ধূমপান ছাড়ার পর ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়াতে ব্যায়ামের কোনও বিকল্প নেই। নিয়মিত শরীরচর্চা করলে শ্বাস-প্রশ্বাসের পেশিগুলি শক্তিশালী হয় এবং ফুসফুসের অক্সিজেন গ্রহণ করার ক্ষমতা বাড়ে। হাঁটা, জগিং, সাঁতার বা সাইক্লিং-এর মতো অ্যারোবিক ব্যায়াম ফুসফুসের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ধূমপান ছেড়ে দেওয়া জীবনের অন্যতম সেরা এবং কঠিন সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে একটি। ধূমপান ছাড়ার পরমুহূর্ত থেকেই শরীর নিজেকে মেরামত করতে শুরু করে দেয়। হৃদ্রোগ এবং ক্যানসারের ঝুঁকি কমতে শুরু করে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্রভাব থেকে ফুসফুসকে মুক্ত করা এবং তার কার্যক্ষমতা বাড়ানো একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। তবে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চললে ফুসফুসকে আগের চেয়ে অনেক বেশি সতেজ ও কর্মক্ষম করে তোলা সম্ভব। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি গতির ব্যায়াম করুন। প্রাণায়াম বা ডিপ বেলি ব্রেদিং-এর মতো গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম ফুসফুসের গভীরে জমে থাকা দূষিত পদার্থ বের করতে এবং ফুসফুসের প্রসারণ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। প্রতিদিন অন্তত ১০-১৫ মিনিট এই ধরনের ব্যায়াম করুন। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার: জাম, স্ট্রবেরি, সবুজ শাকসবজি (পালং, ব্রকোলি) এবং গাজরের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফল ও সবজি ফুসফুসকে দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। হলুদ, আদা, রসুন, এবং গ্রিন টি-র মতো খাবার ফুসফুসের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। সারাদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করলে ফুসফুসে জমে থাকা শ্লেষ্মা পাতলা হয়ে বেরিয়ে যেতে সুবিধা হয়, যা ফুসফুসকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। আপনি ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু আপনার চারপাশের বাতাস এখনও আপনার ফুসফুসের ক্ষতি করতে পারে। পরোক্ষ ধূমপান এড়িয়ে চলুন: যে সমস্ত জায়গায় অন্যেরা ধূমপান করছেন, সেই স্থানগুলি সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন। পরোক্ষ ধূমপানও ফুসফুসের জন্য সমান ক্ষতিকর। বায়ু দূষণ থেকে সাবধান: বাড়ির বাইরে বেরোলে, বিশেষ করে অতিরিক্ত দূষণযুক্ত এলাকায়, মাস্ক ব্যবহার করুন। বাড়িতে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করতে পারলে তা ফুসফুসের জন্য খুবই উপকারী। বাড়ির অন্দরে ধূপ বা মশা তাড়ানোর ধোঁয়া থেকেও দূরে থাকুন। ধূমপান ছাড়ার পর একজন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা অত্যন্ত জরুরি। কোনও রকম সমস্যা, যেমন দীর্ঘস্থায়ী কাশি, শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা হলে তা কখনই অবহেলা করবেন না। চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে পালমোনারি ফাংশন টেস্ট বা অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে আপনার ফুসফুসের বর্তমান অবস্থা নিরীক্ষা করতে পারেন। ধূমপান ছেড়ে আপনি ফুসফুসকে সারিয়ে তোলার প্রথম এবং সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ।
ধৈর্য ধরে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা মেনে চললে আপনার ফুসফুস ধীরে ধীরে অনেকটাই সেরে উঠবে এবং আপনি এক নতুন, সতেজ জীবন ফিরে পাবেন। শীতের মরসুমে দেখা মেলে এমন একটি সব্জির যার মধ্যেই লুকিয়ে আছে ডায়াবিটিস রোগীদের পথ্য। শিম বাটা থেকে শিম সর্ষে, বাঙালির রান্নাঘরের বহু রান্নাতেই এর অবাধ বিচরণ। কেউ কেউ আবার মাছের ঝোল কিংবা পাঁচমিশালি নিরামিষ ঝোলেও শিম দেন। শিমে রয়েছে নানা ধরনের খনিজ পদার্থ। ক্যালশিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম এবং জিঙ্কের মতো বহু খনিজে ভরপুর শিম। তার সঙ্গেই রয়েছে ফাইবার ও প্রোটিন। ফলে নিয়মিত শিম খেলে নানা দিক থেকে উপকার হয় শরীরের। যে হেতু শিমে প্রোটিন এবং ফাইবার বেশি, তাই এগুলি ডায়াবিটিস রোগীদের জন্য দারুন উপকারী হতে পারে। ফাইবার-সমৃদ্ধ খাবার খুব ধীরে ধীরে পাচিত হয়। ফলে এক ধাক্কায় রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ে না। শিমে ডেইডজেইন এবং জেনিস্টেইন নামের ‘ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট’ রয়েছে। এগুলি এমন উপাদান, যা ইনসুলিনের প্রতি কোষের সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে। ফলে ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। ক্যালশিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম এবং জিঙ্কের মতো বহু খনিজে ভরপুর শিম। ক্যালশিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম এবং জিঙ্কের মতো বহু খনিজে ভরপুর শিম। শুধু ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণই নয়, এ ছাড়াও হরেক গুণ রয়েছে শিমের। রোগের প্রতিকার এবং প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ে। প্রচুর পরিমাণ খনিজ পদার্থ থাকায় চুল পড়ার সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। ফাইবার বেশি থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ন্ত্রণে থাকে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে শিম। হার্টের রোগীদের জন্য এই সব্জি খাওয়া ভাল। চোখের স্বাস্থ্য ভাল রাখতেও এই সব্জি নিয়ম করে খাওয়া যেতে পারে।





