একদিকে পুজো কার্নিভাল! অন্যদিকে দুর্যোগে মৃতদের জন্য ‘শোকমিছিল’। দুই ভিন্ন চিত্র। মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী ও নায়িকাদের সঙ্গে নাচলেন ‘মুনির আলম’ অঙ্কুশ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত বিসর্জনের উদ্যাপন তথা কার্নিভাল। উপস্থিত বাংলা বিনোদন দুনিয়ার তারকারা। এ বছরেও বর্ণময় দুর্গাপুজোর বিসর্জনের শোভাযাত্রা। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি নেতাদের‘সামাজিক-সাংস্কৃতিক’ সংগঠন ‘খোলা হাওয়া’ এই মিছিলের ডাক দিয়েছিল। ২৩ সেপ্টেম্বর জলমগ্ন কলকাতায় ১২ জনের মৃত্যুর জন্য মেয়র ফিরহাদ হাকিমের গ্রেফতারির দাবি তোলা হয়েছে মিছিল থেকে। বেলা সওয়া ৩টে নাগাদ কলেজ স্কোয়্যার থেকে মিছিল শুরু হয়। রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুর সঙ্গে মিছিলে যোগ দেন বিজেপি নেতা অর্জুন সিংহ, তাপস রায়, কেয়া ঘোষ, কৌস্তভ বাগচী, তমোঘ্ন ঘোষেরা। ‘মমতা প্রশাসন ধিক্কার’ লেখা প্ল্যাকার্ড এবং মোমবাতি হাতে নিয়ে মিছিলে পা মেলান তাঁরা। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ ছিল, বিকেল ৫টার মধ্যে কর্মসূচি সেরে ফেলতে হবে। সে কথা মাথায় রেখেই মিছিল শুরু হয়েছিল। ৪টে নাগাদ তা পৌঁছোয় ধর্মতলায়। সেখানেই সংক্ষিপ্ত সভা করে কর্মসূচি শেষ করা হয়। সভামঞ্চে রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা ত্রিপুরা ও মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়ও ছিলেন। তবে শুভেন্দুই ছিলেন প্রধান বক্তা। নিজের ভাষণে তিনি কলকাতার মেয়র ফিরহাদের পাশাপাশি পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মাকেও আক্রমণ করেন। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘ফিরহাদ হাকিম এবং মনোজ বর্মার যৌথ বনাদ্যতায় আমরা ১২জন সহনাগরিককে হারিয়েছি।’’ রাজ্যের প্রশাসন এবং কলকাতা পুরসভার ‘অপদার্থতায়’ গত ২৩ সেপ্টেম্বর শহরে এতগুলি মৃত্যু ঘটেছে বলে শুভেন্দু তোপ দাগেন। তাঁর অভিযোগ, প্রত্যেক মৃত্যুর জন্য দায়ী মেয়র এবং তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতার করার দাবিও শুভেন্দু তোলেন।
আকাশ মেঘলা থাকলেও, এ বছরেও বিনোদন দুনিয়ার উপস্থিতি। রুপোলি পর্দা থেকে এ বছরের নায়ক থেকে খলনায়ক, নায়িকারা প্রত্যেকে দেবী প্রতিমাকে বিদায় জানাতে উপস্থিত। রাজ্য সরকারের রেড রোড কার্নিভাল। অনুষ্ঠানে তাঁর নৃত্যপ্রশিক্ষণ কেন্দ্র ‘দীক্ষা মঞ্জরী’র শিক্ষার্থীদের নিয়ে যোগ দেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের স্ত্রী এবং ওড়িশি নৃত্যশিল্পী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর নাচ দিয়েই সূচনা হয় অনুষ্ঠানের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ও সুর করা গানে নৃত্যপরিবেশন করেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই দিন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তারকা রাজনীতিবিদরা। ছিলেন জুন মালিয়া, লাভলি মৈত্র, সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্রীতমা ভট্টাচার্যরা। ভরত কল, সৌমীতৃষা কুণ্ডু, রাজা গোস্বামী, রিমঝিম মিত্র, পায়েল দেব, দিব্যজ্যোতি দত্ত আরও অনেকে। ছোটপর্দার অভিনেত্রী সুদীপ্তা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁর দলের সঙ্গে কার্নিভালে নাচেন এই দিন। উপস্থিত এই বছরের ‘মুনির আলম’ তথা অঙ্কুশ হাজরাও। উপস্থিত ঐন্দ্রিলা সেন, সোহম চক্রবর্তী, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, রিয়া সেন, রাইমা সেন, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। ‘ভবানী পাঠক’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তিনি ঘিয়েরঙা পাঞ্জাবি আর একই রঙের ধোতি প্যান্টে ঝকঝকে। বডিগার্ড পুলিশ লাইন্সের পুজোর ট্যাবলোর সঙ্গে নাচেন অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। শ্রাবন্তীর সঙ্গে বলিউডের প্রাক্তন অভিনেত্রী মিনাক্ষী শেষাদ্রীও নাচেন। ২০১৬-য় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবনা এবং উদ্যোগে দেবী দুর্গার বিসর্জনের এই বিশেষ শোভাযাত্রার আয়োজন। কলকাতার দুর্যোগ এবং তার জেরে ঘটে যাওয়া মৃত্যু প্রসঙ্গে অবশ্য শুভেন্দু রবিবার সীমাবদ্ধ থাকেননি। শনিবার বিকেল থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত ভয়াবহ বৃষ্টির জেরে দার্জিলিং-সহ উত্তরবঙ্গে যে বিপর্যয় তৈরি হয়েছে, সে প্রসঙ্গও টেনে আনেন। মুখ্যমন্ত্রী কেন রবিবারই দার্জিলিং রওনা হলেন না, কেন বিসর্জনের কার্নিভালে যোগ দিতে কলকাতায় রয়ে গেলেন, তা নিয়ে শুভেন্দু প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, উত্তরবঙ্গে সকাল থেকে উদ্ধারকাজে নেমে পড়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা এনডিআরএফ, আইটিবিপি এবং সেনা। যে এলাকায় বিপর্যয় ঘটেছে, সেখানে উদ্ধারকাজ চালানোর মতো সক্ষমতা রাজ্যের নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার পরেই মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বলেন, ‘‘গ্রামের পর গ্রাম ভেসে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর ইনি কী বলছেন দেখুন! বলছেন, আগে কার্নিভাল। পরে উত্তরবঙ্গ। এই হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী!’’





