Thursday, April 23, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘ভাতার লড়াই’য়ে মমতার তৃণমূলকে পিছনে ফেলে দিল শাহী ইস্তেহার!‌ বিজেপি ‘সংকল্পপত্রে’ কাজের খোঁজে থাকা  যুবক-যুবতীদের জন্য মাসে ৩০০০, মহিলাদের ৩০০০ টাকা!

RK NEWZ বিজেপির ‘সঙ্কল্পপত্রে’ অধিকাংশই ভাতা-গোত্রীয়। মমতার তৈরি করা অস্ত্রেই মমতাকে হারানোর কৌশল বিজেপির। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইস্তেহারে লিখিত ঘোষণা করে নেমে পড়ল ভাতা-যুদ্ধে। অমিত শাহ আগেই বলেছিলেন, ‘‘আগামী পশ্চিমবঙ্গের যে রোডম্যাপ নিয়ে এ বারের নির্বাচনে কথা হবে, আমাদের সঙ্কল্পপত্র (ইস্তেহার) হল তার পরিচায়ক।’’ তাঁর প্রকাশ করা বিজেপির ইস্তেহারটিতে পশ্চিমবঙ্গের ‘আগামী’র জন্য একটি ‘রোডম্যাপ’ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার চেয়ে উজ্জ্বল ভাবে রয়েছে নানা ধরনের ভাতা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যত রকম বা যে পরিমাণ ভাতা চালু করেছে, তার কয়েকগুণ ভাতা তথা আর্থিক সহায়তার কথা নির্বাচনী ইস্তেহারে ঘোষণা করে দিল বিজেপি। গত ১৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গে নানা রকমের ভাতা চালু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পে প্রথমে মাসে ৫০০ টাকা করে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু করেছিলেন। পরে তা বেড়ে হয় ১০০০টাকা। এ বারের ভোটের আগে তা পৌঁছে গিয়েছে ১৫০০ টাকায়। সম্প্রতি তিনি ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে বেকার যুবক-যুবতীদের জন্যও মাসিক ১৫০০ টাকা ভাতা চালু করেছেন। ভোটের আগে এই দুই সিদ্ধান্ত মমতার ‘মাস্টারস্ট্রোক’ বলে অনেকে দাবি করছেন। বিজেপি-ও ঝুঁকি না-নিয়ে বলতে শুরু করেছিল যে, মমতা যা দিচ্ছেন, ক্ষমতায় এলে বিজেপি তার দ্বিগুণ দেবে। এ বার নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করে খোদ শাহ সে কথা আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণাও করে দিলেন। ফলে ইস্তেহারে উল্লিখিত শিল্পোন্নয়ন, পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়ন ইত্যাদির চেয়ে ভাতা-উন্নয়ন নিয়েই বেশি কথা শুরু হয়ে গিয়েছে। ‘সঙ্কল্পপত্র’ প্রকাশের জন্য নিউটাউনে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে শাহ শুক্রবার গরিব, নিম্মমধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত ঘরের মহিলাদের জন্য এবং কাজের খোঁজে থাকা যুবক-যুবতীদের জন্য মাসে ৩০০০টাকা করে ভাতার কথা ঘোষণা করতেই রাজ্য বিজেপিতে উচ্ছ্বাস শুরু হয়ে যায়। মমতার তথাকথিত ‘মাস্টারস্ট্রোক’-কে ‘শাহি’ ঘোষণা ম্লান করে দিয়েছে।

বিজেপির ইস্তেহার অবশ্য ওই দুই ঘোষণাতেই থেমে যায়নি। ‘প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধি’ প্রকল্পে এখন বছরে ছ’হাজার টাকা করে দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্যে বিজেপির সরকার তৈরি হলে মুখ্যমন্ত্রী ওই প্রকল্পে আরও তিন হাজার টাকা করে দেবেন বলে শাহ ঘোষণা করেছেন। অর্থাৎ প্রত্যেক প্রাপকের অ্যাকাউন্টে বছরে ন’হাজার টাকা করে ঢুকবে। রাজ্য সরকারের ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পে কৃষকরা বছরে সর্বনিম্ন চার হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত পান। বিজেপি জানাচ্ছে, ক্ষমতায় এলে কৃষকদের সহায়তার ক্ষেত্রে এ রকম ‘সর্বনিম্ন’ বা ‘সর্বোচ্চ’ ভেদ থাকবে না। প্রত্যেকে বছরে ন’হাজার টাকা করে পাবেন। বিনামূল্যে স্বাস্থ্য বিমার ক্ষেত্রেও তৃণমূলের প্রকল্পকে ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা দেখিয়েছে বিজেপি। বর্তমানে রাজ্য সরকারের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ বা কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত’, দু’টি প্রকল্পেই বছরে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মূল্যের চিকিৎসা মেলে। ফারাক হল, কেন্দ্রীয় প্রকল্পটি সত্তর বছর বয়স পর্যন্ত নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যে প্রযোজ্য। রাজ্যের স্বাস্থ্যসাথী যে কোনও আয়ের মানুষই পেতে পারেন। বিজেপি শুক্রবার গোষণা করেছে, পশ্চিমবঙ্গে তারা ক্ষমতায় এলে এ রাজ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালু করা হবে। তাতে শুধু রাজ্যের মধ্যে নয়, দেশের যে কোনও প্রান্তে গিয়ে নিখরচায় চিকিৎসা করানোর সুযোগ মিলবে। তার পাশাপাশি রাজ্য সরকারও ওই প্রকল্পে অতিরিক্ত তহবিল যোগ করবে। ফলে বিমার মূল্য পাঁচ লক্ষ টাকার বেশি হবে। চার ঘোষণা যদি হয় তৃণমূল সরকারের চালু করা প্রকল্পগুলিকে ‘টেক্কা’ দেওয়ার চেষ্টা, তা হলে পরবর্তী ঘোষণাগুলি ছিল ‘ভাতার লড়াই’য়ে তৃণমূলকে পিছনে ফেলে দেওয়ার প্রয়াস। কারণ আরও একগুচ্ছ ক্ষেত্রে ভাতা তথা আর্থিক অনুদানের ঘোষণা এ দিন বিজেপির ইস্তেহারে প্রকাশ পেয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles