চার হাজার টাকার বিনিময়ে ভোটার তালিকায় নাম থাকার নিশ্চয়তা দেন বিএলও। প্রকাশ্যে এল সেই কথোপোকথনের অডিয়ো রেকর্ডিং। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের অন্তর্গত মাটিগাড়া নকশালবাড়ি বিধানসভার নকশালবাড়ির তোতারাম জোতের মাদ্রাসা বস্তির বাসিন্দা মহম্মদ সাদ্দাম হোসেন। কর্মসূত্রে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বেঙ্গালুরুতে থাকেন। সেখানেই বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন সাদ্দাম। তবে তাঁর পরিবারের বাকি সদস্যদের বসবাস নকশালবাড়িতেই। এসআইআরের শুনানিতে ডাক পড়ে সাদ্দামের৷ তাঁর পরিবারের প্রায় ১২ জনের কোনও সমস্যা না হলেও শুনানির চিঠি পান সাদ্দাম। গত সপ্তাহে বৃহস্পতিবার তাঁর বাড়িতে নোটিস যায় শুনানির। সেই মতো পরিবার সাদ্দামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁকে মঙ্গলবার শুনানিতে যেতে হবে সে কথাও জানানো হয়। কিন্তু ভিন্রাজ্যের শ্রমিকদের ক্ষেত্রে পরিবারের অন্য সদস্যেরা শুনানিতে উপস্থিত হলেও নাম নথিভুক্ত হবে। এমন নির্দেশিকা নির্বাচন কমিশনের থাকলেও, সাদ্দাম তাঁর বিএলও কাঞ্চন লিম্বুর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করেন। সেখানেই বাধে গোলযোগ। সাদ্দামের অভিযোগ, কাঞ্চন তাঁর কাছে নাম তুলে দেওয়ার জন্য চার হাজার টাকা দাবি করেন। ফোনে কাঞ্চন তাঁকে আরও জানান, বেঙ্গালুরু থেকে আসবার প্রয়োজন নেই সাদ্দামের। পরিবারের এক জনকে সঙ্গে নিয়ে শুনানিতে কাঞ্চন চলে যাবেন। অভিযোগের প্রমাণ হিসাবে তাঁর ও কাঞ্চনের ফোনের বার্তালাপের রেকর্ডিং রয়েছে বলে দাবি সাদ্দামের৷ সেই রেকর্ডিংয়ে শোনা যাচ্ছে, সাদ্দাম ও কাঞ্চনের মধ্যে চার হাজার টাকা নিয়ে দড় কষাকষি চলছে। কাঞ্চন তাঁকে আশ্বস্ত করছেন, এসডিও অফিসের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে তিনি সাদ্দামের নাম তুলে দেবেন, কিন্তু তার বদলে চাই চার হাজার টাকা! তার কম হবে না। বিএলওর উপর আস্থা হারিয়ে বেঙ্গালুরু থেকে নকশালবাড়িতে ফিরে আসেন সাদ্দাম। তিনি শুনানিতেও পৌঁছোন। শুনানি পর্ব শেষে তিনি বলেন, “যেখানে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম রয়েছে পরিযায়ী শ্রমিক বা যাঁরা ভিন্রাজ্যে কর্মরত তাদের পরিবারের কোনও সদস্য নথি নিয়ে শুনানিতে পৌঁছোলেই হবে, সেখানে বিএলও চার হাজার টাকার দাবি করেন। পরিবার ছেড়ে বিমান ভাড়া দিয়ে এসেছি৷ এটা অনৈতিক কাজ হচ্ছে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের দেখা উচিত।” বিএলও স্পষ্ট জনিয়ে দেন তাঁর সঙ্গে সাদ্দামের কোন কথাই হয়নি৷ তিনি তাঁকে চেনেন না। তিনি বলেন, “ওঁর নামে শুনানির নোটিস এসেছিল। সেটা ওঁর বাড়ি পৌঁছে দিয়েছি। কিন্তু তাঁর সঙ্গে আমার কোনও কথা হয়নি। তাঁকে আমি চিনিও না। এগুলি সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা। আমার নামে মিথ্যে অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে।” ঘটনাকে কেন্দ্র করে নকশালবাড়ি বিডিও প্রণব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এ বিষয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না।” মাটিগাড়া নকশালবাড়ি বিধানসভার বিধায়ক আনন্দময় বর্মণ বলেন, “এটা সম্পূর্ণ অনৈতিক। এর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা উচিত।” দার্জিলিং জেলা তৃণমূল (সমতল) কোর কমিটির সদস্য পাপিয়া ঘোষ বলেন, “একজন বিএলও কখনও এই ধরনের অনৈতিক কাজ করতে পারেন না। এসআইআরের কাজের জন্য তাঁরা সরকারি অর্থ পান। এই রকম ঘটনা ঘটে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়া উচিত।”

মানহানির আইনি নোটিস পাঠিয়েও কোনও জবাব মেলেনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর! মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এ বার আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের জন্য গত শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীকে আইনজীবী মারফত একটি মানহানির নোটিস পাঠান তিনি। কিসের ভিত্তিতে মমতা ওই মন্তব্য করেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সেই প্রামাণ্য নথি চেয়েছিলেন শুভেন্দু। বিরোধী দলনেতার দেওয়া ওই সময়সীমা ইতিমধ্যে অতিক্রম করেছে। এ বার মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন। সমাজমাধ্যমে শুভেন্দু লেখেন, “তাঁকে (মুখ্যমন্ত্রীকে) দেওয়া সময়সীমা এখন অতিক্রম হয়ে গিয়েছে, এবং মুখ্যমন্ত্রী তাঁর আচরণের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন যে আমার নাম কয়লা কেলেঙ্কারিতে জড়িত বলে তাঁর কল্পিত অভিযোগগুলির কোনও স্পষ্ট প্রমাণ নেই ওনার কাছে, অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ তাঁর মস্তিষ্কপ্রসূত তাই বিপাকে পড়ে তিনি কোনও উত্তর দিতে পারেননি।” বিরোধী দলনেতার দাবি, কী জবাব দেবেন, তা হয়তো মুখ্যমন্ত্রী বুঝে উঠতে পারেননি। মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে তিনি আরও লেখেন, “এবার উনি আদালতে আইনি পরিণতির সম্মুখীন হওয়ার জন্য প্রস্তুত হোন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এবার আপনার সাথে আদালতে দেখা হবে।”
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতি এবং শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর কিছু মন্তব্য নিয়ে আপত্তি জানান শুভেন্দু। তার পরই শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীকে আইনজীবী মারফত মানহানির নোটিস পাঠান তিনি। আইনি নোটিসে দাবি করা হয়, কোনও এক কয়লা দুর্নীতির সঙ্গে শুভেন্দু এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যুক্ত রয়েছেন বলে ইঙ্গিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নোটিসে এ-ও বলা হয় যে এই বিষয়ক প্রামাণ্য নথিও তাঁর কাছে রয়েছে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই ধরনের মন্তব্যের জন্য শুভেন্দুর ভাবমূর্তি এবং সম্মান নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছেন বিরোধী দলনেতার আইনজীবী। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কী প্রমাণ্য নথি রয়েছে তা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শুভেন্দুর কাছে দেওয়ার জন্য বলা হয় আইনি নোটিসে। শুভেন্দুর দেওয়া ওই ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে বিরোধী দলনেতার দাবি, তিনি এখনও পর্যন্ত ওই নোটিসের কোনও জবাব মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে পাননি। এ অবস্থায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে এগোচ্ছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এ বার আদালতে দেখা হবে বলেও হুঁশিয়ারি। রাজ্য সরকার এবং তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক-এর দফতরে হানা দিয়েছিল ইডি। আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনেরও বাড়িতে তল্লাশি চালান ইডির আধিকারিকেরা। ওই দিন দু’জায়গাতেই পৌঁছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দু’জায়গা থেকেই ইডি এবং বিজেপির ‘আঁতাত-তত্ত্ব’ উস্কে দেন তিনি। তাঁর দলের নির্বাচনী কৌশল চুরির চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা। পরের দিনও ইডির তল্লাশির প্রতিবাদে কলকাতায় পদযাত্রা করেন মমতা। সেই দিনও ইডি এবং বিজেপিকে নিশানা করেন। ইডির আইপ্যাক অভিযানের ঘটনায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে জোড়া অভিযোগ দায়ের হয়েছে দুই থানায়। ওই দিনের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ইডিও। এ বার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আইনি সংঘাতের হুঁশিয়ারি দিলেন বিরোধী দলনেতা।





