Friday, April 24, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

কোলেস্টেরল গলিয়ে দেওয়ার জন্য ঝালই যথেষ্ঠ?নিয়মিত লঙ্কা খেলে শরীরে উপকার, সুস্থ থাকতে টোটকা

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ঝালের পক্ষেই রায় দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত পরিমাণে ঝাল খেলে শরীর নানাভাবে উপকৃত হতে পারে। এর নেপথ্যে রয়েছে লঙ্কাতে থাকা ‘ক্যাপসাইসিন’ নামের একটি প্রাকৃতিক যৌগ। ঝালের বিশেষ গুণের কথা জানলে হয়তো পরের বার আর কাঁচালঙ্কা পাতে নিতে দ্বিধা করবেন না।

১. ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
ঝাল খাবার খাওয়ার পরেই কি শরীরে একটা গরম ভাব অনুভব করেন? এর কারণ, ঝাল খেলে ‘থার্মোজেনেসিস’ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ক্যাপসাইসিন শরীরে এই প্রক্রিয়াকে উদ্দীপিত করে, যা দেহের বিপাক হার বা মেটাবলিজম বাড়িয়ে দেয়। সহজ কথায়, শরীর আরও বেশি ক্যালোরি পোড়াতে শুরু করে। পুষ্টিবিদদের মতে, নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে ঝাল খেলে তা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
২. হৃদযন্ত্রের বন্ধু
ক্যাপসাইসিন রক্তনালীকে প্রসারিত করে রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থা ভাল রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি, রক্তে থাকা খারাপ কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতেও সহায়তা করে এই যৌগ। একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত ঝাল খাওয়ার অভ্যাস থাকলে হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমতে পারে।
৩. ব্যথা উপশমে আশ্চর্য দাওয়াই
ঝাল লাগলে জিভ জ্বালা করে বটে, কিন্তু জানেন কি ক্যাপসাইসিন ঝাল হলেও ব্যথা কমাতে অত্যন্ত কার্যকর। আসলে ঝালের চোটে স্নায়ুতন্ত্রের ব্যথার সঙ্কেতকে সাময়িকভাবে অবশ হয়ে যায়। এই কারণেই আর্থ্রাইটিস, স্নায়ুর ব্যথা এমনকি মাইগ্রেনের চিকিৎসাতেও ক্যাপসাইসিন ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন ব্যথা কমানোর ক্রিমেও এই উপাদান ব্যবহার করা হয়। শুধু কি তাই? দুশ্চিন্তা এবং উদ্বেগও নিয়ন্ত্রণে থাকে নিয়মিত লঙ্কা খেলে। কারণ ক্যাপসাইসিন দেহে হ্যাপি হরমোনের ক্ষরণ বৃদ্ধি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝালের উপকারিতা পেতে পরিমিতিবোধ জরুরি। যাঁদের গ্যাস, অম্বল, আলসার বা ‘ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম’-এর মতো হজমের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ঝাল এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। অতিরিক্ত ঝাল খেলে পেটে জ্বালা, ব্যথা বা ডায়েরিয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

শরীর মাঝে মাঝে অকারণে ব্যথা করছে? হঠাৎ করে হাঁটুর সন্ধিতে তীব্র যন্ত্রণা? চিকিৎসকের পরামর্শে রক্তপরীক্ষা করিয়ে যদি দেখা যায় ইউরিক অ্যাসিড বেড়েছে। অথচ একটু আগে থেকে সতর্ক হলেই সমস্যা এতো দূর গড়াত না। ইউরিক অ্যাসিড শরীরে প্রাকৃতিক ভাবেই তৈরি হয়। কিন্তু মাত্রা ছাড়ালেই তা হয়ে ওঠে উদ্বেগের কারণ। বিশেষ করে কিডনি ও অস্থিসন্ধির জন্য।

অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড রক্তে জমে গেলে তার প্রভাব পড়ে হাড়, সন্ধি, এমনকি মূত্রনালীতেও। গাউট, কিডনির পাথর—এ সব রোগ তৈরি করে এই নীরব শত্রু। তবে সৌভাগ্যবশত, শরীর নিজেই কিছু ইঙ্গিত দেয়, যা ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার দিকে ইশারা করে।

১. অস্থিসন্ধি ফুলে যাওয়া ও ব্যথা
এটি সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ। বিশেষ করে বুড়ো আঙুল, গোড়ালি, হাঁটু বা কবজির সন্ধিতে হঠাৎ তীব্র ব্যথা শুরু হতে পারে। অনেক সময় ব্যথার সঙ্গে জ্বরজ্বর ভাব, লালচে ফোলাভাবও দেখা যায়।

২. সকালের দিকে শরীর আড়ষ্ঠ লাগা
ঘুম থেকে উঠেই শরীরের কিছু অংশ শক্ত হয়ে যাওয়া, বিশেষ করে পায়ের গাঁটে জড়তা অনুভব করলে তা ইউরিক অ্যাসিডের ইঙ্গিত হতে পারে। এটি ‘গাউট আক্রমণ’-এর প্রাথমিক লক্ষণ বলেই ধরা হয়।

৩. প্রস্রাবে জ্বালা বা কষ্ট
ইউরিক অ্যাসিড জমে গেলে কিডনিতে পাথর তৈরি হতে পারে। যার ফলে প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালাভাব দেখা দেয়। অনেক সময় প্রস্রাব কম হওয়া বা রঙ গাঢ় হয়ে যাওয়াও একটি বড় লক্ষণ।

৪. ত্বকে লালচে দানা
দীর্ঘদিন ইউরিক বেশি অ্যাসিড থাকলে, তা রক্তনালিতে জমে গিয়ে ‘টোফাই’ নামের কঠিন পদার্থ তৈরি করতে পারে। এগুলি গাঁটের কাছে জমে ত্বকের ওপর ফোলাভাব বা লালচে র‍্যাশের মতো চেহারা নেয়।

৫. ক্লান্তি ও মাথাব্যথা
রক্তে অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড জমে গেলে তা শরীরের রক্তচাপ বাড়াতে পারে। যার ফলে মাথাব্যথা, দুর্বলতা, এমনকি ঘন ঘন ক্লান্তিও দেখা যায়। এ সবকিছুর পেছনেই লুকিয়ে থাকতে পারে ইউরিক অ্যাসিডের ভারসাম্যহীনতা।

এই লক্ষণগুলিকে অবহেলা না করে দ্রুত রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা পরীক্ষা করানো উচিত। পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনতে হবে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, পুরি-পরোটা, লাল মাংস, ডালজাতীয় খাবার কমিয়ে বেশি করে জল খাওয়া, শাকসবজি, ফলমূল, ওটস জাতীয় খাবার গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধও চালু করতে হবে। স্বাস্থ্য সচেতনতা মানেই নিজেকে আগলে রাখা। ইউরিক অ্যাসিডও তার ব্যতিক্রম নয়। তাই সময় থাকতেই চিনে নেওয়া প্রয়েজন উপসর্গগুলি।

ঠান্ডা লাগা বা বুকে কফ জমে শ্বাসে কষ্ট হওয়া খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু বুকে একবার কফ বসে খেলে কাশি আর গলার ভেতর ভার লাগার সমস্যা যেন যেতেই চায় না। ওষুধ তো অনেক খেলেন এবার একটু মা-ঠাকুমার আমলের ঘরোয়া একটি টোটকা অবলম্বন করে দেখুন। মধু আর লেবু সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে পারলে অল্প সময়েই রোগমুক্তি। আয়ুর্বেদ মতে, মধুতে থাকে প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান, যা গলার কর্কশ ভাব কমায় এবং কাশি উপশমে সহায়তা করে। লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড কফ নির্মূল করতে সাহায্য করে। ফলে বুকে জমে থাকা কফ সহজেই বেরিয়ে আসে। এক কাপ ঈষদুষ্ণ গরম জলে এক চামচ মধু ও আধখানা লেবুর রস মিশিয়ে নিয়ে দিনে দু’বার খালি পেটে পান করুন। চাইলে সঙ্গে এক টুকরো আদাও যোগ করতে পারেন, আদাও কফ বার করতে সাহায্য করে। তবে একটি বিষয় মাথায় রাখবেন, এই টোটকা শুধু হালকা কফ বা প্রাথমিক উপসর্গে কার্যকর। শ্বাসকষ্ট বা দীর্ঘস্থায়ী কাশির সমস্যা হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বাঞ্ছনীয়।

লিভার সুস্থ রাখতে চটজলদি স্ন্যাকসই যথেষ্ট, তবে চাই সঠিক পছন্দ। হার্ভার্ড-প্রশিক্ষিত লিভার ও গাট বিশেষজ্ঞ ড. সৌরভ সেঠী জানিয়েছেন, প্রতিদিনের কিছু ছোট কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত খাদ্য-চয়নেই লিভারের জটিলতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

১. খেজুর ও আখরোট: মিষ্টি আর কড়মড়ে জুটি

খেজুরে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার হজমকে ধীরে করে, লিভারে ফ্যাট জমা কমায়। অন্যদিকে আখরোটে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড প্রদাহ কমায়। সপ্তাহে দু’বার ২টি খেজুর ও এক মুঠো আখরোট খাওয়াই যথেষ্ট।

২. ডার্ক চকোলেট ও বাদাম: শক্তির সাথে সুরক্ষা

৭০ শতাংশ বা তার বেশি কোকোযুক্ত ডার্ক চকোলেট অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সহায়ক। এর সাথে ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ আমন্ড বা পিস্তাবাদাম লিভার কোষ রক্ষা করে। সপ্তাহে এক বা দু’বার এই যুগল উপভোগ করা যেতে পারে।

