Saturday, April 25, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

কেন তৃণমূলের মামলার নিষ্পত্তি? আইপ্যাক নিয়ে শুনানি, কোন যুক্তিতে মুলতুবি ইডির আবেদন?

সুপ্রিম কোর্টে ইডি যে মামলা করেছে, তার বিষয়বস্তু হাই কোর্টের মামলার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। তাই শীর্ষ আদালতে এই সংক্রান্ত মামলার অগ্রগতি দেখেই হাই কোর্ট ইডির মামলা আবার শুনবে। আইপ্যাক-কাণ্ডে কলকাতা হাই কোর্টে তৃণমূলের তরফে মামলাটির নিষ্পত্তি করেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। ইডি মামলাটিকে আপাতত মুলতুবি রেখেছে। আদালত জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টে ইডি যে মামলা করেছে, তার বিষয়বস্তু হাই কোর্টের মামলার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। শীর্ষ আদালতে এই সংক্রান্ত মামলার অগ্রগতি দেখেই হাই কোর্ট ইডির মামলা আবার শুনবে। সুপ্রিম কোর্টে ইডির মামলার শুনানি রয়েছে। হাই কোর্টে আইপ্যাক নিয়ে মামলাটিতে তৃণমূলের মূল বক্তব্য ছিল, কোনও ভাবেই যাতে তাদের দলের রাজনৈতিক গোপন তথ্য বাইরে প্রকাশ না-করা হয় বা অন্য কাউকে না-দেওয়া হয়। রাজনৈতিক গোপন তথ্য সুরক্ষিত রাখার আবেদন জানিয়েছিল তৃণমূল। মামলায় তারা আর কোনও আবেদন জানায়নি। শুনানি চলাকালীন ইডির পক্ষ থেকে ৮ জানুয়ারি আইপ্যাকের সল্টলেকের দফতর বা সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে তারা কিছুই বাজেয়াপ্ত করেনি। কোনও নথি, ফাইল বা তথ্যের ব্যাকআপও নেওয়া হয়নি। এই বক্তব্যের সপক্ষে আদালতে পঞ্চনামাও জমা দেয় কেন্দ্রীয় সংস্থা।

ইডি পঞ্চনামায় জানিয়েছে, আইপ্যাকের দফতর থেকে বা প্রতীকের বাড়ি থেকে কিছু নেওয়া হয়নি। কোনও ডিজিটাল তথ্যও কপি করা হয়নি। তৃণমূলের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী ইডির এই বক্তব্য রেকর্ড করার আবেদন জানান। বিচারপতি ঘোষ এর পরেই তৃণমূলের মামলাটির নিষ্পত্তি করে দেন। তাঁর বক্তব্য, যেহেতু কিছুই বাজেয়াপ্ত করা হয়নি বা কপি করা হয়নি, তাই এই মামলায় আর কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন নেই। ইডির বয়ান রেকর্ড করে নেন বিচারপতি। সুপ্রিম কোর্টে মামলার কথা জানিয়ে বুধবার শুনানির শুরু থেকেই হাই কোর্টে আইপ্যাক-মামলার মুলতুবি চাইছিল ইডি। তাদের আইনজীবী তথা অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজু‌ ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাই কোর্টের শুনানিতে ছিলেন। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, এক সপ্তাহের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি রয়েছে। তার আগে এখানে শুনানি না-হলে আকাশ ভেঙে পড়বে না। বিচারপতি ঘোষ তাঁর পর্যবেক্ষণে জানান, যেহেতু সুপ্রিম কোর্টে ইডির তরফে আবেদন করা হয়েছে, তাই সেখানে এই মামলার নিষ্পত্তি হওয়ার পরে হাই কোর্টে শুনানি হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে নথি বাজেয়াপ্ত করেছেন, আদালতে বুধবার সেই তথ্য নথিভুক্ত করিয়েছেন ইডির আইনজীবী। পাশাপাশি, তিনি প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের মামলার বৈধতা নিয়েও। আইপ্যাকের দফতর এবং কর্ণধারের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালানো হলেও এই মামলা কেন আইপ্যাক দায়ের করেনি, কেন তৃণমূল এই মামলার আবেদনকারী, প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তৃণমূলের আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন দলের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী। তল্লাশির দিন ঘটনাস্থলে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। তবু কেন তিনি মামলা দায়ের করলেন? প্রশ্ন তুলেছে ইডি। মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার তল্লাশির সময় ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। ইডির আরও প্রশ্ন, কেন তাঁদের কাউকে এই মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়নি? তৃণমূলের আবেদনে কেন তাঁদের ভূমিকার উল্লেখ নেই? ইডির আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, মুখ্যমন্ত্রী, ডিজিপি বা সিপি-কে যত ক্ষণ না মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে, তত ক্ষণ এই মামলার শুনানি হতে পারে না। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল তৃণমূল। কেন্দ্রের আইনজীবী কুমারজ্যোতি তিওয়ারির দাবি, আইপ্যাকের দফতরে তল্লাশির সঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর কথায়, ‘‘তৃণমূলের পুরো আবেদনে শুধুই নির্বাচন আর এস‌আইআর-এর কথা! এর সঙ্গে কয়লা কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত তল্লাশির কী সম্পর্ক?’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles