১৪ জুলাই পর্যন্ত আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলা মুলতুবি করে দিয়েছেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। তার পরেই কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির অফিসের দ্বারস্থ হয় ইডি। তাদের আবেদন, ওই মামলার দ্রুত শুনানি হোক! সেই আবেদন মঞ্জুর করলেন না হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এই মামলার শুনানি করবেন আগামী ১৪ জানুয়ারি। তবে সূত্রের খবর, শুক্রবারই মামলার শুনানি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সচিবালয়ে জরুরী বেঞ্চে আবেদন করছে ইডি। লিখিত ভাবে আবেদন করতে চলেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। গোয়েন্দারা চাইছেন, আজই হোক এই মামলার শুনানি। প্রয়োজনে এজলাস বদলাতেও আপত্তি নেই গোয়েন্দাদের। প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দেন, যেহেতু জুডিশিয়াল অর্ডার হয়েছে, তাই বদল করা সম্ভব নয়। সেই কারণে ১৪ই জানুয়ারিতেই হবে শুনানি। দুপুর আড়াইটে নাগাদ শুনানি শুরু হয় এজলাসে। তবে কোর্টের ভিতরে চলছিল তুমুল হইহট্টগোল। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ নিষেধ করেন এত চিৎকার না করার জন্য। তবে এজলাসের ভিতর শান্ত করা সম্ভব হয়নি। আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও মাইক হাতে শান্ত থাকার আর্জি জানান সকলকে। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। এরপর বিচারপতি জানিয়ে দেন মামলার শুনানি হবে ১৪ জানুয়ারি। তারপরই এ দিন ইডি প্রধান বিচারপতির কাছে আর্জি জানাবে বলে স্থির করে। বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে চলছিল ইডি তল্লাশি। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপর একটি দল তল্লাশি চালাতে যায় আইপ্যাকের সল্টলেকের অফিসে। তবে প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশির সময় ইডির তদন্তকারী অফিসারদের দাবি ছিল, সেই সময় পুলিশ সেখানে অতিসক্রিয় ছিল। তাদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। পরবর্তীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছন সেখানে। তারপর একটি সুবজ রঙের ফাইল উদ্ধার করে নিয়ে চলে যান। এরপরই হাইকোর্টের দ্বারস্থ ইডি আধিকারিকরা। শুক্রবার মামলা শুরুর পরই গণ্ডগোলের জেরে পিছিয়ে যায় শুনানি।
বৃহস্পতিবার সকালে বেআইনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি মামলার সূত্রে কলকাতায় জোড়া অভিযান চালিয়েছিল ইডি। একটি দল গিয়েছিল সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরে। অন্য দলটি গিয়েছিল লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে। আইপ্যাক রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা। তাদের দফতরে ইডির হানার কথা শুনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ঘটনাস্থলে যান। ইডির তল্লাশি চলাকালীনই প্রতীকের বাড়িতে ঢুকে নথিপত্র, ফাইল এবং ল্যাপটপ বার করে আনেন তিনি। পরে সল্টলেকে সংস্থার দফতরে গিয়েও একই কাজ করেন। তার পরেই তদন্তে বাধা পাওয়ার অভিযোগ তুলে ইডি আদালতের দ্বারস্থ হয়। তাদের তরফে পাল্টা দাবি করা হয়, বেআইনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত এই তল্লাশি অভিযান। তার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নেই। তবে সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। আইপ্যাক দফতরে ইডির অভিযান নিয়ে পাল্টা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা করেছে তৃণমূল। তাতে ইডি এবং আইপ্যাককে যুক্ত করা হয়। শুক্রবার এই দু’টি মামলা একসঙ্গে শোনার কথা ছিল বিচারপতি ঘোষের। শুক্রবার দুপুর দুটো নাগাদ এজলাসে আসেন বিচারপতি ঘোষ। আড়াইটে থেকে আইপ্যাক মামলা শোনার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু এই মামলা শুরুর আগে থেকেই এজলাসে ভিড় জমতে থাকে। ইন্টার্ন আইনজীবীদের এজলাস ছেড়ে চলে যেতে বলতে বাধ্য হন কোর্ট অফিসার। তিনি বলেন, আপনারা (ইন্টার্ন আইনজীবী) চলে যান। প্রচুর ভিড়ে শুনানির কাজ হচ্ছে না।’’ বিচারপতি ঘোষ বলেন, ‘‘পাঁচ মিনিট সময় দিলাম, মামলার সঙ্গে যুক্ত নন এমন আইনজীবীরা বেরিয়ে যান। অত্যধিক ভিড় হয়ে গিয়েছে। না হলে আমাকে এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হবে।’’ তৃণমূলের করা মামলার আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই অনুরোধ করেন। কিন্তু কারা থাকবেন, কারা বেরোবেন, তা নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে গোলমাল বেধে যায়। বিস্তর ধাক্কাধাক্কি হয়। বিরক্ত হয়ে বিচারপতি উঠে চলে যান। মামলা আগামী ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতুবি করে দেন।
যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে শুক্রবার দুপুরে মিছিল শুরু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পাশে রয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, দেব, সোহম-সহ তৃণমূলের অন্য সাংসদ, বিধায়কেরা। রয়েছেন টেলি-তারকারাও। মিছিল শুরুর আগে ৮বি বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে মমতা জানান, দিল্লির বঞ্চনা, লাঞ্ছনার বিরুদ্ধে, এ রাজ্যের মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে ‘রাস্তাই রাস্তা’। বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ হাজরায় শেষ হয় মিছিল। যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে বিকেল ৩টে নাগাদ মিছিল শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। গন্তব্য হাজরা মোড়। মমতার সঙ্গে রয়েছেন রাজ্যের শাসকদলের নেতা-মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদ থেকে বিশিষ্টজন এবং সাধারণ মানুষ। মিছিল শুরু করার আগে যাদবপুরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই অঞ্চলের সকল নাগরিকবৃন্দকে, মা-মাটি-মানুষকে প্রণাম, ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। সকলকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানাই। আপনাদের সমর্থন বাংলার মানুষকে সারা বিশ্বের দরবারে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’’ তার পরেই তিনি জানিয়ে দেন, শুক্রবারের এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য। তাঁর কথায়, ‘‘দিল্লির বঞ্চনা, লাঞ্ছনা, অত্যাচার, অপমান, অসম্মান, ২ কোটি মানুষের ভোট কেটে দেওয়া হচ্ছে, অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে— তার বিরুদ্ধে রাস্তাই আমাদের রাস্তা। এটা নেতাজির কথা।’’ তিনি এ-ও বলেন, ‘‘যাদবপুরের মাটি লড়াইয়ের মাটি। উদ্বাস্তুদের মাটি।’’ মিছিল শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর এক পাশে তৃণমূল সাংসদ দেব, অন্য পাশে তৃণমূল বিধায়ক সোহম, রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ, অরূপ। পিছনের সারিতে দলের নেতা-নেত্রী, টেলিতারকারা। রাস্তার দু’পাশে মানুষের জমায়েত।
হাজরা মোড়ে সভা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তোমাদের জন্য কাঁদবে বেলা। বিদায় আসন্ন। বিদায় ঘণ্টা বাজছে। পাড়ায়-পাড়ায় বিজেপির মৃত্যু ঘণ্টা বাজিয়ে দিন। পাড়ায়-পাড়ায় মৃত্যু ঘণ্টা বাজিয়ে দিন। আর যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের নামের লিস্ট এলাকায় টাঙান। শহিদদের শ্রদ্ধা জানান। অভিষেক আজ গেছে, আমি শুনলাম ও নাকি মৃত ব্যক্তিদের সঙ্গে লাঞ্চ করছে। আসলে জীবীত। ভোটাল লিস্টে মৃত। বুঝুন সুপুরি নেই পান সাজছে। আর চোখ থেকে ভাববেন বাজ পাখির থেকে ভয়ঙ্কর। ক্ষমতা থাকলে গণতান্ত্রিকভাবে লড়ো। ওই মালপোয়াটা শয়তান, এখানে একজনের নামে ঘর বুক করে রাখে। আর কী কী কুকীর্তি করে সব জানা আছে আমার। তারা এই মিডিয়া হাউসের মালিকদের ইনস্ট্রাকশন দেয়। মালপোয়া বাংলাকে চেনে? আগে মালপোয়া বানানো শেখ। নীরব মোদী চোর নয়? There are some মালিয়া মালপোয়া, মেহুল চাউলছেছকি। ওদের নীরবে নিঃশব্দে পাঠিয়েছে। ছাব্বিশের আমাদের পতন হবে না। নতুন জেনারেশনের নাম কেটে দিচ্ছে। ভ্যানিশবাবু দেড় কোটি ভোট কাটার দায়িত্ব নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। আর মেয়ে জামাইকে ডিএম বানিয়েছেন। নির্লজ্জ। এত নাম কেটে তারপর তুমি কোথায় থাকবে বাবা? যেখানেই থাকি তোমায় ফুঁড়ে বের করব। দেখুন আগে ৫৪ লক্ষ বাদ দিয়েছে। সব মহিলাদের নাম বাদ! বলে দিল ERO করেছে। অথচ ইআরও জানেই না। কত বড় অন্যায়। এই যে দেব বসে আছে, ওঠো–ওঠো…কত বছর ধরে বাংলায় সিনেমা করছে। ইলেকশনের সময় আসলে আমি তিলের নাড়ু, ক্ষীরের নাড়ু, মুড়ির নাড়ু বানিয়ে রাখব। আর মা বোনেরা? নয়না…সায়নী উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার… ঝাড়ু রাখবে….হামারা পরিবার কা কোয়ি পলিটিক্স নেহি করে গা। তোমার ছেলে এখন আন্তর্জাতিক প্রেসিডেন্ট। ব্লক প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য নয়। এরা রেড কার্পেট পেতে অনেক যত্নে অনুষ্ঠান করে। একটা ছেলে জয় বাংলা বলে মারতে তেড়ে গেছিল। আমি ছবি দেখি। আর কয়েকটা দালাল জুটেছে ওদের। যাঁদের হাসপাতালে থাকার ব্যবস্থা করেছি। সেই গদ্দারের দল, বেশি কথা বললে নেদারল্যান্ডের হেগে কী করছিলে, আমি বলব না বলিয়ে দেব। পহেলগাঁও, হাথরাস, উন্নাও সব ভুলে গেছেন? কয়লা CISF-এর দায়িত্বে, পাসপোর্ট, কাস্টমস কার দায়িত্বে? প্লেন কার দায়িত্বে চলে? অমর্ত্য সেনকে প্রশ্ন করছে বাবা মায়ের বয়সের এত ফারাক কেন? আমি বলি ওরে গর্ধবের দল, ৯০ বছর আগে তোমার বাবা-মায়ের বয়স কত ছিল। আমি তৃণমূলের চেয়ারম্যান হয়ে করেছি। কোনও অন্যায় করিনি। তুমি চোরের মতো কেন এসেছ? তুমি সব ডেটা আমার চুরি করছিল। তোমরা তো ছটা থেকে করছ। আমি সারে এগারোটায় গেছি। পাঁচ ঘণ্টা সব চুরি করেছ। আমি খবর শুনেছিলাম। ভেবেছি কথা বলতে এসেছে। আমি প্রতীককে ফোন করি। তোলেনি। তখনই সন্দেহ হয়। ভাবলাম পার্টিরল সব নিয়ে পালাচ্ছে না তো। মানুষকে ভালবাসি যেমন, জোড়া ফুলে তো দাঁড়াই। পার্টি রক্ষা না হলে মানুষের জন্য লড়ব কীভাবে? অসহায় মানুষ বিপদে পড়লে আমায় জানায়। মোদী যখন ১৪তে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন সেই সময় আইপ্যাক কাজ করেছে ওদের হয়ে। তখন প্রশান্ত কিশোর ছিল। এখন প্রশান্ত নেই। প্রতীক দেখে। আমাদের একটাই আইটি সেল দেখে ওরা। আমাদের একটাই সবে ধন নীল মণি। রণডঙ্গা বাজিয়ে আসছে। ওরা অনেক রাজ্য জোর করে দখল করেছে। বাংলা শুনলে আর সহ্য করতে পারছে না। বাংলা ভাষাতে কথা বললেই মারছে। এখানে হিন্দিভাষীদের উপর কখনও অত্যাচার হয়েছে? এই বিজেপিকে ভদ্রতা করি, নয়ত…মুখে বলব না কী করতে হয় আপনারা জানেন। আমরাও যদি করতে পারতাম না, অনেক কিছু করতে পায়। বলছে কয়লার টাকা! কে খায়? অমিত শাহ খায়। গদ্দারের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়। সাথে আছে জগন্নাথ। পুরীর জগন্নাথ নয়। জগন্নাথের থ্র্ু তে টাকা যায় শুভেন্দুর কাছে। তারপর সেই টাকা অমিত সাহের কাছে টাকা যায়। শুনুন ভাগঅয ভাল, আমি চেয়ারে আছি তাই পেনড্রাইভ বের করে দিই না। বেশি লাগালে বলে দিচ্ছি। আমার কাছে সব পেনড্রাইভ আছে। ভান্ডা ফাঁস করে দেব। আমি একটা জায়গা পর্যন্ত সহ্য করি। মনে রাখবেন লক্ষ্মণের সীমা আছে। আমি দেশের স্বার্থে বলি না। আমি মুখ খুললে সারা পৃথিবীতে হইচই হবে। ভ্যানিশ কুমার যদি ভোট ভ্যানিশ করে তাহলে বলব না কেন? উনি কি ম্যাজিশিয়ান। নাগরিকদের অধিকার কাড়লে, আপনাদের অধিকার কাড়ব। মনে রাখবেন আঘাত করলে প্রত্যাঘাত কীভাবে করতে হয়, আমাদের সাংসদরা করেছেন। আজ আমাদের সাংসদদের চ্যাংদোলা করে কী ব্যবহার করেছেন। আর ওঁরা বাংলায় এলে রেড কার্পেট বিছানো হয়। যাঁরা তৃণমূলকে বাজে বাজে কথা বলেন তাঁরা জানেন না, ওরা এত ডেডিকেটেড হয় ফাঁসির মঞ্চে চলে যেতে পারে। এসআইআর-এ বৃদ্ধদের নিয়ে আসছ। লজ্জা করে না? এমন পার্টি আমি দেখিনি। লজ্জা করে না? বাংলায় কথা বললেই বলছে বাংলাদেশি। বলছে বাংলায় রোহিঙ্গা ভর্তি। একটাও খুঁজে পায়নি। ওরা ভোট চুরি করেছে নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে। আমার কী করবে? ঘেচু করবে। আগের বার আমায় ক্যাম্পেন করতে দেয়নি। একদিন আটকাবে, একশো দিনের ফসল তুলে নেব। আমি কিছুই জানতাম না। সকালে খবর পাই কিছু একটা হচ্ছে। আমি আর জানবার চেষ্টা করিনি। মাথায় মারার পর থেকে ভোর চারটের আগে ঘুমোতে পারি না। অভিষেক মেসেজ করেছিল। মিসড করে গিয়েছি। আমায় আঘাত না করলে ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুমানো মানে ওই ঘুম নয়… ডিসকভারি দেখি, আঁকি, কবিতা লিখি। আমায় আঘাত করলে পুর্নজীবন হয়। গতকাল আমি ভাবছিলাম আবার নতুন করে জন্মালাম। আমি প্রতিদিনই কিছু না কিছু করি। তৃণমূলের জন্ম জনতা দিয়েছে। অনেক লড়াই করেছি। এই হাজরাতে মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচেছি। কল্যাণ ছিল সেদিন। ও বলল, দিদি আমি সবটা দেখেছি। আমি বললাম কল্যাণ কী দেখেছ? দিদি আপনারা মিছিল নিয়ে আসছেন। আমি দেখলাম সিপিএম-এর গুণ্ডারা সিনেমার মতো লোহার চেইন ঘুরিয়ে রাস্তা ক্লিয়ার করছে। কল্যাণদের তাড়া করল। কীভাবে মোটা ডান্ডা…আমার লাগেনি। আমার মাথায় ডান্ডা মেরেছে। গলগল করে রক্ত বেড়েছে। ব্রেন ফেটে রক্ত বেরচ্ছে। আবার ডান্ডা তুলছে, তখন ডান হাত একা একা মাথায় উঠে গেছে। তাই আমার হাতের অর্ধেক নেই। আলনা থেঁতলে গেছে। ব্রেনে অপারেশন হয়। হাতে অপারেশন হয়। তারপরও মার খেয়েছি। আমায় অনেক যোগাসন করতে হয়। আমি কাজের মধ্যে বেঁচে থাকি।





