পুজো এসেই গেল প্রায়। মানুষের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের দিন। দায়িত্ব নিতে হয় শিল্টনকেও। শিল্টন পালের জন্য ২০২৫ সাল। সব পেয়েছির দেশ। মোহনবাগানের ‘বাজপাখি’ এই বছর দ্বিতীয়বার বাবা হয়েছেন। নতুন দায়িত্বে ‘ঘরে’ ফিরেছেন। ‘কৃতজ্ঞতা’ নিয়েই শিল্টন মেতে উঠবেন দুর্গোৎসবে। গত বছর ফুটবলকে বিদায় জানান শিল্টন। সেটাও ছিল পুজোর ঠিক আগের সময়ই। কিছুটা অভিমান ছিল তাতে? এই এক বছরে ছবিটা অনেকটাই বুঝি বদলে গিয়েছে। মোহনবাগানের প্রাক্তন গোলকিপার এখন প্রশাসনিক দায়িত্বে, সবুজ-মেরুনের যুব ফুটবল সচিব পদে। আগস্টের শুরুতে দ্বিতীয়বার বাবা হয়েছেন। তিন থেকে চার হয়েছে শিল্টন-সায়নার পরিবার। সব মিলিয়ে এবারের পুজোটা ‘স্পেশাল’। মোহনবাগানের হয়ে ২০১৫ সালে আই লিগ জয়ী অধিনায়ক শিল্টন পাল জানালেন, “পুজোয় প্রথম দুয়েকদিন আমার কিছু উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আছে। এবার কয়েকটা পুজো পরিক্রমাতে বেরনোরও কথা আছে। এর বাইরে নিজের ব্যবসা আছে, রিসর্ট বা রেস্টুরেন্টে যেতে হয়। অন্যান্য বার নবমী-দশমীতে বন্ধুবান্ধব, পরিবারের সঙ্গে বেরতাম। কলকাতাতেই থাকি, একটু রাতের দিকে ঘুরতে বেরতাম। প্রতি বছর বন্ধুবান্ধব আসে, বাড়িতেই পার্টি হয়। বলা যায়, বাড়িতেই একটা উৎসব হয়। এবারও সেটা হবে। হয়তো আশপাশ একটু ঘুরে দেখলাম। ২০২৫ আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। তার মধ্যে দ্বিতীয়বার বাবা হওয়া আমার কাছে অন্যতম বড় প্রাপ্তি। এর চেয়ে ভালো অনুভূতি আর কী হতে পারে? এই বছরটা আমার কাছে অন্যরকম। তার মধ্যে ব্যবসায় সাফল্য আছে। কিছু নতুন স্টার্ট আপ শুরু করেছি। মোহনবাগানে ফিরে আসা আছে। সব মিলিয়ে ২০২৫-টা স্পেশাল।”

ছোটবেলার পুজো মিস করেন? শিল্টন জানালেন, “আমি তো ১২ বছর বয়স থেকেই বাইরে। টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমিতে ছিলাম। সেখানেও পুজো দেখেছি। দল বেঁধে ঠাকুর দেখতে বেরোতাম। পুজোর ছুটিতে বাড়িতে আসতাম। ছোটবেলার পুজোর থেকে এখনের ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা। আগে মনে হত কোথাও ঘুরতে যাব, কী জামাকাপড় পাব? প্যান্ডেল দেখতে যাব। এখন কী পাব, তার চেয়ে বেশি মনে হয় কী দিতে হবে। ব্যবসার সঙ্গে এতজন কর্মচারী জড়িয়ে। তাদের জন্যও আমার একটা দায়িত্ব আছে। তাঁরাও তো অপেক্ষা করে থাকেন, পুজোটা ভালো কাটবে। তার মধ্যে থেকে সময় বের করা কিন্তু কঠিন কাজ।” সত্যিই শিল্টন এখন ‘বহুরূপে সম্মুখে’। আগে গোলকিপার হিসেবে দলের দুর্গ সামলাতেন। এখন বহু দায়িত্ব একা হাতে সামলান। বাবা, স্বামী, প্রশাসক, অভিনেতা, ব্যবসায়ী- শিল্টন বহু হাতে এখনও ‘গোলকিপিং’ করে চলেছেন।




