জাতীয় দলে উপেক্ষিত থাকার দিনে আগুন জ্বালালেন সামি। অসমকে হারাল বাংলা। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজ়ের দলে নেই মহম্মদ সামির নাম। বাংলার পেসার বিজয় হাজারেতে তিন উইকেট নিয়ে দলকে জিতিয়ে জবাব দিয়েছেন। শতরান করেছেন অভিমন্যু ঈশ্বরণও। সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবু ভারতীয় দলে ফেরা হল না মহম্মদ সামির। জয় হাজারে ট্রফিতে অসমের বিরুদ্ধে ৫৫ রানে তিন-তিনটি উইকেট নেন মহম্মদ সামি। সেই দিনই হৃদয় বিদারক খবরটি পেলেন। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজে বনবাস পর্ব কাটিয়ে জাতীয় দলে ফিরবেন মহম্মদ সামি। দেওয়াললিখন এমনই ছিল। কিন্তু বঙ্গপেসার উপেক্ষিতই থেকে গেলেন। জাতীয় দলের দরজা খুলল না তাঁর জন্য। বিজয় হাজারের নকআউটে উঠতে শনিবার অসমকে হারাতেই হত বাংলাকে। অসম টসে জিতে আগে বল করার সিদ্ধান্ত নেয়। শুরুতে অভিষেক পোড়েলকে (১১) হারালেও বাংলা সমস্যায় পড়েনি। একটা দিক ধরে রাখেন অভিমন্যু ঈশ্বরণ। তিনি শতরান করেন। উল্টো দিকে বাংলা হারায় সুদীপ ঘরামি (৩২) এবং অনুষ্টুপ মজুমদারকে (৩১)। তবে অভিমন্যুর সঙ্গে জুটি বেঁধে বাংলাকে ভাল জায়গায় পৌঁছে দেন শাহবাজ় আহমেদ (অপরাজিত ৬৬)। পরের দিকে নেমে তিনটি চার এবং একটি ছয় মেরে ১১ বলে ২৫ রানের ইনিংস খেলেন সামি। সামির সাফল্যের দিন বাংলা ৮৫ রানে হারাল অসমকে। অভিমন্যু ঈশ্বরণ ১০২ রানের ইনিংস খেলেন। শাহবাদজ আহমেদ ৫৭ বলে চটজলদি ৬৬ রান করেন। বাংলা সাত উইকেটে ৩০২ রান করে।
রান তাড়া করতে নেমে অসম থেমে যায় ২১৭ রানে। পুরো পঞ্চাশ ওভার খেলতে পারেনি। সামি বল হাতে বিপজ্জনক হয়ে ওঠেন। প্রদ্যুন সইকিয়া, সুমিত ঘাড়িগাওকর ও আকাশ সেনগুপ্তকে ফেরান সামি। যখন মাঠে ঘাম ঝরাচ্ছেন তখন নির্বাচকরা নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজের দল ঘোষণা করছেন। শ্রেয়স আইয়ার চোট সারিয়ে ফিরলেন দলে। যদিও বিসিসিআই-এর সেন্টার অফ এক্সলেন্সের সবুজ সঙ্কেতের উপরে নির্ভর করছে শ্রেয়সের খেলা বা না খেলা। ঘাড়ের চোট সারিয়ে ফেরেন শুভমান গিলও। তাঁর হাতেই উঠেছে ওয়ানডে দলের নেতৃত্বের আর্মব্যান্ড। কিন্তু মহম্মদ সামির ফেরা আর হল না। তিনি থেকে গেলেন দলের বাইরেই। কবে যে তাঁর জন্য জাতীয় দলের দরজা খুলবে, সেটাই এখন দেখার। ঘরোয়া ক্রিকেটে ২০০ ওভারের কাছাকাছি বল করার পরেও সামি কেন দলে নেই?
ভারতের এক দিনের দলে ঢোকার কথা থাকলেও জায়গা পাননি কর্নাটকের পাড়িক্কল। নির্বাচকদের জবাব দিয়েছেন শতরান করে। গত পাঁচটি ইনিংসে এটি তাঁর চতুর্থ শতরান। এ দিন ত্রিপুরার বিরুদ্ধে ৬ রানে ২ উইকেট পড়ে যায় কর্নাটকের। সেই জায়গা থেকে দলের হাল ধরেন পাড়িক্কল এবং স্মরণ রবিচন্দ্রন (৬০)। পরের দিকে চালিয়ে খেলেন অভিমন মনোহর (অপরাজিত ৭৯)। কর্নাটকের ৩৩২/৭-এর জবাবে ত্রিপুরা শেষ হয়ে যায় ২৫২ রানে। অন্য দিকে, সঞ্জুর শতরানে ভর করে কেরল আট উইকেটে হারিয়েছে ঝাড়খন্ডকে। এক দিনের দলে তাঁর জায়গা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। তবে নিউ জ়িল্যান্ড সিরিজ়ে নেওয়া হয়েছে তাঁকে। সে দিনই দিল্লির ম্যাচে অপরাজিত অর্ধশতরান করে দলকে জেতালেন ঋষভ পন্থ। সার্ভিসেসের ১৭৮ রান মাত্র ২ উইকেট হারিয়েই তুলে দিয়েছে দিল্লি। পন্থ অপরাজিত থেকেছেন ৩৭ বলে ৬৭ রানে। মেরেছেন চারটি চার এবং ছ’টি ছয়।





