জল কম খেলে প্রস্রাব কম হয়। আবার জল বেশি খেলে বার বার মূত্রত্যাগের প্রবণতাও স্বাভাবিক। কিন্তু দিনে কত বার প্রস্রাব হলে তা স্বাভাবিকের পরিসরে থাকবে? কখনই বা তা নিয়ে ভাবার প্রয়োজন আছে? সাধারণত দিনে আট বার এবং রাতে এক বার প্রস্রাব করাকে স্বাভাবিক বলেই ধরা হয়। কিন্তু রাতে বার বার প্রস্রাব পাওয়া, এবং শৌচালয়ে গেলে খুব কম পরিমাণ প্রসাব হলে তা নিয়ে ভাবনার অবকাশ আছে। আট বারের বেশি গেলেই যে তা অস্বাভাবিকের তালিকায় ফেলতে হবে, তেমনটাও বলছেন না চিকিৎসক। আসলে প্রস্রাব কতটা হবে, কত বার যেতে হবে, তা কিছুটা মরসুম এবং তরল খাবার গ্রহণের উপর নির্ভর করে। কেউ বেশি জল খেলে, বার বার চা-কফি খেলে প্রস্রাব পেতে পারে। কিন্তু আট বারের চেয়ে খুব বেশি বার যেতে হলে তা নিয়ে সতর্ক হওয়াই ভাল। ঘন ঘন প্রস্রাব পাওয়া মানে কি ডায়াবিটিসের লক্ষণ, না কি তা কিডনির সমস্যার ইঙ্গিতবাহী— এমন প্রশ্ন থাকে অনেকের মনেই। কারণ, কিডনি ভাল আছে কি না, তা অনেক ক্ষেত্রেই বোঝা যায় প্রস্রাবের মাত্রা, রং, গন্ধের দ্বারা। কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে প্রস্রাবে তার প্রভাব পড়বেই। এ ক্ষেত্রে কখন সতর্ক হওয়া দরকার? পা বা পেট ফুলতে শুরু করলে সতর্কতা জরুরি। আচমকা ওজন কমে যাওয়া, বার বার জল তেষ্টা পাওয়া এবং মূত্রত্যাগের প্রবণতাও খুব স্বাভাবিক নয়। ঘন ঘন প্রস্রাব পাওয়া সত্ত্বেও প্রস্রাব খুব স্বল্প পরিমাণে হলেও সতর্ক থাকা দরকার। প্রস্রাবের সময় জ্বালা, ব্যথা, প্রস্রাবে রক্তের উপস্থিতিও স্বাভাবিক নয়। প্রস্রাবের রং বদল, ঝাঁঝালো গন্ধ, ফেনা হলেও সতর্কতা জরুরি। জ্বর, উচ্চ রক্তচাপ, পেটে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট আর তার সঙ্গে বার বার প্রস্রাবের প্রবণতা থাকলেও তা কিডনির অসুখের লক্ষণ হতে পারে। চিকিৎসক বলছেন, এই ধরনের উপসর্গের মধ্যে কোনও একটি থাকলেই সাবধান হওয়া প্রয়োজন। মূত্র পরীক্ষা এবং রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যায় শরীরে সংক্রমণ রয়েছে কি না। সেই রিপোর্টের উপর এবং উপসর্গের উপর ভিত্তি করে চিকিৎসা করা হবে।
প্রতিদিন জল পান করা সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। জলের মাধ্যমেই বেশিরভাগ শারীরবৃত্তীয় কাজ সম্পন্ন হয়। কিন্তু অনেকেই সারা দিনের কাজের চাপে পর্যাপ্ত পরিমাণ জল খেতে ভুলে যান। ফলে শীতকাল তো বটেই, গরমকালেও ডিহাইড্রেশনের সমস্যা হয়। আর শরীরে জলের ঘাটতি হলে বিভিন্ন ধরনের রোগ হানা দিতে পারে। তাই ডিহাইড্রেশন হচ্ছে কিনা তা বোঝা অত্যন্ত জরুরি। সেক্ষেত্রে কয়েকটি লক্ষণ খেয়াল করলেই এবিষয়ে বুঝতে পারবেন।
১. ডিহাইড্রেশনের সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে গাঢ় রঙের মূত্র, কম মূত্রত্যাগ। হলুদ প্রস্রাব হলে বুঝতে হবে শরীরে জলের অভাব রয়েছে। তাই স্রাবের রং লক্ষ করুন। এছাড়াও শরীরে জলের ঘাটতির কারণে প্রস্রাব করার সময় জ্বালা বোধও হয়।
২. শরীরে জলের অভাব হলে গরমকালেও ত্বক শুকিয়ে যাওয়া, ঠোঁট ফেটে যেতে পারে। আচমকা ত্বক রুক্ষ হতে শুরু করলে, ত্বকে ব্রণ ও চুলকানির সমস্যা দেখা দিলে তা শরীরে জলের ঘাটতির কারণে হতে পারে।
৩. কম জল খেলে সারাক্ষণ ক্লান্তিভাব, ঝিমুনি হতে পারে। অকারণে মাথা ঘোরা এবং মাথাব্যথাও হতে পারে।
৪. অনেকের শরীরে জলের অভাব হলে রক্তচাপ কমে যায়। চিকিৎসকদের পরামর্শ, যদি মনে হয় রক্তচাপ কমে গিয়েছে, ঘাম হচ্ছে, তাহলে প্রচুর পরিমাণে জল খাওয়া উচিত। শরীরে জলের ঘাটতি হলে মুখে দুর্গন্ধও হয়।
৫. গুরুতর ডিহাইড্রেশন আরও বিপজ্জনক হতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে দ্রুত হৃদস্পন্দন, শ্বাসকষ্ট। জলের অভাবে শরীরে রক্তের পরিমাণ কমে যায়। তাই সমস্ত অঙ্গে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছে দেওয়ার জন্য হৃদদযন্ত্রের উপর বেশি চাপ পড়ে। ফলে হঠাৎ করে হৃদস্পন্দন এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বেড়ে যেতে পারে। এমনকী খুব মারাত্মক ডিহাইড্রেশন হলে অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারেন।





