এখন অবশ্য জুড়েছে ইকোপার্ক, এয়ারক্র্যাফ্ট মিউজ়িয়ামের মতো নতুন কিছু স্থান। কিন্তু ধর্মতলা থেকে মহীশূর উদ্যানের দূরত্ব জোর সাড়ে তিন-চার কিলোমিটার। এক সময় বাংলার নৌ বাণিজ্য চলত যে আদিগঙ্গা দিয়ে, তারই পাশে তৈরি হয়েছিল মহীশূর রাজের স্মৃতি বিজড়িত উদ্যান। শোনা যায় তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড এলগিনের সঙ্গে জরুরি প্রয়োজনে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন মহীশূরের রাজা চামরাজেন্দ্র ওয়াদিয়ার। মহীশূরের এই মহারাজা ছিলেন শিক্ষানুরাগী। তিনি নারীশিক্ষার প্রসার ঘটিয়েছিলেন। শোনা যায়, স্বামী বিবেকানন্দের সঙ্গেও তাঁর সখ্য গড়ে উঠেছিল। কলকাতাতেই ডিপথেরিয়া হয়ে ৩৩ বছর বয়সে প্রাণ হারিয়েছিলেন তিনি। রাজা বলে কথা। লোকমুখে শোনা যায়, তাঁর দাহকাজের জন্য কেওড়াতলা শ্মশানের বেশ কিছুটা অংশ কিনে নেওয়া হয়। সেখানে তৈরি হয় ঘাট। আর তৈরি হয় উদ্যান, যার একপ্রান্তে রয়েছে বিষ্ণুমন্দির। সেই স্মৃতি নিয়েই দাঁড়িয়ে মহীশূর উদ্যান, যেখানে গেলে মনে হবে এ যেন এক টুকরো দক্ষিণ ভারত। কর্নাটকের মহীশূরের মতো রাজকীয় প্রাসাদ না হলেও, উদ্যানের তোরণ থেকে মন্দিরে দক্ষিণভারতীয় শিল্পের ছাপ স্পষ্ট। রাস্তার উপরেই সাদা রঙের কারুকাজ করা সুউচ্চ তোরণ। তারই মাথায় গজলক্ষ্মীর রিলিফ। মূল প্রবেশদ্বার দিয়ে ভিতরে গেলেই চোখে পড়ে কেয়ারি করা বাগিচা। বাঁধাই রাস্তা। ফুল, ফোয়ারা, সযত্নে ছাঁটা গালিচার মতো ঘাস এই স্থানের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। এখান থেকেই চোখে পড়বে কর্নাটকি স্থাপত্যরীতিতে তৈরি শ্বেতশুভ্র বিষ্ণুমন্দির। এর সঙ্গে কর্নাটকের হাসান জেলার হালেবিদু শহরের মন্দির নির্মাণ শৈলী এবং স্থাপত্যের সাদৃশ্য রয়েছে। ভিতরে রয়েছে কষ্টিপাথরে তৈরি বিষ্ণুর অবতার। মন্দির গাত্রে নানা স্থানে রয়েছে কষ্টিপাথরের নানা মূর্তি। পাশেই রয়েছে ছোট্ট সাদা রঙের শিব মন্দির। একসময় এই চত্বর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হতে বসেছিল। তবে কলকাতা পুরসভা দায়িত্ব পাওয়া পরে সেই স্থান যত্নে রক্ষা করা হচ্ছে। উদ্যান প্রাচীরের পাশেই নবরত্ন এবং কৃষ্ণকালী মন্দির। উদ্যান থেকে তা দেখা গেলেও সেখানে প্রবেশের অনুমতি নেই। শীতের দিনে একবেলা সময় থাকলেই ঘুরে নিতে পারেন শহরের বুকে রয়ে যাওয়া ভিন রাজ্যের রাজার স্মৃতিবিজড়িত স্থানটি। কালীঘাটে বেড়াতে এলেও হাঁটাপথে এখানে চলে আসতে পারেন। সকাল সাড়ে ৬টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত খোলা থাকে। আবার উদ্যান খোলে বিকাল ৪টেয়। খোলা থাকে রাত ৯টা পর্যন্ত। কালীঘাট থেকে চেতলা যাওয়ার পথে পড়বে টালিগঞ্জ রোড, সেই রাস্তাতেই রয়েছে মহীশূর উদ্যান। হাওড়া স্টেশন থেকে টালিগঞ্জ বা কেওড়াতলা যাওয়ার বাসে উঠে কেওড়াতলা মহাশ্মশান স্টপেজে নামতে পারেন। সেখান থেকে মহীশূর উদ্যান হাঁটা পথ। মেট্রোতে কালীঘাট পৌঁছে অটো ধরে যেতে পারেন।





