যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে কয়েক জন লিয়োনেল মেসির সঙ্গে প্রায় গা ঘেঁষাঘেঁষি করার পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন। এই বিষয়টি পছন্দ করছিলেন না ফুটবল তারকা নিজেও। রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল সিট-এর কাছে এমনটাই দাবি করেছেন মেসির সফরের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্ত। সিটের সদস্যেরা কথা বলেন শতদ্রুর সঙ্গে। ধৃত মূল আয়োজককে যুবভারতীকাণ্ড নিয়ে বিবিধ প্রশ্ন করেন আধিকারিকেরা। কারা দায়িত্বে ছিলেন, কী ঘটেছিল, সে সব নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়ার পাশাপাশি মাঠের ভিতর প্রবেশের জন্য বিশেষ কার্ডের প্রসঙ্গও উঠে আসে জেরায়। বস্তুত, মাঠের ভিতরে প্রবেশাধিকারের কার্ডের সংখ্যা পরবর্তী সময়ে বাড়ানো হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। সে ক্ষেত্রে মাঠের ভিতরে কারা প্রবেশ করতে পারবেন, তা কিসের ভিত্তিতে স্থির করা হয়েছিল, সেই সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় শতদ্রুর কাছে। সূত্রের খবর, ওই কার্ডের সংখ্যা পরবর্তী সময়ে কেন বৃদ্ধি করা হয়েছিল, কার নির্দেশে বৃদ্ধি করা হয়েছিল, তা জানতে চান তদন্তকারীরা। প্রাথমিক ভাবে কতগুলি কার্ডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল, পরে তা বৃদ্ধি করে কতগুলি করা হয়েছিল, সে বিষয়েও সিটের সদস্যেরা শতদ্রুর থেকে জানতে চেয়েছেন বলে সূত্রের দাবি। মেসি যতক্ষণ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ছিলেন, একটি জটলা সর্বক্ষণ ঘিরে রেখেছিল তাঁকে। পরিস্থিতি এমন হয়েছিল যে ওই জটলার জন্য গ্যালারি থেকে দর্শকেরা মেসিকে ঠিক মতো দেখতেও পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। তা থেকেই তাণ্ডবের সূত্রপাত। ওই সূত্র এ-ও জানাচ্ছে, মাঠের মধ্যে লোকজনের প্রায় গা ঘেঁষাঘেঁষি করার পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়া মেসিও পছন্দ করছিলেন না। সিটের আধিকারিকদের এমনটাই জানিয়েছেন শতদ্রু। তদন্তকারীদের শতদ্রু আরও জানান, মেসি যখন বিরক্ত হয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি মাঠ থেকেই ঘোষণা করছিলেন যাতে ফুটবল তারকাকে ওই ভাবে ঘিরে ধরা না হয়। যুবভারতীকাণ্ডে অনুসন্ধান কমিটি গড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিটিতে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়। সেই কমিটি গত সোমবার রাতে প্রাথমিক রিপোর্ট পেশ করে। সেই রিপোর্টে সিট গঠনের সুপারিশ করেছিল ওই অনুসন্ধান কমিটি। সেই সুপারিশ মেনে গত মঙ্গলবার চার সদস্যের সিট গঠন করে রাজ্য পুলিশ।চার সদস্যের এই সিট রয়েছেন রাজ্য পুলিশের এডিজি পীযূষ পাণ্ডে, ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মুরলীধর, এডিজি আইনশৃঙ্খলা জাভেদ শামিম এবং এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতিম সরকার। তাঁদের সাহায্য করার জন্য রয়েছেন অন্য আধিকারিকেরাও।
সল্ট লেকের যুবভারতী স্টেডিয়ামে তাঁকে এক ঝলক দেখার জন্য গ্যালারির টিকিটের ন্যূনতম দাম রাখা হয়েছিল প্রায় সাড়ে চার হাজার টাকা। তার আগে হোটেলে মিট অ্যান্ড গ্রিট অনুষ্ঠানে মেসির সঙ্গে ছবি তোলার ছাড়পত্রের জন্য মূল্য ধার্য হয়েছিল ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত! নানারকম প্যাকেজ সাজিয়েছিলেন উদ্যোক্তারা। শুধু কলকাতা নয়, চার শহর মিলিয়ে মেসি-দর্শনের টিকিট বিক্রি করে, দেখা করে ছবি তোলার স্পেশ্যাল পাস বিক্রি করে যে টাকা উঠেছিল, তা থেকে মেসিকে ভারতে আনার খরচের মাত্র ৩০ শতাংশ তোলা গিয়েছে! কত টাকায় মেসি ভারতে আসতে রাজি হয়েছিলেন? প্রায় একশো কোটি টাকা! চমকে ওঠার মতো চুক্তির অঙ্কের পরিমাণ তদন্তকারীদের জানিয়েছেন উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত স্বয়ং। যিনি এখন পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। পুলিশি তদন্তের মুখে শতদ্রু জানিয়েছেন, মেসিকে ভারতে আনতে প্রায় ১০০ কোটি টাকা খরচ করেছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তকারীদের শতদ্রু বলেছেন, ‘ভারত সফরের জন্য লিওনেল মেসিকে ৮৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। ভারত সরকারকে কর বাবদ দেওয়া হয়েছিল ১১ কোটি টাকা।’ সব মিলিয়ে ১০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন শতদ্রু। ১০০ কোটি টাকার মধ্য়ে ৩০ শতাংশ টাকা সংগ্রহ হয়েছিল স্পনসরদের থেকে। বাকি ৩০ শতাংশ টাকা এসেছে টিকিট বিক্রি করে। জেরায় তদন্তকারীদের জানিয়েছেন শতদ্রু, খবর পুলিশ সূত্রে। শতদ্রু দত্তকে জেরা করে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য, খবর পুলিশ সূত্রে। যুবভারতী স্টেডিয়ামে মেসিকে ঘিরে যে বেনজির বিশৃঙ্খলা দেখা গিয়েছিল, যার জেরে মাঝপথেই কর্মসূচি বাতিল করতে হয়েছিল বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ফুটবলারকে, তার রেশ এখনও চলছে। গোটা ঘটনার পর কলকাতা বিমানবন্দর থেকে নাটকীয়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছিল শতদ্রু দত্তকে। রিষড়ার শতদ্রুই মেসিকে ভারতে এনেছিলেন। হায়দরাবাদের উদ্দেশে রওনা হওয়ার জন্য মেসির ব্যক্তিগত বিমানে উঠে পড়েছিলেন শতদ্রু। সেখান থেকে তাঁকে নামিয়ে গ্রেফতার করা হয়। যুবভারতী স্টেডিয়ামে বিশৃঙ্খলা তৈরি ও ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ৯ জনকে। এবার শতদ্রুকে জেরা করে মেসি কাণ্ডে সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। শতদ্রু দত্তকে টানা জেরা করে নতুন তথ্য পেয়েছেন বিশেষ তদন্তকারী দল সিটের তদন্তকারীরা। মেসি কাণ্ডের তদন্তকারীদের শতদ্রু বলেছেন, ‘পিঠে হাত দেওয়া, জড়িয়ে ধরা একেবারেই পছন্দ করেননি মেসি। বিদেশ থেকে আসা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন তিনি।’ বারবার ঘোষণা করেও কোনও লাভ হয়নি, জেরায় জানিয়েছেন শতদ্রু, খবর সূত্রের। তদন্তকারীদের শতদ্রু বলেছেন, ‘ভারত সফরের জন্য লিও মেসিকে ৮৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়। ভারত সরকারকে কর বাবদ দেওয়া হয়েছিল ১১ কোটি টাকা।’ সব মিলিয়ে ১০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল বলে জানিয়েছেন শতদ্রু। ১০০ কোটি টাকার মধ্যে ৩০ শতাংশ টাকা সংগ্রহ হয় স্পনসরদের থেকে। বাকি ৩০ শতাংশ টাকা এসেছে টিকিট বিক্রি করে, জেরায় জানিয়েছেন শতদ্রু, খবর সূত্রের।




