Saturday, April 25, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

প্রলয়ের পর স্বস্তির আগমন!‌ সোম সকালে দার্জিলিং থেকে দেখা গেল কাঞ্চনজঙ্ঘা!‌

বিপর্যয়ের মেঘ কাটিয়ে রোদ উঠল উত্তরবঙ্গে। রবিবার প্রকৃতির রুদ্র রূপ চাক্ষুষ করার পরে আজ উত্তরবঙ্গ অনেকটাই শান্ত। তবে রবিবার যে তাণ্ডব চলেছে, তার সঙ্গে লড়তে হচ্ছে এখনও। আপাতত যা খবর, তাতে উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮। প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। ভেঙে গিয়েছে সেতু। নেমেছে ধস। তারইমধ্যে রবিবার যে একাধিক রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তার কয়েকটি খুলে দেওয়া হয়েছে। রিশপে থাকা নীলাঞ্জনা ধর জানিয়েছেন, আজ সকালে একেবারে ঝলমলে রোজ উঠেছে। রবিবার ভোরের পর থেকে বৃষ্টি হয়নি। এমনকী আজ সকালে একেবারে ঝকঝকে অবস্থায় দেখা গিয়েছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। সীমানায় থাকা মধুরিমা চক্রবর্তী জানিয়েছেন, আকাশ পরিষ্কার আছে। তাছাড়াও কালিম্পঙের লুংচুংয়ের মতো জায়গায় থাকা পর্যটকরাও জানিয়েছেন যে আজ আকাশ পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। ১৫৪৬৭ শিলিগুড়ি-বামনহাট ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, ৭৫৭৪১ শিলিগুড়ি-ধুবরি ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, ৭৫৭২৫ শিলিগুড়ি- নিউ বঙ্গাইগাঁও ডেমু, ৭৫৭১৩ শিলিগুড়ি-বামনহাট ডেমু, ১৫৭৬৭ শিলিগুড়ি- আলিপুরদুয়ার ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, ১৫৭৭৭ নিউ জলপাইগুড়ি – আলিপুরদুয়ার ট্যুরিস্ট এক্সপ্রেস, ১৫৭০৩ নিউ জলপাইগুড়ি–বঙ্গাইগাঁও) এক্সপ্রেস, ১৫৪৬৪ শিলিগুড়ি–বালুরঘাট ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস এবং ৫৫৪২২ বালুরঘাট–মালদা টাউন প্যাসেঞ্জার। স্বস্তির বিষয় হল যে আজ কিছুটা বৃষ্টি কমবে উত্তরবঙ্গে। আজ উত্তরবঙ্গের কোনও জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়নি। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদার অনেকাংশে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে। প্রতিটি জেলায় ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিমি বেগে ঝড় উঠবে। তাই হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রবিবার রাতেই ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক খুলে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া হিলকার্ট রোড, পাঙ্খাবাড়ি রোড, দার্জিলিং-কালিম্পং রাস্তা খোলা আছে। ফলে সেইসব রাস্তা দিয়ে ওঠানামা করা যাবে। তবে প্রশাসনের তরফে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে আজ রাস্তায় যানজট হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে রাস্তায় বেরনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বৃষ্টি কমেছে সমতলেও। শিলিগুড়ি-সহ সমতলে সোমবার সকালের দিকে বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা বৃষ্টি হলেও তার পর ধরেছে। আকাশ এখনও মেঘলা। ক্রমে পরিষ্কার হচ্ছে পাহাড়ের আকাশ! ক্রমে পরিষ্কার হচ্ছে পাহাড়ের আকাশ! শিলিগুড়ি-সহ সমতলে সোমবার সকালের দিকে বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা বৃষ্টি হলেও তার পর ধরেছে। আকাশ এখনও মেঘলা। দুর্যোগের রাত কেটে গিয়েছে! শনিবার রাত থেকে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ে চলছে প্রকৃতির তাণ্ডবলীলা। তার রেশ পড়েছে ডুয়ার্স এবং উত্তরের সমতলের জেলাগুলিতেও। সোমবার সকালে সেই ছবিই কিছুটা বদলে গিয়েছে পাহাড়ে। বৃষ্টি থেমেছে। মেঘ সরিয়ে উঁকি দিয়েছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। কোজাগরী পূর্ণিমার সকাল থেকে আর বৃষ্টি হয়নি দার্জিলিং শহরে। শিলিগুড়ি-সহ সমতলে সোমবার সকালের দিকে বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা বৃষ্টি হলেও তার পর ধরেছে। আকাশ এখনও মেঘলা। তবে স্থানীয়দের আশা, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ধীরে ধীরে সরবে মেঘ। সপ্তাহান্তে প্রবল ঝড়বৃষ্টিতে পাহাড়-সহ উত্তরবঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২০ জন। শনিবার থেকে ২৪ ঘণ্টায় ২৬১ মিলিমিটার বর্ষণে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা সাম্প্রতিক কালে দেখা যায়নি বলেই জানাচ্ছেন স্থানীয়েরা। ভারী বৃষ্টির কারণে তিস্তা, তোর্সা, মহানন্দা-সহ উত্তরবঙ্গের সব নদীতে জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। ধসে গিয়েছে বহু রাস্তা। ভেঙেছে সেতু, কালভার্ট। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মিরিক, সুখিয়াপোখরি। সেখানে আটকে পড়েন পর্যটকেরা। বিপর্যস্ত হয় জনজীবন। সোমবার পরিস্থিতি অনেকটাই ভাল হয়েছে সেখানে। দার্জিলিং শহরে বৃষ্টি পুরোপুরি থেমে গিয়েছে। সমাজমাধ্যমে এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয়েরা। সকাল থেকে মেঘ সরে রোদও দেখা দিয়েছে। এমনকি দার্জিলিংয়ে দাঁড়িয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার বরফঢাকা চূড়ার দেখাও মিলেছে। আবহাওয়া পরিষ্কার হওয়ায় পর্যটকেরা পাহাড় থেকে নামতে শুরু করেছেন। পাহাড়ে বহু মানুষ স্বজন হারিয়েছেন। তাঁদের ঘর ভেঙেছে দুর্যোগে। সোমবার সকালে পাহাড়ের আবহাওয়া সেই মানুষগুলোর মনে আশা জাগিয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছিল, সোমবারও উত্তরবঙ্গের আট জেলায় বিক্ষিপ্ত ভাবে ঝড়বৃষ্টি চলবে। তবে আলিপুরদুয়ার ছাড়া কোথাও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই।

দুর্যোগের জেরে বিপর্যস্ত পাহাড়ের বড় অংশ। ধসে রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত। যার জেরে আটকে পড়েছেন বহু পর্যটক। কত জন পর্যটক উত্তরবঙ্গে আটকে পড়েছেন, সেই সংক্রান্ত তথ্য সরকারি ভাবে এখনও পাওয়া না গেলেও, সংখ্যাটা যে খুব কম নয়, তা মানছেন অনেকেই। তাঁদের আপাতত বিভিন্ন পকেট রুট দিয়ে সমতলে নিয়ে আসার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দুধিয়া ব্রিজ ভাঙায় শিলিগুড়ি এবং মিরিকের মধ্যে মূল যে সড়কপথ, তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, মিরিক সৌরেনিতে আটকে পড়া পর্যটকদের নল-পটং-লোহাগড় হয়ে শিলিগুড়িতে পাঠানো হচ্ছে। ধস নামায় শিলিগুড়ি-দার্জিলিং রোহিণী রোড বন্ধ। বিপর্যস্ত হিলকার্ট রোড। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। পাঙ্খাবাড়ি রোড খোলা। খোলা দার্জিলিং থেকে মংপু হয়ে শিলিগুড়ি যাওয়ার রাস্তা। যানবাহন চলাচল করতে পারে মিরিক-পশুপতি-ঘুম-কার্শিয়াঙের রাস্তাতেও। তিস্তা ফুঁসে ওঠায় এবং ধসের কারণে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ। যার জেরে বন্ধ শিলিগুড়ি থেকে সিকিম-কালিম্পঙের সরাসরি যোগাযোগ। খোলা রয়েছে লাভা-গরুবাথানের রাস্তা এবং শিলিগুড়ি-কালিম্পঙের পানবু রোড। যে যে রাস্তা খোলা, সেই সব রাস্তায় স্বাভাবিক ভাবেই যানজট তৈরি হয়েছে। এখনও শতাধিক পর্যটক দার্জিলিং, কালিম্পং থেকে সমতলে নামতে পেরেছেন বলে খবর প্রশাসনিক সূত্রে। বালাসন নদীর উপর দুধিয়ার লোহার সেতুর একাংশ বৃষ্টিতে ভেঙে যায়। এর ফলে শিলিগুড়ি এবং মিরিকের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সৌরেনির কাছে দারাগাঁওয়ে গভীর রাতে ধস নামে। একটি বাড়ি ধসে যায়। আপার দুধিয়া বা ডাম্ফেডার এলাকায় চার থেকে পাঁচটি বাড়ি ধসে গিয়ে জলের তলায় চলে গিয়েছে। বেশ কিছু হোমস্টে ছিল দার্জিলিঙের ওই অংশে। সেগুলোও ভয়ঙ্কর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুধিয়া নদীর একপাশে রয়েছে বিএসএফের ক্যাম্প। সেটাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রবিবার সকালে প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মিরিক অঞ্চলে ৯ জন, সুকিয়াপোখরিতে ৭ এবং বিজনবাড়ি এলাকায় এক জনের মৃত্যু হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles