স্বামীজির স্মরণে নতুন প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে রাজ্য ক্রীড়া দফতর। ঘোষণা করেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। স্বামী বিবেকানন্দের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজিত হতে চলেছে। যুবকল্যাণ ক্রীড়া দপ্তর এবং আইএফএ যৌথভাবে আয়োজন করতে চলেছে জেলাভিত্তিক এই ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ। ১৮৯৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, শিকাগোর বিশ্ব ধর্ম মহাসম্মেলনে স্বামী বিবেকানন্দের ভাষণ একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এই ভাষণে স্বামীজি ধর্ম এবং সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সহনশীলতা এবং ঐক্যের বার্তা দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তৃতা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। গোটা বিশ্বের চোখে ভারতীয় সংস্কৃতি ও দর্শনের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে তুলেছিল। অন্যদিকে, ইন্ডিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৮৯৩ সালে। দেশের প্রাচীনতম ফুটবল সংস্থা আইএফএ। বিবেকানন্দের শিকাগো ভাষণ এবং আইএফএ প্রতিষ্ঠা বছর একই। সেই কারণে এই বিশেষ টুর্নামেন্টের উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য ক্রীড়া দফতর। ক্রীড়ামন্ত্রীর কথায়, “স্বামীজির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শিকাগো বক্তৃতার ১৩৩ বছরের স্মরণে আমরা একটা ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চলেছি। যুবকল্যাণ ক্রীড়া দপ্তর এবং আইএফএ যৌথভাবে এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করবে। টুর্নামেন্টের নাম দেওয়া হয়েছে স্বামী বিবেকানন্দ কাপ জেলা ক্লাব ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ।” অরূপ বিশ্বাস আরও বলেন, “এটা আন্তঃজেলা ক্লাব ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ হিসাবে খেলা হবে। ২৩টা জেলাই এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করবে। প্রতিটি জেলায় ৮টি করে ক্লাবকে নিয়ে জেলাভিত্তিক প্রতিযোগিতা হবে। প্রতিযোগিতা শুরু হবে ঐতিহাসিক দিনেই, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে। স্বামীজির তৈরি বেলুড় মঠের নিজস্ব মাঠে বসবে এই টুর্নামেন্টের আসর।”
‘চক দে ইন্ডিয়া’ সিনেমায় নিজেদের প্রমাণ করতে ছেলেদের বিরুদ্ধে খেলতে হয়েছিল কোচ কবীর খানের ছাত্রীদের। বাস্তবে কোচ অ্যান্টনি অ্যান্ড্রুজের ছাত্রীদেরও খেলতে হচ্ছে ছেলেদের বিরুদ্ধে। এক্ষেত্রে অবশ্য বিষয়টি যোগ্যতা প্রমাণের নয়, নিজেদের উন্নতির। আসলে আগামী সপ্তাহে এশিয়ান উওমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলতে নামবে অ্যান্টনির ইস্টবেঙ্গল। যে প্রতিযোগিতার জন্য মাসখানেক ধরে কল্যাণীতে প্রস্তুতি সারছেন তিনি। আর সেখানে সুইটি দেবী, পান্থোই চানুর মতো লাল-হলুদ তারকারা ম্যাচ খেলছেন ছেলেদের বিরুদ্ধে। কল্যাণী স্টেডিয়ামে স্থানীয় পুরসভার উদ্যোগে একটি অ্যাকাডেমি চলে। তাদের বিরুদ্ধেই একাধিক প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলেছে লাল-হলুদের মহিলা দল। কেন এমন ভাবনা? লাল-হলুদ কোচের কথায়, “চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার জন্য ম্যাচ প্র্যাকটিস খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু এখন তেমন কোনও ভালো মহিলা দল, নেই যাদের বিরুদ্ধে খেলা যেতে পারত। তাই ছেলেদের বিরুদ্ধেই খেলতে হল।” চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রাথমিক পর্বে কম্বোডিয়ার নম পেন ক্রাউন ও হংকংয়ের কিটচির বিরুদ্ধে খেলবে ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচগুলি হবে যথাক্রমে ২৫ আগস্ট ও ৩১ আগস্ট, নম পেনে। প্রথমবার এশীয় পর্যায়ে খেলতে নামার আগে শক্তিশালী দল গড়েছে ইস্টবেঙ্গল। আগে থেকেই আশালতা দেবী, সুইটি দেবী, সঙ্গীতা বাসফোর, পান্থোই চানু, মেলোডি চানু, সন্ধ্যা রঙ্গনাথন, সৌম্যা গুগুলোথ, সুলঞ্জনা রাউল, কার্তিকা অঙ্গমুথুর মতো জাতীয় সিনিয়র এবং অনূর্ধ্ব-২০ দলের তারকারা রয়েছেন দলে। এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের জন্য তার সঙ্গেই ফাজিলা ইয়েকাপুত, সিল্কি দেবীর মতো জাতীয় স্তরের তারকাকে নেওয়া হয়েছে। স্কোয়াডের যা গভীরতা, অন্তঃস্কোয়াড ম্যাচও খেলাতে পারতেন? ইস্টবেঙ্গল কোচের জবাব, “অনেকেই জাতীয় শিবির থেকে চোট নিয়ে ফিরেছে। তারা রিহ্যাব করছে। তাই অন্য দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে হল।”




