Saturday, July 4, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

সুন্দরী ডিএসপি কল্পনা বর্মার প্রতারণার ছল? ‘প্রেমের ফাঁদে ফেলে’ গভীর রাত পর্যন্ত ভিডিয়ো কল?‌

প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিবাহিত প্রেমিকের বিপুল সম্পত্তি ‘হাতান’। ব্যবসায়ী দীপকের অভিযোগ, ‘প্রেমের ফাঁদে ফেলে’ কল্পনা প্রায় আড়াই কোটি টাকা হাতিয়েছেন তাঁর কাছ থেকে। একটি গাড়ি, হিরের আংটি এবং লক্ষ লক্ষ টাকার গয়না হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রতারণা সংক্রান্ত অভিযোগের জেরে খবরের শিরোনামে ছত্তীসগঢ়ের ডিএসপি কল্পনা বর্মা। রায়পুরের ব্যবসায়ী দীপক টন্ডনের দাবি, কল্পনার সঙ্গে প্রেম করতেন। অভিযোগ, দু’কোটি টাকা নগদ-সহ একাধিক মূল্যবান উপহার নিয়েছেন কল্পনা। পরে সেই পুলিশ প্রেমিকাই তাঁকে ব্ল্যাকমেল করছেন! ছত্তীসগঢ়ের ডেপুটি পুলিশ সুপার ডিএসপির বিরুদ্ধে পুলিশের দ্বারস্থ তাঁরই ব্যবসায়ী প্রেমিক। ডিএসপি-র বিরুদ্ধে তোলাবাজি, ব্ল্যাকমেল এবং ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ দায়ের। দীপকের অভিযোগ, ‘প্রেমের ফাঁদে ফেলে’ কল্পনা প্রায় আড়াই কোটি টাকা হাতিয়েছেন তাঁর কাছ থেকে। একটি গাড়ি, হিরের আংটি এবং লক্ষ লক্ষ টাকার গয়না নিয়েছেন কল্পনা। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করেন কল্পনা। পুরো বিষয়টিকে ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলেও অভিযোগ করেছেন ডিএসপি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই হইচই দেশ জুড়ে। ডিএসপি কল্পনা বর্মা কে, তা নিয়েও কৌতূহলী নেটাগরিকদের একাংশ।
কল্পনা ছত্তীসগঢ় পুলিশের তরুণী ডিএসপি। পুরো নাম কল্পনা বর্মা। রায়পুরের কন্যা। ২০১৬-’১৭ ব্যাচের পুলিশকর্তা। ২০১৭ সাল থেকে ছত্তীসগঢ় পুলিশে কর্মরত কল্পনা। প্রথম জীবনে তিনি রায়পুরের মানা পুলিশ স্টেশনে সিএসপি সিটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ হিসাবে কর্মরত ছিলেন। পরে সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াডে এটিএসে যোগ দেন। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ডিএসপি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন কল্পনা। বর্তমানে ছত্তীসগঢ়ের সংবেদনশীল জেলা দান্তেওয়াড়ায় ডিএসপি হিসাবে কর্মরত। মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকা হিসাবে পরিচিতি থাকায় প্রায়ই খবরের শিরোনামে উঠে আসে ওই জেলার কথা। ছত্তীসগঢ়ে কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকার সময় কল্পনার একটি ছবি ভাইরাল হয়েছিল। সে রাজ্যের বর্তমান গৃহমন্ত্রী বিজয় শর্মা-সহ বিজেপির বেশ কয়েক জন বর্ষীয়ান নেতা কল্পনাকে একটি বিষয়ে স্মারকলিপি জমা দিতে গিয়েছিলেন তাঁর অফিসে। বিজেপি নেতারা যখন স্মারকলিপি জমা দিচ্ছিলেন, তখন তাঁদের দিকে তাকাননি কল্পনা। তিনি ব্যস্ত ছিলেন ফোন নিয়ে। সেই ছবি প্রকাশ্যে আসার পর হইচই পড়েছিল। সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল ডিএসপিকে। সেই কল্পনার বিরুদ্ধেই এ বার প্রেমে প্রতারণার অভিযোগে পুলিশের দ্বারস্থ ব্যবসায়ী। কল্পনার বিরুদ্ধে উঠেছে অভিযোগের পাহাড়। রায়পুরের ব্যবসায়ী দীপক জানিয়েছেন, কল্পনার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় এক বন্ধুর মাধ্যমে। সেখান থেকে বন্ধুত্ব। দীপক বিবাহিত। তা সত্ত্বেও প্রতি দিন নিয়ম করে তাঁকে ফোন করে তাঁর সঙ্গে দেখা করতেন কল্পনা। হোটেলে দীপকের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতেন। এ ছাড়া গভীর রাত পর্যন্ত ভিডিয়ো কলেও কথা হত দু’জনের মধ্যে। দীপকের দাবি, ধীরে ধীরে কল্পনার ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। সম্পর্কেও জড়িয়ে পড়েন। কল্পনার প্রেমে নাকি ‘পাগল’ হয়ে গিয়েছিলেন দীপক। দীপকের দাবি, তাঁকে সৌন্দর্যের জালে পুরোপুরি আটকে ফেলেছিলেন কল্পনা। সম্পর্কে থাকাকালীন গত কয়েক বছর ধরে ডিএসপি প্রেমিকা তাঁর কাছ থেকে দু’কোটি টাকা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ দীপকের। এ ছাড়াও উপহার হিসাবে কল্পনা তাঁর কাছ থেকে এক লক্ষ টাকার ব্রেসলেট, পাঁচ লক্ষ টাকার সোনার চেন এবং ১২ লক্ষ টাকার একটি হিরের আংটি নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ ব্যবসায়ীর। দীপকের দাবি, রায়পুরের ভিআইপি রোডের একটি হোটেল কল্পনার ভাইয়ের নামে লিখে দিয়েছিলেন দীপক। পরে তা কল্পনা নিজের নামে করে নেন। দীপকের স্ত্রী বরখার নামে থাকা ২২ লক্ষ টাকার গাড়িও নাকি নিয়ে নিয়েছিলেন কল্পনা। দীপকের অভিযোগগুলি সমর্থন করে তাঁর স্ত্রী বরখা টন্ডন দাবি করেন, ডিএসপি-র জন্য তাঁদের দাম্পত্যজীবনে অশান্তি শুরু হয়েছে। অভিযোগ, বরখার সঙ্গে বিয়ে ভেঙে তাঁকে বিয়ে করার জন্যও দীপককে চাপ দিতেন কল্পনা। তাতে রাজি না হলে শুরু হয় ব্ল্যাকমেল। পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন ব্যবসায়ী। খামারডিহ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ডিএসপি-র সঙ্গে হোয়াট্‌সঅ্যাপ চ্যাট, একাধিক সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্য তিনি প্রমাণ হিসাবে থানায় জমা দিয়েছেন। দীপকের দাবি, অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য তাঁর উপর অনবরত চাপ দেওয়া হচ্ছে। ভুয়ো মামলা সাজিয়ে কল্পনা তাঁকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও নাকি দিচ্ছেন। দীপকের দাবি, কল্পনার বেশ কয়েক জন ঊর্ধ্বতন পুলিশকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আর তার জোরেই তাঁর এত রমরমা। সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে ডিএসপি কল্পনার দাবি, অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন। তাঁর সম্মানহানি করার জন্য এই ধরনের গল্প সাজানো হয়েছে। দীপক এবং তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন কল্পনা। কল্পনা ব্যাখ্যা করেছেন, তাঁর বাবা এবং দীপকের মধ্যে ব্যবসায়িক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। তা নিয়ে মামলাও হয়েছিল। দীপক তাঁর স্ত্রী বরখাকে ওই লেনদেন সংক্রান্ত একটি চেক দিয়েছিলেন, যা ‘বাউন্স’ হয়ে যায়। পরে বিষয়টি আদালতে পৌঁছোয়। ডিএসপির দাবি, বিচারপ্রক্রিয়া এড়াতে ইচ্ছাকৃত ভাবে তাঁর নাম এই মামলার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। তাঁর ভাবমূর্তি এবং চরিত্রহননের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন। কল্পনা আরও জানিয়েছেন, অনুমতি ছাড়াই সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপ থেকে তাঁর ছবি নিয়ে ভুয়ো চ্যাটগুলি তৈরি করা হয়েছে, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দীপকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন। নোটিসও পাঠানো হয়েছে ব্যবসায়ীকে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles