ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আহমেদাবাদ টেস্টে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করলেন কেএল রাহুল। অ্যান্ডারসন-তেন্ডুলকার ট্রফির দুর্দান্ত ফর্ম হোম সিরিজেও বজায় রাখলেন অভিজ্ঞ এই ওপেনার। তবে মধ্যাহ্নভোজের পর খেলা শুরু হলে প্রথম ওভারেই আউট হন তিনি। টেস্টে দ্বিতীয় দিনে মধ্যাহ্নভোজের পরে এখনও পর্যন্ত ৫৭ রানে এগিয়ে ভারত। এদিকে কেল রাহুল ছাড়াও আজ শুভমন গিল হাফসেঞ্চুরি করেন। সদ্য সমাপ্ত এশিয়া কাপে সেভাবে ফর্মে ছিলেন না গিল। তবে দেশের মাটিতে ফিরে টেস্টের ফর্ম ধরে রাখার ইঙ্গিত দিলেন। এর আগে ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট সিরিজে ৭০০-র ওপর রান করেছিলেন। রাহুল গত ৯ বছরে এই প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করলেন দেশের মাটিতে। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের ১১তম টেস্ট সেঞ্চুরি। তবে ঘরের মাটিতে এটি তাঁর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি। লোকেশ রাহুলের দুর্দান্ত ইনিংসের জন্য ভারত দ্বিতীয় দিনের মধ্যাহ্নভোজ পর্যন্ত ৩ উইকেট হারিয়ে ২১৮ রানে দাঁড়িয়ে ছিল। মধ্যাহ্নভোজের সময়, প্রথম ইনিংসের ভিত্তিতে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তার লিড ছিল ৫৬ রান। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে কেএল রাহুল অপরাজিত ১০০ রানে ছিলেন। লাঞ্চের পর নিজের স্কোরের সঙ্গে আর কোনও রান যোগ না করেই সাজঘরে ফেরেন তিনি। এদিকে তাঁর সঙ্গে ক্রিজে থাকা ধ্রুব জুরেল ১৫ রান করে অপরাজিত। শুক্রবার সকালে ভারত দুই উইকেটে ১২১ রানে খেলা শুরু করেছিল। দ্বিতীয় দিনে প্রথম সেশনে অধিনায়ক গিল আউট হ রিভার্স সুইপ মারতে গিয়ে। তিনি ১০০ বলে ৫০ রান করে রোস্টন চেজের শিকার হয়েছিলেন। এরপরই ব্যাটিংয়ে আসেন ধ্রুব জুরেল। কেএল রাহুল এবং জুরেল ৩০ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। মধ্যাহ্নভোজের ২ ওভারের আগে, কেএল রাহুল ১৯০ বলে তাঁর সেঞ্চুরি পূরণ করেছিলেন। এই ইনিংসে তিনি ১২টি চার মেরেছিলেন। এর প্রায় ৯ বছর আগে, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে চেন্নাইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সেঞ্চুরি (১৯৯) করেছিলেন রাহুল। দেশের মাটিতে এটা দ্বিতীয় টেস্ট শতরান রাহুলের। সব মিলিয়ে টেস্টে ১১ নম্বর শতরান করলেন তিনি। ২০১৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর চেন্নাইয়ে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট শতরান করেছিলেন রাহুল। সেই ইনিংসে করেন ১৯৯ রান। তার পর দীর্ঘ ৮ বছর ৯ মাসের বেশি সময় দেশের মাঠে কোনও টেস্টে শতরান করতে পারেননি। সব মিলিয়ে ৩১৯৯ দিন পর দেশের মাটিতে টেস্ট শতরান করলেন। চলতি বছরের শুরু থেকেই দারুণ ফর্মে রয়েছেন রাহুল। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। গোটা টুর্নামেন্টেই ব্যাট হাতে বেশ ভাল পারফর্ম করেছিলেন। আইপিএলেও নতুন দলে অনবদ্য ব্যাটিং করেন। তারপর ইংল্যান্ড সফর। পাঁচটি টেস্টে ৫৩২ রান করেন কর্নাটকি ব্যাটার। ২০০৩ সালের পর এই প্রথম কোনও ওপেনার ইংল্যান্ড সফরে গিয়ে এত রান করেছেন। তবে আইপিএলে ভাল খেললেও এশিয়া কাপের দলে রাহুলের সুযোগ হয়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজের আগে থেকেই অবশ্য রাহুলের ফর্ম ভাল। অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বেসরকারি টেস্টের তৃতীয় দিন চোট পেয়ে ফিজিওর সঙ্গে মাঠ ছেড়েছিলেন। তাঁর চোট সংশয়ে রেখেছিল ভারতীয় সমর্থকদের। কিন্তু চতুর্থ দিনে মাঠে নেমে ১৭৬ রানের অনবদ্য ইনিংস আসে রাহুলের ব্যাট থেকে। সেই ফর্ম জাতীয় দলের জার্সিতেও ধরে রাখলেন তিনি। ১৯০ বলে সেঞ্চুরি হাঁকান তারকা ব্যাটার। ১২টি বাউন্ডারি দিয়ে ইনিংস সাজিয়েছেন রাহুল। শতরান পূরণ করে মুখে আঙুল দিয়ে বিশেষ সেলিব্রেশনে মেতে ওঠেন। সম্ভবত নিজের শিশুকন্যাকে উৎসর্গ করে এই সেলিব্রেশন।

রবিবার পাকিস্তানের মুখোমুখি। ফুরফুরে ভারত! রিঙ্কু-কুলদীপের ‘বিস্কুট’ ভিডিয়ো নিয়ে মজা বাংলার রিচা ঘো্যের। রবিবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের ম্যাচ ভারতীয় মহিলা দলের। তার আগে হালকা মেজাজে রয়েছে হরমনপ্রীত কৌরেরা। কলম্বো যাওয়ার পথে বিমানবন্দরেও রসিকতায় মাতেন। শ্রীলঙ্কাকে ৫৯ রানে হারিয়ে এক দিনের বিশ্বকাপ শুরু করেছে ভারত। প্রথম ম্যাচে সহজ জয়ের পর ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন হরমনপ্রীত কৌরেরা। গুয়াহাটি ছাড়ার আগে বিমানবন্দরে তাঁদের একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যাতে দেখা যাচ্ছে বাংলার উইকেটরক্ষক-ব্যাটার রিচা ঘোষের রসিকতায় মজেছেন সকলে মিলে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) মহিলা দলের মজার মুহূর্ত ক্রিকেটপ্রেমীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছে। ভারতীয় মহিলা দলের এক সাপোর্ট স্টাফ রিচাকে প্রশ্ন করেন, ‘‘১০ টাকার এক প্যাকেট বিস্কুটের দাম কত?’’ সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া মিমের প্রশ্ন শুনে প্রথমে অবাক হলেও হেসে ফেলেন রিচা। মজার ছলে পাশে বসা এক সতীর্থকে কয়েকটা চাপড় মারেন। তাঁর সঙ্গে হেসে ওঠেন হরমনপ্রীত, হারলিন দেওলেরাও। গোটা ঘটনাটি ভিডিয়ো করেছেন দীপ্তি শর্মা। উল্লেখ্য, এশিয়া কাপের সময় একই রকম ভিডিয়ো করেছিলেন রিঙ্কু সিংহ এবং কুলদীপ যাদব। এক দিনের বিশ্বকাপে ভারতের পরের ম্যাচ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। আগামী রবিবার কলম্বোয় ফতিমা সানাদের মুখোমুখি হবেন হরমনপ্রীতেরা। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে হেরে চাপে রয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে হরমনপ্রীতদের হাত মেলাতে বারন করেছে বিসিসিআই।





