থাইল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে এশিয়ান কাপে যোগ্যতা অর্জন ভারতীয় মহিলা ফুটবল দলের। সদ্য প্রকাশিত ফিফার ক্রমতালিকায় সাত ধাপ উঠে এল ভারতীয় মহিলা ফুটবল দল। এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের আগে ভারতের র্যাঙ্ক ছিল ৭০। সাত ধাপ এগিয়ে নীল বাঘিনীরা ৬৩-তে পা রাখেলন। দু’বছরের মধ্যে যা ভারতীয় মহিলা দলের সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিং। মহিলাদের এশিয়ান কাপের যোগ্যতা নির্ণয় পর্বে দুরন্ত ফুটবল উপহার দিয়েছে ব্লু টাইগ্রেসরা। প্রথম ম্যাচে মঙ্গোলিয়াকে ১৩-০ গোলে হারিয়ে অভিযান শুরু করেছিল ভারত। দ্বিতীয় ম্যাচে তিমুর লেস্তেকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন ভারতের মেয়েরা। ইরাককে ৫-০ গোলে হারিয়ে থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে নেমেছিলেন সঙ্গীতা বাসফোর, মনীষা কল্যাণরা। কার্যত ‘ফাইনাল’ সেই ম্যাচে শক্তিশালী থাইল্যান্ডকে হারায় ভারত। আর তারপরেই সামনের বছর অস্ট্রেলিয়ায় হতে চলা এশিয়ান কাপের মূলপর্বে খেলার ছাড়পত্র পেয়ে যায় ভারতীয় মহিলা দল। ২০০৩ সালে শেষবার যোগ্যতার ভিত্তিতে মহিলা এশিয়ান কাপে যোগ্যতা অর্জন করেছিল। ২০২২ সালে আয়োজক দেশ হিসেবে এশিয়ান কাপ খেলে ভারত। এরপর আবার এশিয়ান কাপের মূলপর্বে খেলতে দেখা যাবে ‘নীল বাঘিনী’দের। সি গ্রুপে রয়েছেন ব্লু টাইগ্রেসরা। জাপান ছাড়াও ভারতকে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হতে হবে ভিয়েতনাম এবং চাইনিজ তাইপেইয়ের সঙ্গে।
ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানকে বাদ দিয়ে আইএসএলের আট দল ফেডারেশন সভাপতির সঙ্গে আলোচনায় বসেছিল। আইএসএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কী হবে তা জানতে। সেখানে এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবে নিশ্চিত করেছেন, চলতি বছরেই হবে আইএসএল। তার আগে হতে চলেছে সুপার কাপ বলেও উঠে এসেছে ফেডারেশন সভাপতির কথায়। অন্যদিকে, বিভিন্ন আইএসএল ক্লাবের ফুটবলার ও কর্মচারীদের বেতন বন্ধ করে দেওয়া নিয়েও মন্তব্য করেছেন। ক্লাব প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর কল্যাণ বলেন, “এতে কোনও সন্দেহ নেই, চলতি বছরেই আইএসএল অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু তার আগে, সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে আয়োজিত হতে পারে সুপার কাপ। দলগুলি প্রস্তুতি নেবে। ফুটবলারদের বিদেশ থেকে আনতে ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। পরবর্তী সভায় এই প্রতিযোগিতা শুরুর তারিখ আমরা ঘোষণা করব।” অর্থাৎ, এই বৈঠকেও স্পষ্ট বোঝা গেল না আইএসএলের ভবিষ্যৎ কোন খাতে বইতে চলেছে। অনেকেই বলছেন, হয়তো এই কারণে ‘এ বছরেই আইএসএল হবে’ বলে ছেড়ে দিয়ে সুপার কাপ শুরুর কথা বলেছেন। আইএসএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে জট এখনও কাটেনি। এফএসডিএলের সঙ্গে এআইএফএফের চুক্তি মাস্টার্স রাইটস এগ্রিমেন্ট অর্থাৎ এমআরএ নবীকরণ নিয়ে এখনও কোনও নিশ্চয়তা নেই। যে কারণে আগামী মরশুমের আইএসএল নিয়ে ডামাডোল অব্যাহত। দেশের শীর্ষ ফুটবল লিগ নিয়ে এই অনিশ্চয়তার মধ্যে ওড়িশা এফসি এবং বেঙ্গালুরু এফসি’র পথে হেঁটে দু’বারের আইএসএল চ্যাম্পিয়ন চেন্নাইয়িন এফসি ফুটবলার ও কর্মচারীদের বেতন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ব্যাপারে ফেডারেশন সভাপতি বলেন, “এটা তো ক্লাবের সিদ্ধান্ত। কোন ক্লাব কীভাবে তাদের ফুটবলার বা কর্মীদের বেতন দেবে, সেটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। এ নিয়ে আমরা কোনওভাবেই হস্তক্ষেপ করতে পারি না। বিশ্বের যে কোনও সেরা লিগে এটাই নিয়ম।” এর ফলে ফেডারেশনের ক্লাবগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আপাতত বিকল্প পথ একমাত্র সুপার কাপ। ২০১৮ সালে ফেডারেশন কাপের বদলে চালু হয়েছিল এই টুর্নামেন্ট। কিন্তু আইএসএলের আগে সুপার কাপ শুরু হলে টুর্নামেন্টের ফরম্যাটই বা কেমন হতে চলেছে, তা নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। যে ক্লাবগুলি আইএসএলের অনিশ্চয়তার মাঝে কঠিন সিদ্ধান্তের পথে হাঁটল, তাদের কী হবে? তারা কীভাবে সুপার কাপ খেলবে? বৈঠকে অনেক আশা নিয়েই উপস্থিত হয়েছিল তারা। কিন্তু তাদের আশা যে পূরণ হল না, তা ফেডারেশন সভাপতির কথা থেকেই স্পষ্ট। উল্লেখ্য, এফসি গোয়া, নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেড, কেরালা ব্লাস্টার্স, ওড়িশা এফসি, হায়দরাবাদ এফসি, বেঙ্গালুরু এফসি, জামশেদপুর এফসি ও পাঞ্জাব এফসি একত্র হয়ে এই চিঠি দিয়েছিল ফেডারেশনকে। তারাই উপস্থিত ছিল এদিনের বৈঠকে।
ডুরান্ড থেকে বিদায় মহমেডান স্পোর্টিং দলের। ডুরান্ডের গ্রুপ পর্বের প্রথম দু’টি ম্যাচে হেরে ডুরান্ড কাপ থেকে ইতিমধ্যেই ছিটকে গিয়েছিল মহামেডানের। কিশোরভারতী স্টেডিয়ামে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে তুলনায় ‘দুর্বল’ বিএসএফের বিরুদ্ধে নেমেছিল সাদা-কালো ব্রিগেড। কলকাতা লিগ এবং ডুরান্ডে হারতে হারতে আত্মবিশ্বাসের তলানিতে থাকা মহামেডান শেষবেলায় অবশেষে জয় পেল। বিএসএফ’কে ৩-০ গোলে হারিয়ে দিলেন মেহরাজউদ্দিন ওয়াডুর ছেলেরা। বিএসএফও পরপর দুই ম্যাচে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে গিয়েছিল আগেই। তাদের কাছেও ম্যাচটি নিয়মরক্ষার। চোটের জন্য এদিন মহামেডান দলে ছিলেন না গত ম্যাচের গোলদাতা অ্যাসলে কোলি। কার্ড সমস্যার জন্য অধিনায়ক দীনেশ মিতেইকেও পায়নি সাদা-কালো। যদিও তাঁদের না থাকা সমস্যায় ফেলেনি দলকে। আগ্রাসী ফুটবল খেলতে থাকেন সজল, ম্যাক্সিয়নরা। ৫ মিনিটেই অধিনায়ক সজল বাগের গোলে এগিয়ে যায় মহামেডান। পেনাল্টিতে গোল পান তিনি। ২১ মিনিটে স্কোরলাইন দ্বিগুণ করেন ম্যাক্সিয়ন। ৩০ মিনিটে ফের গোল করেন ম্যাক্সিয়ন। তিন গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায় মহামেডান স্পোর্টিং। দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণ আঁটসাঁট করেই নেমেছিল বিএসএফ। বল পজিশন নিজেদের অনুকূলে রাখলেও বিপক্ষের বক্সের সামনে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছিল মহামেডানের। এরই মধ্যে বেশ কিছু সুযোগও তৈরি করে মহামেডান। বেশ কিছু ক্ষেত্রে দলের অবধারিত পতন রোধ করেন বিএসএফ গোলরক্ষক। তবে, প্রথমার্ধে যে দল তিনটে গোল করল, সেই দল দ্বিতীয়ার্ধে এমন বেরঙিন ফুটবল খেলে এবারের মতো ডুরান্ড অভিযান শেষ করল। অন্যদিকে, তিন ম্যাচে ১৫ গোল হজম করে ডুরান্ড থেকে বিদায় নিল বিএসএফ-ও।




