পিসি ও ভাইপোর সম্পর্ক মেনে নেয়নি গ্রামবাসীরা। ষাঁড়ের মতো লাঙলে বেঁধে যুবক ও যুবতীকে দিয়ে হালচাষ করানো হল। চাষিরা যেমনভাবে ষাঁড়কে মারেন, কঞ্চি দিয়ে মারধর করা হল নবদম্পতিকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিয়ো ভাইরাল। পশ্চিমবঙ্গের পড়শি রাজ্য ওড়িশার রায়গড়া কাঞ্জামাঝিরা গ্রামের ঘটনা। সপ্তাহখানেক আগেও সেই ঘটনা ঘটলেও এখন ভিডিয়োটি ভাইরাল হওয়ার পরে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। যদিও আপাতত কাউকে গ্রেফতারির খবর মেলেনি। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ সুপার এস স্বাতী কুমার জানিয়েছেন যে তদন্তের জন্য ইতিমধ্যে ওই গ্রামে গিয়েছে পুলিশের একটি দল। শীঘ্রই মামলা রুজু করা হবে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ বিস্তারিতভাবে কিছু না জানালেও অভিযোগ উঠেছে যে ওই নবদম্পতির প্রেমের সম্পর্ক মেনে নেননি গ্রামবাসীরা। ওড়িশার সংবাদমাধ্যম কলিঙ্গ টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই যুবক এবং যুবতী আদতে পিসি এবং ভাইপো। একে অপরের প্রেমে পড়ে যান তাঁরা। তাঁদের সম্পর্কে অবৈধ বলে দাগিয়ে দেন গ্রামবাসীরা। ‘শাস্তি’ হিসেবে লাঙল বেঁধে যুবক এবং যুবতীকে হালচাষ করানো হয়। ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, লাঙলের যেমনভাবে ষাঁড় বাঁধা হয়, সেরকমভাবেই যুবক ও যুবতীকে বাঁধা হচ্ছে। সেইসময় যুবতীর শরীর স্পর্শ করতে দেখা যায় কমপক্ষে দুই পুরুষকে। তারইমধ্যে যুবক এবং যুবতীকে উঠে দাঁড়াতে বাধ্য করা হয়। যেমনভাবে হালচাষ করা হয়, সেরকমভাবে তাঁদের জমিতে ঘোরানো হতে থাকে। কঞ্চি দিয়ে মারাও হয়। প্রাথমিকভাবে দু’জন পুরুষ মারছিলেন। তারপর মারতে তেড়ে আসেন এক বৃদ্ধাও। সেইসময় যুবক এবং যুবতীকে থামিয়ে দেওয়া হয়। বৃদ্ধা মারতে না মারলেও ওই যুবককে পরপর চড় মারতে থাকেন এক পুরুষ। ভাইরাল ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, দুই যুবক-যুবতীকে দিয়ে লাঙল টানানো হচ্ছে। শুধু লাঙল টানানোই নয়, পিছন থেকে লাঠি নিয়ে তাঁদের মারতে দেখা যাচ্ছে। দূর থেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সেই ঘটনা দেখছেন কয়েকজন। তবে এখানেই ক্ষান্ত থাকেননি এলাকাবাসী। লাঙল টানানোর পর নবদম্পতিকে স্থানীয় একটি মন্দিরে নিয়ে গিয়ে শুদ্ধিকরণ করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার এস স্বাতী কুমার জানান, ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা ওই গ্রামটি পরিদর্শন করে এসেছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। দ্রুত মামলাও দায়ের করা হবে। ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই প্রশ্ন উঠেছে যে ওড়িশায় কি জঙ্গলরাজ চলছে? বিজেপি-শাসিত রাজ্যে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ১৭ দিনে সাতটি ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের খবর সামনে এসেছে। প্রশ্ন উঠেছে বিজেপি-শাসিত রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে। জনপ্রিয় টুরিস্ট স্পট গোপালপুর বিচে ২০ বছরের এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে যে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী, ১৭ বছরের মেয়ে, যুবতীদের ধর্ষণ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মানুষ প্রশ্ন তুলেছে, সরকার কী করছে? আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা কি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে?

কসবা আইন কলেজের পর আইআইএম জোকা। হস্টেলে তরুণীকে ডেকে ‘ধর্ষণ’। ছাত্রীকে বেহুঁশ করে ‘ধর্ষণ’ বয়েজ হস্টেলে, দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়াকে গ্রেফতার করল পুলিশ। কলকাতার ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট আইআইএম জোকা ক্যাম্পাসে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ। কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত ওই ম্যানেজমেন্ট শিক্ষাকেন্দ্রের হস্টেলে এক তরুণীকে ডেকে এনে যৌন নিগ্রহ তথা ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তির আইআইএম জোকার এক ছাত্রের বিরুদ্ধে।দক্ষিণ শহরতলির হরিদেবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তরুণীকে হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ পেয়েই তৎপর হয়ে ওঠেন হরিদেবপুর থানার আধিকারিকরা। পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, রাতেই কলেজের এক ছাত্রকে আটক করা হয়েছে। ছাত্র মূল অভিযুক্ত কি না, তদন্ত চলছে বলে দাবি পুলিশ সূত্রের। কসবার আইন কলেজে এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় হয়েছে রাজ্যে। এর মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের আওতায় কলেজের ক্যাম্পাসে যৌন নিগ্রহর অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন লালবাজারের কর্তারা। পুলিশ জানিয়েছে, সোশাল মিডিয়ায় অভিযুক্ত ওই তরুণ ছাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ হয় তরুণীর। ওই তরুণীর সঙ্গে তার বন্ধুর সম্পর্কের কিছুটা অবনতি হয়। এরপরই তরুণী ওই ছাত্রর কাছ থেকে পরামর্শ নিতে চান। তাকে কলেজ ক্যাম্পাসে এদিন আসতে বলা হয়। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, সঙ্গে তরুণীর ওই এক পরিচিত। তরুণীর সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনার নাম করে তাকে হস্টেলে নিয়ে যাওয়া হয়। হস্টেলের ফাঁকা ঘরে তাঁর উপর যৌন নিগ্রহ হয় ও এই ঘটনার কথা কাউকে জানালে ফল ভালো হবে না বলে তরুণীকে হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। যদিও পুলিশকে তরুণী জানান, অভিযুক্তর অত্যাচারের হাত থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসার পরই তিনি হরিদেবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সোশাল মিডিয়ায় আলাপ। কাউন্সেলিংয়ের জন্য তরুণীকে হস্টেলে আসতে বলে দ্বিতীয় বর্ষের ম্যানেজমেন্ট পড়ুয়া। সেই অনুযায়ী কলেজের হস্টেলে যান তরুণী। এরপর হস্টেলে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। আইআইএম জোকায় ধর্ষণ কাণ্ডের তদন্তে নেমে এমনই তথ্য পেল পুলিশ। তরুণীর দাবি, হস্টেলে যাওয়ার পর পিৎজা এবং জল খেতে দেয় দ্বিতীয় বর্ষের ম্যানেজমেন্ট পড়ুয়া। কিছুক্ষণের মধ্যে তাঁর শরীর খারাপ লাগতে শুরু করে। বমি পায়। ওই যুবক তাঁকে শৌচালয়ে যেতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ। তরুণীর দাবি, যুবক চড়-থাপ্পড় মারে। অচৈতন্য হয়ে পড়েন তরুণী। জ্ঞান ফেরার পর অভিযুক্তের হাত থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে হরিদেবপুর থানায় যান। অভিযোগ দায়ের করেন। রাতেই হস্টেলে যায় পুলিশ। অভিযুক্তকে আটক করে। একটানা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জানা গিয়েছে, ধৃত যুবক পরমানন্দ জৈন। ভিনরাজ্যের বাসিন্দা। কসবার আইন কলেজে ইউনিয়ন রুমে ছাত্রীর গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। তা নিয়ে জোর শোরগোল পড়ে যায়। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের শিক্ষাঙ্গণে ধর্ষণের ঘটনা। স্বাভাবিকভাবে এই ঘটনা নিয়ে চলছে জোর কাটাছেঁড়া। প্রশ্নের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত কলেজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে এক তরুণী বয়েজ হস্টেলে ঢুকলেন? কেন নিরাপত্তারক্ষীরা আগেই বাধা দিলেন না? শোনা যাচ্ছে, সম্ভবত ভিজিটার্স বুকেও তরুণীকে সই করতে দেওয়া হয়নি। অভিযুক্ত যুবক পরমানন্দ কি তবে প্রভাবশালী? সে কারণেই তরুণীকে বয়েজ হস্টেলে ঢোকার পথে বাধা দেওয়া হয়নি? সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। পুলিশ আপাতত নির্যাতিতার বয়ান এবং মেডিক্যাল রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে তদন্ত করছে। ধৃত যুবককেও দফায় দফায় চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।
বিধবা পুত্রবধূকে বিয়ে শ্বশুরের! একাকিত্ব ঘোচাতে শুরু নতুন দাম্পত্য। বউমার সঙ্গে স্বাভাবিক কথাবার্তা বলতে গিয়ে প্রেমে পড়ে যান বছর পঞ্চাশের একাকী প্রৌঢ়। স্বামীহারা তরুণীও সাহচর্য, সহমর্মিতায় সম্পর্কে লিপ্ত। এভাবেই দিন কাটানোর মাঝেই একদিন বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন অসমবয়সি দুই সঙ্গীহারা যুগল। কাকাশ্বশুর আর বউমার সম্পর্ক বদলে গেল স্বামী-স্ত্রীতে! এমনই গল্পের মতো ঘটনা ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গায়। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই একাকী হয়ে পড়েছিলেন আর্জিনা বিবি (নাম পরিবর্তিত)। ওদিকে ভরা সংসার থাকলেও স্ত্রী মৃত্যুর পর থেকে সঙ্গীর অভাবে জীবনটা একেবারে বিষাদময় হয়ে উঠেছিল বছর পঞ্চাশের কাকাশ্বশুর জামাল খাঁ-র (নাম পরিবর্তিত)। শেষে শ্বশুর-বউমার চার হাত এক হয়ে একাকীত্ব ঘুচল দু’জনের। তবে এই পথ খুব একটা মসৃণ ছিল না। পারিবারিক বাধা এসেছিল। তবু বৃহস্পতিবার দেগঙ্গার বেড়াচাঁপা এলাকার দুই মানব-মানবী সেসব উপেক্ষা করে যেভাবে নিজেদের দ্বিতীয় বসন্তে ভাসলেন, তা তারিফযোগ্য! তাঁদের বিয়ের কথা চাউর হতেই চর্চা শুরু হয়েছে পাড়ার মোড় থেকে চায়ের দোকান সর্বত্র। এমনও হয়? কারও কারও মুখে বিস্ময়। আবার কেউ ছিছিক্কার করতেও পিছপা হচ্ছেন না। সম্পর্কে কাকা-শ্বশুর বছর পঞ্চাশের জামাল খাঁ’র (নাম পরিবর্তিত) ভরা সংসার। ছেলে, বউমা, নাতি সকলেই রয়েছে। তবুও বছর তিন আগে স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকেই একাকী সে। এরপরই মধ্যে বছর দুই আগে মৃত্যু হয় ভাইপোর। মেয়েরও বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তারপর থেকে একাকী হয়ে পড়েন প্রতিবেশী বউমা আর্জিনা। ধীরে ধীরে স্ত্রীহারা কাকাশ্বশুর ও বছর পঁয়ত্রিশের বউমার মধ্যে শুরু হয় মেলামেশা। ঘনিষ্ঠতা বাড়ে, একে অপরের প্রতি দুর্বলতা তৈরি হয়। এরপরই মাসখানেক আগে তাঁরা নতুন করে সংসার বাঁধার পরিকল্পনা করে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। নিয়ম মেনে দু’জনে রেজিস্ট্রিও সেরে ফেলেন। বিষয়টি জানতে পেরে যথারীতি আপত্তি জানায় জামালের পরিবার। কিন্তু প্রেমের টানে কেউই তাদের সিদ্ধান্ত টলাতে পারেনি। অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে বিবাহ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তাঁরা। আপাতত আর্জিনার বাড়িতেই রয়েছে তাঁর স্বামী ‘শ্বশুর জামাল’।
নাবালিকার যৌন নিগ্রহের ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই নাবালিকা ও অভিযুক্তের বাড়ি জয়নগরের খাকুরদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের দেওয়ানগঞ্জ মণ্ডলপাড়ায়। অভিযুক্ত ব্যক্তির এলাকায় একটি তেলেভাজার দোকান আছে। অভিযোগ, সম্প্রতি ওই এলাকারই বাসিন্দা ষষ্ঠ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে খাবারের লোভ দেখিয়ে ওই ব্যক্তি একটি বাগানে নিয়ে গিয়েছিল। সেখানেই কিশোরীর উপর যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনা মোবাইল ফোনে ভিডিও আকারে তুলে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। আর এরপরেই শুরু হয় ব্ল্যাকমেল করা। অভিযোগ, নিগ্রহের ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়া হবে বলে ভয় দেখিয়ে নাবালিকাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। শেষপর্যন্ত বাধ্য হয়ে ওই কিশোরী বাড়ি ফিরে নাবালিকাকে সব কথা জানায়। কালবিলম্ব না করে ওই কিশোরীর পরিবার জয়নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ পেয়েই পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতকে এদিন আদালতে তোলা হয়। এই পরিস্থিতিতে মানুষ প্রশ্ন তুলেছে, সরকার কী করছে? আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা কি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে?




