আধ ঘণ্টায় হাওড়া থেকে সল্টলেক! শুক্রবার থেকেই এক মেট্রোয় হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারবেন যাত্রীরা। জুড়ে যাবে সাবার্বান লাইনের দুই টার্মিনাল স্টেশন। মেট্রো সূত্রে খবর, হাওড়া ময়দান থেকে সেক্টর ফাইভ যেতে যাত্রীদের সময় লাগবে ৩২ মিনিট। আর হাওড়া থেকে ৩০ মিনিট মতো। মানে যে দূরত্ব বাসে যেতে ঘণ্টা দেড়েক লাগত তাই এবার পাতালপথে লাগবে আধ ঘণ্টা। ভাড়ার তালিকা আজ বুধবারের মধ্যে প্রস্তুত হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে হাওড়া থেকে সেক্টর ফাইভ ভাড়া ২৫ টাকা হওয়ার সম্ভাবনা। হাওড়া ময়দান থেকে সেক্টর ফাইভের দূরত্ব ১৬.৫ কিলোমিটার। এই রুটে প্রথম ২ কিমি-র ভাড়া ৫ টাকা। এসপ্ল্যানেড থেকে হাওড়া ভাড়া ১০ টাকা। মেট্রোর আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, হাওড়া ময়দান থেকে এসপ্ল্যানেড ও শিয়ালদহ থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ রুটে এতদিন মেট্রো ছুটেছে। কিন্তু এই দুই অংশ জুড়ে গেলে এক ধাক্কায় যাত্রীসংখ্যা অনেকটাই বেড়ে যাবে। খুবই কম সময়ে আরামদায়কভাবে তাঁরা গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন। ফলে সাধারণ মানুষ থেকে অফিসযাত্রী প্রত্যেকরই খুব সুবিধা হবে। যাত্রীদের কথায়, দীর্ঘদিনের অপেক্ষা এবার শেষ হতে চলেছে। মেট্রোপথে জুড়ে যাচ্ছে পূর্ব-পশ্চিম। এত কম সময়ে হাওড়া থেকে সল্টলেক চলে যাওয়া গেলে সবথেকে উপকৃত হবেন জেলার মানুষজন। যারা লোকাল ট্রেনে চড়ে এসে এতদিন বাস ধরতেন, তাঁরাই এবার মেট্রো ধরবেন। মেট্রোয় চড়ে হাওড়া থেকে শিয়ালদহ যেতে ১১ মিনিট সময় লাগবে। মেট্রো সূত্রে খবর, শুক্রবার যশোর রোড স্টেশন থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পতাকা নেড়ে পরিষেবার উদ্বোধন করতেই শিয়ালদহ-ধর্মতলা যাত্রী নিয়ে ট্রেন ছোটা শুরু হয়ে যাবে। এই রুটে যাত্রী এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়বে এটা ধরে নিয়েই স্টেশনে কর্মীসংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। অন্যান্য প্রস্তুতির কাজ চলছে। তবে মেট্রো কর্তৃপক্ষের চিন্তা একটাই। এখন যা যাত্রী হয় গ্রিন লাইনে, তার থেকে অন্তত দু’লক্ষ যাত্রী বাড়বে শুরুতেই। এই লাইনে কিউআর কোড যুক্ত কাগজের টিকিট নিয়ে ঢুকতে-বেরোতে যাত্রীদের সমস্যা। ফলে গেটে লম্বা লাইন পড়ে যায়। কাগজ একটু ভাঁজ হয়ে গেলেই আটকে যান তাঁরা। তাই যাত্রীদের দাবি, ফের টোকেন চালু করা হোক সব লাইনে। কারণ যাত্রী বাড়লে এমনিতেই এএফসি গেটে লাইন পড়বে বেশি। কাগজের টিকিটের কারণে যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তাহলে তো সমস্যা বাড়বে।

প্রবল বর্ষণের জেরে বিপর্যয় মুম্বইয়ের মনোরেলেও। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জেরে প্রায় দু’ঘণ্টা একই জায়গায় আটকে রইল মনোরেল। যার জেরে প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ট্রেনটিতে আটকে পড়া ৪৪২ জন যাত্রীর মধ্যে। যদিও দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় সকলকেই নিরাপদে উদ্ধার করা গিয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধে সাড়ে ৬টা নাগাদ চেম্বুর ও ভক্তি পার্কের মাঝামাঝি জায়গায় মনোরেলটি বিকল হয়ে পড়ে। মনোরেল পরিষেবা চলে মাটির অনেকটা উপর দিয়ে ফলে মাঝপথে হঠাৎ থেমে যাওয়ায় যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। যদিও কিছুক্ষণের মধ্যেই দমকল বাহিনী এসে পড়ে। ল্যাডার দিয়ে যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিস জানিয়েছেন, সকলকেই নিরাপদে উদ্ধার করা হবে। কেউ আতঙ্কিত হবেন না। উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিণ্ডে জানান, হারবার লাইনে ট্রেন পরিষেবা প্রবল বর্ষণে বন্ধ। যার ফলে ব্যাপক ভিড় হয়ে যায় মনোরেলে। ওই অতিরিক্ত ভিড়ের চাপেই মনোরেল একদিকে কিছুটা হেলে পড়ে। ফলে বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যাহত হয়ে যায়। বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পরিস্থিতি জটিল হয়। ট্রেনটি আটকে পড়ার পর ভিতরের যাত্রীরা প্রত্যাশিতভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিদ্যুৎ ও এসি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আতঙ্ক বাড়ে। অনেকেই শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন এবং কেউ কেউ ট্রেনের জানালা ভেঙে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। কয়েকজন যাত্রী কামরার ভেতরে অজ্ঞানও হয়ে যান। পরে তাদের অ্যাম্বুল্যান্সে করে পাঠানো হয় হাসপাতালে। সব যাত্রীই নিরাপদ বলে প্রশাসনের দাবি। মুম্বই হল ভারতের একমাত্র শহর যেখানে মনোরেল ব্যবস্থা চালু আছে। মনোরেলের একটি কোচে ১৮ জন বসার এবং ১২৪ জন দাঁড়ানোর ব্যবস্থা আছে। অতিরিক্ত ভিড়ের জেরেই এই সমস্যা বলে মনে করা হচ্ছে।




