Friday, July 17, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

উইম্বলডন জয়ের হ্যাটট্রিকের পথে আলকারাজ?‌ বিদায় ‘আহত’ জোকোভিচের, ফাইনালে আলকারাজের সামনে সিনার

ফরাসি ওপেন ফাইনালের পুনরাবৃত্তি উইম্বলডনেও। ঘাসের কোর্টে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য লড়বেন কার্লোস আলকারাজ ও জানিক সিনার। প্রথমজন ফাইনালে। দ্বিতীয়জন সেমিতে নোভাক জোকোভিচকে হারিয়ে উইম্বলডনের ফাইনালে। আলকারাজকে তবু কিছুটা বেগ দিয়েছিলেন টেলর ফ্রিৎজ। সিনার একতরফাভাবে ৬-৩, ৬-৩, ৬-৪ ব্যবধানে জিতলেন জোকোভিচের বিরুদ্ধে। সেন্টার কোর্টে চোট নিয়ে নেমেছিলেন জোকোভিচ। কোয়ার্টার ফাইনালে পিছলে পড়ে সমস্যায় পড়েছেন, তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। সিনারের কাছে চারবারের সাক্ষাতে হেরেছিলেন, এবার স্ট্রেট সেটে উড়ে গেলেন ‘জোকার’। রাফায়েল নাদাল ছাড়া সিনারই একমাত্র জোকোভিচকে পাঁচ সাক্ষাতে হারালেন। ফের পিছলে পড়ে যান জোকোভিচ। প্রথম সেটে টানা চার পয়েন্ট জিতে জোকোভিচকে পিছিয়ে দেন সিনার। সেট জেতেন ৬-৩ ব্যবধানে। দ্বিতীয় সেটে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যান সিনার। স্পষ্টতই জোকোভিচের খেলায় সেই ছন্দটাই খুঁজে পাওয়া যায়নি। সিনার সেট পয়েন্ট নষ্ট করেছেন, তৃতীয় সেটে জোকোভিচ ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফায়দা তুলতে পারেননি সার্বিয়ান তারকা। প্রথমবার উইম্বলডনের ফাইনালে উঠলেন সিনার। সামনে চেনা প্রতিপক্ষ কার্লোস আলকারাজ। ফরাসি ওপেনের ঐতিহাসিক ফাইনালে এগিয়ে গিয়েও শেষরক্ষা করতে পারেননি সিনার। শেষ হাসি হাসেন আলকারাজ। রবিবারের ফাইনালে কী হবে?

নোভাক জোকোভিচ পারলেন না। সেমিফাইনালে বিশ্বের এক নম্বর ইয়ানিক সিনারের কাছে ৩-৬, ৩-৬, ৪-৬ হারলেন তিনি। অর্থাৎ, ফরাসি ওপেন ফাইনালের মতোই উইম্বলডন ফাইনালেও আলকারাজ বনাম সিনার লড়াই দেখা যাবে। গ্রিগর দিমিত্রভ চোট পেয়ে ম্যাচ ছেড়ে না দিলে আদৌ জোকোভিচের বিরুদ্ধে খেলতে নামতে পারতেন কি না সন্দেহ আছে। জোকোভিচকে গোটা ম্যাচেই কোর্টে নড়াচড়া, শট নির্বাচন, সার্ভিস সব দিক থেকেই সিনারের থেকে অনেকটা পিছিয়ে ছিলেন। জোকোভিচের বিরুদ্ধে আগের চারটি সাক্ষাতেই জিতেছিলেন সিনার। জোকোভিচ সার্ভিস করে খেলা শুরু করেন। সহজেই নিজের সার্ভিস ধরে রাখেন। সিনারও সার্ভিস ধরে রাখেন। তৃতীয় গেমেই জোকোভিচকে ব্রেক করে দেন সিনার। টানা চারটি পয়েন্ট জিতে সিনার সেই গেম জিতে নেন। সার্ভিস হোল্ড করে এগিয়ে যান ৩-১ গেমে। সেমিফাইনালে এর থেকে ভাল শুরু আর হত না। সিনার সেটাকেই গোটা ম্যাচে ধরে রাখেন। ফ্ল্যাভিয়ো কোবোল্লিকে হারানোর ম‍্যাচে শেষ দিকে কোর্টে পিছলে পড়ে যান জোকোভিচ। প্রথম সেটেই তাঁকে পিছলে পড়তে দেখা যায়। অষ্টম গেমে সিনারের কাছে ০-৩০ পিছিয়ে থাকার সময় একটি রিটার্ন করতে গিয়ে পড়ে যান জোকোভিচ। পরের রিটার্নটি করতেই পারেননি। জোকোভিচ ছন্দে ছিলেন না। রিটার্ন ও শট মারার ক্ষেত্রে অনীহায় সিনারের কাজ আরও সহজ হয়ে যাচ্ছিল। নবম গেমে জোকোভিচের সার্ভে সিনার এক সময় ৪০-১৫ এগিয়ে গিয়েও দু’টি সেট পয়েন্ট নষ্ট করেন। জোকোভিচ পাল্টা লড়াই দেওয়ার চেষ্টা করলে তিন বার ‘ডিউস’ হয়। আধ ঘণ্টায় প্রথম সেট হারাতে হয়। দ্বিতীয় গেমেই জোকোভিচকে ব্রেক করেন সিনার। কোর্টজুড়ে শাসন করতে থাকেন ইটালির খেলোয়াড়। সাত বারের উইম্বলডন জয়ী জোকোভিচকে তখন নেহাতই এক শিক্ষার্থী মনে হচ্ছিল। বোঝা যাচ্ছিল, তাঁর চোট পুরোপুরি সারেনি। উল্টো দিকে থাকা সিনার অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। দ্বিতীয় সেটে ৩-১ এগিয়ে যান সিনার। চতুর্থ গেমে সার্ভ ধরে রাখেন জোকোভিচ। সার্বিয়ার খেলোয়াড়কে চাঙ্গা করার জন্য স্টেডিয়াম জুড়ে ‘নোভাক, নোভাক’ চিৎকার শুরু হয়। প্রত্যেকেই দেখতে চাইছিলেন জোকোভিচের প্রত্যাবর্তন। অষ্টম গেমে আবার সার্ভিস খোয়ানোর মুখে এসে দাঁড়ান জোকোভিচ। এ বারও একের পর এক ডিউস ধরে রাখেন। তবে এ বার সার্ভিস ধরে রাখেন জোকোভিচ। কিন্তু সেট ধরে রাখতে পারেননি। পরের গেমেই নিজের সার্ভিস ধরে রেখে ২-০ এগিয়ে যান বিশ্বের এক নম্বর সিনার।
দ্বিতীয় সেটের শুরুতে জোকোভিচ সার্ভিস ধরে রাখেন। দ্বিতীয় গেমে ব্রেক করে দেন সিনারকে। চলতি প্রতিযোগিতায় প্রথম বার কেউ সিনারকে ব্রেক করেন। পরের সার্ভ ধরে রেখে জোকোভিচ এক সময় ৩-০ এগিয়ে যান। সেখান থেকে আবার ছন্দে ফিরতে থাকেন সিনার। চতুর্থ গেমে নিজের সার্ভিস ধরে রাখার পর পঞ্চম গেমে জোকোভিচকে ব্রেক করেন। ষষ্ঠ গেমে নিজের সার্ভিস ধরে রাখার পর সপ্তম গেমে আবার ব্রেক করেন জোকোভিচকে।

ফের উইম্বলডনের ফাইনালে কার্লোস আলকারাজ। সেমিফাইনালে আমেরিকার টেলর ফ্রিৎজকে উড়িয়ে আরও একবার ঘাসের কোর্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সামনে স্প্যানিশ তারকা। আর সেমির লড়াইয়ে তিনি হারালেন মাত্র একটি সেট। আলকারাজ জেতেন ৬-৪, ৫-৭, ৬-৩, ৭-৬ (৮-৬) ব্যবধানে। এবার চ্যাম্পিয়ন হলে উইম্বলডন জয়ের হ্যাটট্রিক হবে আলকারাজের। যে রেকর্ড এখনও পর্যন্ত আছে মাত্র পাঁচজন টেনিস তারকার। টানা ২৪টা ম্যাচ জিতে উইম্বলডনের ফাইনালে উঠলেন আলকারাজ। ২ ঘণ্টা ৪৯ মিনিটের ম্যাচে সে অর্থে বড়সড় বিপদের মুখে পড়তে হয়নি। দ্বিতীয় সেটে পিছিয়ে পড়েছিলেন, আবার চতুর্থ সেটেও টাইব্রেকার পর্যন্ত লড়তে হয়েছিল। কিন্তু আলকারাজ ফের বুঝিয়ে দিলেন, কেন ঘাসের কোর্টে তিনি গত দু’বারের চ্যাম্পিয়ন। প্রথম সেট সহজেই ৬-৪ ব্যবধানে জেতেন। দ্বিতীয় সেটে ৫-৭ ব্যবধানে হেরে কিছুটা বিপাকে পড়েছিলেন। তৃতীয় সেটে অবশ্য বেসলাইন থেকে আলকারাজের একের পর এক গোলার মতো শটের ধাক্কা ফ্রিৎজ সামলাতে পারেননি। চতুর্থ সেট গড়ায় টাইব্রেকারে। কিন্তু মাথা ঠান্ডা রেখে দু’বার সেট পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়ে ম্যাচ জিতে নেন আলকারাজ। ফাইনালে তাঁর সামনে পড়বেন জানিক সিনার ও নোভাক জকোভিচের মধ্যে কোনও একজন। প্রতিপক্ষ যিনিই হোক না কেন, অ্যাডভান্টেজে থাকবেন আলকারাজই। কিছুদিন আগেই ফরাসি ওপেনের ঐতিহাসিক ফাইনালে তিনি হারিয়েছিলেন সিনারকে। সার্বিক পরিসংখ্যানেও ৮-৪ ব্যবধানে এগিয়ে স্প্যানিশ তারকা। জকোভিচের থেকে অবশ্য তিনি ৩-৫ ব্যবধানে পিছিয়ে আছেন। কিন্তু উইম্বলডনের ফাইনালে গত দু’বার আলকারাজ সার্বিয়ার তারকাকেই হারান। রবিবারের ফাইনালে জিততে পারলে একাধিক রেকর্ড গড়বেন আলকারাজ। পঞ্চম টেনিস প্লেয়ার হিসেবে উইম্বলডন জয়ের হ্যাটট্রিক গড়বেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে পরপর দু’বছর ফরাসি ওপেন ও উইম্বলডন জয়ের রেকর্ড করবেন। যে কৃতিত্ব রয়েছে শুধুমাত্র বিয়ন বর্গের। তবে বর্গ এই রেকর্ড গড়েছিলেন টানা তিনবছর। সেই পথে আলকারাজ এগিয়ে যেতে পারেন কি না, সেটাই দেখার। রবিবার স্পেনের খেলোয়াড় নামবেন হ্যাটট্রিক করতে। কিছু দিন আগে ফরাসি ওপেনও জিতেছিলেন। ফাইনালে ইয়ানিক সিনার বনাম নোভাক জোকোভিচ ম্যাচের বিজয়ীর বিরুদ্ধে খেলবেন আলকারাজ। রবিবার জিতলে বিশ্বের পঞ্চম খেলোয়াড় হিসাবে টানা তিনটি উইম্বলডন জয়ের নজির গড়বেন আলকারাজ। দু’ঘণ্টা ৪৮ মিনিটে ম্যাচ জিতেছেন আলকারাজ়। তবে বেশ কয়েক বার কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। দ্বিতীয় সেটের শেষ দিকে মনঃসংযোগে ঘাটতি হওয়ায় জিততে পারেননি। তবে তৃতীয় সেটে ফিরে আসেন। বেসলাইন থেকে একের পর এক জোরালো শটে বিপদে ফেলেন ফ্রিৎজকে। চতুর্থ সেটের টাইব্রেকারে তিনি দু’বার সেট পয়েন্ট বাঁচান। তার পর টানা চারটি পয়েন্ট জিতে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেন। বিয়র্ন বর্গের পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসাবে পর পর দু’বছর ফরাসি ওপেন এবং উইম্বলডন একই সঙ্গে জেতার নজিরও গড়বেন আলকারাজ। বর্গ এই কাজ করেছেন টানা তিন বছর। টানা ২৪টি ম্যাচ জিতে ফাইনালে নামবেন আলকারাজ। গত মাসে আলকারাজ তিনটি ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে সিনারকে ফরাসি ওপেনের ফাইনালে হারিয়েছিলেন। ইটালীয় খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে মুখোমুখি সাক্ষাতে ৮-৪ এগিয়ে আলকারাজ়। শেষ দু’বার উইম্বলডন ফাইনালে জোকোভিচকে হারিয়েছিলেন আলকারাজ।

হরিয়ানায় বৃহস্পতিবার বাবার হাতে খুন হয়েছেন এক টেনিস খেলোয়াড়। রান্না করার সময় রাধিকা যাদবের উদ্দেশে পাঁচটি গুলি চালান তাঁর বাবা দীপক। সেই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করলেন নীরজ চোপড়া। অলিম্পিক্সে সোনাজয়ী জানালেন, বাবা-মা-সহ পরিবারের উচিত মহিলা ক্রীড়াবিদদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের পূর্ণ সমর্থন করা। নীরজ বলেছেন, “কিছু ক্ষণ আগেই কয়েক জনের সঙ্গে এটা নিয়ে কথা হচ্ছিল। হরিয়ানার কিছু দুর্দান্ত মহিলা ক্রীড়াবিদের কথা আমরা ইতিমধ্যেই জানি। দেশের হয়ে দারুণ খেলছে ওরা। এ ধরনের পরিবারের প্রত্যেকের উচিত একে অপরের পাশে দাঁড়ানো। যে সব মহিলা ক্রীড়াবিদ ভাল খেলছে তাদের আদর্শ মেনে অনুসরণ করা উচিত বলে আমি মনে করি।” প্যারিস অলিম্পিক্সে জোড়া পদকজয়ী মনু ভাকর হরিয়ানার মেয়ে। শুটিংয়ে রয়েছেন রিদম সাঙ্গওয়ানও। এ ছাড়া কুস্তিতে বিনেশ ফোগাট, গীতা ফোগাট, ববিতা ফোগাট, কৃষ্ণা পুনিয়া, হকিতে রানি রামপাল, সবিতা পুনিয়া, রিতু রানি, ডিসকাস থ্রোয়ার সীমা পুনিয়া, গলফার দীক্ষা ডাগর, অ্যাথলেটিক্সে নির্মলা শেওরান, পূজা সিংহ, ফুটবলে সঞ্জু যাদবেরা হরিয়ানার প্রতিনিধিত্ব করেন। গুরুগ্রাম পুলিশের পিআরও সন্দীপ কুমার জানিয়েছেন, খুনের খবর পেয়েই তাঁরা হাসপাতালে গিয়ে ২৫ বছরের রাধিকাকে দেখতে পান। পরে জানা যায়, রাধিকা একজন টেনিস খেলোয়াড়। তিনি বলেছেন, “ওর বাবাই ওকে খুন করেছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে অপরাধের কথা স্বীকার করেছে দীপক। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, রাধিকা একটা টেনিস অ্যাকাডেমি চালাত বলে ওর বাবার রাগ ছিল। আগেও বলেছিল অ্যাকাডেমি বন্ধ করে দিতে। সেটা নিয়েই খুন করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যে অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয়েছে সেটি বাজেয়াপ্ত করেছি আমরা।” ম্যাচের পর আলকারাজ বলেছেন, “টেলরের বিরুদ্ধে খেলতে নামলেই কঠিন ম্যাচ হয়। পরিবেশ সেটাকে আরও কঠিন করে তুলেছিল। বেশ গরম ছিল আজ। যে ভাবে খেলেছি তাতে আমি খুশি। স্নায়ু নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। এখানে সেমিফাইনাল খেলা সহজ কাজ নয়। নিজেকে শান্ত রেখে এবং ভাবনাচিন্তা ঠিকঠাক রাখার কারণে জিতেছি।” টানা ২৪ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড মাথাতেই রাখতে চান না তিনি। বলেছেন, “আগে কী হয়েছে এবং ক’টা ম্যাচ জিতেছি সে সব মাথাতেই রাখছিল। এই সুন্দর কোর্টে নেমে বিশ্বের সবচেয়ে সেরা প্রতিযোগিতায় ভাল খেলাই আমার স্বপ্ন। প্রত্যেক প্রতিযোগিতায় ভাল খেলার কথা ভেবেই নামি। মানুষকে আরও বেশি আনন্দ দিতে চাই।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles