১০ লক্ষ টাকা খরচ করলেই মেসির সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ। মেসিকে দেখার জন্য একটি ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ প্যাকেজের ঘোষণা করেছেন। ১০ লক্ষ টাকা খরচ করলে এই প্যাকেজ কিনতে পারবেন সাধারণ মানুষ। এই টাকায় কেনা হয়ে যাবে চার চাকার গাড়ি। বাইপাসের ধারে, যুবভারতীর পাশে একটি হোটেলে গিয়ে মেসির সঙ্গে হাত মেলাতে পারবেন সমর্থকেরা। পাশাপাশি, মেসির পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা যাবে। একটি প্রিমিয়ার লাউঞ্জে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের খাবার এবং অ্যালকোহল-হীন পানীয় পাওয়া যাবে। পাশাপাশি, সফরের দিল্লি-পর্বের জন্য হসপিটালিটি বিভাগের টিকিট পাওয়া যাবে। আয়োজকদের দাবি, জীবনে এক বারই এই সুযোগ পাওয়া যাবে। কেরিয়ারের ৪৮তম ট্রফি জিতে কলকাতায় পা রাখছেন মেসি। সম্প্রতি ইন্টার মায়ামিকে প্রথম বার এমএলএস জিতিয়েছেন। তিন দিন তিনি ভারতে থাকবেন। চারটি শহরে একাধিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। মেসির সঙ্গেই আসার কথা রয়েছে লুই সুয়ারেজ় এবং রদ্রিগো দি পলের। কলকাতা থেকে মেসি যাবেন হায়দরাবাদে, সেখান থেকে মুম্বই হয়ে দিল্লি যাবেন। যুবভারতীর অনুষ্ঠানে থাকবেন বহু বিশিষ্ট মানুষ। মুখ্যমন্ত্রী, শাহরুখ, সৌরভেরাও থাকবেন যুবভারতীতে। তাই নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ঝুঁকি নেওয়া হচ্ছে না। মূল দায়িত্ব বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের হলেও কলকাতা এবং রাজ্য পুলিশ সব রকম ভাবে সাহায্য করবে। বিভিন্ন পুলিশ জেলা কমিশনারেট থেকে ইন্সপেক্টর, সাব-ইন্সপেক্টর, কনস্টেবলদের নিয়ে আসা হবে। থাকবে র্যাফ। সব মিলিয়ে প্রায় ২০০০ পুলিশকর্মী নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। নিয়ন্ত্রণ করা হবে যান চলাচল। গাড়ি রাখার ক্ষেত্রেও শুক্রবারই নির্দেশিকা জারি করেছে বিধাননগর পুলিশ।
কলকাতায় বাঙালি খাবারে মেসির পাতে অবশ্যই পড়বে মন্ডা-মিঠাই। বাঙালিয়ানায় মুড়ে ফেলা হবে আর্জেন্টাইন তারকাকে। শোনা যাচ্ছে, ধুতি-পাঞ্জাবি পড়বেন মেসি। তবে সবটাই উদ্যোক্তার ইচ্ছা। ব্যবস্থা রাখা হবে। শেষপর্যন্ত মেসি ধুতি-পাঞ্জাবি পড়তে রাজি হবেন কিনা জানা নেই। এছাড়াও থাকবে বাঙালিদের নানান আয়োজন। বাইপাসের ধারে স্টেডিয়াম সংলগ্ন একটি পাঁচতারা হোটেলে থাকবেন মেসি। সেখানেই খাওয়া-দাওয়ার যাবতীয় বন্দোবস্ত করা হবে। প্রথমেই আসা যাক মাছ প্রসঙ্গে। বাঙালি মানেই খাদ্যরসিক। বিশেষ করে মাছের বিভিন্ন পদ। তাই মেসির পাতেও পড়বে ইলিশ, চিংড়ি। থাকছে ডাব চিংড়ি। এক টেবিল বাঙালি খাবার থাকবে মেসির জন্য। এর আগে পেলে, মারাদোনা, মেসি, অলিভার কান, রোনাল্ডিনহো সহ একাধিক বিশ্বতারকা কলকাতা ঘুরে গিয়েছেন। সবার পাতেই পড়েছে কয়েকটি বিশেষ মেনু। তবে এবার একটি অভিনব ঘটনা ঘটতে চলেছে। এমন দু’জনকে আনা হবে স্টেডিয়ামে, যাদের সমাজে হয়তো তেমন নাম-ডাক নেই, কিন্তু যারা নিজেদের অভিনব কর্মকাণ্ডের জন্য ভাইরাল। শিয়ালদহ স্টেশনের ‘পকেট পরোটা’ বিক্রেতাকে যুবভারতীতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মেসির অন্ধ ভক্ত হিসেবে তাঁর সাক্ষাৎ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এছাড়াও থাকতে পারেন ইছাপুরের শিবশঙ্কর পাত্র। তিনি আর্জেন্টাইন তারকার বিশাল বড় ফ্যান। নিজের নাতির নাম লিও রাখেন। এবার মেসিকে চাক্ষুষ করার সুযোগ করে দেবেন শতদ্রু দত্ত।
যুবভারতীতে সংবর্ধনা দেওয়া হবে মেসিকে। একটি সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানও হবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগ উঠে আসবে অনুষ্ঠানে। হুড খোলা গাড়িতে স্টেডিয়াম প্রদক্ষিণ করবেন মেসি। শনিবার সকাল সাড়ে ন’টা থেকে সাড়ে দশটা হোটেলেই স্পনসরদের অনুষ্ঠান। সাড়ে দশটা থেকে ভার্চুয়ালি লেকটাউনে নিজের মূর্তি উন্মোচন করবেন। ১১.১৫ নাগাদ যুবভারতীর উদ্দেশে রওনা দেবেন। সাড়ে এগারোটায় যুবভারতীতে উপস্থিত হবেন শাহরুখ খান। থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং সৌরভ গাঙ্গুলি। তারপর চলবে সংবর্ধনার পালা। প্লেয়ারদের সঙ্গে পরিচয় সারবেন মেসি, শাহরুখরা। ফুটবল ম্যাজিশিয়ানের পাশাপাশি থাকবেন দুই আর্জেন্টাইন তারকা লুই সুয়ারেজ এবং রডরিগো ডি পল। মেসির সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেবেন শাহরুখ খান এবং সৌরভ গাঙ্গুলি। থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু।
কলকাতায় মেসির সফর পুরোটাই লাইভ টেলিকাস্টের ব্যবস্থা রয়েছে। সোনি লিভ অ্যাপে মেসির কলকাতা সফর লাইভ টেলিকাস্ট হবে। লাইভ টেলিকাস্ট দেখতে হলে সোনি লিভ সাবস্ক্রিপশন নিতে হবে। তবেই দেখা যাবে যুবভারতীতে মেসি লাইভ। উল্লেখ্য, শনিবার কলকাতা সফর সেরে হায়দরাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন মেসি। শনিবার সন্ধে সাতটা নাগাদ হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে উপস্থিত হবেন মেসি। সেভেন এ সাইড ফুটবল ম্যাচে খেলার কথা মেসির। থাকবেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি। একটি সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজনও করা হয়েছে স্টেডিয়ামে। সেই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মেসিকে সম্মান জানানো হবে। এরপর মেসি যাবেন মুম্বই। ১৪ ডিসেম্বর রবিবার দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ ক্রিকেট ক্লাব অফ ইন্ডিয়ায় প্যাডেল কাপে অংশ নেওয়ার কথা মেসির। বিকেল চারটে থেকে হওয়ার কথা সেলিব্রিটিদের ম্যাচ। বিকেল পাঁচটা থেকে মেসিকে নিয়ে অনুষ্ঠান রয়েছে ওয়াংখেড়েতে। ১৫ ডিসেম্বর সোমবার দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন মেসি। দুপুর দেড়টা থেকে অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে রয়েছে সংবর্ধনা সভা। মেসির সফর চলাকালীন আর্জেন্টাইন তারকার সঙ্গে ছবি তোলার এক সুবর্ণ সুযোগ এনেছে আয়োজক সংস্থা। এর জন্য বিশেষ টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ছবি তোলা, মেসির সঙ্গে হ্যান্ডশেক এবং খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা। এই টিকিটের দাম শুনলে চোখ কপালে উঠবে অনেকেরই। আর্জেন্টাইন সুপারস্টারের ‘GOAT Tour’ উপলক্ষে আয়োজকরা ঘোষণা করেছেন অবিশ্বাস্য ১০ লক্ষ টাকার মিট অ্যান্ড গ্রিট প্যাকেজ। ১০ লক্ষ টাকার এই মিট অ্যান্ড গ্রিট প্যাকেজে রয়েছে, মেসির সঙ্গে করমর্দন, ছ’জনের সঙ্গে একটি গ্রুপ ছবি, আনলিমিটেড বুফে ও নন-অ্যালকোহলিক পানীয়সহ প্রিমিয়াম লাউঞ্জে বসে গোটা ইভেন্ট দেখা এবং দিল্লি ইভেন্টের জন্য হসপিটালিটি ক্যাটাগরির টিকিট। আয়োজকদের ভাষায়, এটা ওয়ান্স ইন আ লাইফটাইম এক্সপিরিয়েন্স।
এদিকে, সল্টলেক স্টেডিয়ামের অদূরে তৈরি ‘হোলা মেসি ফ্যান জোন’। আর্জেন্টিনার রাজপুত্রকে বরণ করে নিতে তৈরি শহরের সমর্থকেরা। সেখানে শুরুতেই মায়ামির বাড়ির আদলে মেসির বাড়ির প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়েছে। তার বারান্দায় বসে রয়েছেন মেসি, তাঁর স্ত্রী আন্তোনেয়া রোকুজ়ো এবং তিন ছেলে মাতেয়ো, থিয়াগো এবং সিরো। ভেতরে রয়েছে সংগ্রহশালা। সেখানে মেসির জেতা বিভিন্ন ট্রফির প্রতিকৃতি রয়েছে। তার মধ্যে লা লিগা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, কোপা আমেরিকা, বিশ্বকাপ, বালঁ দ্যর এবং সোনার বুট রয়েছে। মাঝের জায়গাটি সাজানো হয়েছে ৮৯৬টি ফুটবল দিয়ে। ফুটবলজীবনে এখনও পর্যন্ত এতগুলিই গোল করেছেন মেসি। দেওয়ালে থাকছে ২০০ মিটার লম্বা এলইডি স্ক্রিন, যেখানে মেসির ফুটবল খেলার বিভিন্ন দৃশ্য দেখানো হবে। গত ৯ ডিসেম্বর এই ফ্যান জোন খুলে দেওয়া হয়েছে। ১০ টাকা প্রবেশমূল্যের বিনিময়ে সারা দিন থাকা যাচ্ছে এই ফ্যান জোনে। প্রতি দিনই বিতর্কসভা এবং নানা অনুষ্ঠান হচ্ছে। ভাবনার দুই উদ্যোক্তা উত্তম সাহা এবং তাঁর ছেলে প্রজ্ঞান। সংবাদ সংস্থাকে প্রজ্ঞান বলেছেন, “আমরা ওঁকে প্রচণ্ড ভালবাসি। মেসি কিংবদন্তি, সর্বকালের সেরা। ২০০২ থেকে ওকে সমর্থন করছি। উনি যা অর্জন করেছেন মাঠ এবং মাঠের বাইরে, সেটাকে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে আমাদের সংগঠন। দ্বিতীয় বার আমাদের শহরে আসছেন উনি। তাই দু’হাতে ওঁকে স্বাগত জানানো আমাদের দায়িত্ব।”




