উত্তরাখণ্ডের পর গুজরাট। ইডেনে রঞ্জির দুটো ম্যাচেই সরাসরি জয় তুলে নিল বাংলা। ঘরে প্রথম ম্যাচের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও এল ৬ পয়েন্ট। দুই ম্যাচ খেলে বাংলার পয়েন্ট এখন ১২। বাংলার জয়ের নায়ক মহম্মদ সামি। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৮ রানে নিলেন পাঁচ উইকেট। ম্যাচে আট উইকেট পেলেন সামি। শাহবাজ আহমেদের দ্বিতীয় ইনিংসে শিকার তিনটি। বাংলা প্রথম ইনিংসে তুলেছিল ২৭৯। জবাবে গুজরাট থেকে গিয়েছিল ১৬৭ রানে। ৬ উইকেট নিয়েছিলেন শাহবাজ। ম্যাচে তিনি পেলেন ৯ উইকেট। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলা ২১৪/৮ তুলে ডিক্লেয়ার করে। গুজরাটের জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩২৭। কিন্তু সামির আগুনে বোলিংয়ে গুজরাট থেমে গেল ১৮৫ রানে। বাংলা জিতল ১৪১ রানে। উর্ভিল প্যাটেল অপরাজিত থাকেন ১০৯ রানে। জয়মীত প্যাটেল করেন ৪৫ রান। এছাড়া আর্য দেশাই করেন ১৩। বাকিরা শূন্য বা এক রানে ফিরে গিয়েছেন। উত্তরাখণ্ডের বিরুদ্ধে সামি নিয়েছিলেন ৭ উইকেট। গুজরাটের বিরুদ্ধে পেলেন আট। দুই ম্যাচে ১৫ উইকেট। তবুও জাতীয় দলে উপেক্ষিত থাকছেন বাংলার পেসার। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ানডে বা টি–টোয়েন্টি দলে সুযোগ পাননি। যা নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন সামি। ফের মাঠে দিলেন জবাব। মঙ্গলবার সামি ইনিংসের শুরুতেই ধাক্কা দিয়েছিলেন। প্রথম বলেই অভিষেক দেশাইকে ফেরান সামি। আর্য দেশাইকে ফেরান আকাশদীপ। সপ্তম ওভারে আউট মননও। কিন্তু সেখান থেকে গুজরাটকে টানা শুরু করেন উর্ভিল ও জয়মীত প্যাটেল। দুজনে বড় জুটিও গড়েন। সেখান থেকে বাংলাকে ম্যাচে ফেরান শাহবাজ। তারপর গুজরাট ব্যাটিংকে ধসিয়ে দিলেন সামি।

মহম্মদ সামির বিকল্প পেয়ে গেল বিসিসিআই! জম্মু ও কাশ্মীরের পেসার উমরান মালিক ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে তাঁর গতির জন্য আলোচনায় আসেন একটা সময়। তার পর তিনি ভারতীয় দলে জায়গা করে নেন। তবে কয়েকটি ম্যাচ খেলার পরই তিনি দল থেকে বাদ পড়েন। আবার জম্মু ও কাশ্মীরের আরেক পেসার আকিব নবি চর্চায়। আকিব নবি রাজস্থানের বিরুদ্ধে রনজি ট্রফির ম্যাচে দারুণ বোলিং করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি ১১ ওভার বল করে ৩টি মেডেন-সহ মাত্র ২৪ রান দিয়ে ৭টি উইকেট নেন। ব্যাট হাতে ৫৫ রানের ইনিংসও খেলেন। এর আগেও দলীপ ট্রফিতে আকিব নবি ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। এক ওভারে টানা ৪ বলে ৪টি উইকেট নেন। এমন কৃতিত্ব অর্জন করা তিনি প্রথম বোলার হন। রাজস্থানের বিরুদ্ধে তাঁর বোলিং দেখে সবাই অবাক। উমরান মালিক একটি উইকেটও নিতে পারেননি, সেখানে আকিব নবি ১০টি উইকেট শিকার করেন। প্রথম ইনিংসে ৩টি উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন, মাত্র ২৪ রান দিয়ে ৭টি উইকেট তুলে নেন। ২০২৫-২৬ মরসুমে এটি ছিল তাঁর তৃতীয় “ফাইভ-উইকেট”। ২০২৪ সালের রনজি ট্রফির পর থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ১২টি ম্যাচে আকিব নবি ৬৮টি উইকেট নিয়েছেন, যার মধ্যে ৮ বার পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে। রাজস্থানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ইনিংসে আকিব নবি রাজস্থানের ব্যাটিং লাইনআপ একাই গুঁড়িয়ে দেন। মাত্র ৪১ রানের মধ্যে দলের প্রথম পাঁচ উইকেট পড়ে যায়, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো দল ৮৯ রানে অলআউট হয়ে যায়। এই ইনিংসে নবি বল করেন ৬ ওভার, যার মধ্যে ২টি মেইডেন ছিল। তিনি মাত্র ৫ রান দিয়ে ৫টি উইকেট শিকার করেন। প্রথম ইনিংসে রাজস্থান তুলেছিল ১৫২ রান। জবাবে জম্মু ও কাশ্মীর সংগ্রহ করে ২৮২ রান, যেখানে আকিব নবি খেলেন গুরুত্বপূর্ণ ৫৫ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে হয়নি জম্মু ও কাশ্মীরকে, কারণ তারা ম্যাচটি এক ইনিংস ও ৪১ রানে জিতে নেয়। জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুল্লার বাসিন্দা আকিব নবি বর্তমানে ২৮ বছর বয়সী। তাঁর বাবা একজন স্কুলশিক্ষক, আর আকিব ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ভাল ছিলেন। আকিবকে প্রথমে একটি ট্যালেন্ট হান্ট প্রোগ্রাম-এর মাধ্যমে বাছাই করা হয়েছিল। এর পর তাঁর বাবা-মাও বিশ্বাস করতে শুরু করেন, ছেলে ক্রিকেটে নিজের কেরিয়ার গড়তে পারবে। আকিব যখন খেলা শুরু করেন, তখন তিনি বারামুল্লাতেই থাকতেন এবং কোনও কোচিং নেননি। নিজের মেধা ও পরিশ্রমেই তিনি ধীরে ধীরে এগিয়ে যান এবং আজ জম্মু ও কাশ্মীরের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার হিসেবে পরিচিতি পান। আকিব নবি দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার ডেল স্টেইনকে আদর্শ মানেন। তিনি কোনও প্রাতিষ্ঠানিক কোচিং না পেয়ে স্টেইনের ভিডিও দেখে বোলিং শেখেন। স্টেইনের একনিষ্ঠ ভক্ত আকিব বলেন, তাঁর কাছে স্টেইন একপ্রকার ভার্চুয়াল কোচ—যাঁর ভিডিও থেকেই তিনি নিজের কৌশল শিখেছেন।





