দেহের বাড়তি মেদ কমানোর জন্য কেউ হাঁটেন। আবার কেউ দৌড়ন। একটি প্রচলিত ধারণা, দৌড়লে হাঁটার তুলনায় বেশি মেদ ঝড়ে। কিন্তু সত্যিই কি তাই? কারণ চিকিৎসকদের মতে, হাঁটা বা দৌড়নো কোনটি কখন কাজে আসবে তা নির্ভর করে ব্যক্তির শারীরিক গঠন এবং মেটাবলিজ়মের উপর।
হাঁটা বনাম দৌড়নো
চিকিৎসকদের মতে, হাঁটা কোনও কোনও ক্ষেত্রে জগিং বা দৌড়নোর তুলনায় বেশি মেদ ঝরাতে সাহায্য করে। কারণ দৌড়নোর ক্ষেত্রে দেহে পরিশ্রম হয় বেশি। তাই তখন শরীরের মেটাবলিজ়মও অন্য ভাবে কাজ করে। দৌড়নোর ফলে ওজন কমলেও, এতে অনেকের খিদে পেয়ে যায়। আর প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাওয়ার অর্থই হল বেশি ক্যালোরি গ্রহণ। অন্য দিকে, হাঁটার ক্ষেত্রে দৌড়ের তুলনায় পরিশ্রম কম হয়। তার ফলে দেহের কম ক্যালোরির প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হতে পারে।
একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, হেঁটে বা দৌড়ে একই দূরত্ব অতিক্রম করলেও দুটি ক্ষেত্রে ফলাফল ভিন্ন ভিন্ন হয়। তাই চিকিৎসকদের দাবি, অল্প সময় দৌড়নোর পরিবর্তে বেশি সময় একই গতিতে হেঁটেও ওজন কমতে পারে। তাই ওজন কমাতে চাইলে যে দৌড়তেই হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।
আলু, ডিম বা ভাতের সঙ্গে ঘি খেলে ওজন বাড়বে। এতে মেদ বৃদ্ধি হবে এবং রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়বে। উচ্চতা অনুযায়ী ওজন যদি সমানুপাতিক হারে বৃদ্ধি করতে হয়, তবে তা যোগাসনেই সম্ভব। ডায়াবিটিস একবার ধরা পড়লে শরীরে নানা বদল আসতে থাকে। ক্লান্তি ভাব বাড়বে, ত্বক খসখসে হয়ে যাবে। সেই সঙ্গে ওজন কমতে থাকবে। নিজেকে রোগা দেখে মন খুশি হবে ঠিকই, কিন্তু শুধু ওজন নয়, পেশির ঘনত্বও কমতে থাকবে। এতে দুর্বলতা বাড়বে। হাড়ের ক্ষয় শুরু হবে। বাতের ব্যথা মাথাচাড়া দেবে। ওজন যদি কমে যায়, তা হলে অনেকেই বেশি করে খাওয়াদাওয়া শুরু করেন। ভাবেন, একগাদা আলু, ডিম বা ভাতের সঙ্গে ঘি খেলে ওজন বাড়বে। এতে মেদ বৃদ্ধি হবে এবং রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়বে। উচ্চতা অনুযায়ী ওজন যদি সমানুপাতিক হারে বৃদ্ধি করতে হয়, তা হলে শুধু খাওয়াদাওয়া নয়, করতে হবে কিছু বিশেষ আসন।
সুপ্ত বদ্ধকোণাসন
চিত হয়ে টানটান করে শুয়ে পড়ুন। এ বার হাঁটু ভাঁজ করে পায়ের পাতা দু’টি নমস্কারের ভঙ্গিতে জুড়ে দিন। দুই হাঁটু মাটি স্পর্শ করে থাকবে। হাত দু’টিকে এ বার মাথার দিকে লম্বালম্বি ছড়িয়ে দিন। হাত মেঝেতেই থাকবে। কিছু ক্ষণ এই অবস্থায় থাকুন। তার পর আগের অবস্থানে ফিরে যান।
সর্বাঙ্গাসন
চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। পা দু’টি জোড়া করে উপরে তুলুন। এ বার দু’হাতের তালু দিয়ে পিঠ এমন ভাবে ঠেলে ধরুন, যেন ঘাড় থেকে পা পর্যন্ত এক সরল রেখায় থাকে। থুতনিটি বুকের সঙ্গে লেগে থাকবে। এমন ভঙ্গিতে পিঠ ও কোমর সোজা রাখতে হবে। শরীরের ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করতে হবে। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে ৩০ সেকেন্ড গুনুন। তার পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসুন।
তাড়াসন
প্রথমে ম্যাটের উপর সোজা হয়ে দাঁড়ান। পায়ের পাতার মধ্যে দুই ইঞ্চি দূরত্ব রাখুন। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখুন। হাত দু’টি দু’পাশ থেকে তুলে, কনুই ভাঁজ করে নিয়ে যান মাথার পিছন দিকে। এ বার দু’হাতের আঙুল একত্রিত করুন। হাতের তালু রাখুন মাথার পিছন দিকে। এ বার শ্বাস নিতে নিতে হাত দু’টি মাথার উপর দিয়ে প্রসারিত করুন। এর পর পায়ের গোড়ালি মাটি থেকে উপর দিকে তুলুন। মাটির সঙ্গে শুধুমাত্র আঙুলের অংশ স্পর্শ করে থাকবে। এই অবস্থায় গোটা শরীরেই টান অনুভব করবেন। ২০-৩০ সেকেন্ড এই অবস্থানে থাকুন। পায়ের পাতার উপর গোটা শরীরের ভার বহন করতে হবে। তার পর আগের অবস্থানে ফিরে আসুন। নিয়মিত এই আসন অভ্যাসে পেশির জোর বাড়বে, হাড়ের স্বাস্থ্যও ভাল থাকবে।




