রক্ত থেকে যত দূষিত পদার্থ ছেঁকে মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বার করে কিডনি। কিডনির কর্মক্ষমতা যদি বেশ কিছুটাও কমে যায়, তার প্রভাব পড়তে পারে সমগ্র শরীরে। বিকল হতে পারে অন্য প্রত্যঙ্গও। শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বার করে দেওয়ার প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ভাবে সম্পাদনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ জল দরকার। অতিরিক্ত জল খেলে তা যেমন কিডনির উপর চাপ বাড়াতে পারে, তেমনই ঠিকমতো জল না খেলেও সমস্যা হতে পারে। জল কম খাওয়ার অভ্যাসে কিডনিতে পাথার হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তা ছাড়া রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে, শরীরে তাপমাত্রা ঠিক রাখতেও পর্যাপ্ত জল খাওয়ার দরকার হয়। বয়স, ওজন, কায়িক শ্রম, বিশেষ শারীরিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে কতটা জল খাওয়া দরকার। চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী জানাচ্ছেন, ওজন যদি পাউন্ডে ধরা হয়, তার অর্ধেক আউন্স জলের দরকার একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের জন্য। এই অঙ্কে কারও ওজন ৭০ কেজি হলে তিনি ২.৩ লিটার জল খাবেন। জলের চাহিদা মরসুম, কায়িক শ্রমভেদে ভিন্ন হয়। যিনি পরিশ্রমসাধ্য কাজ করেন, ব্যায়াম করেন তাঁর ক্ষেত্রে ৩৫০ মিলিলিটার অতিরিক্ত জল খাওয়া দরকার। প্রসূতিদের ক্ষেত্রে বাড়তি ৭০০ মিলিলিটার এবং স্তন্যদায়ী মায়েরা অতিরিক্ত ৯৫০ মিলিলিটার জল।। কিডনি ভাল রাখতে কোন পানীয়ে চুমুক দেবেন? কাঠবাদাম, নারকেল, ওট্স দুধ খেতে পারেন কিডনি ভাল রাখতে। গরুর দুধও খাওয়া যায়। তবে প্রাণিজ দুধে থাকা ল্যাক্টোজ় নামক কার্বোহাইড্রেট হজমে সমস্যা থাকলে উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে পাওয়া দুধ খাওয়া ভাল। চিনি কিডনির জন্য মোটেই ভাল নয়। ফল বা খাবারে থাকা প্রাকৃতিক মিষ্টত্ব ক্ষতিকর না হলেও চিনি দেওয়া চা, দুধ ভাল নয়। তুলনামূলক কম মিষ্টি, এমন ফল বেছে নিন। মুসম্বি, বাতাবি, কমলা, যে কোনও রকম লেবুই কিডনির স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য ভাল। লেবুর রস, আপলের স্মুদি, টাটকা সব্জির রস খাওয়া যেতে পারে জলের ঘাটতি মেটাতে।কম নুন দেওয়া ব্রথ: মুরগির মাংস সেদ্ধ করা জল বা সব্জি সেদ্ধ করা জল বা ব্রথও কিডনির স্বাস্থ্য ভাল রাখতে পারে। তবে নুন বা সোডিয়ামের পরিমাণ অবশ্যই কম রাখা দরকার। সোডা, এনার্জি ড্রিঙ্ক, চিনি দেওয়া শরবত, অ্যালকোহল কিডনির পক্ষে ক্ষতিকর। বদলে চিনি ছাড়া ভেষজ চা, ডিটক্স পানীয়ে চুমুক দেওয়া যেতে পারে।
সর্দি-জ্বর। শ্বাসের সমস্যাও হচ্ছে। পরিবেশে দূষণ যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে শ্বাসকষ্টের সমস্যা। রাস্তায় বেরোলে ধুলো-ধোঁয়া, বিষাক্ত গ্যাসের জেরে ফুসফুসের নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে ছোটরাও। বাড়ছে হাঁপানির টান। নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্ট, কাশি, শ্বাস নিতে গেলেই বুকে যন্ত্রণা, রাতে এই সমস্যা উত্তরোত্তর বেড়ে যাওয়া— এই হল হাঁপানির মূল উপসর্গ। হাঁপানির টান উঠলে স্বভাবতই কষ্ট বাড়ে। তাই চিকিৎসকেরা বলেন, ফুসফুসের জোর বাড়াতে। সে জন্য কিছু যোগাসন করা খুব জরুরি। ছোটদের কী কী আসন অভ্যাস করানো যাবে, জেনে রাখুন বাবা-মায়েরা। প্রথমে উপুড় হয়ে ম্যাটের উপর শুতে হবে। দুই হাতের তালু কাঁধের পাশে মাটিতে রাখতে হবে, কনুই থাকবে শরীর ঘেঁষে। এটি শুরুর অবস্থান। এ বার ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে নিতে মাথা ও বুক উপরের দিকে তুলতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, নাভি যেন মাটি থেকে অন্তত ৩ ইঞ্চি উপরে থাকে। ওই ভঙ্গিতে ২০ সেকেন্ড থাকতে হবে। তিন সেট করে রোজ এই আসন অভ্যাস করলে ফুসফুসের জোর বাড়বে। ম্যাটের উপর সোজা হয়ে শুতে হবে। তার পর হাতে ভর দিয়ে কাঁধ মাটি থেকে উপরে তুলতে হবে। দুই হাত থাকবে পাশে। কাঁধ, পিঠ তুলে রাখতে হবে। মাথা পিছনের দিকে হেলে থাকবে। এতে মাথায় চাপ অনুভব হবে। বুক ও কাঁধ টানটান থাকবে। ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে ও ছাড়তে হবে। প্রথমে উপুড় হয়ে শুতে হবে। তার পর হাঁটু ভাজ করে প্রথমে বাঁ পা, তার পর ডান পা পিঠের উপর নিয়ে আসতে হবে। এ বার দুই হাত দিয়ে গোড়ালি চেপে ধরতে হবে। শুরুতে গোড়ালি ধরতে সমস্যা হলে পায়ের আঙুল স্পর্শ করতে হবে। এতে কাঁধ পিছনের দিকে থাকবে, বুক সামনের দিকে প্রসারিত হবে। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে হবে। ৩০ সেকেন্ড করে তিন সেটে করতে হবে এই আসন।
চিকিৎসকেরা বলেন, অম্বল ও গলা-বুক জ্বালার সমস্যা যদি দীর্ঘমেয়াদি হয়ে যায়, তা হলে তাকে আর সাধারণ গ্যাস-অম্বলের সমস্যা বলা যায় না। সেটি হতে পারে ‘জিইআরডি’, অর্থাৎ ‘গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজ়িজ়’-এর লক্ষণ, যাকে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বলা হয়। এরই একটি পর্যায় হল ‘লিভার রিফ্লাক্স’, যখন লিভার থেকে নিঃসৃত পিত্ত খাদ্যনালি হয়ে উপরে উঠে আসতে থাকে। লিভার রিফ্লাক্সকে ‘বাইল রিফ্লাক্স’ বলা হয়। এই সমস্যা অনেকেরই থাকে। লক্ষণ চেনা নেই বলে তার সঠিক চিকিৎসা হয় না। ফলে রোগ ভিতরে ভিতরে বাড়তে থাকে এবং তা থেকে মেটাবলিক সিনড্রোম ও হায়াটাস হার্নিয়ার সমস্যাও হতে পারে। এতে হজমের প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ে, পাকস্থলী ও লিভার থেকে অম্ল রস ক্রমাগত উপরে উঠে আসতে থাকে। এর থেকে আলসারের লক্ষণও দেখা দিতে পারে। বাইল রিফ্লাক্সের লক্ষণগুলি প্রায় অ্যাসিড রিফ্লাক্সের মতোই, তবে কারও কারও ক্ষেত্রে আরও কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন, কিছু খেলে গলা, বুকে জ্বালা হবে। ভাজাভুজি না খেলেও অম্বল হবে। পেট ফাঁপার সমস্যা বাড়বে। সব সময়েই মনে হবে পেট ভার, খিদে কমে যাবে। পিত্তরস খাদ্যনালি দিয়ে গলায় উঠে এলে গলা জ্বালা, গলায় ব্যথা, বমি বমি ভাব হবে। কিছু ক্ষেত্রে কণ্ঠস্বরেরও পরিবর্তন হতে পারে। বাইল রিফ্লাক্সের কারণে আলসার হতে পারে, পেটে ব্যথা, জ্বালাপোড়ার অনুভূতি হবে। ওজন কমে যেতে পারে। ওজন কমানো জরুরি, তার জন্য খাওয়াদাওয়ায় রাশ টানতে হবে। ভাজাভুজি, তেলমশলা দেওয়া খাবার খাওয়া বন্ধ করতে হবে। প্রক্রিয়াজাত কোনও রকম খাবার খাওয়া চলবে না, নরম পানীয়, অ্যালকোহল এড়িয়ে চলতে হবে। অতিরিক্ত ধূমপানও সমস্যা তৈরি করতে পারে। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার ঘণ্টাদুয়েক আগে খাবার খেয়ে নিতে হবে। রাতে গরম দুধ, চা বা কফি খাওয়া চলবে না। লিভার রিফ্লাক্স থেকে হার্নিয়ার সমস্যা হতে পারে, সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে অস্ত্রোপচার করার প্রয়োজন হতে পারে।
ওজন কমাতে সকালের জলখাবারে লুচি-পরোটা বা পাউরুটি বাতিল করে দিয়েছেন অনেকেই। সে জায়গায় ডালিয়া, ওট্স বা নানা রকমের ফল, ড্রাই ফ্রুট্স খাওয়ার চল হয়েছে। মরসুমি যে কোনও ফলই ফাইবার সমৃদ্ধ। ড্রাই ফ্রুট্সেরও উপকারিতা রয়েছে। তবে এমন কিছু পছন্দের ফল ও ড্রাই ফ্রুট্ রয়েছে যেগুলি সকালের জলখাবারে খাওয়া একেবারেই ঠিক নয়। রোজ খেতে থাকলে ওজন তো কমবেই না, উল্টে রক্তচাপ বেড়ে যাবে। রক্তে শর্করার মাত্রাও বৃদ্ধি পাবে। যে সব ফল এড়িয়ে চলা উচিত দুটি ফলে শর্করার পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) তুলনামূলক ভাবে বেশি। সকালে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। সকালের জলখাবারে কলা খাওয়ার অভ্যাস আছে অনেকেরই। তবে তা স্বাস্থ্যের জন্য ঠিক নয়। খুব বেশি পাকা কলায় শর্করার মাত্রা অত্যধিক পরিমাণে থাকে। বেশি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়বে। ডায়াবিটিস রোগীদের জন্য যা একেবারেই ঠিক নয়। তবে, সঠিক পরিমাণে কলা খেলে পটাশিয়াম, ফাইবার এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়, যা শক্তি যোগাতে এবং হজমে সাহায্য করে। আনারসেও শর্করার মাত্রা বেশি থাকে। প্রি-ডায়াবেটিক ও যাঁদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে, তাঁদের সকালে আনারস না খাওয়াই ভাল। তরমুজ, লিচুর মতো ফল একসঙ্গে বেশি খেলে হজমের স যেমন গ্যাস, বদহজম, বা অম্বল হতে পারে। তরমুজ খুব দ্রুত হজম হয়, কারণ এতে জলের পরিমাণ বেশি থাকে। অন্য দিকে, লিচু হজম হতে সময় লাগে। অনেকেই ফ্রুট স্যালাডে নানা রকম ফল মিশিয়ে খান। তাই খেয়াল রাখতে হবে,কিছু ফল একসঙ্গে না খাওয়াই ভাল। কিশমিশ সকালের জলখাবারে না খাওয়াই ভাল। এতে শর্করার মাত্রা বেশি থাকে। শুকনো ডুমুর উপকারী হলেও সকালে না খাওয়াই ভাল। এতে শর্করার মাত্রা বেশি, ফাইবারও বেশি পরিমাণে থাকে। ফলে হজম হতে সময় লাগে। সকালে খেলে রক্তে শর্করা বাড়তে পারে, পাশাপাশি বদহজম হতে পারে। অ্যাপ্রিকট খেতে সুস্বাদু হলেও সকালে খাবেন না। এটি বেশি খেলে গ্যাসের সমস্যা বাড়বে, রক্তচাপ আচমকা বেড়ে যাবে পারে। দুটি মিলের মাঝে খেলে সমস্যা কম হবে। যে সব ফলে সালফারের মাত্রা বেশি সেগুলি সকালে না খাওয়াই ভাল। যেমন কিউই। এই ফল সকালে খেলে শরীরে টক্সিন জমতে পারে। খেজুরে প্রাকৃতিক চিনি এবং ক্যালোরি অনেক বেশি থাকে, যা ডায়াবিটিসের রোগীদের জন্য ক্ষতিকর।