৩. আপেল, মধু ও দারচিনি: মরসুমি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস

আপেলে থাকা পেকটিন চর্বি আটকাতে সাহায্য করে, কাঁচা মধু উপকারী গাট ব্যাকটেরিয়া তৈরি করে এবং দারচিনি প্রদাহ কমায়। ঠান্ডা বা গরম যেকোনোভাবেই উপভোগযোগ্য এই স্ন্যাকস।

৪. গ্রিক দই বা ঘরের তৈরি দইয়ের সঙ্গে বেরি: গাট-লিভার জোট

গ্রিক দই বা দেশীয় দই প্রোবায়োটিক ও প্রোটিন সমৃদ্ধ, যা হজম ও লিভার ফ্যাট নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এর সঙ্গে ব্লুবেরি বা স্ট্রবেরির মতো বেরি মিশিয়ে খেলে ভিটামিন সি ও পলিফেনলসের বাড়তি সুবিধা মেলে।

এই স্ন্যাকসগুলি যথার্থ কাজ করে শুধুমাত্র যখন সেগুলির সাথে থাকে নিয়মিত শরীরচর্চা ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের বদলে শস্য, ফলমূল, ও শাকসবজির অভ্যাস। এমন খাদ্যাভ্যাসই ধীরে ধীরে ও স্বাভাবিকভাবে ফ্যাটি লিভার রোধে সাহায্য করে।

নিয়মিত ব্যায়াম করছেন, কিন্তু দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করছেন? তাহলে সতর্ক হোন—মস্তিষ্কের গঠন ও স্মৃতিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনই জানাচ্ছে আমেরিকার ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটির একটি সাম্প্রতিক গবেষণা।

৭ বছর ধরে চলা এই গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দিনে গড়ে ১৩ ঘণ্টা বসে থাকেন, তাঁদের মস্তিষ্কের স্মৃতিসংশ্লিষ্ট অংশ অনেকটাই সঙ্কুচিত হয়ে যায়। বিশেষ করে যাঁদের শরীরে APOE-ε4 জিন রয়েছে—যা আলঝেইমার রোগের ঝুঁকি বাড়ায়—তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।

গবেষকদের মতে, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কমে যায়, কমে যায় অক্সিজেন ও পুষ্টির জোগান, ফলে কোষে ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহ শুরু হয়, যা ধীরে ধীরে স্মৃতিশক্তি ও তথ্যপ্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করে।

গবেষণার মূল বার্তা:

বেশি বসে থাকলে আলঝেইমার সম্পর্কিত ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক গঠন দেখা যায়

স্মৃতিশক্তি ও ভাব প্রকাশের দক্ষতা কমে

হিপোক্যাম্পাস দ্রুত সঙ্কুচিত হয়

শুধু ব্যায়াম করলেই চলবে না—প্রতিদিনের কাজের ফাঁকে ফাঁকে হাঁটা, দাঁড়িয়ে থাকা বা স্ট্রেচিং করাও মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে জরুরি।
সতর্ক থাকুন, সচল থাকুনস্মৃতি বাঁচান।

প্রচণ্ড গরমে কালোজাম মরশুমি ফল। ফলটির গুণও অনেক। কয়েকটি খাবার রয়েছে যা কালোজামের পর খেলে হতে পারে বিপদ। কালোজাম খাওয়ার আগে সাবধান। কোন খাবারগুলি ওই ফলটির সঙ্গে খেতে পারবেন, আর কোনটি নয় – সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। মিল্কশেক খেতে পছন্দ করেন অনেকে। দুধের সঙ্গে কালোজামও দেন। স্বাদ তাতে বাড়ে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, দু’য়ের সংমিশ্রণে হতে পারে ভয়ংকর ক্ষতি। হজমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। কালোজামের পর ভুলেও আচার খাবেন না। তাতে বমি, পেট ব্যথা হতে পারে। আবার অত্যন্ত ক্লান্তির মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। কালোজামের পর কাঁচা হলুদ খাবেন না। কমপক্ষে ঘণ্টাখানেকের ব্যবধানে এই খাবার খান। নইলে পেটে ব্যথা এবং জ্বালাভাব দেখা দিতে পারে। দুই খাবারের ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যও বাড়তে পারে। কালোজাম খাওয়ার পর কমপক্ষে আধঘণ্টা জল খাবেন না। তাতে বদহজম তো হবেই। ডায়েরিয়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। কালোজাম টক মিষ্টি জাতীয় ফল। এই ফলে ভিটামিন সি রয়েছে। তাই এই ফলটি যথেষ্ট উপকারী। লিভারের জন্য খুবই ভালো। তেমনই আবার ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত ভালো। এই মরশুমে খাদ্যতালিকায় কালোজাম রাখা প্রয়োজন।‌

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles