Sunday, April 26, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

মানুষের সাহায্যার্থে হাত বাড়িয়ে দিলেন মহারাজ!‌ উত্তরবঙ্গের বন্যা দুর্গত মানুষদের পাশে দাঁড়ালেন সৌরভ গাঙ্গুলি

আরও একবার মানুষের সাহায্যার্থে হাত বাড়িয়ে দিলেন সৌরভ গাঙ্গুলি। উত্তরবঙ্গের বন্যা দুর্গত মানুষদের পাশে দাঁড়ালেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। বন্যা বিধ্বস্তদের জন্য ত্রাণ সামগ্রী পাঠালেন মহারাজ। ইসকনের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গে ক্ষতিগ্রস্থ বিভিন্ন জায়গায় খাদ্য সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সৌরভ গাঙ্গুলি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ইসকনের হাতে যাবতীয় খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার থেকে সেই ত্রাণ চালু হয়ে যাবে। প্রতিদিন ২৫০০ জনের জন্য থাকবে খাদ্য সামগ্রী। তারমধ্যে থাকবে চাল, ডাল, সবজি সহ বিভিন্ন শুকনো খাবার। প্রাথমিকভাবে দশ দিনের জন্য ত্রাণ পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে সেটা আরও বাড়তে পারে। সৌরভ বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের লোকজন কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এই সময় তাঁদের পাশে দাঁড়ানো দরকার। আমি সব সময় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি।’ এদিন একটি অনুষ্ঠানে গিয়েও সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে উত্তরবঙ্গের বন্যা দুর্গতদের পাশে থাকার অনুরোধ জানান। এর আগেও বেশ কয়েকবার দুস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়ান সৌরভ। নিজের ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সাহায্য করেন। অতীতে করোনার সময়ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সৌরভ। সেবারও ইসকনের মাধ্যমে ত্রাণ পৌঁছে দেন। কোভিডের সময় বিভিন্ন ত্রাণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সৌরভ। একাধিক সংস্থার সঙ্গে মিলে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। একটি চাল বিক্রেতা সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ৫০ লক্ষ টাকার চাল বিনামূল্যে বিতরণ করেন। এছাড়াও বেলুড় মঠে গিয়ে চাল দান করেন সৌরভ। করোনার সময়ও ইসকনের মাধ্যমে মানুষকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেন। কলকাতার ইসকনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে প্রতিদিন ২০,০০০ মানুষকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেন। আগে ১০,০০০ জনের খাবারের বন্দোবস্ত করত ইসকন। সৌরভের সহায়তায় সেটা বেড়ে হয়েছিল দ্বিগুণ। ত্রাণের পাশাপাশি চিকিৎসা পরিষেবাতেও সাহায্য করেন। কোভিড রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে ইডেন গার্ডেন্সের ইন্ডোর এবং ক্রিকেটারদের ডরমেটরি ব্যবহারের প্রস্তাব দেন রাজ্য সরকারকে। এছাড়াও সৌরভ গাঙ্গুলি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কোভিড যোদ্ধাদের সাহায্য করেন। ব্যক্তিগতভাবেও বিভিন্ন সময় দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ান। এবার আরও একবার প্রকাশ্যে এল সৌরভের মানবিক দিক।

একজন স্পোর্টসস্টারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ফিটনেস। এখন ক্রিকেট ম্যাচের সংখ্যা বেড়েছে, সমানতালে চলে তিন ফর্ম্যাটের ক্রিকেট, সঙ্গে রয়েছে আইপিএল। ফলে প্লেয়ারদের কাছে কঠিন হয়েছে ফিটনেস ধরে রাখা। ডায়েট ঠিকমতো না করলে সমস্যা হয়। তাই ঠাসা সূচি, কড়া ডায়েট, অনুশীলন মেনে চলতে হয় তাঁদের। কিন্তু এই ছবিটা কয়েক বছর আগেও ছিল না। প্লেয়াররা দেশ বা বিদেশ খেলতে গেলে জমিয়ে খেতেন।বিশেষ করে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সময়ে। এক সাক্ষাৎকারে নিজের সেই সময়কার কথা তুলে ধরলেন সৌরভ। কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সৌরভ তাঁর ক্রিকেটীয় জীবনের ফিটনেস, ডায়েটের কথা তুলে ধরলেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, অধিনায়ক থাকার সময় কোনটা সামলানো ছিল, দল না খিদে? সৌরভের কথায়, ‘আমার সময়ে প্রত্যেকেই খাদ্যরসিক ছিলেন। ফলে খাওয়া চলতেই থাকত। ম্যাচের সময়ে দল ও খিদে দুটোকেই সামলানো কঠিন ছিল। টেস্টের সময়ে সকালে উঠে খেলতে গিয়ে ১০টার সময় লাঞ্চ করতাম। যদি ফিল্ডিং থাকত, আর ম্যাথু হেডেন ব্যাটিং করত, তা হলে সবাইকে খুব দৌড় করাত আর খুব খিদে পেত। আমরা যদি দক্ষিণ ভারত বা উত্তর ভারতে খেলতাম তা হলে লাঞ্চটা দারুণ হতো।’ হরভজন সিং, অজিত আগরকর, জ়াহির খান, যুবরাজ সিংয়ের সময়ে টিমের সকলের বয়স প্রায় একই ছিল। সেই কারণে খাবারের দিকে সেই টিমটা ছিল এগিয়ে। সকলের বয়স ২১, ২২ এর মধ্যে ২৩ ছিল। সৌরভ বলেন, ‘সেই সময়টা ভালো ছিল, কারণ খাওয়া নিয়ে ভাবতে হতো না। ২৩ বছর বয়সে ডায়াবেটিস নিয়ে ভাবতাম না। সেই সময় সবই সুগার ছিল।’ তাঁর টিমে হরভজন সিং, অজিত আগরকর ছিলেন বাকিদের থেকে স্লিম এবং ফিট। এখনও ভাজ্জি ও আগরকর সেই ফিজ়িক্স ধরে রেখেছেন। সৌরভের টিমের মেনুতে কী থাকত সেটাও জানান তিনি। বলেন, ‘টানা আট মাস খেলতে হতো। সেই সময় ফ্যাট পার্সেন্ট নিয়ে ভাবতে হতো না। তাই বাটার চিকেন, বিরিয়ানি, কাঁকড়া, চিংড়ি খাওয়ার পরেও আমাদের ফ্যাট নিয়ে ভাবতে হতো না।’ গ্রেগ চ্যাপেলের আমলে ২০০৫ সালে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর ২০০৬ সালে সৌরভ যখন ফেরেন সেই সময়ে তিনি পুরো বদলে ফেলেছিলেন নিজেকে। এর নেপথ্যে ছিল প্রতিদিন ইডেনে ২০ পাক দৌড় আর কলা। সৌরভ জানান, কলা তাঁর লাকি ফুড। ড্রেসিংরুমে বিভিন্ন ফলের সঙ্গে কলাটা মাস্ট ছিল।

২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপের জন্য রোহিত শর্মা এখন নতুন লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন। বয়স ৩৮ হলেও তাঁর লড়াই থেমে নেই। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়ার পর এখন একমাত্র ৫০ ওভারের ফর্ম্যাটেই তিনি মন দিচ্ছেন। কিন্তু মাত্র এক ফর্ম্যাটে খেলে ম্যাচ ফিট থাকা কতটা সম্ভব? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে ভারতীয় ক্রিকেট মহলে। এই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর মতে, শুধু ফিট থাকা নয়, রোহিতকে ধারাবাহিক পারফর্ম করতেই হবে। আর তার জন্য ঘরোয়া ক্রিকেটই হতে পারে সেরা প্রস্তুতি মঞ্চ। রোহিত শর্মা কি সত্যিই ৪০ বছর বয়সে ২০২৭ সালের বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন? উত্তরে দাদা বলেন, “৪০ বছর বয়স কোনও ক্রিকেটারের জন্য সহজ নয়। রোহিত খেলবে কি না, সেটা নির্ভর করবে কতটা ক্রিকেট খেলছে আর কতটা রান করছে তার উপর। মাত্র এক ফর্ম্যাটে খেলা সবসময় কঠিন। যদিও আইপিএল খেলবে, সেটা দুই মাসের ব্যাপার। তাই শুধু ফিটনেস ধরে রাখলেই হবে না, টাচ বজায় রাখতে হলে টানা ক্রিকেট খেলতে হবে। আমার মতে, রোহিত আর বিরাট দুজনকেই ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে হবে। ক্রিকেট এমন একটা খেলা যেখানে নিয়মিত অনুশীলন ও ম্যাচ প্র্যাকটিস ছাড়া টাইমিং ধরে রাখা যায় না।” সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই রোহিতকে পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনিও এক সময় জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করে কামব্যাক করেছিলেন। তাঁর সেই অধ্যায় আজও ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে অনুপ্রেরণা হিসেবে ধরা হয়। রোহিত শর্মার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি ভিন্ন নয়। ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সফল অধিনায়ক হিসেবে রোহিত এখন নতুন করে ফিটনেসে মন দিচ্ছেন। সম্প্রতি তাঁর ওজন কমিয়ে ফেলা নতুন ফটো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। মুম্বইতে তাঁকে টানা নেটে অনুশীলন করতে দেখা গিয়েছে। এই দৃশ্য দেখে বোঝা যায়, তিনি ২০২৭ সালের লক্ষ্যে কতটা সিরিয়াস। সৌরভ বলেন, “ক্রিকেট এমন এক খেলা, যেখানে টানা খেলতে হয়। কিছুদিন খেলা বন্ধ থাকলেই টাইমিং হারিয়ে যায়, ম্যাচ ফিটনেস কমে যায়। ঘরোয়া ক্রিকেটই সেই জায়গা যেখানে নিজেকে বারবার প্রমাণ করা যায়।” রোহিতের কামব্যাক তাই কেবল তাঁর ফিটনেস নয়, বরং তাঁর মনোবল ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের উপর নির্ভর করছে। সামনে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে আবার জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যাবে তাঁকে। প্রায় সাত মাস পর ফিরছেন মাঠে। বিরাট কোহলি আপাতত বিদেশে থাকায় তাঁর অনুশীলনের ছবি না মিললেও, রোহিতের ট্রেনিং ভিডিও এখন ক্রিকেট মহলে আলোচনার কেন্দ্রে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোহিত যদি আগামী দুই বছর নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে যান—রনজি ট্রফি বা বিজয় হাজারে ট্রফিতে ব্যাট হাতে নামেন, তাহলে তাঁর ম্যাচ ফিটনেস ও ফর্ম দুটোই ধরে রাখা সম্ভব হবে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের পরামর্শ তাই শুধু এক প্রাক্তন অধিনায়কের কথা নয়, বরং এক অভিজ্ঞ ক্রিকেট মস্তিষ্কের বাস্তব দিকনির্দেশ। রোহিতের সামনে লক্ষ্য স্পষ্ট ২০২৭ বিশ্বকাপে নেতৃত্ব বা অংশগ্রহণ। আর সেই পথের প্রথম ধাপ হয়তো শুরু হবে ঘরোয়া ক্রিকেটের ২২ গজেই।

শুভমন গিলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সৌরভ বলেন, ‘ইংল্যান্ড সফরের শুভমন অসাধারণ অধিনায়কত্ব করেছে বলেই মনে করি। আমি ৫ টেস্টের সিরিজ দেখেছি। ও যেভাবে খেলেছে এবং যেভাবে দলের নেতৃত্ব দিয়েছে তা অসাধারণ। এজন্যই তাকে ভবিষ্যতের কথা ভেবে ওডিআই দলের অধিনায়ক করা হয়েছে। খেলোয়াড় এবং অধিনায়ক উভয় হিসেবেই তার মধ্যে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে।’ ইংল্যান্ডে পাঁচ টেস্টে গিল ৪ সেঞ্চুরি-সহ ৭৫৪ রান করেছিলেন। ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যে টেস্ট সিরিজে যে কোনও ব্যাটারের পক্ষে যা সর্বাধিক রান। ১৯৯০ সালে গ্রাহাম গুচের ৭৫২ রানকে ছাপিয়ে গিয়েছেন গিল। ১৯৭৮-৭৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সুনীল গাভাসকরের ৭৩২ রানের রেকর্ডও ভেঙে দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles