Sunday, April 26, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

সুপ্রিম কোর্টের রায় সত্ত্বেও অনিকেতকে পোস্টিং দেওয়া হয়নি?‌ ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থে ডাক্তারি জীবনকে খুন করতে চায় সরকার’!‌

এসআর-শিপ পোস্টিং ছেড়ে দিতে সাধারণ মানুষের সাহায্য চাইলেন অনিকেত!‌‘‘সরকার যাই সিদ্ধান্ত নিক না কেন, আমি এসআর-শিপ থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছি।’’ এসআর-শিপ পোস্টিং ছেড়ে দিলে রাজ্য সরকারকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সরকারকে দিতে হয়। সেই টাকার জন্য সাধারণ মানুষের সাহায্য চাইলেন অনিকেত। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও এখনও আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে পোস্টিং পাননি অনিকেত মাহাতো। তাই এ বার এসআর-শিপ পোস্টিং ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। অনিকেত বলেন, ‘‘আমি মনে করি রাজনৈতিক প্রতিহিংসাচরিতার্থ করতে করার জায়গা থেকে রাজ্য সরকার আমার ডাক্তারি জীবনকে সত্যিকারের খুনের মতো পদক্ষেপের দিকে এগোচ্ছে। আমি স্পষ্ট করে আজ জানাতে চাই, রাজনৈতিক প্রতিহিংসাচরিতার্থ যে আকার ধারণ করছে, তা থেকে আমি মনে করি রাজ্য সরকার ভবিষ্যতে আমাকে পোস্টিং দেয়, তাতেও ডাক্তার হিসাবে আমি আমার দায়িত্ব পালন করতে পারব না। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এই রাজ্য সরকারের অধীনে আমি এসআর-শিপ করতে চাই না। সরকার যা-ই সিদ্ধান্ত নিক না কেন, আমি এসআর-শিপ থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছি।এসআর-শিপ পোস্টিং ছাড়তে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। তার জন্য আপনারা যা পারবেন, তেমন আর্থিক সাহায্য আমাকে করবেন।’’ এসআর-শিপ পোস্টিং ছেড়ে দিলে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সরকারকে দিতে হয়। সেই টাকার জন্য সাধারণ মানুষের সাহায্য চেয় অনিকেত জানান, আরজি করের খুন হওয়া চিকিৎসকের ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন। সেই লড়াইয়েও সকলকে আগের মতোই পাশে চেয়েছেন অনিকেত। আরজি করে মহিলা চিকিৎসক ধর্ষণ-খুনের পর রাজ্য জুড়ে যে গণআন্দোলন শুরু হয়েছিল, তার অন্যতম মুখ ছিলেন অনিকেত।

গত মে মাসে জানা যায়, এ হেন অনিকেতকে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে রায়গঞ্জে। এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। কেন অনিকেতকে আরজি কর থেকে সরিয়ে রায়গঞ্জে পাঠানো হল, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অনিকেত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পছন্দ মতো পোস্টিং না পাওয়া যায়, তা হলে কাউন্সেলিং-এর অর্থ কী? মেধাতালিকারই বা কী প্রয়োজন? পোস্টিং মামলায় হাই কোর্টে ধাক্কা খায় রাজ্য। অনিকেতের পোস্টিং নিয়ে রাজ্যের সিদ্ধান্ত গত সেপ্টেম্বর মাসেই খারিজ করে দিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু জানিয়েছিলেন, রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ নয়, আরজি করেই পোস্টিং দিতে হবে অনিকেতকে। সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ে রাজ্য সন্তুষ্ট ছিল না। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় রাজ্য। কিন্তু বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চও সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ বহাল রাখে। সব শেষে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। শীর্ষ আদালতও বহাল রাখে হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়। অথচ অনিকেতকে আজ পর্যন্তও পোস্টিং দেওয়া হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles