Saturday, April 25, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

এক লক্ষ ভোটার ‘ই-সাইন’ জনিত বিভ্রাটের শিকার!‌ ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের মধ্যে ৪৪ লক্ষের নিষ্পত্তি!

‘বিবেচনাধীন’ ভোটারদের মধ্যে কত জনের নাম বাদ পড়ল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় ‘অ্যাডজুডিকেশন’ (বিবেচনাধীন) তালিকায় থাকা প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের মধ্যে এ পর্যন্ত ৪৪ লক্ষের তথ্য নিষ্পত্তি সম্ভব হয়েছে। বৃহস্পতিবার এমনই তথ্য দিল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর এসআইআর সংক্রান্ত ষষ্ঠ তালিকা (পঞ্চম অতিরিক্ত তালিকা) প্রকাশ করেছে। তাতে তিন লক্ষ নাম রয়েছে। তার মধ্যে দু’লক্ষের নাম নতুন করে নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি এক লক্ষ ভোটার আগের তালিকায় ‘ই-সাইন’ জনিত বিভ্রাটের শিকার ছিলেন। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাজ্যে আর ১৬ লক্ষের মতো ভোটারের নাম এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনের আগে সেগুলি নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। রাজ্য প্রথম দফার ভোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৬ এপ্রিল। অবশ্য, ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারদের মধ্যে কত জনের নাম বাদ পড়ল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। তখন বিবেচনাধীন ভোটার ছিলেন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫। ৭০৫ জন বিচারক নিষ্পত্তি করছেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে নিষ্পত্তি হওয়া তালিকা ধাপে ধাপে বার করার কথা জানিয়েছে কমিশন। সেই অনুযায়ী গত ২৩ মার্চ রাত থেকে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ শুরু হয়েছে। কমিশন সূত্রের খবর, বিচারকেরা যা তথ্য দিচ্ছেন, তা ‘প্রসেস’ করতে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লাগছে। তার পরেই তা প্রকাশ করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, ‘বিবেচনাধীন’ ভোটার নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক তরজা অব্যাহত। প্রথম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের পরে গত বুধবার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ নিয়ে কমিশনকে নিশানা করেছিলেন। সেই সঙ্গে, মধ্যরাতে কমিশনের ওয়েবসাইটে সমস্ত ভোটারের নাম ‘বিবেচনাধীন’ দেখা।

বিচারাধীনদের নিষ্পত্তি করে চলতি সপ্তাহ থেকে অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে শুরু করে নির্বাচন কমিশন। ৬০ লক্ষ বিচারাধীনের মধ্যে প্রায় ৪২ লক্ষের তথ্য যাচাই হয়েছে। ১৮ লক্ষ ভোটারের নাম বিবেচনাধীন। তাঁদের নিষ্পত্তির পরই জানা যাবে, বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ঠিক কত। তবে ধারাবাহিক হিসেব অনুযায়ী, সবমিলিয়ে মোট ৯০ লক্ষ ভোটারের নাম বাতিল হতে চলেছে। বিজেপি নেতৃত্বের যদিও দাবি ছিল, ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ যাবে। কমিশন সূত্রে খবর, বাকি ২০ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়ে যাবে খুব দ্রুত। তারপরও যাঁদের নাম বাদ পড়বে, তাঁরা বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। কলকাতায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে আসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সিইও মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক শেষে তিনি জানান, বিজেপি নিজেদের ভোট সুরক্ষিত রাখতেই ভিনরাজ্যের ভোটারদের বাংলার ভোটার তালিকায় যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। অভিষেকের কথায়, ”আজ সকাল থেকে ৬-৭ ঘণ্টায় প্রায় ৩০ হাজার ফর্ম ৬ অবৈধভাবে জমা পড়েছে। যাঁদের বিহার, উত্তরপ্রদেশে ভোটার তালিকায় নাম আছে এমন ভোটারের নামে এই ফর্ম ৬ জমা পড়েছে।” নাম বাদ পড়ায় রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষদের একটা অংশের মধ্যে। রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন সাদারণ মানুষ। পাহাড়ের এই ইস্যুতে ক্ষোভের আগুন দানা বেঁধেছে। প্রথম দফায় রাজ্যের ১৫২ আসনে ভোট ২৩ এপ্রিল। মনোনয়নের শেষ দিন ৬ এপ্রিল। ওইদিন পর্যন্ত ১৫২ টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় যতজনের নাম থাকবে, তাঁরাই ভোট দেওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। অন্যদিকে, যে ১৪২ আসনে ভোট দ্বিতীয় দফা অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল, সেখানে মনোনয়নের শেষ দিন ৯ এপ্রিল। ওই বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটারদের চূড়ান্ত তালিকা জানা যাবে ওইদিনই। ততদিন পর্যন্ত যাঁদের নাম থাকবে, তাঁরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। অর্থাৎ ৯ এপ্রিল সামগ্রিকভাবে জানা যাবে এসআইআরের পর এই মুহূর্তে রাজ্যের ভোটার সংখ্যা কত।

একের পর এক সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ হতেই ডিলিট ভোটারের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। বাদ পড়ছে শয়ে শয়ে নাম! এই আবহে ক্রমশ ক্ষোভ বাড়ছে পাহাড়ে। ভোটার তালিকা থেকে ডিলিট নকশালবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ-সহ ৬৫ জন। এদিকে ফাঁসিদেওয়ার লাহুগছ গ্রামে পরপর দুই বুথে বাদ পড়েছে ৬০৯ জন ভোটারের নাম। একই অভিযোগে বিক্ষোভ কার্শিয়াংয়েও। সেখানে নির্বাচন কমিশন এবং সাংসদ রাজু বিস্তা বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে সোমবার ডিলিট ভোটাররা বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, পাহাড়বাসীর একাংশকে রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি বানানোর ষড়যন্ত্র চলছে। শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়ার লাহুগছ গ্রামের দুটি বুথে ৬০৯ জন ভোটারের নাম ডিলিট করার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার ক্ষোভে রাজ্যসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান ডিলিট ভোটাররা। সোমবারেও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। জানা গিয়েছে, ফাঁসিদেওয়া বিধানসভার ২২৩ এবং ২২৪ নম্বর বুথে মোট ভোটার রয়েছেন ১,৫৩৩ জন। দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট হাতে পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ভোটাররা। অভিযোগ ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দুটি বুথে সাতশোর বেশি ভোটারদের বিচারাধীন রাখা হয়। নতুন সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট হাতে আসতে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। কারণ, দুটি বুথে ৬০৯ জন ভোটারের নাম ডিলিট করা হয়েছে। ডিলিট ভোটারের তালিকায় রয়েছেন স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর পরিবার, প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য-সহ সাধারণ ভোটাররা। এদিকে নকশালবাড়ির হাতিঘিসার ২৫/৬২ নম্বর বুথের সেবদুল্লা জোত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে বাদ পড়েছেন ৬৬ জন। অভিযোগ, এখানে ৯৬৬ জন ভোটারের মধ্যে প্রথম সম্পূর্ণ ভোটার তালিকায় ৪০জন ভোটারের নাম ডিলিট হয়। পাশাপাশি ১১১ জনের নাম বিচারাধীন অবস্থায় ছিল। দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে বাদ পড়েন ৬৬ জন। এখনও পর্যন্ত ১১জন ভোটারের নাম বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। যাদের নাম ডিলিট করা হয়েছে, তাদের মধ্যে আছেন নকশালবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ আসরফ আনসারি। পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ বলেন, “সংখ্যালঘু ও আদিবাসী ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বিজেপিকে সুযোগ করে দিতে এই কাজ করছে।” অন্যদিকে সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট নিয়ে ক্ষোভের পারদ পাহাড়েও চড়েছে। সোমবার কার্শিয়াং শহরে ডিলিট ভোটাররা বিক্ষোভ দেখায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles