কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন নির্যাতিতার বাবা। নবান্ন অভিযানের সময় যে পুলিশকর্মীরা আহত হয়েছেন, তাঁদের দেখতে হাসপাতালে যান কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা। সেখানে নির্যাতিতার মায়ের চোটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাঁর যে চোট লেগেছে, সেটা মোটেও কাম্য নয়। দুঃখজনক।’ সেইসঙ্গে কলকাতার পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিয়ো ফুটেজ, বডি ক্যামেরার ফুটেজ, ড্রোনের ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। যতক্ষণ না সব ফুটেজ বিশ্লেষণ দেখা হচ্ছে, ততক্ষণ আমরা কিছু বলতে পারব না। পুরো বিষয়টা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশ মেরেছে বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেটা সত্যি নাকি মিথ্যে – তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ কলকাতার পুলিশ কমিশনারের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে পালটা নির্যাতিতার বাবা বলেছেন, ‘আজ আমি সিপিকে (পুলিশ কমিশনার) একটা চড় মেরে বললাম সরি, তাহলে কি হয়ে যাবে? আমিও তাহলে এখনই সেই কাজ করতে যাচ্ছি।’ কলকাতা পুলিশকে তৃণমূলের দলদাস বলে আক্রমণ শানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ সবসময় রাজ্যের শাসক দলের সহায়তা করে থাকে। আরও দাবি করেন, ‘আমরা বিচার চাইতে গিয়েছিলাম। এটার ফল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে ভুগতে হবে। ভুগতে হবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও।’ সেইসঙ্গে পুলিশ যে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার কথা বলেছে, সেটাই করতে বলেছেন নির্যাতিতার বাবা। তিনি বলেন, ‘আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স দিয়ে ভিডিয়ো বানাবে না তো?’ তারইমধ্যে মেডিক্যাল রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নির্যাতিতার বাবা। তিনি দাবি করেছেন, শুক্রবার মায়ের শারীরিক অবস্থার যে রিপোর্টে স্বাক্ষর করিয়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, তার সঙ্গে আজকের রিপোর্টের কিছু ফারাক হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছিল যে পুলিশের মারে চোট লেগেছে। কিন্তু নয়া রিপোর্টে পুলিশের মারের কথা উল্লেখ করা নেই। সেই পরিস্থিতিতে রিপোর্ট গ্রহণ করেননি বলে জানিয়েছেন। নির্যাতিতার মায়ের চোটের প্রসঙ্গে আরজি কর আন্দোলনে যুক্ত থাকা তুলিকা অধিকারী বলেন, ‘পুলিশকে একরাশ ধিক্কার। কাকিমার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। তবুও বলতে বাধ্য হচ্ছি যে এতদিন এতবার মিছিলে কাকু-কাকিমা হেঁটেছেন। তাঁদের সুরক্ষার জন্য আমরা প্রতিবার নাগরিকরা মানববন্ধন করে নিয়ে গিয়েছি, যাতে কেউ আঘাত না করতে পারে। অথচ এই মিছিলে শক্তিশালী বিরোধী দলনেতা ছিলেন। তা সত্ত্বেও আগলে রাখতে পারলেন না কেন? তাঁরা যখন পুলিশের চরিত্র সম্পর্কে অবগত,তারপরেও কেন তাদেরকে আগলে রাখতে পারলেন না।’
নবান্ন অভিযানের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন নির্যাতিতার মা। তখন তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্যাতিতার বাবাকেও ওই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের দাবি, পুলিশ মারধর করেছে। মায়ের মাথা ফুলে গিয়েছে। রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়েছে। বাবাকেও মারা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে নির্যাতিতার পরিবার। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ নিয়ে নির্যাতিতার মা বলেছিলেন, ‘কলকাতা পুলিশ মেরেছে। পুরুষ ও মহিলা পুলিশ উভয়েই লাঠিপেটা করেছে। আমার শাঁখা ভেঙে দিয়েছে। পিঠে লেগেছে। আমাকে ফেলেও দেওয়া হয়েছে। ওর বাবাকেও মেরেছে। কেন আমায় মারা হল? কেন আমার মেয়েকে কাজের জায়গায় মারা হল? কেন প্রশাসন তৎপর হল না সেদিন?’ যদিও এরপরে পুলিশ নির্যাতিতার মায়ের ওপর লাঠিচার্জের অভিযোগ অস্বীকার করে। এর কিছু পরই নির্যাতিতার মাকে এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মেয়ের ধর্ষণ ও খুনের বিচার চেয়ে আজ নবান্ন অভিযানে সামিল হন বাবা-মা। পার্কস্ট্রিটের কাছে তাঁদের মিছিল আটকানো হয়। অভিযোগ ওঠে, সেইসময় নির্যাতিতার বাবা-মা’কে মারধর করেছে পুলিশ। তারপরও তাঁরা নবান্নে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। কিন্তু রেসকোর্সের পাশে অবস্থান চলাকালীন নির্যাতিতার মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। চোখেমুখে জল দেওয়ার পরেও অসুস্থ বোধ করতে থাকেন তিনি। সেই পরিস্থিতিতে নির্যাতিতার মা এবং বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্যাতিতার বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকা এক চিকিৎসক জানিয়েছিলেন, কপালে একটা ফোলা অংশ রয়েছে। বাইরে থেকে দেখে যা মনে হয়েছে, তাতে ভোঁতা কোনও জিনিস জোরে মারলে তবেই এরকমভাবে ফুলে যায়। পিঠে একাধিক কালশিটে দাগ আছে। যা দেখে স্পষ্টত বোঝা যাচ্ছে যে কিছু দিয়ে মারা হয়েছে। তাছাড়াও হাতেও চোট আছে বলে জানিয়েছেন তিনি। নির্যাতিতার মা এবং বাবাকে দেখতে হাসপাতালে আসেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
আরজি কর খুনের প্রতিবাদে নবান্ন অভিযানে পাঁচ পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন বলে দাবি লালবাজারের তরফ থেকে। পুলিশের দাবি, আহতরা হলেন এএসআই জগবন্ধু সাহু, কনস্টেবল নিমাই মণ্ডল, কনস্টেবল প্রশান্ত পোদ্দার, কনস্টেবল মিঠুন ঘোষ। পুলিশের অভিযোগ, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে মিছিল হয়নি। বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে নিউ মার্কেট ও হেয়ারস্ট্রিট থানায় ৭টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে পুলিশের তরফ থেকে। পুলিশকে মারধর, হুমকির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। এফআইআরে নাম আছে অশোক দিন্দা, কৌস্তভ বাগচী ও অগ্নিমিত্রা পালদের নাম। জওহরলাল নেহরু রোডের ভিডিয়ো প্রকাশ করে পুলিশ। নবান্ন অভিযানের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন নির্যাতিতার মা। তখন তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্যাতিতার বাবাকেও ওই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের দাবি, পুলিশ মারধর করেছে। মায়ের মাথা ফুলে গিয়েছে। রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়েছে। বাবাকেও মারা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে নির্যাতিতার পরিবার। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ নিয়ে নির্যাতিতার মা বলেছিলেন, ‘কলকাতা পুলিশ মেরেছে। পুরুষ ও মহিলা পুলিশ উভয়েই লাঠিপেটা করেছে। আমার শাঁখা ভেঙে দিয়েছে। পিঠে লেগেছে। আমাকে ফেলেও দেওয়া হয়েছে। ওর বাবাকেও মেরেছে। কেন আমায় মারা হল? কেন আমার মেয়েকে কাজের জায়গায় মারা হল? কেন প্রশাসন তৎপর হল না সেদিন?’ যদিও এরপরে পুলিশ নির্যাতিতার মায়ের ওপর লাঠিচার্জের অভিযোগ অস্বীকার করে। এর কিছু পরই নির্যাতিতার মাকে এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।




