Saturday, July 25, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

অনুষ্টুপের শতরান বুঁচিবাবু টুর্ণামেন্টে!‌ ঘরোয়া ক্রিকেটে সেঞ্চুরিতে কামব্যাক শুরু পৃথ্বী শ’র?

বুচি বাবু প্রতিযোগিতায় শতরান করে বাংলাকে লড়াইয়ে রাখলেন অনুষ্টুপ মজুমদার। ১২৬ রান করলেন তিনি। একই দিনে মাত্র দু’রানের জন্য শতরান হাতছাড়া করলেন সুমন্ত গুপ্ত। ৯৮ রানে ফিরে যান তিনি। বাংলা ৯০ ওভারে তোলে ৩৮১ রান। হরিয়ানার ৪১৫ রানের জবাবে বাংলা পিছিয়ে ৩৪ রানে। অনুষ্টুপ ও সুমন্ত ছাড়া বাংলার হয়ে শুরুটা ভাল করেছিলেন সুদীপ কুমার ঘরামি। ৪৫ রানে আউট হন তিনি। ৩৯ রান অভিষেক পোড়েলের। তৃতীয় দিন দু’টি দলই ৪৫ ওভার করে ব্যাট করার সুযোগ পাবে। বাংলা ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচটি জিততে পারে কি না সেটাই দেখার।

মুম্বই ছেড়ে মহারাষ্ট্রে। দল বদলাতেই ভাগ্য খুলে গেল পৃথ্বী শ-এর। মহারাষ্ট্রের জার্সিতে প্রথম ম্যাচেই শতরান করলেন তিনি। বুচি বাবু ট্রফির প্রথম ম্যাচে পৃথ্বীর ব্যাট থেকে এল ১১১ রানের ইনিংস। ছত্তীসগঢ়ের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ১২২ বলে শতরান পূর্ণ করেন তিনি। ওপেনিং জুটিতে শচীন দাসের সঙ্গে ৭১ রান তোলেন পৃথ্বী। তার পর ১৫ রানের মধ্যে চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় মহারাষ্ট্র। পৃথ্বী অবশ্য ২২ গজের এক দিক আগলে রেখেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ১৪টা চার এবং ১টা ছয়ের সাহায্যে ১৪১ বলে ১১১ রান করেন। ২৫ বছর বয়সি ক্রিকেটারের এক সময় তুলনা চলত শচীন তেণ্ডুলকরের সঙ্গে। রবি শাস্ত্রী বলেছিলেন, শচীন, লারা, শেহওয়াগের সংমিশ্রণ। সেই সব সুখের দিন পেরিয়ে ক্রিকেট কেরিয়ারের গ্রাফ ক্রমশ নিচের দিকে পৃথ্বী শ’র। কেরিয়ার বাঁচাতে মুম্বই ছেড়ে মহারাষ্ট্রের হয়ে খেলছেন ২৫ বছর বয়সি ক্রিকেটার। আর বুচিবাবু টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন পৃথ্বী। চেন্নাইয়ে বুচিবাবু টুর্নামেন্টে মহারাষ্ট্রের ম্যাচ চলছে ছত্তিশগড়ের বিরুদ্ধে। সেখানে ১২২ বলে সেঞ্চুরি হাঁকান পৃথ্বী। পিচ কিন্তু যথেষ্ট কঠিন ছিল। অসমান বাউন্স ছিল, আবার স্পিনাররাও সাহায্য পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যাট করা কঠিন কাজ ছিল। সেখানে মহারাষ্ট্রের টপ অর্ডারকে ভরসা দেন পৃথ্বী। দলের ৪৪তম ওভারে সেঞ্চুরি সম্পূর্ণ করেন তিনি। তারপর ড্রেসিংরুমের দিকে ব্যাট তুলে সেলিব্রেট করেন। ১৪টি চারের পাশাপাশি একটি সেঞ্চুরিও এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। চেহারা দেখেও মনে হল, ফিটনেস নিয়ে যথেষ্ট খাটছেন। গত ঘরোয়া মরশুমের বেশিরভাগ সময় উপেক্ষা করে কাটিয়ে দিয়েছিলেন পৃথ্বী। সেই কারণেই চলতি বছরের শুরুতে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে মুম্বই। যদিও পরে মুম্বই টি-টোয়েন্টি লিগে নর্থ মুম্বই প্যান্থার্সের ‘মার্কি প্লেয়ার’ হিসেবে ফর্মে ফিরেছিলেন। মুম্বই ক্রিকেট সংস্থার সঙ্গে পৃথ্বীর সম্পর্ক ক্রমশ খারাপ হয়েছিল। গত বছরের অক্টোবরে মুম্বইয়ের রনজি দল থেকে বাদ পড়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলার অভাব, ওজন নিয়ে সচেতনতার অভাবের মতো অভিযোগ ছিল। এমনকী বাদ পড়েছিলেন মুম্বইয়ের বিজয় হাজারে দল থেকেও। নতুন মরশুমে দলবদল করেই সাফল্য। একসময় যাঁরা পৃথ্বীর সতীর্থ ছিলেন, তাঁদের অনেকেই সুপ্রতিষ্ঠিত। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী দলে সতীর্থ শুভমান গিল এখন টেস্ট দলের অধিনায়ক। অর্শদীপ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী ছিলেন। সেখানে পৃথ্বী আইপিএলেও দল পাননি। ঘরোয়া ক্রিকেটে দলবদলে সেঞ্চুরি করে কি কামব্যাকের ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন পৃথ্বী?

গত আইপিএলে ১৭ ম‌্যাচে ৬০৪ রান। ১৭৫ স্ট্রাইক রেটে, ৫০.৩৩ ব‌্যাটিং গড়ে! চ‌্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অসামান‌্য পারফরম্যান্স। তারপরও এশিয়া কাপের ভারতীয় দলে জায়গা হল না শ্রেয়স আইয়ারের। জায়গা পেলেন আইপিএলে ভালো ফর্মে না থাকা তিলক বর্মা। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে শ্রেয়সের দোষটা ঠিক কী? প্রশ্নটা তুলে দিয়েছেন সদ্য প্রাক্তন ভারতীয় স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনও। রুষ্ট ভাবে তিনি বলে দিয়েছেন, ‘‘আমি বুঝতে পারছি না, শ্রেয়স ভুলটা কী করেছে? ২০২৪ সালে অধিনায়ক হিসেবে কেকেআরকে ও আইপিএল জেতাল। তার পর নিলামে গেল। পাঞ্জাব কিংস ওকে কিনল। ২০১৪ সালের পর প্রথম বার পাঞ্জাবকে শ্রেয়স ফাইনালে তুলল। শর্ট বলের বিরুদ্ধে সমস‌্যা কাটিয়ে উঠেছে শ্রেয়স। বুমরা-রাবাডাদের অনায়াসে খেলেছে। খুব খারাপ লাগছে শ্রেয়সের কথা ভেবে।’’ আসলে শ্রেয়সের কথা ভেবে খারাপ লাগাটা স্বাভাবিক। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজেও তাঁর নাম ভাবা হয়নি। এশিয়া কাপের মূল দলে তো নয়ই, স্ট্যান্ডবাইদের তালিকাতেও তাঁর নামটা নেই। সূত্রের দাবি, নির্বাচন কমিটির বৈঠকে শ্রেয়সের নামটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তাঁকে নিতে গেলে জাতীয় দলে ভালো খেলা রিঙ্কু সিং বা শিবম দুবের যে কোনও একজনকে বাদ দিতে হত। নির্বাচকরা সেটা চাননি। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অজিত আগরকর বলেন, “আমাদের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে প্রচুর বিকল্প। স্কোয়াড নির্বাচন করাটা সব সময় সহজ হয় না।’’ তিনি মেনে নেন, “শ্রেয়স কোনও ভুল করেননি। তবে নির্বাচকরাও ভুল করেননি। কারণ যারা ১৫ সদস্যের দলে রয়েছেন প্রত্যেকেই ভালো ফর্মে।”তবে কোনও কোনও মহল বলছে, কোচ গম্ভীরের পছন্দ নয় বলেই শ্রেয়সকে জাতীয় দল থেকে বারবার ব্রাত্য থেকে যেতে হচ্ছে। নিন্দুকেরা বলছেন, ২০২৪ আইপিএল জেতার পর শ্রেয়স যেভাবে সংবাদমাধ্যমে বলে দিয়েছিলেন অধিনায়ক হিসেবে যতটা মর্যাদা তাঁর প্রাপ‌্য ছিল, ততটা তিনি পাননি। তাতেই তৎকালীন কেকেআর মেন্টর গম্ভীরের রোষে পড়েন তিনি। সেই ভুলের মূল্য বোধ হয় এখনও চোকাতে হচ্ছে তাঁকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles