নিউজিল্যান্ড সিরিজ শুরুর ঠিক আগে চোট পেয়েছিলেন ঋষভ পন্থ। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই চোটের কবলে টিম ইন্ডিয়ার আরও এক ক্রিকেটার। রবিবার বরোদার কোটাম্বি স্টেডিয়ামে ম্যাচ চলাকালীন চোট পেলেন ভারতীয় অলরাউন্ডার ওয়াশিংটন সুন্দর। পঞ্চম ওভারে বল করার সময় আচমকাই পিঠে টান লাগে তাঁর। ব্যথা এতটাই তীব্র ছিল যে, সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছিলেন না। এমনকী পিঠ চেপে ধরে ঝুঁকেও পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসেন সাপোর্ট স্টাফ। নিউজিল্যান্ড ইনিংসের ২০তম ওভারের পর সুন্দরকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়। তাঁর জায়গায় নামেন পরিবর্ত ফিল্ডার। প্রাথমিক অনুমান, তিনি সাইড স্ট্রেনে ভুগছেন। আপাতত ব্যাট করতে পারবেন না তিনি। এমনকী বাকি ওয়ানডে থেকে ছিটকেও যেতে পারেন। টিম ইন্ডিয়ার মেডিক্যাল স্টাফদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি। ওয়াশিংটন সুন্দরের মতো ক্রিকেটারের চোট ভারতীয় দলের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠতে পারে। ব্যাটে বলে দলের অন্যতম ভরসা জোগাতে পারেন তিনি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক মাসও বাকি নেই। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটেও তাঁর রেকর্ড যথেষ্ট ভালো। তাই স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগে ভারতীয় শিবির। এই ম্যাচে ৫ ওভারে ২৭ রান দিয়েছেন। কোনও উইকেট পাননি তিনি। থ্রোডাউন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে অনুশীলন করছিলেন পন্থ। তাঁর ছোড়া বলে ব্যাটিং ঝালিয়ে নিচ্ছিলেন। সেই সময় আচমকাই একটি বল লাফিয়ে উঠে তাঁর কোমরের একটু উপরে সজোরে লাগে। যন্ত্রণায় কাতরাতে দেখা যায় পন্থকে। সঙ্গে সঙ্গে হেডকোচ গৌতম গম্ভীর-সহ বাকি সাপোর্ট স্টাফ ছুটে আসেন। সঙ্গে সঙ্গে পন্থ শুশ্রূষাও শুরু হয়। যদিও কিছুক্ষণ পর উঠে দাঁড়িয়ে স্টেডিয়ামের গ্রাউন্ড বি’র দিকে এগিয়ে যান তিনি। রাতের দিকেই জানা যায় পন্থের চোট বেশ গুরুতর। তিনি সিরিজ থেকে ছিটকে যেতে পারেন। সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। বোর্ডের তরফে জানানো হয়, পন্থের এমআরআই স্ক্যানের রিপোর্ট বলছে, তাঁর পেশি ছিঁড়েছে। ফলে সিরিজে খেলা সম্ভব হবে না। এবার দোসর সুন্দরের চোট। আপাতত দলের মেডিক্যাল টিমের লক্ষ্য, তাঁকে যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব সুস্থ করে তোলা।
প্রথমবার ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারতীয় মহিলা দল। এবার সামনে আরও একটি বিশ্বকাপ। যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের পুরুষ দল গতবারের চ্যাম্পিয়ন। এবার যেন কোনও ভাবেই ট্রফি হাতছাড়া না হয়। সূর্যকুমার যাদব, হার্দিক পাণ্ডিয়াদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পাশে জেমাইমা রডরিগেজ, শেফালি বর্মারা। সত্যিই তো! ‘হামরা ছোড়ে ছোড়িসে কম হ্যায় কে?’ স্লোগানের উলটপুরাণেই দলকে তাতাচ্ছেন জেমাইমা-দীপ্তি শর্মারা। আমির খান অভিনীত ‘দঙ্গল’ সিনেমাটা যাঁরা দেখেছেন, এই সংলাপটা তাঁদের পরিচিত। সেখানে অবশ্য ছেলেদের উদাহরণ টেনে মেয়েদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছিল। ভারতীয় ক্রিকেটের একেবারে টাটকা সাফল্যটা এনে দিয়েছে মেয়েরাই। আনন্দে উদ্বেল হয়েছিল আসমুদ্রহিমাচল। এবার ছেলেদের কাছে সুযোগ মেয়েদের ‘পথ’ ধরে দেশবাসীকে খুশি করার। তার জন্য নতুন স্লোগানও তৈরি করে ফেললেন শেফালিরা। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অভিযান শুরু সূর্যকুমারদের। তার আগে সম্প্রচারকারী চ্যানেলের প্রচার ভিডিও মন জিতে নিয়েছে ভক্তদের। যেখানে জেমাইমারা বলেন, “২ নভেম্বর একটা স্বপ্নপূরণ হয়েছে। এবার সময় আরেকবার গর্জন করার, আরেকবার তেরঙ্গা ওড়ানোর। কারণ এবার আমাদের ছেলেদের লক্ষ্যপূরণের সময়। একটা কাপ আমরা দেশেই রেখেছি। আরেকটাকে দেশের বাইরে যেতে দেব না।” সামনে রাখেন মহিলাদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ট্রফিটা। তারপরই হরিয়ানার শেফালি নিজের ঢংয়ে বলেন, “হামরা ছোড়ে ছোড়িসে কম হ্যায় কে?” এই নতুন প্রচারে মুগ্ধ নেটিজেনরা। সাধারণত মহিলা ক্রিকেটের প্রচারের জন্য পুরুষ ক্রিকেটারদের সামনে আনা হয়। কিন্তু এখানে উলটপুরণ। যেভাবে পুরুষদের বিশ্বকাপের প্রচারে মহিলাদের সাফল্যকে সামনে এনে লিঙ্গবৈষম্য ঘোচানোর চেষ্টা হয়েছে, তার প্রশংসা করছেন ভক্তরা।





