ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৭ উইকেটে হারাল ভারত। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট ম্যচে জয়। চতুর্থ ইনিংসে সহজ টার্গেট তাড়া করতে নামা ভারতীয় দলের হয়ে অপরাজিত ৫৮ রান করেন ওপেনার কেএল রাহুল। সাই সুদর্শন ৩৯ রান করে আউট। শুভমন গিল ১৫ বলে ১৩ রান করে আউট।। সুদর্শন এবং গিল, উভয়কেই আউট করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক রস্টন চেজ। এই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন স্পিনার কুলদীপ যাদব। তিনি এই ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে ৮২ রানে ৫ উইকেট তোলেন। ক্যারিবিয়ানদের দ্বিতীয় ইনিংসে কুলদীপ ১০৩ রানে ৩ উইকেট নেন। সিরিজের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন রবীন্দ্র জাদেজা। আগের টেস্টে জাদেজার সেঞ্চুরি ছিল একটি। দুই টেস্ট মিলিয়ে বল হাতে ৮ উইকেট নেন জাদেজা। ভারতের মাটিতে ভারতের বিরুদ্ধে টানা ম্যাচ হারার নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২০১৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৬টি টেস্ট)। দ্বিতীয় স্থানে শ্রীলঙ্কা (১৯৮৬-৯৪, ৬ টেস্ট) এবং নিউজিল্যান্ডও (২০১০-১৬, ৬ টেস্ট)। কোনও একটি দলের বিরুদ্ধে টানা ম্যাচে অপরাজিত থাকার নিরিখে চতুর্থ স্থানে ভারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ২০০২ সাল থেকে এই এখনও পর্যন্ত ২৭টি ম্যাচে ভারত টানা অপরাজিত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। এই তালিকায় শীর্ষ অবশ্য ইংল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৯৩০ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে টানা ৪৭ ম্যাচে অপরাজিত ছিল। কোনও একটি দেশের বিরুদ্ধে টানা টেস্ট সিরিজ জয়ের নিরিখে ভারত শীর্ষে। ২০০২ থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১০টি সিরিজে হারাল ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকাও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৯৯৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে টানা ১০টি সিরিজে হারিয়েছে।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহক শুভমন গিল (২৮৩৯)। ভারতীয়দের মধ্যে অধিনায়ক হয়ে তৃতীয় দ্রুততম ১০০০ রানে পৌঁছলেন গিল। ভারতীয়দের মধ্যে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির (১০) নজির এখন শুভমন গিলের। একবছরে অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির (৫) মালিকও গিল। ভারতের মাটিতে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম ইনিংসেই হাফ সেঞ্চুরি করেন গিল, দীর্ঘ ৪৭ বছর পর আবার। টেস্ট ক্রিকেটে ছক্কার নিরিখে ধোনিকে (৭৮) ছাড়িয়ে গেলেন জাদেজা (৮০)। তালিকায় এখনও চতুর্থ স্থানে আছেন জাদু। এই শতাব্দীতে যশস্বী প্রথম ক্রিকেটার যিনি ২৩ বছর বয়সে টেস্টে পাঁচটি ১৫০ বা তার বেশি রানের ইনিংস খেলেছেন। এই তালিকায় সার্বিক ভাবে দ্বিতীয়স্থানে আছেন জয়সওয়াল। শীর্ষে ব্র্যাডম্যান। এদিকে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ভারতের প্রথম পাঁচটি জুটিতেই ৫০ বা তার বেশি রান হয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দীর্ঘ প্রায় ৬৫ বছর পর এই ঘটনা ঘটল।
টেস্ট সিরিজ়ে ২-০ ব্যবধানে জয় এলেও দ্বিতীয় টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের লড়াইয়ের প্রশংসা করলেন গৌতম গম্ভীর। ভারতীয় দলের কোচের মতে, ক্রিকেটের স্বার্থেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসা প্রয়োজন। ম্যাচের পর রোস্টন চেজেদের সাজঘরে গিয়ে তাঁদের উৎসাহিত করলেন গম্ভীর। খেলা শেষ হওয়ার পর সাজঘরের দরজা বন্ধ করে বসেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ক্রিকেটারেরা। দরজা খুলে নিজেই প্রতিপক্ষের সাজঘরে ঢুকে যান গম্ভীর। দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটারদের হতাশা। তাঁদের প্রাথমিক জড়তা কাটার পর কথা বলেন গম্ভীর। তিনি বলেন, ‘‘দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে তোমরা যে ভাবে লড়াই করেছ, সেটা সত্যিই প্রশংসার। তোমাদের ১১জন ক্রিকেটারই লড়াই করেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে এমন লড়াই। দেখো, ক্রিকেট দলগত খেলা। এমন খেলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, সকলের প্রতিটি অবদান প্রশংসিত হওয়া। কেউ সেঞ্চুরি করলে বা ৫ উইকেট নিলে, তাকে নিয়ে মাতামাতি হওয়া স্বাভাবিক। সেটাই হয় সাধারণত। কিন্তু তাদের পাশে দলের কোচ বা অন্য সাপোর্ট স্টাফদের দাঁড়ানোর প্রয়োজন হয় না। কিন্তু অনেক ছোট ছোট অবদান একটা দলকে গড়ে তোলে। বড় অবদানগুলো নিয়ে হয়তো আলোচনা হয়, সেগুলো শিরোনাম হয়, কিন্তু দল তৈরি হয় সকলের ছোট ছোট অবদানগুলো মিলিয়ে। শেষে তোমাদের একটা কথা বলতে চাই। আমি বিশ্বাস করি ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিশ্ব ক্রিকেটকে প্রয়োজন নেই। কিন্তু বিশ্ব ক্রিকেটের প্রয়োজন রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে। এই কথাটা তোমরা মনে রাখবে। একটা ক্রিকেট জাতির ভিত্তিই হল শক্তিশালী টেস্ট দল। তোমরা টেস্টের জার্সি যখনই পরবে, তখনই মনে করবে দেশের জন্য কিছু একটা করার সুযোগ রয়েছে। যারা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলে, তারা এমন সুযোগ খুবই কম পায়।’’ ভারতীয় দলের কোচের বক্তব্য সমাজমাধ্যমে ক্রিকেটপ্রেমীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই। সিঙ্গাপুরের কাছে হার ভারতের, এশিয়ান কাপে যোগ্যতা অর্জনের পথ আরও কঠিন হল সুনীলদের ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের প্রথম সারির অধিকাংশ ক্রিকেটারই এখন টেস্ট খেলেন না। তাঁরা শুধু সাদা বলের ক্রিকেট খেলেন। বিশেষ করে ২০ ওভারের ক্রিকেট। বিভিন্ন দেশের টি-টোয়েন্টি লিগ খেলেন তাঁরা। মূলত বেশি রোজগারের জন্যই টেস্ট ক্রিকেট খেলতে চান না তাঁরা। ফলে দিন দিন দুর্বল হয়ে যাচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের টেস্ট দল। চেজ, সাই হোপ, তেজনারাইন চন্দ্রপল, জন ক্যাম্পবেল, অ্যান্ডারসন ফিলিপ, জেডেন সিলসের মতো যাঁরা এখনও টেস্ট খেলছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের হয়ে, তাঁদের উৎসাহিত করেন গম্ভীর।





