রঞ্জি ট্রফির প্রথম দু’ম্যাচে ১২ পয়েন্ট পেয়েছে বাংলা। ঘরের মাঠে দু’টি ম্যাচেই জয় পেয়েছে। অথচ মরসুমের প্রথম অ্যাওয়ে ম্যাচেই হোঁচট খেতে হল বাংলাকে। বোনাস পয়েন্ট নিয়ে জেতার লক্ষ্য সোমবারই পাল্টে ফেলতে হয়েছিল বাংলাকে। ৩ পয়েন্টের জন্য লড়াই শুরু হয়। মঙ্গলে ম্যাচে শেষ দিন সেই আশাও শেষ করে দেন ত্রিপুরার অধিনায়ক মণিশঙ্কর মুরাসিংহ। প্রথম ইনিংসের রানে পিছিয়ে পড়ে বাংলা। এর পর আর সরাসরি জয়ের কোনও সুযোগই ছিল না। ২৫ ওভার বল করে একটিও উইকেট পেলেন না মহম্মদ সামি। বাংলার ক্রিকেটারেরা বেশ কিছু ক্যাচ ফেললেন। ত্রিপুরার বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া উইকেটরক্ষক অভিষেক পোড়েলই ফেললেন সবচেয়ে বেশি ক্যাচ। ফলে বোনাস পয়েন্টের লক্ষ্য নিয়ে আগরতলায় যাওয়া লক্ষ্মীরতন শুক্লার বাংলা দলকে ১ পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে হচ্ছে। প্রথম ইনিংসে বাংলা করে ৩৩৬ রান। এর পর ৫৩ রানেই ত্রিপুরার ৫ উইকেট ফেলে দেন বাংলার বোলারেরা। সামি উইকেট না পেলেও তাঁর ভাই মহম্মদ কাইফ বোনাস পয়েন্টের আশা উজ্জ্বল করে তুলেছিলেন। বাংলা আটকে গেল দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের সামনে। ভারতীয় দলের হয়ে খেলা দুই ক্রিকেটার হনুমা বিহারী এবং বিজয় শঙ্কর আশা শেষ করে দেন। হায়দরাবাদ ছেড়ে হনুমা এখন ত্রিপুরায়। তামিলনাড়ুর বিজয়ও এখন ত্রিপুরার ক্রিকেটার। হনুমার ১৪১ এবং বিজয়ের ৩৪ রানের ইনিংস ত্রিপুরার ব্যাটিং ধস সামলে দেয়। সপ্তম উইকেটের জুটিতে ১০৭ রান তোলেন। হনুমা আউট হওয়ার সময় ত্রিপুরার রান ছিল ৮ উইকেটে ৩১৬। ২০ রানে মধ্যে শেষ ২ উইকেট নিতে হল শামিদের। কিন্তু বাংলার বোলারদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিলেন মণিশঙ্কর। ন’নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ত্রিপুরার অধিনায়ক খেললেন ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংস। ২২ গজে সঙ্গী হিসাবে পেয়ে যান ১০ নম্বরে নামা রানা দত্তকে। তিনি করেন ২৭ রান। নবম উইকেটে তাঁদের জুটিতে ওঠে ৬১ রান। শেষ পর্যন্ত প্রথম ইনিংসে ৩৮৫ রান তুলে ত্রিপুরা ৩ পয়েন্ট নিশ্চিত করে ফেলে। সব আশা শেষ হয়ে যায় বাংলার। কাইফ শেষ পর্যন্ত ৭৯ রানে ৪ উইকেট নেন। ৭২ রানে ৩ উইকেট ঈশান পোড়েলের। ৫৫ রানে ২ উইকেট রাহুল প্রসাদের। ৮৪ রানে ১ উইকেট শাহবাজ আহমেদের। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে খেলা শেষ হওয়ার সময় পর্যন্ত ২৫ ওভারে ৩ উইকেটে ৯০ রান করে বাংলা। প্রথম তিন ব্যাটারই ব্যর্থ। সুদীপ কুমার ঘরামি (০), কাজি সইফি (০) এবং হাবিব গান্ধী (৩) পর পর আউট হয়ে যান। ১৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলা। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন অনুষ্টুপ মজুমদার (৩৪) এবং শাহবাজ (৫১)। রঞ্জির তিন ম্যাচে বাংলার পয়েন্ট ১৩।
ভারতের রাইজিং এশিয়া কাপের দলে সুযোগ পেতেই চেনা মেজাজ বৈভব সূর্যবংশী। রঞ্জি ট্রফিতে বিহারের হয়ে আগ্রাসী ব্যাটিং করল ১৪ বছরের ব্যাটার। তার ইনিংসই মেঘালয়ের বিরুদ্ধে দলকে কিছুটা স্বস্তি দিল। ৭ উইকেটে ৪০৮ রান তুলে প্রথম ইনিংস ডিক্লেয়ার করে দেয় মেঘালয়। জবাবে ব্যাট করতে নেমে সমস্যায় পড়ে বিহার। সূর্যবংশীর সঙ্গী ওপেনার অর্ণব কিশোর (৪) শুরুতেই আউট হয়ে যান। দলকে ভরসা দিতে পারেননি মঙ্গল মাহরুর (২৫), বিপিন সৌরভেরা (১৫)। চাপের মুখেও ২২ গজের অন্য প্রান্তে অবিচল ছিল সূর্যবংশী। ৯টি চার এবং ৪টি ছয়ের সাহায্যে ৬৭ বলে ৯৩ রানের ইনিংস খেলে। মেঘালয়ের কোনও বোলারই ১৪ বছরের ব্যাটারের সামনে তেমন সুবিধা করতে পারেননি। তবু সূর্যবংশী স্পিনার বিজন দের বলে আউট হয়ে যায় শতরানের কাছে পৌঁছেও। মঙ্গলবারই রাইজ়িং এশিয়া কাপের জন্য ভারতীয় ‘এ’ দল ঘোষণা করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। দল ঘোষণার কিছুক্ষণ পরেই মেঘালয়ের বিরুদ্ধে আগ্রাসী ইনিংস খেলে বিহারের কিশোর ব্যাটার। খেলা শেষ হওয়ার সময় বিহারের রান ছিল ৪ উইকেটে ১৫৬। বিহার-মেঘালয় রঞ্জি ম্যাচের প্রথম দু’দিন বৃষ্টির জন্য খেলা হয়নি। বাকি দু’দিনে খেলা শেষ হওয়ার সুযোগ ছিল না। খুব বেশি হলে কোনও দল প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকার ভিত্তিতে ৩ পয়েন্ট পেতে পারত। কিন্তু বিহারের প্রথম ইনিংসও শেষ না হওয়ায় দু’দল ১ পয়েন্ট করে পেয়েছে।





