Saturday, April 25, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

শোভন সাত বছর পর তৃণমূলে ফিরলেন! শোভন প্রার্থী হবেন কি হবেন-না, প্রশাসনে আরও বড় দায়িত্ব পাবেন

সোম দুপুরে আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবর্তন। তৃণমূল ভবনে পুরনো দলে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। সঙ্গে বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ও। শাসকদলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী এবং রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জোড়াফুলের উত্তরীয় পরিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূলে স্বাগত জানান শোভন-বৈশাখীকে। সাংবাদিক বৈঠকে অরূপ জানান, শোভন এবং বৈশাখী চেয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। তৃণমূল ভবন থেকেই কালীঘাটে অভিষেকের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন শোভন এবং বৈশাখী। আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মযজ্ঞে শামিল হওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন শোভন এবং বৈশাখী। তার পর দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের অনুমোদনক্রমে তাঁদের তৃণমূলে ফেরানো হচ্ছে। শোভন বলেন, ‘‘আমার ধমনী, শিরা সবটাই তৃণমূলের। এটাই আমার ঘর, এটাই আমার সংসার। আমার কাজ হবে দলকে আরও শক্তিশালী করা।’’ অক্টোবরে প্রশাসনে প্রত্যাবর্তন হয়েছিল। নভেম্বর পড়তে না পড়তেই তৃণমূলের কাননে ফিরলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র। ২০১৮ সালে কলকাতার মেয়র পদ এবং রাজ্যের মন্ত্রিসভা ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন শোভন। ২০২১ সালের আগে দিল্লি গিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপি-তেও। কিন্তু পদ্মশিবিরে বেশি দিন থাকতে পারেননি শোভন। মাঝে বেশ কয়েক বার তৃণমূলে ফেরার জল্পনা তৈরি হলেও তা জমাট বাঁধেনি। অবশেষে তৃণমূলে ফিরলেন। গত সেপ্টেম্বরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক হয়েছিল শোভন-বৈশাখীর। সেই সময় থেকেই শোভনের তৃণমূলে ফেরার জল্পনা নতুন করে জল-বাতাস পেতে শুরু করে। তা আরও গাঢ় হয় গত মাসে। দুর্যোগধ্বস্ত উত্তরবঙ্গে ত্রাণ ও পুনর্গঠনের কাজ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময়ে পাহাড়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন শোভন-বৈশাখীও। তখনই দার্জিলিংয়ের রিচমন্ড হিলে মমতার সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল শোভনের। পরের দিনই শোভনকে নিউটাউন কলকাতা উন্নয়ন পর্ষদের এনকেডিএ চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ করে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। বাকি ছিল দলে ফেরা। সোমবার প্রশাসনে শোভনের প্রত্যাবর্তনের পরেই বেহালায় তাঁর অনুগামীরা নতুন করে উজ্জীবিত হয়েছেন। বেহালা পশ্চিম বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় শোভনের ছবি সংবলিত হোর্ডিং ঝুলতে দেখা গিয়েছিল। যা থেকে শাসকদলের অন্দরে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে, বেহালা পশ্চিমে শোভনকে প্রার্থী করতে পারে তৃণমূল। বেহালা পশ্চিমের বর্তমান বিধায়ক পার্থ চট্টোপাধ্যায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জেলবন্দি। এই নভেম্বরে তাঁর জেলমুক্তির সম্ভাবনা থাকলেও তাঁকে তৃণমূল আর ভোটে টিকিট দেবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। সেই সূত্রেই শোভনকে সেখানে প্রার্থী করা হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। শোভন প্রার্থী হবেন কি হবেন-না, প্রশাসনে আরও বড় দায়িত্ব পাবেন কি পাবেন-না, তা ভবিষ্যৎ বলবে। তবে সোমবার তৃণমূলের আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূলে ফিরলেন শোভন। সাত বছর পর!

৪ নভেম্বর মিছিল তৃণমূলের। ৪ নভেম্বর থেকে এনুমারেশন ফর্ম নিয়ে ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে যাবেন বিএলওরা। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার সময়ে রেড রোডে বিআর আম্বেদকরের মূর্তির সামনে কলকাতা সহ জেলার নেতা-কর্মীদের জমায়েত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুপুর আড়াইটে থেকে শুরু হবে মিছিল। আম্বেদকর মূর্তির সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়ে পৌঁছবে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি পর্যন্ত। উল্লেখ্য, শুক্রবার দলের কর্মীদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন অভিষেক। ৪ নভেম্বর থেকেই এক মাস এসআইআর ক্যাম্প চালাবে তৃণমূল। পাশাপাশি, বুথ ভিত্তিক এজেন্ট (বিএলএ)-দের তাঁর নির্দেশ, এনুমারেশন ফর্মের কাজ করার সময় এক মিনিটও বিএলও-দের একা ছাড়া যাবে না। সব সময় ছায়ার মতো তাঁদের সঙ্গে লেগে থাকতে হবে। তৃণমূল সূত্রে খবর, এদিনের বৈঠকে অভিষেক রাজ্য জুড়ে ৬২০০টি ক্যাম্প চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ৪ নভেম্বর থেকে শুরু ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ধাপে ধাপে ক্যাম্পগুলি চালানো হবে। ৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে হেল্পডেস্ক চালু করছে তৃণমূল। সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মোট ৬২০০ হেল্পডেস্ক কাজ করবে। এসআইআর সংক্রান্ত জনতার সমস্ত সমস্যার সমাধান করতে এসব হেল্প ডেস্ক। অভিষেক দলের সব কর্মীদের ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই ছয় মাস আমাদের অ্যাসিড টেস্ট। এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করে সকল ভোটারের নাম তুলতে হবে। কারও নাম যেন বাদ না যায় সেদিকে নজর রাখতে হবে।’ বুথ ভিত্তিক এজেন্টদের উদ্দেশ্যে তাঁর নির্দেশ, এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন বিএলও-দের ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকতে হবে। এক মিনিটও তাঁদের একা ছাড়বেন না। কোনও বিএলও যেন অনৈতিক কাজ না করতে পারেন, তা দেখার দায়িত্ব বিএলএ-দের। দলীয় সূত্রে খবর, দলের সাংসদ এবং বিধায়কদের ওয়ার রুম তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন অভিষেক। ২৯৪টি বিধানসভার প্রতিটিতে একটি করে ওয়ার রুম তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার রুমে ১৫ জন করে থাকবেন। উত্তরের জেলাগুলিতে বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অভিষেক। উল্লেখ্য, বাংলায় এসআইআর বাতিলের দাবিতে আগামী ৫ নভেম্বর থেকে আমরণ অনশন বসছে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘ। মতুয়া সম্প্রদায়ের তরফে আমরণ অনশনের ডাক দিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতা বালা ঠাকুর। তাঁর দাবি, ‘ভারতের নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য যে ১১টি নথির কথা জানানো হয়েছে, তা আমাদের অনেক ভোটারেরই নেই। যাঁরা মৃত ভোটার বা যাঁদের নাম একবারের বেশি তালিকায় রয়েছে তাঁদের নাম বাদ যাক। কিন্তু যাঁরা এত বছর ধরে ভোট দিয়ে আসছেন তাঁদের নাম যেন বাদ না যায়’।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles