Saturday, April 25, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

হরমনপ্রীত কৌররা দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ফাইনালে!‌ মহিলা বিশ্বকাপ জয়ী দল ও রানার্স আপ দল প্রায় ১১৬ কোটি টাকা পাবে?

ফাইনালে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে। রবিবার হরমনপ্রীত কৌররা দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ফাইনালে খেলবে। ফাইনালে প্রথমবার বিশ্বজয়ের লক্ষ্যে নামবে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা আইসিসির মহিলা ও পুরুষ উভয়ের বিশ্বকাপেই জন্য পুরস্কারমূল্যে বড় পরিবর্তন। এবার মোট পুরস্কারের পরিমাণ ১৩.৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থাৎ প্রায় ১১৬ কোটি টাকা ধার্য করা হয়েছে। ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডে আয়োজিত বিশ্বকাপের তুলনায় এই অঙ্কের পরিমাণ ২৯৭ শতাংশ বেশি। তখন মোট পুরস্কারমূল্য ছিল মাত্র ৩.৫ মিলিয়ন ডলার। মহিলা খেলোয়াড়দের এই পুরস্কারমূল্য কিন্তু ২০২৩ সালে ভারতে আয়োজিত পুরুষদের বিশ্বকাপের থেকেও বেশি। প্রাইজ মানি ছিল ১০ মিলিয়ন ডলার। আইসিসি-র এই নীতি জেন্ডার পে-প্যারিটি পলিসির অংশ, যার অধীনে পুরুষ এবং মহিলা খেলোয়াড় উভয়কেই সমান আর্থিক সম্মান দেওয়া হয়। বিশ্বকাপজয়ী দলকে এবার ৪.৪৮ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ প্রায় ৩৯.৭ কোটি টাকা দেওয়া হবে। বিশ্বকাপের রানার-আপ দল পাবে ২.২৪ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ প্রায় ১৯.৮ কোটি টাকা। সেমিফাইনালে হারা অস্ট্রেলিয়ার মতো দলগুলি ১.১২ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ প্রায় ৯.৯ কোটি টাকার পুরস্কার পাবে। এবার ভারত অস্ট্রেলিয়াকে ৩৩৯ রানের রেকর্ড রান তাড়া করে ভারতীয় মহিলা দল ফাইনালে পৌঁছে। ফলে হরমনপ্রীতদের ১৯.৮৪ কোটি টাকা জেতা অন্তত নিশ্চিত।পুরস্কার মূল্যের মাধ্যমে আইসিসি মহিলা ক্রিকেটারদের যথাযোগ্য আর্থিক সম্মান দিতেও তৎপর। এই পরিবর্তনটি মহিলা ক্রিকেটের জন্য একটি মাইলফলক। এখন মহিলা খেলোয়াড়রাও পুরুষ খেলোয়াড়দের সমান আর্থিক সম্মান পেয়ে খেলাধুলায় আরও বেশি উৎসাহিত হবেন বলেই আইসিসির তরফে আশা করা হচ্ছে।

মহিলাদের বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সেই টিকিট নিয়েই শুরু হয়েছে কাড়াকাড়ি। এতটাই খারাপ অবস্থা যে ৩৬ ঘণ্টা লাইন দিয়েও কেউ কেউ টিকিট পাচ্ছেন না। ১৫০ টাকার টিকিটের দাম পৌঁছে গিয়েছে ১.৩০ লক্ষ টাকায়। বোর্ডের উপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সমর্থকেরা। ভারত ফাইনালে ওঠার পর থেকেই টিকিট নিয়ে আগ্রহ শুরু হয়। অফলাইন টিকিটের আশায় প্রচুর সমর্থক ডিওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামে চলে আসেন। অনেকেই ৩৬-৪০ ঘণ্টা লাইন দিয়েছেন। টিকিট ছাড়া হয়নি। টিকিট আদৌ বিক্রি করা হবে কি না সেটাও জানানো হয়নি। ফাইনালের জন্য যে দিন অনলাইন টিকিট ছাড়া হয়েছিল, সে দিনই অনেক টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ভারত ফাইনালে ওঠার পর অনলাইনে টিকিট কাটা নিয়েও উন্মাদনা শুরু হয়। ফাইনালের ২৪ ঘণ্টা আগেও টিকিট বিক্রি শুরু হয়নি। শনিবার বিক্রি শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে টিকিট নিঃশেষ হয়ে যায়। কিছু কিছু ওয়েবসাইটে বিক্রিত টিকিট আবার বিক্রি করা হচ্ছে। সেখানেই ১৫০ টাকার টিকিটের দাম পৌঁছেছে ১.৩০ লক্ষ টাকায়। ভিআইপি বি এলওয়ান বিভাগের একটি টিকিটের দাম দেখাচ্ছে ১,৩৬,১৮৭ টাকা। টিকিট না পেয়ে বোর্ডের উপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অনেক সমর্থক। তাদের দাবি, ভারত ফাইনালে না উঠলে যে মাঠ ভরবে না এটা অনেক আগে থেকেই জানা উচিত ছিল আইসিসি-র। ভারত ফাইনালে ওঠার পর কেন অফলাইনে টিকিট ছাড়া হল না। উল্লেখ্য, ২০২৩ বিশ্বকাপের সময়েও টিকিট নিয়ে কালোবাজারি দেখা গিয়েছিল। বোর্ডের সমালোচনা করেছেন অনেকেই।

২০২৩, ২০২৪ সালের পর ২০২৫। ক্রিকেটের আরও একটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারত। রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলিদের পর এবার হরমনপ্রীত কৌর-স্মৃতি মন্ধানাদের ঘিরে স্বপ্ন দেখছে দেশ। বছর দেড়েক আগে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিলেন রোহিতেরা। এ বার এক দিনের বিশ্বকাপ ট্রফি এবং হরমনপ্রীতদের মাঝেও বাধা সেই প্রোটিয়ারা। হরমনপ্রীত-মন্ধানারা শেষ বাধা টপকাতে পারলে এ দেশের ক্রিকেটে ফিরতে পারে ‘১৯৮৩’। ২০০৫ এবং ২০১৭ সালে ফাইনালে উঠেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি ভারত। দু’বারই অধিনায়ক ছিলেন মিতালি রাজ। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে মিতালির কীর্তি ছুঁয়ে ফেলেছেন হরমনপ্রীত। এ বার তাঁর সামনে পূর্বসূরির ‘রাজ’ ছিনিয়ে নেওয়ার সুযোগ। বিশ্বকাপ শুরুর আগে হরমনপ্রীত বলেছিলেন, এ বার সমর্থকদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে তাঁরা বদ্ধপরিকর। বিশ্বকাপের মাঝে টানা তিন ম্যাচ হারে আশাভঙ্গের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বটে। তবু এক সময় চাপে পড়ে যাওয়া ভারতীয় দলের সামনে প্রতিশ্রুতি রক্ষার সুযোগ। হরমনদের কৃতিত্ব রয়েছে নিশ্চয়ই। ক্রিকেট-দেবতার আশীর্বাদও পেয়েছেন তাঁরা। বৃষ্টিতে নিউ জ়িল্যান্ডের দু’টি ম্যাচ ভেস্তে না গেলে হয়তো শেষ চারে জায়গাই হত না ভারতের। প্রকৃতির মেজাজ এখনও মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। খানিকটা পড়ে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেনি ভারতীয় দল। সেমিফাইনালের আগে চোট পেয়ে ছিটকে গিয়েছেন প্রতিকা রাওয়াল। সাত বারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে কিছুটা চাপে পড়ে গিয়েছিল ভারতীয় শিবির। কিন্তু ঠিক সময়ে সেরা ফর্মে উদয় হয়েছেন জেমাইমা রদ্রিগেজ়। রানে ফিরেছেন অধিনায়ক হরমনপ্রীতও। তাই মন্ধানার রান না পাওয়া বা হঠাৎ দলে ঢোকা শেফালি বর্মার ব্যর্থতা প্রভাব ফেলতে পারেনি।

