জলের অভাব হলে থমকে যায় শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ। কিডনি ভাল রাখার জন্যও পর্যাপ্ত জলের প্রয়োজন। এমনিতে এই প্রত্যঙ্গটি ছাঁকনির কাজ করে, শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বার করে দেয়। তবে যদি প্রয়োজনমতো জল না খাওয়া হয়, সেই কাজটি থমকে যেতে পারে। শীতের দিনে এমনিতেই ঠান্ডা জল খেতে ইচ্ছা হয় না। তার উপর ঘাম হয় না বলে জল তেষ্টাও পায় না। তার ফলেই দেখা দিতে পারে জলের ঘাটতি। তা যাতে না হয়, তাই শুধু জল না খেয়ে চুমুক দিন কিছু বিশেষ পানীয়ে। নিয়ম করে এই পানীয়গুলিতে চুমুক দিলে কিডনি ভাল থাকবে। উপকার হবে অনেক। জিরে ফোটানো জল খেয়ে দেখেছেন কি? পেটফাঁপা, গ্যাসের সমস্যা যেমন এতে দূর হবে, তেমনই জিরের জল কিডনি পরিষ্কারেও সাহায্য করবে। জিরেতে মেলে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যা কিডনির কোষগুলিকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে বাঁচায়। তার ফলে কিডনি ভাল থাকে। তবে বেশি নয়, দিনে দু’কাপ পর্যন্ত জিরে ফোটানো জল খাওয়া যায়। তুলসী চা বা তুলসী ফোটানো জল। তুলসীর অনেক গুণ। রয়েছে প্রদাহনাশক উপাদান, ভেষজ অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে পূর্ণ। তুলসী চা কিডনি থেকে ক্ষতিকর পদার্থ বার করে দিতে সাহায্য করে। অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান থাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট কিডনির স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে। এককাপ জলে ৩-৪টি তুলসী পাতা ফুটিয়ে সেই জলটি খান। নামে চা হলেও এতে চা পাতার ব্যবহার হয় না। ভেষজ চা যেমন আদা ফোটানো জল, ক্যামোমাইল টিতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট কিডনির প্রদাহ কমায় এবং তাকে ভাল ভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। এ ছাড়াও কিডনিতে ‘পাথর’ হওয়া বা কিডনি স্টোনের ঝুঁকিও কমায় ভেষজ চা। এই ধরনের চা কিডনি থেকে দূষিত পদার্থ বার করতে সাহায্য করে।
শরীরের ডিটক্সিফিকেশন বা শরীর থেকে বিষাক্ত, দূষিত পদার্থ বা টক্সিন বের করে দেওয়া একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। যা অনবরত করে চলেছে লিভার, কিডনি এবং শরীরের ঘামের গ্রন্থিগুলো। কথায় কথায় ডিটক্স পানীয় খাওয়া তাই নিস্প্রয়োজন। তবে এমনও হয়, যখন শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ টেনে বার করার ওই প্রক্রিয়া যথাযথ কাজ করতে পারে না। তখন শরীরে টক্সিনের মাত্রা বেড়ে যায়। আর তেমন যখন হয়, তখন শরীর কিছু সঙ্কেত দিতে শুরু করে। যদি পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরেও সারাদিন ক্লান্ত অনুভব করেন, কোনও কাজেই শক্তি না পান, তবে বুঝতে হবে লিভার শরীর থেকে দূষিত পদার্থ দূর করতে পারছে না। ত্বকের সমস্যা, মুখে দুর্গন্ধ: হঠাৎ করে ব্রণ, ফুসকুড়ি বা ত্বকের ঔজ্জ্বল্য হারিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে। এ ছাড়া নিয়মিত ব্রাশ করার পরেও যদি মুখে দুর্গন্ধ থাকে বা জিভে সাদা আস্তরণ পড়ে, তবে বুঝতে হবে শরীরে দূষণ মুক্ত করা প্রয়োজন। হজমের সমস্যা এবং ওজন বেড়ে যাওয়া। পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা অ্যাসিডিটির সমস্যা যদি নিয়মিত হয়, তবে সেটিও শরীরে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ জমার ইঙ্গিত। ডায়েট বা ব্যায়াম করার পরেও ওজন না কমলে বুঝতে হবে বিপাকের হার কমে গিয়েছে। যা আদতে শরীরের ডিটক্স প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার ফলেই হতে পারে। শরীর ডিটক্স করার তিনটি উপায় হল পর্যাপ্ত জল পান। দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস জল পান করুন। সকালে খালি পেটে হালকা গরম জলে লেবুর রস মিশিয়ে খেতে পারেন। এটি কিডনির মাধ্যমে টক্সিন বের করতে এবং রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত মিষ্টি, প্যাকেটজাত খাবার, ভাজা এবং তন্দুরে তৈরি হওয়া খাবার খাওয়া বন্ধ করুন। বদলে সবুজ শাকসবজি ও ফল খান। এতে লিভারের ওপর চাপ কমে এবং শরীরের স্বাভাবিক ক্ষমতা ফিরিয়ে আনে। রাতে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন এবং ঘাম ঝরানো ব্যায়াম করুন রোজ। ঘুমের সময় মস্তিষ্ক টক্সিন পরিষ্কার করে এবং ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে ময়লা বেরিয়ে যায়।
চিকিৎসকেরা বার বার বলছেন কার্বোনেটেড পানীয় মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়। ছোট থেকে বড়, কারও জন্যই তা ভাল নয়। কারণ, এতে অতিরিক্ত মাত্রায় চিনি থাকে। কৃত্রিম ফ্লেভার থাকে, যা নিয়মিত বা ঘন ঘন খেলে পেটের সমস্যা হতে বাধ্য। ছোট বেলায় অস্বাস্থ্যকর পানীয় থেকে দূরে। বোতলবন্দি পানীয়ের স্বাদ সব জায়গাতেই এক রকম। এই ধরনের পানীয় স্বাস্থ্যোপযোগী একেবারেই নয়। বার বার খেলে লিভার, এমনকী হার্টের ক্ষতি হতে পারে। অনেকে অম্বল, গ্যাস হলে স্বস্তি পেতে এমন পানীয়ে চুমুক দেন। তবে এতে লাভের বদলে ক্ষতি হয় বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা। স্ট্রিন টাইম কমাতে কিংবা অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া থেকে সন্তানকে বিরত রাখতে, মায়েদের এমন নানা টোটকা বা কৌশল থাকেই।





