Wednesday, July 22, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

জল্পনা!‌ বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটাররা বঞ্চিত বিশ্বকাপের টিকিট থেকে?‌ সংশয় মুক্তি!‌ রাজ্য ক্রিকেটের সেবা, টিকিট পাবেন প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটাররা?‌‌

জোর জল্পনা?‌ বাংলার হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলা প্রাক্তনীদের বিশ্বকাপের টিকিট দেবে না সিএবি! এমনই জল্পনা ছড়িয়েছিল ক্রিকেটমহলে। জল্পনা ভিত্তিহীন। নিয়মমাফিক প্রত্যেককেই টিকিট দেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, ২ মার্চ সিএবি-র বিশেষ সাধারণ সভায় কিছু নিয়ম পরিবর্তন করা হয়। সেই পরিবর্তিত নিয়মেই টিকিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত বদল করা হয়েছিল বলে খবর ছড়ায়। টি-২০ বিশ্বকাপের আসর বসবে ভারত এবং শ্রীলঙ্কায়। বেশ কয়েকটি ম্যাচ হতে পারে ইডেন গার্ডেন্সেও। নিয়ম অনুযায়ী, সিএবি আয়োজিত ম্যাচের টিকিট দেওয়া হয় সাম্মানিক সদস্যদের। টিকিট পান লাইফ মেম্বার, অ্যানুয়াল মেম্বার এবং অ্যাসোসিয়েট মেম্বাররাও। খবর ছড়ায়, ১১ হাজার সদস্যকে আর আইসিসি টুর্নামেন্টের টিকিট দেওয়া হবে না। ২ মার্চ সিএবির বিশেষ সাধারণ সভায় সংশোধন করা হয় তাদের সংবিধানের ১৭(২) ধারা। ওই ধারাতেই টিকিট বন্টন করা হত সদস্যদের মধ্যে। নিয়ম বদল করে আইসিসি ইভেন্টের টিকিট থেকে অন্তত এগারো হাজার সদস্যকে ‘বঞ্চিত’ করছে সিএবি, বলে খবর ছড়ায়। বাংলার হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেললেই সিএবির সাম্মানিক সদস্যপদ মেলে। সেই সদস্যদের আইসিসি টুর্নামেন্টের টিকিট দেওয়া হবে না ও বাংলার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা ক্রিকেটারদের টিকিট দেওয়া হবে বলেই শোনা গিয়েছিল। ক্রিকেটমহলে বিতর্ক। বিষয়টি নিয়ে সিএবির তরফে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। পরে জানা যায়, আইসিসি টুর্নামেন্টের টিকিট পাবেন সদস্যরা। এছাড়া অন্যান্য ম্যাচের টিকিটও পাবেন।

প্রথমে খবর ছিল, এবার থেকে ইডেন ম্যাচের টিকিট পাবেন না সিএবি ক্রিকেটাররা। প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলা ক্রিকেটাররা কোনও ম্যাচের টিকিট পাবেন না। অর্থাৎ স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়, সম্বরন ব্যানার্জ্জীর মতো প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলা ক্রিকেটাররা টিকিট পাবেন না। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, ঝুলন গোস্বামী, উৎপল চট্টোপাধ্যায়, মনোজ তেওয়ারি, লক্ষ্মীরতন শুক্লা, দীপ দাসগুপ্ত, রণদেব বসু, আইবি রায়, দত্তাত্রেয় মুখোপাধ্যায়দের মতো বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটাররা টিকিট পাবেন। ভারত এবং শ্রীলঙ্কায় হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সেও কিছু ম্যাচ থাকার সম্ভাবনা। সেই ম্যাচের টিকিট পাবেন না সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর মতো প্রাক্তন ক্রিকেটারেরা। কারণ, বাংলার ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা সিএবি তাদের সংবিধান সংশোধন করে রাজ্যের প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা ক্রিকেটারদের টিকিট দেওয়ার নিয়মটাই তুলে দিচ্ছে। বিশেষ সাধারণ সভায় এই সংশোধনী পাস হয়ে গিয়েছে। নিয়মরক্ষার জন্য এখন শুধু অপেক্ষা সুপ্রিম কোর্টের সম্মতির। ২ মার্চ সিএবি-র বিশেষ সাধারণ সভায় যে সব নিয়মে পরিবর্তন করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ১৭(২) ধারা। পরিবর্তিত নিয়মে বলা হয়েছে, সিএবি-র ‘অনারারি মেম্বার’ বা সাম্মানিক সদস্যদের এ বার থেকে আইসিসি পরিচালিত কোনও ম্যাচের টিকিট দেওয়া হবে না। বাংলার হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলা ক্রিকেটাররাই সিএবি-র সাম্মানিক সদস্য হতে পারেন। স্নেহাশিস, সম্বরণ, রাজা বেঙ্কটের মতো বাংলার রঞ্জিজয়ী ক্রিকেটার আর বিশ্বকাপ বা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচের টিকিট পাবেন না।

সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় নীরব। বাংলার শেষ রঞ্জিজয়ী দলের অধিনায়ক সম্বরণ বললেন, ‘‘জানতাম না এই নিয়ম বদলের কথা। খুব দুঃখের খবর। আইপিএলের টিকিট না-পাওয়াটা মানা যায়। কিন্তু আমরা যারা এত দিন রাজ্য ক্রিকেটের সেবা করেছি, তাদের বিশ্বকাপের টিকিট না-পাওয়াটা ঠিক নয়। সিএবি-র শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে কথা বলব।’’ রঞ্জিজয়ী দলের আর এক সদস্য রাজা বেঙ্কটের কথায়, ‘‘সিএবি কোনও দিনই প্লেয়ারদের জন্য কিছু করেনি। ফলে এটা আর নতুন কী? আমার বলার কিছু নেই। পুরোটাই ভোটের খেলা।’’ দেশের হয়ে খেলা বাংলার ক্রিকেটারেরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে ওই সব ম্যাচের টিকিট পাবেন। দেশের হয়ে খেলা ক্রিকেটাররা কোনও না কোনও ভাবে সিএবি-র ক্রিকেট প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ভবিষ্যতে তা না থাকলে তাঁরাও সম্বরণদের মতোই টিকিট-বঞ্চিত হবেন। শুধু সাম্মানিক সদস্যেরাই নন, এই নিয়ম আনা হচ্ছে সংস্থার লাইফ মেম্বার, অ্যানুয়াল মেম্বার এবং অ্যাসোসিয়েট মেম্বারদের ক্ষেত্রেও। এখন সিএবি-র লাইফ মেম্বারের সংখ্যা ৮৯৭৭, অ্যানুয়াল মেম্বার ১০৭৭ এবং অ্যাসোসিয়েট মেম্বার ১০৭৯। ফলে সব মিলিয়ে ১১,১৭৩ জন সদস্য আর বিশ্বকাপ বা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির টিকিট পাবেন না। সিএবি-র সংবিধানের ১৭(২) ধারায় এত দিন বলা ছিল, সংস্থা আয়োজিত যে কোনও ম্যাচের টিকিট পাবেন লাইফ, অ্যাসোসিয়েট, অ্যানুয়াল, অনারারি এবং স্পেশাল সদস্যেরা। শুধু চ্যারিটি ও বেনিফিট ম্যাচের টিকিট এই সদস্যেরা পেতেন না। তা ছাড়াও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড যদি কোনও ম্যাচে সদস্যদের অর্থের বিনিময়ে টিকিট দেওয়ার নির্দেশ দিত, সেই ম্যাচগুলি এই নিয়মের আওতায় থাকত না। গত মার্চে বিশেষ সাধারণ সভায় টিকিট না-পাওয়া ম্যাচের তালিকায় জুড়ে দেওয়া হয়েছে আইসিসি-র প্রতিযোগিতাও। শুধু প্রাক্তন ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেই নয়, এই নতুন নিয়ম প্রভাব ফেলবে সিএবি-র অন্যান্য সদস্যদের উপরেও। বর্তমানে সিএবি-র ৮,৯৭৭ জন লাইফ মেম্বার, ১,০৭৭ জন অ্যানুয়াল মেম্বার এবং ১,০৭৯ জন অ্যাসোসিয়েট মেম্বার রয়েছেন। সব মিলিয়ে তালিকায় রয়েছেন প্রায় ১১,১৭৩ জন সদস্য। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে, এঁরাও আর আইসিসি পরিচালিত কোনও ম্যাচের টিকিট পাবেন না। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল সংবিধানে পরিবর্তন এনে আন্তর্জাতিক ম্যাচের টিকিট প্রদানের নিয়ম তুলে দেওয়ার পক্ষপাতি। পরে জানা যায়, আইসিসি টুর্নামেন্টের টিকিট পাবেন সদস্যরা। এছাড়া অন্যান্য ম্যাচের টিকিটও পাবেন।

ঘোর বিতর্ক, সিএবি-র বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) এবং বিশেষ সাধারণ সভায় (এসজিএম) প্রাক্তন মহিলা ক্রিকেটার কেয়া রায়ের উপস্থিতি নিয়ে। অভিযোগ, ‘যোগ্যতা’ না থাকা সত্ত্বেও কেয়াকে এজিএম এবং এসজিএম-এ থাকার অনুমতি দিয়েছে রাজ্যের ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা। প্রশ্ন, শুধুমাত্র প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে কী করে কেয়া ওই বৈঠকে থাকতে পারেন? যেখানে নিয়ম হল, বাংলার হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা প্রাক্তন ক্রিকেটারেরাই এজিএম এবং এসজিএমে থাকতে পারবেন। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সিএবি-র বার্ষিক সাধারণ সভা এবং চলতি বছরের ২ মার্চ যে বিশেষ সাধারণ সভা হয়েছিল, তার দু’টিতেই উপস্থিত ছিলেন কেয়া। এজিএমে মোট ২৫ জন এবং এসজিএমে মোট ১০ জন প্রাক্তন ক্রিকেটার ছিলেন। কেয়া ছাড়া আর কারও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে না। বলা হচ্ছে, কেয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারই নন। কেয়াকে নিয়ে প্রশ্ন ওঠার কারণ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের একটি ইমেল। ২০২৪ সালের ১৬ মার্চ সিএবি-কে ইমেলটি করেছিলেন বোর্ডের জেনারেল ম্যানেজার (ক্রিকেট অপারেশন্‌স) অ্যাবে কুরুভিল্লা, যিনি ভারতের হয়ে ৩৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। বোর্ডের তরফে সেখানে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কেয়া শুধু প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা ক্রিকেটার, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার নন। সেই ইমেলে এ রাজ্যের ১৩ জন মহিলা ক্রিকেটারের নাম রয়েছে। প্রিয়ঙ্কা রায়, শ্যামা শ, রুনা বসু, গার্গী বন্দ্যোপাধ্যায়, মিঠু মুখোপাধ্যায়, লোপামুদ্রা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিয়াস সরকার, শর্মিলা চক্রবর্তী, পূর্ণিমা চৌধুরী, ঝুলন গোস্বামী, রুমেলি ধর এবং সন্ধ্যা মজুমদার। এই ১২ জনের নামের পাশে তাঁরা কতগুলি টেস্ট, এক দিনের ম্যাচ এবং টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক খেলেছেন, সেই সংখ্যাও লেখা রয়েছে। শুধু কেয়ার নামের পাশে লেখা ‘০, ০, ০’। অর্থাৎ, তিনি কোনও আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেননি। প্রসঙ্গত, বোর্ডের কাছে সিএবি-ই প্রাক্তন মহিলা ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার ব্যাপারে তথ্য চেয়েছিল। কারণ, কুরুভিল্লার ইমেলে লেখা আছে, ‘বিসিসিআইয়ের কাছে যে তথ্য রয়েছে, আপনার অনুরোধ অনুযায়ী তা পাঠানো হল।’ কেয়ার ব্যাপারে ওই ইমেলে আলাদা করে তিন লাইনের ব্যাখ্যাও রয়েছে। লেখা হয়েছে, ‘১৯৭৬ সালের ২৫ জানুয়ারি থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি নিউ জি়ল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের মহিলা দলের হয়ে কেয়া রায় তিনটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন। এই ম্যাচগুলি প্রথম শ্রেণির অন্তর্গত। ভারত প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলেছিল ১৯৭৬ সালের ৩১ অক্টোবর।’ অর্থাৎ, বোর্ডের ইমেল থেকে স্পষ্ট যে, কেয়া যে ম্যাচগুলি খেলেছিলেন, সেগুলি ভারত তাদের ইতিহাসে প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলারও আগে হয়েছিল। এই ইমেলের ভিত্তিতেই অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, যেখানে ভারতীয় বোর্ডই বলে দিচ্ছে কেয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার নন, সেখানে কী করে তাঁকে ওই ‘কোটায়’ সিএবি তাদের সভায় থাকার অনুমতি দিল? সিএবি-র সংবিধানে ৭ (এ) (৬) রুল্‌স-এ বলা আছে, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের (পুরুষ ও মহিলা) ভোটাধিকার আছে। ১৪ (জি) রুল্‌স-এ বলা আছে, এঁরাই সিএবি-র জেনারেল ব়়ডি মিটিংগুলিতে থাকতে পারবেন এবং সিএবি-র নির্বাচনে যে কোনও পদে লড়তে পারবেন। সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় এই বিষয়ে ২০১৯ সালে বোর্ডেরই পাঠানো আর একটি ইমেলের কথা বলছেন। সেই ইমেল এসেছিল বোর্ডের তৎকালীন সিইও রাহুল জহুরির কাছ থেকে। প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘২০১৯ সালে রাহুল জহুরি সিএবি-কে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের যে তালিকা পাঠিয়েছিলেন, সেখানে কেয়ার নাম রয়েছে। তার ভিত্তিতেই ওঁকে এজিএম, এসজিএম-এ থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। গত বছর বোর্ড বাংলার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের যে তালিকা সিএবি-কে পাঠিয়েছিল মানে তো বোর্ডই এ ব্যাপারে সন্দিহান। আমরা দ্বিতীয় ইমেল নিয়ে বোর্ডের কাছে যাব। বোর্ডের ব্যাখ্যা চাইব।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles