বাংলারই ক্রিকেটার ছিলেন। ভারতের কিংবদন্তি স্পিনার দিলীপ দোশী। ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতেন বাংলার হয়ে। প্রয়াত দোশীর নামকে ‘অমর’ করে রাখতে চলেছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল। ইডেন গার্ডেন্সে হোম টিমের ড্রেসিংরুমের নামকরণ হতে চলেছে দিলীপ দোশীর নামে। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৩ সালের মধ্যে ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র দোশী। বলে তাঁর নিখুঁত নিয়ন্ত্রণই আর পাঁচজনের থেকে আলাদা করে তুলেছিল। দেশের জার্সিতে সাফল্যের শিখরে পৌঁছনোর আগে ইংলিশ কাউন্টিতেও ছাপ ফেলেছিলেন এই বাঁ-হাতি স্পিনার। ৩২ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটিয়েও যে তুখোড় পারফর্ম করা যায়, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ ছিলেন দিলীপ দোশী। ভারতের হয়ে ৩৩টি টেস্ট এবং ১৫টি ওয়ানডে খেলেছিলেন। মাত্র ২৮ টেস্টে ১০০ উইকেট নিয়ে অনন্য রেকর্ডের মালিক হয়ে যান। কিংবদন্তি অজি স্পিনার ক্ল্যারি প্রিমেটের পর তিনিই ৩০ বছর বয়সের পর অভিষেক ঘটিয়ে এহেন নজির গড়েছিলেন। এই বছরই ২৩ জুন লন্ডনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন দোশী। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল সৌরাষ্ট্রের হয়ে। ঘরোয়া ক্রিকেটের বেশিরভাগ সময় খেলেছেন বাংলার হয়েই। ১৯৭৪ সালে বাংলার হয়েই অসমের বিরুদ্ধে ৬ রানে ৬ উইকেটে তোলার অনন্য কীর্তি গড়েছিলেন। বাংলা থেকে খেলেই তিনি জাতীয় দলে ডাক পান। ১৯৬৯ সালে প্রথম বাংলা দলে সুযোগ পান দিলীপ। ১৯৭৮-৭৯ এবং ১৯৮১ থেকে ১৯৮৫ পর্যন্ত বাংলা দলকে নেতৃত্বই দিয়েছিলেন। ইডেনে হোম টিমের ড্রেসিংরুমের নামকরণ করতে চলেছে সিএবি। সেনার কাছ থেকে এই বিষয়ে মৌখিক অনুমতি মিলেছে। ইডেনে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, ঝুলন গোস্বামীর মতো প্রাক্তন ক্রিকেটারদের নামে গ্যালারিতে স্ট্যান্ড রয়েছে। প্রয়াত স্পিনারকে অনন্য শ্রদ্ধা জানাতে চলেছে সিএবি।

বহিরাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের উপর অত্যাচার। ‘বাংলাদেশি’ তকমা, এই অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। দিল্লি থেকে হরিয়ানা, অসম থেকে মহারাষ্ট্র, বহু জায়গায় বাঙালিদের হেনস্থার অভিযোগ উঠছে। এমনকি দিল্লিতে শ্রমিকদের ঘরে বিদ্যুত সংযোগও কেটে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “আমি বাংলায় বড় হয়েছি, কলকাতাতেই সব কিছু। আমি শুধু আমার অভিজ্ঞতা বলতে পারি। বাইরের রাজ্যে কী হচ্ছে, জানি না।” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বিষয়টি নিয়ে সরব। জানিয়েছেন, হরিয়ানার গুরুগ্রাম থেকে চিঠি এসেছে। রাজ্যের একাধিক জেলার মানুষকে লক্ষ্য করে ইচ্ছাকৃতভাবে সমস্যায় ফেলার চেষ্টা চলছে। নাম উঠে এসেছে মালদহ, নদিয়া, কোচবিহার-সহ কয়েকটি জেলার।

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে বসিয়ে রাখার অভিযোগে একটি সংস্থাকে ১৫ কোটি টাকা দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের। ‘প্লেয়ার্স রিপ্রেজেন্টেশন এগ্রিমেন্ট’ বা পিআরএ সংক্রান্ত এক মামলায় প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে প্রায় ১৫ কোটি টাকা মেটানোর নির্দেশ আগেই দেওয়া হয়েছিল। আর্বিট্রেশন বা আদালতের বাইরে মীমাংসায় ওই রায় যায় সৌরভের পক্ষেই। সেই রায় বহাল রাখল হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার এই মামলা ওঠে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রবি কিষাণ কাপুরের বেঞ্চে। একটি ম্যানেজমেন্ট সংস্থার তরফ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলা খারিজ করে বিচারপতি রবি কিষাণ কাপুরের বেঞ্চ। ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, সৌরভের পক্ষে ১৪ কোটি ৪৯ লক্ষ টাকা মেটানোর যে নির্দেশ আর্বিট্রেশন ট্রাইবুনালে দেওয়া হয়েছে, তাতে হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। ফলে ১৪ কোটি ৪৯ লক্ষ টাকার সঙ্গেই ২০০৭ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ১২ শতাংশ সুদ এবং মামলার জন্য ৫০ লক্ষ টাকা মেটাতে হবে। ওই ম্যানেজমেন্ট সংস্থার সঙ্গে ২০০৩ সালে চুক্তি হয় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের। বিতর্ক তৈরি হয় ২০০৬ সালে। তাঁকে দল থেকে ছ’মাস বসিয়ে রাখার জন্য। ২০০৭ সালের ২১ নভেম্বর এই নিয়ে প্রশ্ন তোলে ওই ম্যানেজমেন্ট সংস্থা। বাদ পড়ার জন্য তাঁর থেকে মোটা টাকা কেটে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ট্রাইবুনালে মামলা হলে আর্বিটেশনে সৌরভের পক্ষেই রায় যায়। সেই রায় চ্যালেঞ্জ করেই হাইকোর্টে আসে ওই ম্যানেজমেন্ট সংস্থা। ট্রাইবুনাল তার রায়ে জানিয়ে দেয়, সৌরভের টাকা পাওয়ার কথা ক্রিকেটের সার্ভিসের জন্য, প্লেয়ার্স রিপ্রেজেন্টেশন এগ্রিমেন্ট বা চুক্তি এইক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। হাইকোর্টও ট্রাইবুনালের পর্যবেক্ষণ বহাল রাখে।




