Thursday, April 23, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

আইএসএলের ক্লাবগুলিকে আবার চিঠি পাঠাল ফেডারেশন!‌ ৪ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা বাজেটের মধ্যে কোথায় কত টাকা খরচ?

১২ বছর পরে ভারতে ফিরল বিশ্বকাপ। রবিবার দিল্লিতে ফেডারেশনের দপ্তরে ট্রফি উন্মোচন করলেন ব্রাজিলের বিশ্বজয়ী ফুটবলার গিলবার্তো সিলভা। সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য এবং ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট কল্যাণ চৌবে। ১২ জুন শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। ২০ জুলাই বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা হবে। সম্ভবত শেষবার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো-লিওনেল মেসি খেলতে নামবেন মেগা টুর্নামেন্টে। সেই নিয়ে ভারতের ফুটবলপ্রেমীরাও যথেষ্ট উত্তেজিত। রবিবার ট্রফি উন্মোচনের মঞ্চে রাজনীতিবিদদেরই দাপট ছিল। ফেডারেশন সভাপতি নিজে বিজেপি নেতা। সঙ্গে ক্রীড়ামন্ত্রী ছাড়াও মঞ্চে দেখা যায় সংসদ বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু, রাজ্যসভা সাংসদ জয়ন্ত চৌধুরীরা ছিলেন। ওই মঞ্চ থেকেই বিশ্বকাপের অফিশিয়াল স্পনসর কোকাকোলা ঘোষণা করেছে, আগামী তিন বছর ভারতের জাতীয় মহিলা ফুটবল দলকে স্পনসর করবে তারা। সেই সঙ্গে অনূর্ধ্ব ১৭ দলকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে। ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের একাংশ বলছেন, এ যেন রোম পোড়ার সময়ে নিরোর বেহালা বাজানোর দৃশ্য। দেশের শীর্ষ লিগ নিয়ে টানাপোড়েন অব্যাহত। দেশের ক্রীড়ামন্ত্রী শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাবের নাম বলতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছেন। সেই দেশে বিশ্বকাপ এলেও কি ফুটবলের বেহাল দশা ঘুচবে? নেটিজেনের কথায়, ‘এরা নিজের দেশের ফুটবল লিগ শুরু করতে পারছে না। কিন্তু ট্রফি উন্মোচন ঘিরে উৎসব চলছে রীতিমতো। জুমলাবাজি চলছে ফুটবল নিয়ে।’ ক্ষোভ উগরে দিয়ে অন্য নেটিজেনদের বক্তব্য, ‘ট্রফি উন্মোচন করতে পারছে কিন্তু ভারতীয় লিগের সমস্যা মেটাতে পারছে না।’ কেউ বা বলছেন, ভারত শুধু ট্রফি উন্মোচনই করতে পারে, জিততে পারবে না।’ দিনকয়েক আগে ইএসএল শুরুর ঘোষণা করার সাংবাদিক বৈঠকে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের নাম বলতে গিয়ে ‘মোহনবেগান’ ও ‘ইস্টবেগান’ বলে বসেন মাণ্ডব্য। তা নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছে নেটদুনিয়ায়। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নেটিজেনরা বলছেন, ‘ভারতীয়রা সবসময় অন্য দেশের ফুটবল নিয়েই মাতামাতি করতে ব্যস্ত।’ কারোর খোঁচা, বিশ্বকাপ ট্রফির স্মারকের পরিবর্তে ‘বেগান’ অর্থাৎ বেগুন দেওয়া দরকার। দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থা কাটিয়ে অল্প আশার আলো দেখেছে আইএসএল। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে দেশের শীর্ষ লিগ। কিন্তু সেখানে ক’টি দল খেলবে, কোথায় খেলা হবে সেই নিয়ে জটিলতা এখনও অব্যাহত। ফেডারেশন এবং আমজনতা চিন্তা রয়েছে আইএসএলের খরচ বণ্টন নিয়েও। লিগ আয়োজনের মোট খরচ ঠিক করা হয়েছে ২৪ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে এআইএফএফ দেবে ৯ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা। বাকি টাকা ক্লাবগুলি দেবে। লিগের স্বার্থে প্রতিটি ক্লাবই ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি হিসাবে ১ কোটি টাকার কিছু বেশি দিতে রাজি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সব ক্লাব এই শর্তে রাজি হবে তো? ভারতীয় ফুটবলের অচলাবস্থা কাটবে তো? উত্তর অধরাই।

আইএসএল দ্রুত চালু করার তোড়জোড় শুরু করেছে ফেডারেশন। আবার একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলিকে। বাজেটের মধ্যে কোথায় কত টাকা খরচ করা হবে, তারও একটি হিসাব দেওয়া হয়েছে। আইএসএল দ্রুত চালু করার তোড়জোড় শুরু করেছে ফেডারেশন। একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলিকে। জানতে চাওয়া হয়েছে, কোন মাঠকে নিজের ঘরের মাঠ হিসাবে তারা বেছে নেবে। ক্লাবগুলির থেকে উত্তর পেলে তার ভিত্তিতে বেশ কিছু কাজ করবে ফেডারেশন। ২৪ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা বাজেটের মধ্যে কোথায় কত টাকা খরচ করা হবে, তারও একটি হিসাব দেওয়া হয়েছে। কোন মাঠে ঘরের ম্যাচ খেলবে, তা ক্লাবগুলির থেকে জানতে চেয়েছে ফেডারেশন। ১২ জানুয়ারি, দুপুর ১২টার মধ্যে উত্তর দিতে হবে। সকলের থেকে উত্তর পেলে কী ভাবে আইএসএল আয়োজন করা হবে তার খসড়া তৈরি করা হবে। সম্প্রচার এবং বাণিজ্যিক সহযোগী খোঁজার কাজও শুরু হবে। পাশাপাশি এএফসি-কে তাদের আয়োজিত প্রতিযোগিতা খেলতে দেওয়ার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানোও হবে। ফেডারেশন জানিয়েছে, আগামী আইএসএল আয়োজনের জন্য তারা সরাসরি ১০ শতাংশ টাকা দেবে। বাকি ৩০ শতাংশ আসবে বাণিজ্যিক সহযোগীর থেকে পাওয়া অর্থ থেকে। ফলে আনুমানিক ২৫ কোটি টাকা বাজেটের ৪০ শতাংশ দেবে ফেডারেশন। বাকি খরচ ক্লাবেদের।

ফেডারেশনের আশা, ঘরের মাঠে ক্লাবগুলি বেশির ভাগ খেলার ফলে টিকিট বিক্রি থেকে ক্লাবগুলির ঘরে অর্থ আসবে। ক্লাবের বাণিজ্যিক উন্নতিও হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে তারা। যদিও কলকাতা, কেরল, বেঙ্গালুরু, গোয়া বাদে বাকি শহরে মাঠভর্তি লোক খেলা দেখতে আসেন না। সেই শহরের ক্লাবগুলির অর্থের জোগান কোথা থেকে আসবে তা নিয়ে ধোঁয়াশাই রয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে ফেডারেশন জানিয়েছে, প্রশাসনিক কাজের জন্য দু’কোটি ৪০ লক্ষ টাকা খরচ হবে। পুরস্কারমূল্য ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা। সম্প্রচার বাবদ ৯ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা ধরা হয়েছে। ম্যাচ আধিকারিকদের বেতন বাবদ ২ কোটি ১১ লক্ষ টাকা, ডোপিং বিরোধী কার্যকলাপ এবং আইনি সহায়তা বাবদ ১ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা, ডিজিটাল এবং মার্কেটিং বাবদ ২ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা ধরা হয়েছে। ফেডারেশনের প্রস্তাবে অবনমন হওয়া ক্লাবগুলিকে আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে প্যারাশুট পেমেন্টের বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। সেই খাতে কোনও বরাদ্দ হয়নি। ফলে আগামী মরসুমে অবনমন হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। একই ভাবে, যুব লিগের জন্য কোনও বরাদ্দ রাখা হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles