কল্যাণীতে অসমের সঙ্গে ম্যাচ ড্রয়ের কোলে ঢলে পড়ল। সাত পয়েন্ট ঘরে তুলতে পারত বাংলা। তার পরিবর্তে বাংলার ঝুলিতে এল তিন পয়েন্ট। শেষ দিনে সাতটা উইকেট তোলা গেল না। দিনের শেষে অসমের রান ৯ উইকেটে ২৮২। তৃতীয় দিনের শেষে অসমের রান ছিল ৩ উইকেটে ৯৮। সাত পয়েন্টের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল বাংলা। উইকেটে দেনীশ দাস অপরাজিত ৬৩ রান ও সুমিত অপরাজিত ৩০। ১৪৪ রানে পিছিয়ে ছিল অসম। গতদিনের রানে ১০ রান যোগ করেন দেনীশ। ১১১ রান পার্টনারশিপে গড়েন দেনীশ ও সুমিত। একসময়ে অসমের রান ছিল ৩ উইকেটে ৮। দেনীশ ও সুমিত ধস সামলান। ঈশান পোড়েলের বলে দেনীশ বোল্ড হলেও লড়াই চালিয়ে যান সুমিত। ২২২ বল খেলে ৬৭ রানে তিনি ফেরেন শাহবাজ আহমেদের বলে। অসমের রান তখন ৫ উইকেটে ১৭৭। তার পরে রুখে দাঁড়ান শিবশঙ্কর রায়। তিনি ও ঋতুরাজ বিশ্বাস অসমের রান ২২০-তে নিয়ে যান। শাহবাজই ফেরান ঋতুরাজকে (১৩)। অন্যদিকে শিবশঙ্কর বোল্ড হন ৫২ রানে। আবদুল আজিজ শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে যান ২৩ রানে। তাঁকে আর আউটই করা গেল না। অন্য প্রান্তে মুখতার হোসেনও অপরাজিত থেকে যান। অসমের রান যখন ৯ উইকেটে ২৮২, তখন আম্পায়ার খেলা শেষ করেন। অসমের ইনিংস আর শেষ করা হল না বাংলার বোলারদের। ম্যাচ হয়ে গেল ড্র।

মহম্মদ সামিদের নির্বিষ বোলিং, সারা দিনে অসমের ৭ উইকেটও ফেলতে পারল না বাংলা। সন্তুষ্ট থাকতে হল ৩ পয়েন্টেই। প্রথমে ত্রিপুরা। এ বার অসম। রঞ্জি ট্রফিতে আরও একটা ম্যাচে হাতের পয়েন্ট মাঠে ফেলে এল বাংলা। যেখানে ৭ পয়েন্ট পাওয়া উচিত ছিল, সেখানে বাংলা পেল ৩ পয়েন্ট। কল্যাণীতে অসমের বিরুদ্ধে ড্র করে সন্তুষ্ট থাকতে হল অভিমন্যু ঈশ্বরণদের। নেপথ্যে মহম্মদ সামিদের নির্বিষ বোলিং। শেষ দিনে অসমের ৭ উইকেটও ফেলতে পারলেন না শামিরা। শেষ দিন খেলতে নামার আগে বাংলার থেকে ১৪৪ রানে পিছিয়ে ছিল অসম। বাংলার দরকার ছিল ৭ উইকেট। তৃতীয় দিনের অপরাজিত জুটি দেনীশ দাস ও অধিনায়ক সুমিত ঘাদিগাঁওকর সেই জুটি এগিয়ে নিয়ে গেলেন। দেনীশের পর অর্ধশতরান করলেন সুমিত। দেনীশ ৭৩ ও সুমিত ৬৭ রান করলেন। এই জুটি আউট হওয়ার পর শিবশঙ্কর রায় নীচের সারির ব্যাটারদের সঙ্গে জুটি বাঁধলেন। অসমের ব্যাটারদের লক্ষ্য ছিল ক্রিজ়ে পড়ে থাকা। কোনও রকমে সময় কাটানো। সেই কাজে তাঁরা সফল। শিবশঙ্কর ৫২ রান করলেন। ন’নম্বরে নেমে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেললেন আব্দুল আজিজ কুরেশি। তাঁকে আউট করতে পারলেন না বাংলার বোলারেরা। ২৩ রান করে অপরাজিত থাকলেন তিনি। ১১ নম্বরে নেমে কোনও রান না করলেও ২৪ বল খেললেন মুখতার হুসেন। এই জুটি আর ভাঙতে পারেননি বাংলার বোলারেরা। শেষ পর্যন্ত অসমের রান যখন ৯ উইকেটে ২৮২, তখন খেলা শেষ ঘোষণা করেন আম্পায়ারেরা। কারণ, তখন অসম ৪০ রানে এগিয়ে ছিল। অসমকে অল আউট করে রান তাড়া করার সময় আর বাংলার ছিল না। ফলে খেলা ড্র হয়। প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকায় ৩ পয়েন্ট পায় বাংলা। অসম পায় ১ পয়েন্ট। এই ম্যাচে ৩ পয়েন্ট পাওয়ায় বাংলার পয়েন্ট হল পাঁচ ম্যাচে ২৩। এখনও গ্রুপে শীর্ষে রয়েছে তারা। তবে পরের দুই ম্যাচ কঠিন। ঘরের মাঠে সার্ভিসেস ও অ্যাওয়ে ম্যাচে হরিয়ানার বিরুদ্ধে খেলতে হবে। গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সার্ভিসেস। তিন নম্বরে হরিয়ানা। বাংলার থেকে ৪ পয়েন্ট কম সার্ভিসেসের। হরিয়ানা ৫ পয়েন্ট পিছিয়ে। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে হলে দু’টি ম্যাচই খুব গুরুত্বপূর্ণ।




