Monday, April 27, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ইডেনে নাইটদের হারিয়ে দিল সানরাইজার্স!‌ রহস্য উধাও!‌ শনির দশা কাটল না বরুণ চক্রবর্তীর!‌

ইডেনেও হাসি ফিরল না অজিঙ্ক রাহানেদের। বলা ভালো, ঘরের মাঠে মুখ ব্যাজার করে থাকতে হল কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। প্রথম ম্যাচে ২২০ তুলেও হারের পর চেহারাটা বিশেষ বদলায়নি নাইটদের। বৃহস্পতিবাসরীয় ম্যাচেও হোম অ্যাডভান্টেজ নিতে ব্যর্থ বলিউড বাদশার দল। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের দেওয়া ২২৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে কেকেআর গুটিয়ে গেল মাত্র ১৬১ রানে। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা খারাপ করেননি ফিন অ্যালেন। প্রথম ওভারে ২৪ রান করলেন কিউয়ি তারকা। যদিও ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলেন না তিনি। ৮ বলে ২৭ রান সাজঘরে ফিরলেন হর্ষ দুবের অসাধারণ ক্যাচে। চার ওভারে ৫০ পার হলেও ব্যাট হাতে ব্যর্থ নাইট অধিনায়ক রাহানে। তাঁর সংগ্রহ ১০ বলে মাত্র ৮ রান। এরপর হাস্যকর রান আউটের শিকার ২৫ কোটির অজি তারকা ক্যামেরন গ্রিন। এই ম্যাচেও বল তো করলেনই না। ব্যাট হাতেও ‘দায়িত্ব নিয়ে’ ডোবালেন। ঈশান মালিঙ্গার বলে সোজা মারেন রঘুবংশী। জয় দিয়ে আইপিএল অভিযান শুরু হয়নি ইডেন গার্ডেন্সে যুযুধান দুই প্রতিপক্ষের। কেকেআর অধিনায়ক প্রথমে ব্যাটিং করতে পাঠালেন সানরাইজার্সকে। এই সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে যেতেই পারত। সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করল বটে নাইটরা, তবে বড়সড় লক্ষ্য তাড়া করতে হবে রাহানেদের। প্রথমে ব্যাট করে নাইটদের সামনে ২২৭ রানের লক্ষ্য রাখল হায়দরাবাদ। ‘রণংদেহি’ মেজাজে শুরু করেছিলেন সানরাইজার্স ওপেনার ট্যাভিস হেড এবং অভিষেক শর্মা। তাঁদের তাণ্ডব দেখে মনে হচ্ছিল কপালে দুঃখ অপেক্ষা করে আছে নাইটদের। নাইট বোলারদের পরিকল্পনাকে কার্যত ভেস্তে দিয়ে একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ম্যাচের রাশ নিজের হাতে তুলে নেন তাঁরা। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে জ্যাকব ডাফি শর্ট বলের ফাঁদে ফেলে এসআরএইচ ব্যাটারদের বিপাকে ফেলেছিলেন। সেই কৌশলই এদিন অনুসরণ করতে গিয়ে ফাঁদে পড়লেন ব্লেসিং মুজারাবানি। প্রথম ওভারেই বিপক্ষ ব্যাটারদের বাড়তি জায়গা দিয়ে ফেলেন তিনি। আর সুযোগেই কভার এলাকায় দিয়ে টানা দু’টি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে চাপ বাড়িয়ে দিলেন। তাঁর শেষ বলে ডিপ মিডউইকেটের উপর দিয়ে উড়িয়ে দিলেন অভিষেক শর্মা। এটাই ছিল ম্যাচের প্রথম ছক্কা। তৃতীয় ওভারে আক্রমণে আসা বৈভব অরোরার উপর নির্দয় হন অজি ব্যাটার। প্রথম পাঁচ বলেই দু’টি চার ও দু’টি ছক্কা হাঁকান হেড। তিন ওভারে বিনা উইকেটে ৪৩ রান তুলে নেয় হায়দরাবাদ। হেড বনাম বৈভবের লড়াইটা বেশ জমজমাট। ২০২৪ সালের ফাইনালে প্রথম বলেই হেডকে আউট করেছিলেন তিনি। ২০২৫ সালের প্রথম ম্যাচেও দ্রুত ফিরিয়েছিলেন। তবে এদিনের দ্বৈরথে মধুর প্রতিশোধ নিয়েছেন হেড। দু’জনের মুখোমুখি পরিসংখ্যানও সেই গল্পই বলছে। সব মিলিয়ে বৈভবের ২২ বলে ৪৯ রান করেছেন হেড। আউট হয়েছেন মাত্র দু’বার। মাঠে তাঁর এই বিধ্বংসী ইনিংস আবারও প্রমাণ করে দিল, সুযোগ পেলে কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন তিনি। অজি তারকা শেষ পর্যন্ত কার্তিক ত্যাগীর বলে ২১ বলে ৪৬ রান করে আউট হলেন যখন, তখন এসআরএইচের রান ৫.৪ ওভারে ৮২। ইডেনেও শনির দশা কাটল না বরুণ চক্রবর্তীর। তাঁর প্রথম ওভারে ২৫ রান নিলেন অভিষেক শর্মা। প্রথম ৮ ওভারে ১ উইকেটে ১১০ রান তোলে হায়দরাবাদ। ব্যর্থ হন অধিনায়ক ঈশান শর্মা। ৯ বলে ১৪ করলেন। মুজারাবানির বলে সাজঘরে ফিরলেন তিনি। এর ঠিক পরেই আউট অভিষেকও। জিম্বাবোয়ে তারকাই ২১ বলে ৪৮ করে ফেরালেন বাঁহাতি ওপেনারকে। নিজের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই উইকেট অনুকূল রায়ের উইকেট পেলেন অনুকূল রায়। এই সময়টায় সাত বলের মধ্যে ৩ উইকেট হারাল হায়দরাবাদ। এরপর অবশ্য জমে যান হাইনরিখ ক্লাসেন ও নীতীশ রেড্ডি। দু’জনের ৮২ রানের জুটিতে ২০০-র মাইলস্টোনে পৌঁছয় হায়দরাবাদ। জুটি ভাঙলেন বৈভব অরোরা। ২৪ বলে ৩৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন নীতীশ। ঠিক পরের বলেই সলিল অরোরাকে বোল্ড করলেন।

জয়ের জন্য ২২৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ঝড়ের গতিতে করেছিলেন ফিন অ্যালেন। ডেভিড পাইনের প্রথম ওভারের শেষ পাঁচ বলে তোলেন ২৪ রান। মারেন ৩টি চার এবং ২টি ছয়। তবে বেশিক্ষণ ২২ গজে টিকলেন না নিউ জ়িল্যান্ডের ব্যাটার। অতিরিক্ত আগ্রাসী হতে গিয়ে উইকেট ছুড়ে দিলেন। করলেন ৭ বলে ২৮ রান। মোট ৪টি চার এবং ২টি ছয় মারেন তিনি। আগের দিন ভাল ব্যাট করা রাহানে এ দিন হতাশ করলেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলতে নেমে প্রায় টেস্টের মতো ব্যাট করলেন। ১০ বলে ৮ রান কেকেআর অধিনায়কের। অঙ্গকৃশ রঘুবংশীর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হলেন ক্যামেরন গ্রিন (২)। ৭৪ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর রঘুবংশীর সঙ্গে কেকেআরের ইনিংসের হাল ধরার চেষ্টা করেন সহ-অধিনায়ক রিঙ্কু সিংহ। কিন্তু নিজের দোষে রান আউট হলেন রঘুবংশী। দু’টি রান আউটই হাস্যকর। রঘুরংশী করলেন ২৯ বলে ৫২। মারলেন ৬টি চার এবং ২টি ছয়। দলকে আরও চাপে ফেলে দিলেন অনূকূল রায় (০)। পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে পারলেন না রমনদীপ সিংহও। হায়দরাবাদের বোলারেরা বলের গতি কমিয়ে সমস্যায় ফেলে দিলেন কেকেআর ব্যাটারদের। পিচের এই চরিত্র বুঝতেই পারেননি রাহানেরা। নীতীশ কুমার রেড্ডির বল সামলাতেও সমস্যায় পড়ল কেকেআর। রিঙ্কুও তাঁর বলেই আউট হলেন ২৫ বলে ৩৫ রান করে। ৪টি চার এবং ১টি ছয় মারেন রিঙ্কু। তিনি আউট হওয়ার সময় জেতার জন্য কেকেআরের প্রয়োজন ছিল ওভার প্রতি প্রায় ১৪ রান। নারাইন ব্যাট করতে নেমে প্রথম দু’বলেই নীতীশকে ছক্কা হাঁকিয়ে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি করেন ইডেনের গ্যালারিতে। লাভের লাভ কিছুই হল না। ৪ বল খেলে ওই ১২ রান করেই আউট হলেন ক্যারিবিয়ান স্পিনার। কেকেআরের বোলারদের মধ্যে সফলতম মুজ়ারাবানি ৪১ রানে ৪ উইকেট নিলেন। তাঁর শেষ দু’টি উইকেট হায়দরাবাদের ইনিংসের শেষ তিন বলে। ৪৭ রান দিয়ে ২ উইকেট বৈভবের। পর পর দু’বলে নীতীশ এবং সলিলকে আউট করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেছিলেন কেকেআরের জোরে বোলার। সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। ১৬ রানে ১ উইকেট অনুকূলের। ৪৮ রানে ১ উইকেট কার্তিকের। উইকেট পেলেন না নারাইন। ৪ ওভারে দিলেন ৩৯ রান।

কেকেআর প্রথম একাদশ
অজিঙ্ক রাহানে, সুনীল নারিন, ক্যামেরন গ্রিন, অঙ্গকৃশ রঘুবংশী, রিঙ্কু সিং, রমনদীপ সিং, অনুকূল রায়, বরুণ চক্রবর্তী, কার্তিক ত্যাগী, বৈভব অরোরা, ব্লেসিং মুজারাবানি।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদ প্রথম একাদশ
অভিষেক শর্মা, ট্র্যাভিস হেড, ঈশান কিষান, হেনরিখ ক্লাসেন, অনিকেত বর্মা, নীতীশ কুমার রেড্ডি, সলিল অরোরা, হর্ষ দুবে, শিবং কুমার, জয়দেব উনাদকাট, ডেভিড পাইন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles