উপরাষ্ট্রপতি চূড়ান্ত করে ফেলল বিজেপি। সায় মিলল শরিকদেরও। জগদীপ ধনখড়ের পরে দেশের উপরাষ্ট্রপতি? এনডিএ শিবির থেকে উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীর নাম ঘোষণা করল বিজেপি। বিজেপির ঘোষিত নামে সায় দিয়েছে শরিকেরাও। জগদীপ ধনখড়ের উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে আলোচনার মাঝেই এ বার হিসাবে শাসক জোট এনডিএ-র উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীকে বেছে নিল বিজেপি। দিল্লি থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডা। ধনখড়ের উত্তরসূরি হিসাবে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল সিপি রাধাকৃষ্ণণকেই দেখতে চাইছে বিজেপি। বিজেপির প্রস্তাবিত নামে সায় দিয়েছে এনডিএ শিবিরের শরিক দলগুলিও। দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে দলের সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও দলের সদর দফতরে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে নড্ডা বলেন, “সকলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সকলের পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। সব শেষে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এনডিএ শিবিরের উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসাবে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল সিপি রাধাকৃষ্ণণকে বেছে নিচ্ছি।” বিজেপি সভাপতি জানান, তাঁরা চাইছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উপরাষ্ট্রপতি বাছা হোক। এনডিএ শিবিরের সকলেই রাধাকৃষ্ণণের নামে সমর্থন জানিয়েছেন। এ অবস্থায় উপরাষ্ট্রপতি বাছাইয়ে বিরোধীদের থেকেও সমর্থন চেয়েছেন নড্ডা।
মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল রাধাকৃষ্ণণ তামিলনাড়ুর বাসিন্দা। অতীতে কোয়মবত্তুর থেকে দু’বার সাংসদও হয়েছিলেন তিনি। তামিলনাড়ুতে রাজ্য বিজেপির সভাপতিও ছিলেন। সেই রাধাকৃষ্ণণকে উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী করে বিজেপি দক্ষিণকে বার্তা দিতে চাইল বলেও মনে করা হচ্ছে। বস্তুত, বিজেপির অন্যতম অগ্রাধিকার বাংলা, পঞ্জাব এবং তামিলনাড়ুরক মন জয় করা। তার মধ্যে বাংলার মন অনেকটা পেয়েছে বিজেপি। শাসন ক্ষমতা না-পেলেও প্রধান বিরোধী দল হিসাবে উঠে এসেছে বাংলায়। তবে বাকি দুই রাজ্যে তা-ও হয়নি। এ অবস্থায় ধনখড়ের উত্তরসূরি হিসাবে রাধাকৃষ্ণণের নাম ঘোষণা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তামিলনাড়ু থেকে সঙ্গোল নিয়ে গিয়ে সংসদে বসিয়েছেন মোদী। তাতেও গত লোকসভা নির্বাচনে তেমন ভাল ফল হয়নি। আগামী বছর তামিলনাড়ুতে বিধানসভা ভোট রয়েছে। এনডিএ শিবিরের উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসাবে বেছে নেওয়া দক্ষিণের রাজ্যের বিজেপির প্রবীণ নেতাদের মধ্যে একজনকে। রাধাকৃষ্ণণকে উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী করে ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে তামিল মন জয়ের দিকে আরও জোর।




