Saturday, July 25, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

মারাত্মক রোগ! ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এ ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজের ফল

‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ অর্থাৎ বাড়ি থেকেই অফিসের কাজ। প্রবণতা বিশ্বজুড়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। একদিকে অথনৈতিক দিক থেকে বিষয়টি সাশ্রয়ী। এতে যাতায়াতের ধকল পোহাতে হয় না কর্মীদের। পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ মেলে। বিশ্বজুড়ে বহু সংস্থা এখন এই দিকে ঝুঁকছে। এই নতুন কাজের ধারায় কিছু সুবিধা থাকলেও, রয়েছে বেশ কিছু স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিও, যা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা চিন্তিত। বাড়িতে কাজ করার ক্ষেত্রে অনেক সময় দেখা যায়, কাজের উপযুক্ত টেবিল চেয়ার থাকে না। ফলে দীর্ঘক্ষণ খাটে বা সোফাতে বসে একই ভঙ্গিতে কাজ করে যেতে হয়। এর ফলে কোমর, ঘাড় ও পিঠের ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। আর একবার ব্যথা শুরু হলে সেই যন্ত্রণা ক্রমশ নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়। চোখে জল আসবে বাড়িতে কাজ করার সময় অনেকেই অফিসের বেঁধে দেওয়া সময়ের বাইরেও কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে স্ক্রিনের দিকে একটানা তাকিয়ে থাকার সময়ও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে তাকিয়ে থাকার কারণে বাড়ছে চোখের সমস্যা। এতেই বাড়ছে চোখ শুকিয়ে যাওয়া, ঝাপসা দেখা ও মাথাব্যথার মতো সমস্যা। দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে এমন চললে দৃষ্টিশক্তির সমস্যাও দেখা দিতে পারে। চোখে জল আসবে বসে বসে কাজ করতে করতে শারীরিক কার্যকলাপ কমে যায়। ওজন বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত ওজনজনিত রোগও বাড়ছে ওয়ার্ক ফ্রম হোম করার কারণে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো লাইফস্টাইল ডিজিজ এর ঝুঁকি বাড়ছে। এছাড়া, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও কাজের নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় মানসিক চাপ এবং উদ্বেগের মতো সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। প্রতিকার হিসেবে, কাজের মাঝে নিয়মিত বিরতি নেওয়া, সঠিক ভঙ্গিতে বসা, চোখের ব্যায়াম করা এবং হালকা শারীরিক কসরত করা জরুরি। কাজের নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে চলা এবং ভার্চুয়ালি সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাও মানসিক স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সহায়ক। সব মিলিয়ে ওয়ার্ক ফ্রম হোমকে স্বাস্থ্যকর করে তুলতে হলে ব্যক্তিগত সচেতনতা ও কিছু নিয়ম মেনে চলা অপরিহার্য। এর মাধ্যমে কাজের উৎপাদনশীলতা বজায় রেখেও সুস্থ জীবনযাপন করা সম্ভব।

‌ক্লান্তি বা ঘুমের ঘাটতি হলে হাই ওঠে। কিন্তু যদি পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরেও বারংবার হাই উঠতে থাকে, তবে ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে না যাওয়া উচিৎ। মারাত্মক বিপদ ঘটে যেতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এই আপাত নিরীহ হাই তোলা হৃদরোগের গুরুতর সঙ্কেত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হাই তোলার সঙ্গে আমাদের ‘ভেগাস নার্ভ’ বা ভেগাস স্নায়ুর গভীর যোগসূত্র রয়েছে। এই স্নায়ুটি মস্তিষ্ক থেকে শুরু হয়ে হৃৎপিণ্ড এবং পাকস্থলী পর্যন্ত বিস্তৃত। বিভিন্ন কারণে হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ কমে গেলে শরীরে এবং মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়। এই স্নায়ু সেই বিষয়টি বুঝতে পারে ও মস্তিষ্কে সঙ্কেত পাঠায়। তখন আরও বেশি অক্সিজেন গ্রহন করার জন্য শরীর প্রতিবর্তী ক্রিয়া হিসাবে বারংবার হাই তোলে। চিকিৎসকদের একাংশের মতে, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের পূর্বেও অনেকের মধ্যে অস্বাভাবিক হাই তোলার প্রবণতা দেখা যায়। বিশেষত, হৃদপিণ্ডের চারপাশে রক্তক্ষরণের মতো ঘটনা ঘটলে ভেগাস স্নায়ু অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং ঘন ঘন হাই ওঠে। এছাড়াও, শরীরচর্চা বা সামান্য শারীরিক পরিশ্রমের সময় যদি অস্বাভাবিকভাবে বারবার হাই উঠতে থাকে, তবে তা হৃদযন্ত্রের দুর্বলতার লক্ষণ হতে পারে। শুধু ঘন ঘন হাই উঠলেই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। সাধারণত হৃদরোগে হাই তোলার সঙ্গে সঙ্গে বুকে হালকা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা, ঘাম হওয়ার মতো অন্যান্য উপসর্গগুলিও দেখা যায়। তবে যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণটিকে আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles