RK NEWZ সুবজ সাথী প্রকল্পের নাম বদলে রাখা হচ্ছে ‘সারথী’। বদলে যাচ্ছে ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্পের নাম। এই প্রকল্পের নাম রাখা হচ্ছে ‘কন্যারত্ন’। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এই কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু এই প্রকল্প নয়, সুবজ সাথী প্রকল্পের নাম বদলে রাখা হচ্ছে ‘সারথী’। প্রকল্পগুলি চলবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ছাত্রছাত্রীদের জন্য যা করার তা করা হবে।” ২০১৩ সালে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু করেন। এই প্রকল্পের অধীনে ছাত্রীরা এককালীন ২৫ হাজার টাকা পায়। তিনটি ধাপে এই প্রকল্পের টাকা পাওয়া যায়। ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সি ছাত্রীদের প্রতি বছর ১ হাজার টাকা করে অনুদান পান। দ্বিতীয় ধাপে ছাত্রীর ১৮ বছর পূর্ণ হলে ও অবিবাহিত থাকলে এককালীন ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। তৃতীয় ধাপে অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর স্তরে বিজ্ঞান ও কলা বিভাগের ছাত্রীদের জন্য এই সুবিধা দেওয়া হয়। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছাত্রীদের স্কুলছুট বন্ধ করা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা। এই প্রকল্প আন্তর্জাতিক পুরষ্কারও ছিনিয়ে নিয়ে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, “১৪ আগস্ট যে কন্যাশ্রী দিবস পালন করা হত, তা হবে। তবে নাম বদলে করা হচ্ছে কন্যারত্ন। এ ছাড়াও বদলে যাচ্ছে সবুজ সাথী প্রকল্পের নামও।” অর্থাৎ ছাত্রছাত্রীদের সাইকেল বিতরণের প্রকল্প। নতুন নাম রাখা হচ্ছে সারথী।
গুরুপূর্ণিমার দিন একযোগে বামফ্রন্ট ও তৃণমূলকে বিঁধে জমি জেহাদ ও লাভ জেহাদ রোখার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, কমিউনিস্টরা বিদেশি শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। ৩৫ বছর বিদেশি শক্তির নিয়ন্ত্রণে থেকে রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল তারা। অন্যদিকে, তৃণমূলকে ‘জামাতি’ বলে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “গত ১৫ বছর ধরে গ্রেটার বাংলাদেশ তৈরির স্বপ্ন নিয়ে চলা জামাতিদের আমরা বিদায় করেছি। এবার নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বাংলার নবনির্মাণ হবে।” রবীন্দ্রসদনে গুরুপূর্ণিমা মহোৎসব ও গ্রন্থ প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই অনুষ্ঠানে হিরণ্ময় গোস্বামী মহারাজের ২টি বই প্রকাশিত হয়। এদিন শুভেন্দু জানান, এবারের পরিবর্তন শুধু রাজনৈতিক নয়। সন্ত সমাজ বঙ্গভূমিকে রক্ষা করতে এগিয়ে এসেছেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী ফের একবার অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পক্ষে সওয়াল করেন। রাজ্যে ল্যান্ড জেহাদ, লাভ জেহাদ, জোর করে ধর্ম পরিবর্তন রুখতে ব্যবস্থার আশ্বাস দেন তিনি। শুভেন্দু জানান, বাঙালির প্রকৃত রক্ষাকর্তা গুরুদেব হলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও স্বামী প্রণবানন্দজী। এর পাশাপাশি ঋষি অরবিন্দ ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কেও প্রণাম জানান তিনি। তাঁর কথায়, “গুরু শুধু ব্যক্তি নয়, বিচারধারাও হতে পারে।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, হিরণ্ময় প্রভু অনেক আগে অবিচারের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন। তার জন্য তিনি মারও খেয়েছেন। শুভেন্দুর কথায়, “জটায় হাত দিয়েছে, ধ্বংস তো হবেই। কিচ্ছু ভুলিনি। বিচারও হবে হিসাবও হবে।” মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “বাংলার জনগণ অপশক্তি, মৌলবাদী শক্তি, জামাতি শক্তিকে ডিজে বাজানোর সুযোগ দেননি। তার বদলে ধামসা মাদল, শঙ্খ বাজানোর সুযোগ করে দিয়েছে। এর থেকে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না।” অভিষেকের ডিজে মন্তব্যকে কটাক্ষ করে এদিন শুভেন্দু বলেন, “বাংলার মানুষকে শব্দদূষণ থেকে বাঁচানোর কাজ করেছি।”




