সুপার কাপে মহামেডানের খেলা নিয়ে ডামাডোল তৈরি হয়েছিল। তার ওপর ইনভেস্টর নিয়ে টানাপোড়েন তো চলছেই। তার মধ্যেই মহামেডান স্পোর্টিংকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকী। এদিন তিনি বলেন, ‘ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানের পাশে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে দাঁড়িয়েছিলেন সেভাবে মহামেডানের পাশে দাঁড়াননি। মহামেডান স্পোর্টিংকে ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার মতো ট্রিট করা হচ্ছে’। তিনি দাবি করেন যদি তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয় তিনি মহামেডানের ইনভেস্টরের ব্যবস্থা করবেন। শুধু তাই নয়, কিছুদিন আগে মোহনবাগান সমর্থকদের ওপর যে পুলিশের হামলা ঘটে তার সঙ্গেও রাজনীতির যোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। বলেন, ‘কিছুদিন আগে দর্শকদের পুলিশ দিয়ে পেটানো হয়েছে। কখনও ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে নোংরামি হয়েছে’। ভারতীয় ফুটবল দলে যে বাঙালি দেখা যাচ্ছে না বর্তমানে সেই প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন তিনি। উল্লেখ্য, গত মরশুমে আইএসএলে প্রথম বার খেললেও ফলাফল মোটেই ভাল হয়নি মহামেডানের। মাঝপথে দল ছেড়ে বিদায় নেন হেড কোচ। দায়িত্ব দেওয়া হয় মেহরাজউদ্দিন ওয়াড়ুকে।
প্লেয়ারদের বেতন, ইনভেস্টর চলে যাওয়া সব মিলিয়ে খানিকটা চাপের মধ্যেই রয়েছে কলকাতার অন্যতম ক্লাব। এবারের মরশুমে কলকাতা লিগে অবনমনের মুখ দেখতে হয়েছে মহামেডানকে। কলকাতা লিগে ১৪ বারের চ্যাম্পিয়ন দল এবার অবনমনের মুখ দেখায় ক্ষোভ দেখান সমর্থকরাও। ফলে আগামী বছর লিগের প্রিমিয়ার ডিভিশনে আর খেলতে দেখা যাবে না কলকাতার তিন প্রধানের অন্যতম দলটিকে। অবনমন বাঁচানোর লড়াইয়ে মহামেডান এবং এরিয়ান ছিল। ১২ ম্যাচে মহামেডানের পয়েন্ট হয় ১১। কলকাতা পুলিশকে ১–০ গোলে হারিয়ে অবনমনের লজ্জা থেকে এরিয়ান বাঁচলে মহামেডান পারেনি। এবার সুপার কাপের আগে ইনভেস্টর প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির দ্বারস্থ হন মহামেডান কর্তারা। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের ভরসাও দিয়েছেন। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে ক্লাবের পাশে থেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবারেও তার অন্যথা হবে না। নওশাদের বক্তব্যকে ‘সস্তার প্রচার’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এগুলো সস্তার প্রচার ছাড়া আর কিছু নয়। আমরা এর আগেও বহু সমস্যা নিয়ে দিদির কাছে গিয়েছি। মুখ্যমন্ত্রী আমাদের পাশে থেকেছেন। এবারেও আমরা তাঁর ওপরেই ভরসা রেখেছি। দিদি সমস্যার সমাধান করে দেবেন। একমাত্র দিদিই পারবেন, আর কেউ পারবেন না’।