চ্যাম্পিয়ন দলের চরিত্র এমনই হয়। এক জনের ব্যর্থতা অন্য জন ঢেকে দেন। সেমিফাইনালের পর জেমাইমা বলেছেন, তাঁদের চেনা পিচে কাউকে ‘দিদিগিরি’ করে চলে যেতে দেবেন না। অধিনায়ক বলেছেন, কোচের আস্থার মর্যাদা দিতে চান তাঁরা। ভারতীয় শিবিরের এই জোড়া জেদ ফাইনালের সুর বেঁধে দিতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকা আর যা-ই হোক, অস্ট্রেলিয়া নয়। ফাইনাল হলেও তুলনায় সহজ প্রতিপক্ষ। জোরে বোলারেরা ঠিকমতো বল করতে পারলে আর ফিল্ডিংয়ের ভুল-ত্রুটি শোধরাতে পারলে হরমনপ্রীতদের জয় অসম্ভব নয়। দক্ষিণ আফ্রিকাও নিশ্চিত ভাবে চাইবে ইতিহাস তৈরি করতে। ফাইনালে উঠে এক বার ইতিহাস গড়েছেন লরা উলভার্টরা। জিততে পারলে সেই ইতিহাসই সোনার অক্ষরে লিখে রাখতে পারবেন তাঁরা। ভারতের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান সমস্যা ধারাবাহিকতার অভাব। কোনও ম্যাচে দারুণ ভাল তো পরেরটাতেই অতি সাধারণ। দলটার সাফল্য মূলত নির্ভরশীল চার-পাঁচ জন ক্রিকেটারের উপর। অধিনায়ক উলভার্ট ছাড়া ভারতকে বিপদে ফেলতে পারেন ব্যাটার তাজ়মিন ব্রিটস, অলরাউন্ডার মারিজ়ান কাপ, নাদিন ডি ক্লার্ক এবং স্পিনার ননকুলুলেকো এমলাবা। অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার ক্লো ট্রায়ন দলে থাকলেও খুব ভাল ফর্মে নেই। লিগ পর্বের ম্যাচে প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে রিচা ঘোষ ছাড়া ভারতের কোনও ব্যাটার সুবিধা করতে পারেননি। উলভার্ট, ক্লার্ক, ট্রায়নেরা জিতিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকাকে। তা ছাড়া ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৬৯ এবং অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৯৭ রানে অলআউট হওয়া দল ফাইনালে শেষ কামড় দেওয়ার চেষ্টা করবেই। রবিবারের ফাইনালের আগে আত্মবিশ্বাসী দক্ষিণ আফ্রিকা শিবির। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে জয়ের পর ফুটছে ভারতের সাজঘরও। জয় ছাড়া কিছু ভাবতে চাইছেন না হরমনপ্রীতেরা। ভাববেন কেন? ২০২৪ সাল থেকে দু’দলের ছ’টি ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিই জিতেছেন হরমনপ্রীতেরা।

জেমাইমা রদ্রিগেজ। ফাইনালে সেই জেমাইমাই ভয় দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে।অধিনায়ক লরা উলভার্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জেমাইমার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা তৈরি রাখবেন তাঁরা। পাশাপাশি দু’বছর আগে অস্ট্রেলিয়ায় কায়দায় রবিবার নবি মুম্বইকে চুপ করিয়ে দিতে চান তিনি। জেমাইমার প্রসঙ্গ উঠতেই লরা বলেছেন, “আমরা সবাই দেখেছি জেমাইমা কী ইনিংস খেলেছে। চাপের মুখে ও রকম ইনিংস খেলা সত্যিই অবাক করার মতো। নিশ্চিত ভাবেই ওকে নিয়ে আমাদের বিশেষ পরিকল্পনা থাকবে।”দেশের মাটিতে খেলার সুবাদে ভারতই বেশি চাপে থাকবে বলে মত লরার। তিনি বলেন, “গোটা মাঠ ভারতের পাশে থাকবে। তাই কঠিন ম্যাচ হতে চলেছে। আমাদের কাছে একটা দারুণ সুযোগ ঠিকই। তবে ভারতের কাছে বিরাট চাপের। গোটা দেশ ওদেরকেই বিজয়ী দেখতে চায়। প্রচুর মানুষ থাকবেন মাঠে। আমাদের দলের অনেকেই হয়তো এত মানুষের সামনে খেলেনি। এটা বাড়তি চাপ অবশ্যই।” গ্রুপ পর্বে নাদিন ডি ক্লার্কের ইনিংসের সৌজন্যে ভারতকে হারিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। লরার কথায়, “লিগ ক্রিকেটের থেকে নকআউট সম্পূর্ণ আলাদা। নকআউটে কেউ কেউ বিশেষ ইনিংস খেলে দেয় সেটা জানি। আগের দিন জেমিকেই আপনারা দেখলেন। মনে হয় না গ্রুপের ম্যাচ নিয়ে ভাবার কিছু আছে। আমাদের ভাল ক্রিকেট খেলতে হবে এটাই আসল কথা। ভারত দল হিসাবে দুর্দান্ত। একটা ভাল ম্যাচ খেলে নামছে। তাই ওদের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে থাকবে।” অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ড কেউ এ বার ফাইনালে ওঠেনি। নতুন চ্যাম্পিয়ন পাওয়া যাবে। মহিলাদের ক্রিকেটের জন্য এটা ভাল বলে মনে করেন লরার কথায়, “এতেই বোঝা যাচ্ছে মহিলাদের ক্রিকেট কতটা উন্নতি করছে। অনেক দেশ খেলতে আসছে। অনেক ভাল মানের ক্রিকেটার উঠে আসছে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles