Tuesday, July 28, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

হেডলাইন :‌ ‘পুজোর সময়ও বাইরের খাবার খাই না, তবে ভোগ মিস করি না’

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের জীবন একটি সোপ অপেরার মতো এগিয়ে চলেছে। ৫৩ বছর বয়সী এই বাঙালি মেগাস্টার তিন দশকের ক্যারিয়ারে ৩০০ টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। গ্রামীণ বিনোদনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে আকর্ষণীয় অভিনেতা থেকে শুরু করে স্মার্ট মাল্টিপ্লেক্সের জন্য বিখ্যাত “বুম্বা-দা”, যাকে তিনি তার ভক্তদের কাছে খুব ভালোভাবে পরিচিত, তিনি সম্ভাব্য সকল সিনেমা জগতে অভিনয় করেছেন, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং অন্যান্য পুরষ্কার অর্জন করেছেন। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের তরফে দর্শকদের পুজোর উপহার হিসেবে থাকছে পিরিয়ড ড্রামা ‘দেবী চৌধুরানী’। ছবিতে ভবানী পাঠকের ভূমিকায় ‘ইন্ডাস্ট্রি’। কর্মসূত্রে প্রসেনজিৎ বর্তমানে কলকাতা-মুম্বই করছেন। ঘোর ব্যস্ততা। মাসের অর্ধেকাংশ মুম্বইতে। ব্যস্ততার ফাঁকে জমজমাটি আড্ডায় অকপট ‘‌বুম্বা-‌দা’‌ —

প্রশ্ন :‌ পুজোর ব্যস্ততায় বুম্বাদা কতটা উদ্বিগ্ন?‌

প্রসেনজিৎ :‌ গত চোদ্দ, পনেরো বছর ধরে কাজের ব্যস্ততার মধ্যেই পুজো কাটে। কারণ প্রতিবারই কোনও না কোনও ছবির রিলিজ থাকে এসময়ে। তার জন্যে খুব স্বাভাবিকভাবেই পুজোর প্রাক্কালে প্রায় একমাস ধরে প্রচারপর্ব চলে। কখনও বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে, আবার কখনও বা পশ্চিমবঙ্গের গণ্ডি পেরিয়ে মুম্বই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদের মতো বিভিন্ন শহরে। তাই আমার পুজোটা পুরোটাই সিনেমার সঙ্গেই কেটে যায়। এবার ‘দেবী চৌধুরানী’ রিলিজ করছে। ২৬ সেপ্টেম্বর।

প্রশ্ন :‌ সিনেমাটিকে ঘিরে দর্শক-অনুরাগীদের আলাদা উন্মাদনা?‌

প্রসেনজিৎ :‌ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই উপন্যাস। গোটা ভূভারতে এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া দায়। আমার মনে হয়, বিশ্বের সব বাঙালিদেরই ‘দেবী চৌধুরানী’ পড়া। এই পিরিয়ড ড্রামাটি দর্শকদের জন্য পুজোর অভিনব উপহার হবে বলেই আমার বিশ্বাস।

প্রশ্ন :‌ পুজোর মরশুম বিশেষ কারণে প্রসেনজিৎ এবং তাঁর অনুরাগীদের কাছে স্পেশাল, কেন? কারণ
প্রসেনজিৎ :‌ আমার জন্মদিন যেহেতু পুজোর মধ্যেই কখনও কখনও পড়ে যায়। তাই শারদোৎসব মানেই আমার কাছে সিনেমা, জন্মদিন, পুজো সবমিলিয়ে জমজমাট সেলিব্রেশন। আমার মনে হয়, পুজোর সময় আমরা নিজেরা যতটা না আনন্দ করি, আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা তার থেকে বেশি করি। কারণ এটাই আমাদের শিল্পীদের কাজ। আর পুজো মানেই বাঙালিদের কাছে চারটে দিন ঘোরাফেরা, আড্ডা, খাওয়াদাওয়ার পাশাপাশি নতুন সিনেমা দেখা।

প্রশ্ন :‌ পুজো মানেই ভুরিভোজ, ঈর্ষনীয় চেহারার নেপথ্যে যে কড়া ডায়েট?‌

প্রসেনজিৎ :‌ পুজোর সময় বাইরের খাবার খাই না, তবে ভোগটা মিস করি না।

প্রশ্ন :‌ প্রযোজকের দায়িত্ব কতটা কঠিন?

প্রসেনজিৎ :‌ প্রযোজকের ভূমিকায় নিজেকে দেখি না আসলে। আমার পঁয়ত্রিশ বছরের অভিজ্ঞতাকে অন্য ভাবে ব্যবহার করছি বলতে পারেন। প্রাথমিক উদ্দেশ্য ভাল কনটেন্ট তৈরি করা এবং নতুন পরিচালক, অভিনেতা তুলে নিয়ে আসা। এখনও ছবি করতে গেলে টাকার কথা ভাবি না। জানি, ওটা ঠিক এসে যাবে।

প্রশ্ন: আপনি পুজোয় ছবি রিলিজ করেন কেন?

প্রসেনজিৎ : ব্র্যান্ড প্রসেনজিৎ কিন্তু প্রযোজক প্রসেনজিতের চেয়ে আলাদা। অভিনেতা প্রসেনজিৎ যখন আসে, তখন গোটা বিষয়টা আলাদা হয়ে যায়। ব্র্যান্ড প্রসেনজিতের জায়গায় আমি হিটলার। সেটা আমি যার ছবিই করি না কেন। খুব ভাল করে জানি, কোনটা বক্স অফিসের জন্য করছি, কোনটা সম্মানের জন্য করছি, কোনটা জাতীয় পুরস্কারের জন্য করছি। এটা নিয়ে আমার মধ্যে কোনও দ্বন্দ্ব নেই বলেই বক্স অফিসের ফলাফলে কষ্ট পাই না।

প্রশ্ন :‌ অভিনেতা প্রসেনজিতের লড়াই?‌

প্রসেনজিৎ :‌ অভিনেতা হিসাবে আমার ৪০ বছর হল। আমি ‘অটোগ্রাফ’ আর ‘মনের মানুষ’-এর মতো ছবিতে দু’টো বিপরীতধর্মী চরিত্রের শুট করেছিলাম মোটে ১৫ দিনের ব্যবধানে। আমি জানি, আমাদের ব্যবসার দরকার। কিন্তু পেন্টিং, বই, উপন্যাসের সঙ্গে যখন আমরা সিনেমাকে একসঙ্গে রাখি, তখন তো শিল্পের কথাও ভাবা উচিত। কিছু কাজ তো করে যেতে হবে যাতে নিজের কাছে জবাবদিহি করতে পারি। সব সময় তো বাজার দেখলে চলবে না। এই লড়াইটা আমাদের চালিয়ে যেতে হবে। অন্তত আমি তো চালিয়ে যাব।

প্রশ্ন :‌ বুম্বা দার কাছে তারকাখ্যাতির অর্থ কী?

প্রসেনজিৎ :‌ নিদ্রাহীন রাত। তারকা হওয়া হয়তো যথেষ্ট সহজ কিন্তু একজন তারকা হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়া খুবই কঠিন। তোমাকে দৃঢ় থাকতে হবে, দৃঢ়চিত্ত হতে হবে। তোমাকে নিজের যত্ন নিতে হবে, প্রতিদিন আসা চ্যালেঞ্জগুলির মুখোমুখি হতে হবে এবং নিজেকে মনে করিয়ে দিতে হবে যে এটি এমন একটি পেশা যেখানে তুমি একজন জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে শুরু করে পাঁচ বছরের মধ্যে একজন সিইও হতে পারো, কিন্তু তুমি আসলে কে তা ভুলে যেতে পারো না।

প্রশ্ন :‌ রাজনীতি থেকে দূরে থাকার জন্য আপনি কীভাবে ব্যবস্থা করেন?

প্রসেনজিৎ :‌ আমি রাজনীতির জন্য নই। আমি একজন বিনোদনপ্রেমী, ঠিক যেমন কেউ একজন ব্যবসায়িক নির্বাহী, আইনজীবী বা ডাক্তার। আমার বন্ধুবান্ধব আছে যারা রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িত, কিন্তু আমার কাছে সময়, ব্যান্ডউইথ বা আগ্রহ নেই। সিনেমায় আমার অর্জন করার অনেক কিছু আছে এবং সময় খুবই কম!

প্রশ্ন :‌ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় অভিনেতা, একজন ট্রেন্ডি?‌

প্রসেনজিৎ :‌ আমি কেবল ট্রেন্ডি বলে মনে করি বলেই কিছু করি না। আমি পরিবর্তনের প্রতি প্রতিক্রিয়া জানাই না। আমি একটি পদ্ধতিগত, পূর্বপরিকল্পিত পদ্ধতির পক্ষে বেশি। আমি সেই ব্যক্তি যিনি ১৪-১৫ লক্ষ টাকা বাজেটের বাণিজ্যিক ছবি তৈরি করতাম। এখন, আমার ছবিগুলি পাঁচ কোটি টাকা বাজেটে তৈরি হয়। এটি একটি বিশাল যাত্রা। আমি সবসময় আমার ব্র্যান্ড ইকুইটি বজায় রাখার উপর বিশ্বাসী, এমনকি আমি যখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করি তখনও। এর অর্থ এই নয় যে আমি এমন কিছু করব যা আমার শ্রেণীর বিরুদ্ধে যাবে। আমি জানি আমি সময়কে থামাতে পারব না। ট্রেন্ড সেট করা, কিছু অর্জন করা এবং এগিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ, তরুণ অভিনেতাদের জন্য মাঠ ছেড়ে দেওয়া। আমি আমার বয়সে গাছের চারপাশে নাচতে পারি না। তবে আমি মূলধারার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রগুলি চালিয়ে যাচ্ছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles